Wednesday, July 13, 2016

খালারা বড় ভালোবাসে আমাকে


খালারা বড় ভালোবাসে আমাকে। বোনদের মাঝে মা ছিলো সবার বড়। প্রথম ভাইগনা আমি। মা/খালাদের মধ্য ছোট খালা বেচে আছে। আমরা সকল খালাতো ভাই/বোনেরা, খালাকে ঘিরেই আছি। তবে মামুদের সাথে সর্ম্পকটা বড়ই জটিল!! মামুরা আমার, বেচাতে উস্তাদ!! নিজেদের মধ্য সুন্দর বোঝাপোড়ার মাধ্যমে জমি বেচে। অবশ্যয় বোনদের ঠকিয়ে। এইবার ঈদেরদিন বিকালে, তিন নম্বর মামুর সাথে বাজারে দেখা হলো।

বহু কস্টে মামু জিজ্ঞাসা করলো, আব্বা কেমন আছো? তারচেয়ও কস্টে উত্তর দিলাম, ভালো আছি মামা। কোনো কথা খুজে না পেয়ে এবার মামু আমার জিজ্ঞাসা করলো, আব্বা তোমার পাঞ্জাবীটা খুব সুন্দর হয়েছে!! 

আমিও কোনো চিন্তা/ভাবনা ছাড়াই বলে ফেললাম, নেও মামা পাঞ্জাবীটা, এখনী খুলে দিচ্ছি!! তুমি আমার মায়ের ভাই মামু, একটা পাঞ্জাবীই না হয় তুমি চেয়েছ!! কিন্তু মামু, তোমার লুংগীটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে!! বহু কস্টে মামু আমার একটু হাসলো। ভাইগনার ভয়াভহ ইংগিতটা,মামুর কাছে পরিস্কার!! থাইক আব্বা, পাঞ্জাবীটা তোমারে সুন্দর মানাইছে, আমার লাগবো না। মামু আমার চলে যেতে যেতে, অন্য একজন কে বলছে, বড় আপা একটা "কমিন পুলা" রাইখা গেছে!! এই হারামীটার থেইকা বাবু অনেক ভালো!!।

বাড়িতে রাত্রে খেতে বসেছি। বাবু বলে উঠলো, ভাইয়া তোমার সাথে মামার কি হয়েছে? বললাম, বিশেষ কিছু হয়নাই, শুধু মামুর লুংগি ধরে একটু টানাটানি করেছি!! ভালো একটা ছওয়াবের কাজ করছো ভাইয়া!! 

আজ মা বেচে থাকলে খুব খুশি হতো!!! একটু সময়ের জন্য থমকে গেলাম!! বাবু কি মজা করছে?? নাকি আসলেই সিরিয়াস???

আমরা যখন স্কুলে ক্লাসে কোনো বইখাতা পাইতাম


আমরা যখন স্কুলে ক্লাসে কোনো বইখাতা পাইতাম তা ফেরত দিয়ে দিতাম।আমরা ষটীলমিলস সকুলের ছেলেমেয়েরা ছিলাম অন্যরকম।

আর গতকাল আমার ছেলের ইংলিশ সেকেন্ড পেপার কপিটা ক্লাসের ডয়ারে রেখে টিফিন খেতে যায় আর তখনি কে জানি কপিটা নিয়ে যায় আর ফেরত দেয় না।কপিটাতে ওর মিডটাম পরিক্ষার সব।জুবায়ের তো আবার আললাহর রহমতে কখনও সকুল মিস যায় না।যার কারণে প্রত্যেকটা গ্রামাটিক্যালে A সটার আছে।এখন আমি আবার কোথা থেকে কালেকট করবো।

আমার কথা হল যে ছেলেটা বাসায় কপিটা নিয়ে গেল ওর মা কি সেটা দেখে নাই।তাই মনটা খুব খারাপ।ওর মিসও খুব আপসোস করলো।কিছু করার নাই।কাকে কে হারাবে এ প্রতিযোগিতায় মায়েরা তাদের বাচচাদের কি শিখাচছে।দোয়া করবেন সবাই আমি জেন পরীক্ষার আগে আমার কপিটা আবার রেডি করতে পারি।গত পরীক্ষায় ও ইংলিশে 98 নাম্বার পেয়েছিল।কি জানি এবার কি করে।

শাহাদাত হুজুরের কাছে কয়েক মাস পড়ার পর


শাহাদাত হুজুরের কাছে কয়েক মাস পড়ার পর আমরা আবার এই মক্তব এ আসতে শুরু করলাম। ভোর ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটা খুব খারাপ লাগত সকালের ঘুম ছেড়ে আসতে।দুপুরে ঘুমাতে পারতাম না।তবুও আসতাম। এখানে এসে দেখি সোনিয়া আপা,সাকিব এরাও পড়ে। ডালিম ভাই,জুয়েল, মহিম পড়ত এখানে।এখানে পড়ানোর নিয়ম টা একটু অন্য রকম।অনেকগুলো ছেলে মেয়ে।আলাদা আলাদা রুমে ভিন্ন ভিন্ন হুজুরেরা পড়ান।আমাদেরকে যিনি পড়াতেন উনার নাম ছিল মোঃ নুরুল ইসলাম ।সহজ সরল টাইপের। একদিন না আসলে পরের দিন দরখাস্ত দিতে হত। জুয়েল কে দেখতাম মহিমকে নিয়ে ৭:২০ মিনিট এ আসত যখন ছুটি র টাইম ঘনিয়ে আসত। হাজিরা দিয়ে চলে যেত। কিভাবে যেন হুজুরের চোখ ফাকি দিয়ে ঢুকে যেত,হুজুর টের পেতেন না।

যেদিন কেউ কোরান শরীফ নিত,সেদিন সে মিষ্টি জাতীয় কিছু বা জিলাপি আনত।এগুলো আবার ছাত্রদের মধ্যে ভাগ করা হত। আর যারা ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র ছিল তাদের জীবন যাপন ছিল অন্যরকম। খুব ভোরে কোরান শরীফ মুখস্থ করতে উঠতেন।মাঝে মাঝে আমাদের সাথে তাদের সেই জীবনযাত্রার গল্প করতেন।অবাক হয়ে শুনতাম। তখন নিজেকে ওদের চেয়ে সুখী মনে হত।

কিন্তু সেদিন যখন গেলাম তখন এই মক্তবে র সাথে সেই মক্তব এর রুপ মেলাতে পারলাম না। যেন ধ্বংস স্তুপ এ পরিণত হয়েছে সেই মক্তব। খুব খারাপ লাগল। স্টিল মিলস কলোনি নামের মহাকাব্য টি যেন কেইপিজেড কলোনি নামের ছোট বিরক্তিকর গল্পে রুপ নিয়েছে।

আমাদের সময়কালে পুরো রোজার মাসে কোন দিন স্কুল খোলা দূরে থাক


আমাদের সময়কালে পুরো রোজার মাসে কোন দিন স্কুল খোলা দূরে থাক, বাসায় লেখাপড়া টাই ছিলো পুরোপুরিভাবে রিলাক্সে অনেকটা পিকনিক পিকনিক মুডে। এক্ষেত্রে গার্জিয়ানরাও ছিলেন ব্যাপক উদার। রোজার মাসে স্কুল কলেজ খোলা, পড়াশোনা করছি এটা কল্পনাও করা যেতোনা। তবে একবার রোজার মাসে একটি পরীক্ষা দেয়া লাগছিলো। ৯৬ সাল বি.কম পরীক্ষা চলছিল। হরতালের কারনে পরীক্ষা পিছিয়ে রোজার মাসে একটি সাবজেক্ট পরীক্ষা দেয়া লাগছিল। ঐ টাই ছিল রমজান মাসে জীবনে প্রথম ও আপাতত শেষ বারের মত পড়াশুনা।

এবার আসি বর্তমান অবস্থায়, এখন কার পোলাপান আর তাদের গার্জিয়ানরা (বিশেষ করে পোলাপানের মায়েরা, তারাই বাচ্চাদের লেখাপড়া নিয়ে অসুস্থ কম্পিটিশনে নেমে যায়) রোজার মাসে স্কুল বন্ধ, লেখাপড়ার বালাই নেই এ দৃশ্য কল্পনাও করতে পারবেনা। এখনতো রোজার মাসের অর্ধেক পর্য্যন্ত স্কুল কলেজ গুলো খোলা রেখে আবার মুখ থেকে ঈদের সেমাইয়ের গন্ধ চলে যাওয়ার আগেই ঈদের দু দিন পরেই স্কুল গুলো খুলে যায়, শুধু খোলাই নয় রীতিমত পরীক্ষাই শুরু হয়ে গেছে। আর চাঁন রাত পর্য্যন্ত বাচ্চা গুলার উপর বাসায় পড়াশোনার চাপতো ছিলোই। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আমাদের জেনারেশন কোন পড়াশুনা করে আসেনি, পড়াশুনা টা শুরু হইছে এই জেনারেশন থেকে। আর যাই হোক, আমরা লেখাপড়ায় যেমনই ছিলাম না কেনো পড়াশুনা করেছি আনন্দের ভিতর দিয়ে, এখনকার মত অসুস্থ প্রতিযোগিতা আর লেখাপড়া টা এতো কমার্শিয়াল ছিলোনা।

Tuesday, July 12, 2016

রোজা আসলো, আবার দেখতে দেখতে চলেও গেলো


রোজা আসলো, আবার দেখতে দেখতে চলেও গেলো, স্বাভাবিক জীবম যাপন রুটিনে এ একটি মাস কিছুটা ব্যতিক্রমী মাস। আর ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তো খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাস।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় রোজায় যা দেখে আসছি তার কিছুটা এখানে তুলে ধরছি।

শৈশবে রোজার মাস যেমন ছিল উৎসবের তেমনি ছিল আমার কাছে কিছু কিছু ব্যাপারে কষ্টের। উৎসবের কথা বিভিন্ন লেখায় উল্লেখ করেছি, তবে এখানে কষ্টের ব্যাপার টি আর উল্লেখ করলাম না। 

চাকুরী তে ঢুকার পর একটা নতুন জিনিস আবিষ্কার করলাম, পেশাগত কারনে যাদের সাথে কাজ করতে হয়,তারা সবাই বড় বড় ব্যবসায়ী (কাগজের)। সবসময় দেখে এসেছি সবার অর্থ বছর হয় জুলাই টু জুন। আর এই ব্যবসায়ী দের নিজস্ব অর্থ বছর হয় রমজান মাস টু রমজান মাস। সারা বছরের লাভ লোকসান, মজুদ হিসাব করে যাকাত প্রদান করে তারা। ব্যবসায়ী হিসেবে যতই দুর্নীতি আর নয়ছয় করুক না কেন, তাদের দেখেছি যাকাতের হিসাব পাই টু পাই পরিশোধ করে।

আর আমরা যারা চাকরী করি, তারা অপেক্ষায় থাকি ঈদ বোনাসের আর খুশির মাত্রা আরো বেড়ে যায় যখন বোনাসের পরেও ঈদের বন্ধের দু দিন আগে এমডি স্যারের হাত থেকে সাদা খাম পাওয়া যায় ( স্পেশাল বোনাস, আর আমার এমডি স্যারের ভাষায়, "আমাদের সাজসজ্জা খরচ", যার পরিমাণ টাও ভালোই হ্যান্ডসাম)। সাথে বিভিন্ন অফিসিয়াল ক্লায়েন্ট থেকে গিফট ( যেমন আমি এবার পেয়েছি দুটি পাঞ্জাবী আর একটি স্যুট পিস)। 

সব মিলিয়ে রোজা আর ঈদ ভালোই কেটে যায়। আর সবসময় কামনা করি প্রতিটি মানুষের প্রতিটি মূহুর্ত ভালো কাটুক।

Monday, July 11, 2016

ঈদ এলেই দেখি, উপহার দেওয়ার ধুম লেগে যায়


ঈদ এলেই দেখি, উপহার দেওয়ার ধুম লেগে যায়। বাবা/মা তাদের ছেলে মেয়েকে দেয়, ছেলে/মেয়েরা বড় হলে তাদের বাবা/মাকে দেয়। বন্ধু/বান্ধবী,প্রেমিক/প্রেমিকা তারপর বিয়া সাদী করে থাকলে শশুর বাড়ি, আহা উপহার আর উপহার!!!!। আমার বউ/বেটিও পেয়েছে। কিন্তু এই অধম একখান লুঙ্গিও পায়নি!!!! আরেক কপাল পোড়া রিপনকে তার সমন্ধী, পাঞ্জাবী দিয়েছে।গতকালও গিয়েছিলাম তারিককে দেখতে। শুধু গোলাপী পাঞ্জাবী না, হারামি আরও ম্যালা কিছু পেয়েছে!!! ছামি পাঞ্জাবি দিয়েছে, লিটন গেঞ্জি দিয়েছে, চাঁদ সুলতানা ব্র্যান্ডের গেঞ্জী দিয়েছে। তারিক হলো ভি আই পি। তবে আমিও পেয়েছি কিন্তু ঈদ উপলক্ষে নয়!! আদরের এক ছোট বোন, আমার জন্য পাঞ্জাবী পাঠিয়েছিলো। মাঝে মাঝে পড়ি। কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলি, আমার বোন পাঠিয়েছে। গতকাল খুব মন খারাপ করে বাসায় ফিরেছি। রাতে সারাফের মাকে বললাম, একটা ইদ গেলো আমাকে কেউ কিছু দিলোনা!! এই কথার মানে কি?? রিপনের মত পোড়া কপাইল্লাও শশুর বাড়ী থেকে পাঞ্জাবী পেয়েছে!!! আর আমি, একখান লুংগিও পেলাম না!!!! মানুষের কাছে মুখ দেখাতে পারিনা!! এই লজ্জা কোথায় রাখি!!! এর উত্তরে সারাফের মা যা বললো, একজন কসাইও হার মানবে!!! সারাফের বাবা, তোমার লজ্জা শরম এমনিতেই কম, তুমি লুঙ্গি ছাড়াও চলাফেরা করতে পারবে!!!!!!!!!!!!

সেদিন গিয়ে দেখলাম কলোনি র মসজিদ এর নাম বদলে ফেলা হয়েছে


সেদিন গিয়ে দেখলাম কলোনি র মসজিদ এর নাম বদলে ফেলা হয়েছে। চইকা জামে মসজিদ এখন কেইপিজেড জামে মসজিদ। অথচ এই মসজিদ নিয়ে ছেলেবেলার কত স্মৃতি।এই মসজিদে প্রথম নামাজ পড়তে আসা সুমন ভাই,মাসুদ, আরিফ ভাইদের সাথে। তারাবীহ নামাজ পড়া।খতমের দিন শাহাদাত হুজুরের কাছ থেকে জিলাপি নেয়া। জুমার নামাজের দিন নাসিম চোখে সুরমা লাগিয়ে আসত। খুতবার সময় আমি সুজনের পিঠে নাম লিখতাম আর ও বলত কি লিখছি। আবার শাহাদাত হুজুরের কাছে আরবী পড়তে আমি, সুমন ভাই,রিতা,রিনি,মাসুদ এসেছি এই মসজিদে। যেদিন হুজুরকে সম্মানী দিতাম,হুজুর আমাদেরকে নাস্তা করাতেন।রোজার সময় হুজুর আমাদের টাকা দিলেন ঈদের বন্ধের আগে।আমরা সবাই ঈদ কার্ড কিনতে গেলাম ভাই ভাই স্টোরে।মসজিদের পাশেই খালপাড়ে কত তোকমা খেয়েছি।

১৯৯৫ সালে শেষ নামাজ পড়েছি এই মসজিদে। এরপর বাসার সামনের মসজিদে। এখনো চোখ বন্ধ করলে শাহাদাত হুজুরের সেই আযান এর ধ্বনি শুনতে পাই যা কেবল ওই মসজিদ থেকে ভেসে আসত

আমার বউ এই পেজের একজন নিশ্চুপ সদস্য


আমার বউ এই পেজের একজন নিশ্চুপ সদস্য।।প্রায় প্রতিটি পোষ্টই তার নজরে আসে।।বেশ কয়েক দিন কয়েকটা পোষ্ট পর্যালোচনা শেষে আজ হঠাৎ বলে বসলো এই পেজে এতো খাবারের ছবি কেন??!!??সবারই কেবল খাই খাই স্বভাব।।সিনিয়র কয়েক জন ভাইয়ের ছবি দেখিয়ে বললো এনাদের বাড়ি কি চিটাগাং-এ।।এনাদের যখনই দেখি তখনই দেখি সাথে একটা খাবার টেবিল এবং আইটেম থাকেই।।কি বলবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না!!কেবল এটুকুই বলেছি সিএসএম মানে চা-পরটা।।শুনে বউ বলে এর মানে কি???

Sunday, July 10, 2016

বৃটিশরা ICS অফিসার দের অফিস রুমে আরাম করার জন্য লম্বা ইজি চেয়ারের প্রচলন করেছিল


বৃটিশরা ICS অফিসার দের অফিস রুমে আরাম করার জন্য লম্বা ইজি চেয়ারের প্রচলন করেছিল। বৃটিশ চলে যাবার পর CSP অফিসাররাও সেটা চালু রেখেছিল। 

শোনা কথা সারা রাত মাস্তি ফুরতি করে সকালে অফিসে গিয়ে রুমের বাইরে লাল বাতি জালিয়ে সাহেবরা আরাম করতো। 

আর BCS অফিসাররা সেই ধরনের আরাম কেদারা রুম থেকে বিদায় করেছে তবে সচিবালয়ে চাকরী করা সুবাদে কিছু কিছ সচিব, মন্ত্রীর রুমের পাশেই আরাম কেদারার স্থলে আলাদা রুমের ব্যবস্থা দেখেছি যেখনে খট পালং সহ আরাম- আয়েশ করার সমস্ত এন্তেজাম বিদ্যমান। 

এখানেও শোনা কথা তারা নাকি শারীরিক ভাবে অসুস্থ বলেই এ ব্যবস্থা। 

আমি আবার শোনা কথায় বিশ্বাস করি না ( হা হা)

যাহোক তুমি কালকে অফিস করার কিছু কৌশল এখান থেকে বের করতে পার কিনা দেখতে পার।

" আকলমানকে লিয়ে ইশারায় কাফি। হে "

হা হা হা --+++++ থামাতে পারছি না। @ Atiq Csm

ঈদের দু দিন আগে, রাত প্রায় দশটা আমি বাসার কাছের এক মার্কেটে


ঈদের দু দিন আগে, রাত প্রায় দশটা আমি বাসার কাছের এক মার্কেটে টুকটাক কেনাকাটা করে হেটেই বাসায় ফিরছিলাম, আচমকা কে যেন আতিক ভাই আতিক ভাই করে ডাকছে। আমি একটু অবাক হয়ে গেলাম।এ এলাকায় তো আতিক ভাই আতিক ভাই বলে এমন আন্তরিক ভাবে কেউ তো ডাকার কথা না, শুনার ভুল না তো আমার? কৌতুহলে পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখি আমাদের Iftekher Kashem বাপেন। কোলে তার ছেলে। জিজ্ঞেস করলাম এতো রাতে এখানে কি? বলল, তার বৌ এই মার্কেটে (পল্লবি শপিং সেন্টার) টেইলার্স থেকে কাপড় ডেলিভারি নিতে আসছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে অনেকক্ষন কথা বললাম। 

পুনশ্চ : বাপেন ছেলেটাকে কলোনিতে দেখতাম ক্রিকেটে ভালো পেস বোলিং করতে পারত। লেগে থাকলে হয়ত ভালো একজন পেসার হতো।

গতকাল (৯/৭;১৬) বিকেলে ছেলেকে নিয়ে মাঠে ক্রিকেট খেলছিলাম, মোবাইলে দেখি দেশের বাইরের কল, ফোন করেছে ফুটবলের দেশ সূদুর ব্রাজিল থেকে Titu Barua. স্কুল জীবনে সে আমার এক ক্লাস সিনিয়র হলেও আমার সাথে তার সম্পর্ক টা ছিলো খুবই মধুর ও বন্ধুত্বপূর্ণ। দারুন রসিক আর সেন্স অফ হিউমারে পরিপূর্ণ একজন সে।

এ ধরনের আন্তরিক পরিবেশ আর পুরোনোদের পেলে অনেক বিশৃঙ্খলা, অনেক কষ্টই ভূলে যেতে ইচ্ছে করে।

Saturday, July 9, 2016

একটা গোলাপি পাঞ্জাবী


একটা গোলাপি পাঞ্জাবী। পাঞ্জাবীটাও সুন্দর। পাঞ্জাবীটা বসে বসে দেখছি। কেটে ফেলবো নাকি পাঞ্জাবীর হাতাটা!! অর্ধেক হাত কাটলেই একটা চমৎকার ফতুয়া হয়ে যাবে!! নিচে নেমে একটা কেচি কিনে নিয়ে আসলে কেমন হয়?? নাহ কাজটা ঠিক হবেনা। আদর করে ছোট ভাইকে একটা পাঞ্জাবী দিয়েছে, বড় ভালোবেসে দিয়েছে, এই পাঞ্জাবীর হাত কেটে ফতু বানানোটা অমানবিক কাজ হবে। তারিককে পাঞ্জাবীটা খুব মানিয়েছে। আরে দেখতে হবেনা পাঞ্জাবীটা কে দিয়েছে!?? ঈদ মোবারক "গোলাপী পাঞ্জাবী"। ঈদ মোবারক জেরিন রিপা। ভালোবাসা রইলো এই ছোট বোনটির প্রতি।

ঢাকা শহরে খোলামেলা জায়গা পাওয়া খুবই কষ্টকর


ঢাকা শহরে খোলামেলা জায়গা পাওয়া খুবই কষ্টকর, পাওয়া যায়না বললেই চলে। বাচ্চা গুলো বড় হয় ফার্মের মুরগীর মত বন্দী জীবন নিয়ে। মাঝে মাঝে সিটি ক্লাব মাঠে ছেলেকে নিয়ে আসি, সেখানেও এত মানুষ যে এক চিলতে খেলার জায়গাও পাওয়া যায়না।

আজ ঈদের ফাঁকা শহরে সিটি ক্লাব মাঠ টিও ফাঁকা পাওয়া গেল, এই সুযোগে বাপ ব্যাটা মিলে চুটিয়ে ক্রিকেট খেললাম।

নুবাইদ তার নানার বাড়ীতে পা রেখেই বল হাতে উঠাতে নেমে পরে


নুবাইদ তার নানার বাড়ীতে পা রেখেই বল হাতে উঠাতে নেমে পরে !!

শহরে খেলাধুলা করার জায়গা নেই বললেই চলে । বাড়ীতে গেলে ছেলে-মেয়েরা অনেক খুশির মধ্যে দিন কাটাত , তারা বেশি ভাগ সময় খেলাধুলা ও দৌড়া দৌড়ির মধ্যেই থাকে । আজ নুবাইদ ও নুসফিকা বৃষ্টিতে ভিঁজে গোসল করেছে । আমি তাদের কোন বাঁধা দেই নি বরং আমিও তাদের সাথে বৃষ্টিতে ভিঁজে গোসল করেছি । মেয়েটা আমার অনেক খুশি বাবাও তাদের সাথে বৃষ্টিতে ভিঁজতেছে । মেয়েটাও বলেই ফেললো বাবা আমরা বাড়ীতে আরো কয়েকটা দিন থাকি । বাবার কি আর সেই সময় আছে - বাবা তো কামলা , কর্ম করে পেট চালাতে হয় । ছেলে ও মেয়েটাকে আরো এক সাপ্তাহ ছুটি দিলাম , আর আমাকে আগামীকাল কর্মে ফিরতে হবে । এই কয়টা দিন কর্মের শেষে বাসায় গিয়ে সেই রান্নার জামেলা পোয়াতে হবে । অফিস শেষ করে রান্না বান্না করা বড়ই কষ্ট । 

তাই চিন্তা করছি এই ৪/৫দিন কোন না কোন স্টিলারের ঘরে গিয়ে হামলা চালাবো । সাথে কেউ থাকলে আওয়াজ দিয়েন !!

মন খারাপের দৃশ্যাবলী


আমাদের স্কুলে ক্লাস কামাই করার জন্য জরিমানার বিধান ছিল।টিফিনে না আসলে ১ টাকা আর পুরো দিন না আসলে ৫০ পয়সা।ক্লাস সেভেনে আমাদের ক্লাস টিচার ছিলেন সাফা স্যার। বছর শেষে উনি যখন হাজিরা চেক করে দেখছেন,তখন দেখা গেল আমার ফাইন আসছে ৫০ পয়সা।তার মানে সারা বছর আমি ক্লাসে আসিনি একদিন।এটা নিয়ে সবার কি হাসাহাসি। স্যারও হাসলেন।সুজন খুব বিরক্ত ছিল এটা নিয়ে আমার উপর। বলত তোর কি অসুখ হয়না বা বিরক্ত লাগেনা।

সত্যি বলতে আমার যে অসুখ হত না,তা না কিন্তু সেটা স্কুল যখন বন্ধ থাকত। ঈদের বন্ধের সময় আমার ঈদের কয়েকদিন পর জ্বর আসত।কিংবা অন্য বন্ধের সময়। আর পরীক্ষা শেষে হাত পা কাটা যেত।

আর ক্লাস করতে যে খুব ভাল লাগত তা না।কিন্তু মনে হত কোন একটা ক্লাস না করলে দরকারি কিছু মিস করব।

মাঝেমাঝে ভাবি মন খারাপের জন্য যেমন কিছু বদলে যাওয়া দৃশ্য আছে তেমনি মন ভাল করার জন্য কিছু সুখ স্মৃতিও আছে

Friday, July 8, 2016

তানিয়ার বাসায়, জম্পেশ খানা খাইলাম


তানিয়ার বাসায়, জম্পেশ খানা খাইলাম। সব দেশী খানা

ঈদের খাবার মানেই হলো বিরানী, ফিরনী, সেমাই কোল্ড ড্রিংকস ইত্যাাদি। তানিয়া আমাদের খাওয়ালো খালাম্মার হাতের রান্না করা সাদা ভাত, বেগুন ভর্তা, পটল ভুনা, তিত করলা ভাজি, ঘন ডাল এবং ঘরোয়া আদলে রান্না করা মুরগী। তার পর আসলো জুস ও কাষ্টার। হোয়াট এ নাইছ খাওয়া... জসিম ভাই, নিরু ভাই, নাজমুল ভাই হোয়াট এ গ্রেট মিছ....

আমার বড়ছেলেটা এবার প্রথম ঈদী দিচ্ছে তার কাজিনদের


আমার বড়ছেলেটা এবার প্রথম ঈদী দিচ্ছে তার কাজিনদের।তার সে কি উৎসাহ।বারবার আমাকে রান্নাঘরে এসে বলছে মা আমি তাহলে সত্যি বড় হয়ে গেলাম!আগে আমাকে সবাই সেলামি দিত!আজ আমি দিচ্ছি!মা আমার না কেমন লাগছে।

পুনশ্চ:তার এ উৎসাহ বেশিক্ষণ টিকেনি।কারণ আমার এই ছেলেটা বেশ টিপেটিপে পয়সা খরচ করে। তার জমানো টাকা চলে যাচ্ছে এটা হজম করা তার জন্য অসম্ভব।

ঈদ নিয়ে যেমন কোন স্মৃতি নাই


ঈদ নিয়ে যেমন কোন স্মৃতি নাই।তেমনি পূজা নিয়েও নাই।শুধু দেখতাম দুর্গা পূজা আসলে স্কুল বন্ধ থাকত একসপ্তাহের জন্য। আর পূজা মন্ডপ ছিল দূরে,কলোনি র বাইরে,নারকেল তলায়। তাই কখনো দেখতে যাওয়া হয়নি। এই সময় টা থাকত শরৎকাল।কাশ ফুল ফোটার মাস। হালকা মিষ্টি রোদের সময়। অনেককে দেখতাম, সেজে গুজে পূজা মন্ডপে যাচ্ছে। তবে একটা জিনিস পূজার স্মৃতির সাথে মিশে আছে। কোন এক দূরের পুজা মন্ডপ থেকে ভেসে আসত একটা গান,

" ও পলাশ, ও শিমুল, কেন এ মন মোর রাঙালে,
জানিনা, জানিনা, আমার এ ঘুম কেন ভাঙালে।
আজও এই গানটা কোথাও শুনলে পূজা র কথা মনে পড়ে। আমি যেন শরৎ এর কোন এক দিন জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছি।আর দূর থেকে ভেসে আসছে সেই গান

স্বপ্ন ভঙ্গের গল্প


কলোনিতে থাকতে আমাদের কখনো কলোনি র মানুষ গুলো র সাথে ঈদ করা হত না।শুধু দুইবার ঈদ করতে পেরেছিলাম।১৯৮৮ ও ১৯৯২ সালে। আব্বা বলতেন আমরা বাড়ি যাব বলে দাদা পথ চেয়ে থাকবেন। তাই যেতে হত। বাড়ি তে গেলে ঈদের অনুষ্ঠান গুলো দেখতে পারতাম না।কারন আমার ছোট চাচা টিভি দেখা পছন্দ করতেন না।তাই টিভি দেখতে অন্য বাড়ি তে যেতে হত। আবার এদিকে বাড়ি থেকে ফিরে আসতে আসতে কলোনি তে ঈদের আমেজ ফুরিয়ে যেত। 

আমার দাদা যে বছর মারা যান,তার পরের বছর থেকে আমাদের কলোনি তে ঈদ করতে পারার কথা।কিন্তু ততদিনে আমাদের কলোনি তে থাকার ভিসা ফুরিয়ে যায়।তাই কলোনি তে আর ঈদ করা হয়নি

Thursday, July 7, 2016

ঈদের দিন সন্ধায় আমি আর নাজমুল আমার বাসায়


ঈদের দিন সন্ধায় আমি আর নাজমুল আমার বাসায়।পুরানো সেই দিনের কথা খুব খুব খুব মনে পড়ে, কিন্তু এখন মজা পাই বাচ্চাদের মজা দেখে, আমি বেক্তিগত ভাবে খুব মজা পাইছি আমার মেয়েদের ঈদের মজা করা দেখে।সাতে সাতে সি এস এম এর সকল কে বলছি আমার ধারনা ছিল আজ আমার বাসায় সি এস এম এর অনেকে এসে কলিং বেল দিবে কিন্তু কেউ দিল না,যাক যে যেখানেই আছো বা আছেন আশা করি ভাল ভাবে ঈদ পার করছেন , এই কামনা করছি।

ঈদের দিনের রোজ নামচা


এবারের ঈদটা আমার জন্য অর্থপূর্ণ একটা বিশেষ কারণে। নিজের মা আর সাশুড়ী মা দুজনকেই কাছে পেয়েছি বলে। জানিনা এব্যস্ততার জীবনে এমন সুযোগ আর পাব কিনা। তাদের সান্নিধ্য,দোয়া আর স্নেহাস্পর্শ আমার পরিবারকে ধন্য করেছে। দুজন মায়ের প্রতি আমাদের তাই অশেষ কৃতজ্ঞতা।

সকালে গুলশান কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ আদায় করে বংগভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে ঈদের শুভেছছা বিনিময়। বাসায় ফিরে অতিথি আপ্যায়ন করেই দিনাতিপাত।

আগামী কাল সারাদিন বরাদ্দ ভাই-বোন আর কাজিনদের জন্য।শনিবারটা আমরা অতিথি হব তাদের বাসায়।
শেষ হবে ঈদের ছুটি।।

ফের কাজের ভিতর লুটোপুটি।!!

ঈদের দিনটির মতই হোক প্রতিটি দিন । শুভ কামনা।

ঈদ মোবারক !!

এতো খাবার খাইবো ক্যাডা?


তারিকের সাথে ঈদের দিনটিতে ঢাকা মেডিকেলে আমাদের আড্ডা। ঈদ উপলক্ষে মেডিকেল থেকে দেওয়া বিশেষ খাবার তারিককে বুঝিয়ে দিচ্ছেন KPS (খাবার পরিবেশন সংস্থা)'র প্রেসিডেন্ট শ্রদ্ধেয় রিপন আখতারুজ্জামান।

আর আমাদের আনিত খাবারের মধ্যে ছিল চুটকি সেমাই, পায়েস, খিচুড়ি, পোলাও, চালের রুটি, জর্দা, চটপটি, গরুর গোস্ত, মুরগীর গোস্ত, কোল্ড ড্রিংক্স, মিস্টি পান ইত্যাদি।

বাবার সাথে ঈদগাহে যাচ্ছি


বাবার সাথে ঈদগাহে যাচ্ছি। বুকের সাথে বুক মিলানোর জন্য প্রথমেই বাবা আর নেছারকেই বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু পরে ঈদের কোলাকুলির জন্য এই বিশাল প্রসস্থ বুক আর পরিচিত কাউকে না পাওয়ায় স্বেচ্ছায় অপরিচিত কয়েকজনকে বেছে নিয়েছিলাম। অথচ আজ যদি CSM colony তে থাকতাম তাইলে কোলাকুলি করতে করতে বুকের ছাঁতি ইঞ্চি পরিমান হ্রাস পেত। রাতে ঘুমানোর সময় বুকে আনন্দের পেইন অনুভব করতাম।

আফসোস 17 বছর ধরে বুকটা এভাবেই হাহাকার করে উঠে প্রিয় মানুষগুলির সাথে ঈদের কোলাকুলি করার জন্য।।।। Dewan Munzur Ahmed md Rubel Ahmed Nazir

আজ সকালে অনেক ভোরে যখন আকাশ একটু একটু করে তার আলো ফোটাতে লাগলো তখন আমি ছিলাম ছাদে


আজ সকালে অনেক ভোরে যখন আকাশ একটু একটু করে তার আলো ফোটাতে লাগলো তখন আমি ছিলাম ছাদে।একদম খোলা আকাশের নিচে দাড়িয়ে সুন্দর আকাশখানাটিকে যে কি সুন্দর লাগছিল তা ভাষায় প্রকাশ করা জাবেনা। ঠিক যেন কলোনির সেই ঝলমলে আকাশ দেখলাম আর মনে পড়ে গেল কলোনির ঈদের সকাল।

মনে হয়না আজ বৃষটি আসবে।আকাশটা একদমই ক্লিন।একটু পরে সবাই উঠে পড়বে।।।এই ভোরের সময়টুকু অনেক কিছু মনে করিয়েদিল।আমাদের বাসার সবাইকে খুব মনে পড়ছে।বিশেষ করে আমমা আর আববাকে।ভাইবোনদেরও।আললাহ আমার বাবা মাকে তুমি জান্নাতবাসী কর।আমিন

২০১১ সালের পর থেকে প্রতি বৎসর ০৭ জুলাই আমাদের জন্য এক অভিসপ্ত দিন


২০১১ সালের পর থেকে প্রতি বৎসর ০৭ জুলাই আমাদের জন্য এক অভিসপ্ত দিন। কারন ২০১১ সালের এই দিনে আমার ছোট বোন শেলিনা আক্তার শেলি ইন্তেকাল করে। সে ছিল আমাদের সকলের প্রিয়। সে তার স্বল্প আয়ুতে অনেক কষ্ট করেছে তার ছেলে মেয়ে দুটিকে মানুষের মত মানুষ করার জন্য। কিন্তু ছেলে মেয়ে দুটি বড় হওয়ার আগেই তাকে চলে যেতে হয় ইহজগৎ ছেড়ে। কোন রকম অসুখ বিসুখ ছাড়াই। একেবারে স্বল্প নোটিশে।

আজকের ঈদের দিনে সকাল থেকেই মন খারাপ। কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে না। যেসব জায়গায না গেলেই নয় শুধুমাত্র সে সব জায়গায যাবো। Jashim Uddin, Tafsi Fariha,Ahmed Nazim, Towsif Noor Kabbo, Samira Chy.

Wednesday, July 6, 2016

হারিয়ে যাওয়া এলোমেলো সময়গুলো


কয়েকদিন ধরে আকাশ যেভাবে অঝোর ধারায় কেঁদেই চলেছে মনে হচ্ছে ঈদের দিনটাকে উজ্জ্বল ঝলমলে রাখতেই আকাশের এই কান্নাকাটি। 

তারপরেও জানিনা কোন গোপন রহস্য, কোন গোপন বার্তা আকাশ মনে লুকিয়ে রেখেছে,কালকের জন্য!!!

কালকের আকাশ যতই উজ্জ্বল আর চমৎকারই থাকুক না ঈদের নামাজ শেষে কিংবা নামাজ না পড়েই নতুন কাপড় পড়ে ফুল সাহেব বাবুটি সেজে সাগরিকা কিংবা বনানী কমপ্লেক্সে ঢু মারা হবে না সেই ছোট্ট বেলাটির মত। কিংবা সবাই মিলে গ্রুপ বেঁধে ঈদের দিনটিতে কলোনীর অলিগলিতে ঘোরাফেরা কিংবা বন্ধু বান্ধবদের বাসায় গিয়ে খালা চাচীদের রান্না করা মজাদার সেমাই খাওয়া হবেনা। ঈদের দিন বেলুন বাঁধা বাশি কিনে সবাই মিলে কি পরিমান যে পে-পো রব তুলতাম তা সত্যিই বর্নণাতীত। আহারে কি মজার দিনই না ছিল। আরো যে কত কি..............

আমাদের সন্তানদের জন্য আফসোসই হয় যখন ভাবি ওরা কত কিই না মিস করছে! ওদের ঈদ মানে নতুন কাপড় পড়ে এই রুম থেকে ওই রুমে দৌড়ানো আর বিকেলে হয়তো বাড়ির ছাদে যাওয়া আর নয়তো বাবা মার সাথে পার্কে কয়েক ঘন্টা ঘুরে আসা।

মাঝে মধ্যে নিজেরই আফসোস হয় যখন আমাদের সময়ের মজা করার গল্পগুলো ওদেরকে বলে পুরোপুরি বোঝাতে পারিনা। টাইম মেশিন থাকলে ভাল হত, সময়টাকে রিওয়ান্ড করে বৌ ছেলে মেয়েসহ ফ্যামিলির অন্য সবাইকে নিয়ে চলে যেতাম সেই সময়গুলোতে। পূর্বের সময়ে যেয়ে কিছু করতে না পারতাম কিন্তু দেখেতো চোখ জুড়াতো!!!

কাল ঈদ উল ফিতর।


কাল ঈদ উল ফিতর।
সবাইকে ঈদ মোবারক। ।

এবার ঈদের লবা ছুটিতে অনেক বাংলাদেশী দেশের বাইরে গিয়েছে ঈদ উদযাপন (?) করতে। উন্নয়নের ঠেলায় গতি আমাদের এখন উলটো দিকে। আগে ঈদে গ্রামে যেতাম নাড়ীর টানে। 

মা-বাবা,দাদা-দাদী,আত্মীয়-সবজন, গরীব - দুখী পাড়া প্রতিবাশী সবাইকে নিয়ে ঈদের দিনটি ছিল কত না মধুর !! 
আর এখন --------??
সেই পুরনো কথা : বেগ - আবেগে সন্ধি হবে না কখনো ।

ঈদ মোবারক !! ঈদ মোবারক !!

পুনশ্চ : আমার কিছু নিকট আত্মীয় ও বন্ধু বান্ধব গিয়েছে দেশের বাইরে ঈদ করতে। তাদেরকে আমার করুণা করতে, হেদায়েত করতে ইছছা করে।

আগে ঈদে পাঞ্জাবি কিনতাম কোতোয়ালি মোড়ের খাদিঘর নামক এক দোকান থেকে


আগে ঈদে পাঞ্জাবি কিনতাম কোতোয়ালি মোড়ের খাদিঘর নামক এক দোকান থেকে, ১৫০/২০০ টাকায় মোটামুটি মানের ভালো পাঞ্জাবী পাওয়া যেতো। "আড়ং " থেকে প্রথম পাঞ্জাবি কিনি সম্ভবত ৯৯ সালে, ৬০০ টাকা ছিল সে পাঞ্জাবি র মূল্য। আড়ং থেকে পাঞ্জাবী কিনেছি এটাই ছিল সেদিন ঈদের প্রধান আনন্দ। এরপরে তো চাকুরী তে ঢুকে গেলাম, তারপর নিজে কিনে বা উপহারের মাধ্যমে প্রচুর পাঞ্জাবী কালেকশনে যোগ হয়েছে, এর মধ্যে বেশ কিছু আছে দামী ব্রান্ডের। এইতো এই ঈদে তিনটি পাঞ্জাবী যোগাড় হয়েছে, একটি আড়ং থেকে নিজে কিনলাম, বাকী দু টি আমার দু জন অফিসিয়াল ক্লায়েন্ট গিফট করেছেন। তার মাঝে একটি দেশিয় খুব দামী brand. এর আরেকটি ইনডিয়ার খুব ভালো মানের দামী পাঞ্জাবি।

তা স্বত্তেও সেই ৯৯ সালে বহু কষ্টে ৬০০ টাকা যোগাড় করে জীবনে প্রথম "আড়ং" থেকে পাঞ্জাবী কিনার আনন্দ আর কোন কিছুর সাথে তুলনা হয়না।

সেই সময় ঈদের মজা শুরু হত চাঁদ রাত থেকেই


সেই সময় ঈদের মজা শুরু হত চাঁদ রাত থেকেই। ইফতারির চেয়ে কখন C-টাইপের মাঠে হাজির হব তার টেনশন বেশী থাকত। চাঁদ দেখার চেয়ে লুকোচুরি, গোল্লাছুট খেলতাম বেশী। চাঁদ দেখলে বড়দের সাথে আমরাও হইহই করে উঠতাম।

ফুল, পাতবাহার চুরিতে আমি ছিলাম ওস্তাদ। অফিসার্স ক্লাব, শেলী ভাইদের বাগান ছিল টার্গেট। রঙিন পাতা বাহারের ডাল বোতলে করে ড্রইং রুমে রাখতাম।

তখন আতশ বাজি পোড়ানতে এত বিধীনিষেদ ছিলনা। নানা রকম বাজি ফুটাতাম আর চন্দন চাচার দাবরানি খেতাম। একবার উনাদের দোতলার দরজার সামনে সিড়ীতে টাইম বোমা ফিট করে নিচে নেমে কনা/স্বর্ণা আপার সামনে পরলাম। ধরা খাওয়ার ভয়ে বুক দুর দুর করছে। আপা বললেন, এই কাকলিকে একটু ডেকে দাওতো। আমি পালাতেও পারছিনা। আবার তিন তলায় উঠলাম। ভয় পাচ্ছি বোম যদি ফুটে পুরা ধরা। কয়েক বার কলিং বেল চাপলাম। দরজা খুলতে দেরি হচ্ছিল। ইতি মধ্যে বোমা বুম…। কিছুক্ষন পর কাকলি আপা দরজা খুললেন। বললেন, কে বোমা ফাটাইছে? আমি বললাম, আমি না, আপা আপনাকে নিচে ডাকে…..বলে ভো দৌড়।

ঈদের দিন আমাদের বয়সিরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বেড়াতাম। বিশাল গ্রূপ ছিল কিনা! প্রথমে নিজ গ্রূপের সদস্যদের বাসায় তারপর অন্যদের।শরিফা আপা বিয়ের পর নেভী ২ নং কলনী চলে গেলে চইকা কলনী থেকে হেটে বন্ধুদের নিয়ে হাজির হতাম।

ঘর সাজানোর রেওয়াজ ছিল। রঙ্গিন কাগজ, বেলুন দিয়ে ঘর সাজাতাম। কার বাসা কত সুন্দর সাজান হয় তার প্রতিযোগিতা চলত। রঙ্গিন কাগজের চেইন ড্রয়িং রূমের চারপাশ থেকে এনে ফ্যানের সাথে লাগান হত।

১/২ টাকা দামি ঈদকার্ড গুলোর কথা মনে পরে। সিক্স মিলিয়ন ডলার ম্যান, বয়নিক ওমেন এর ছবি ওয়ালা কার্ড দেয়া নেয়া চলত। কখন কোন বন্ধুর সাথে আড়ি নিলে তার সাথে ভাব করার জন্য এই কার্ড বেশ কাজে লাগত।

ঈদের দিন ভোরে আবাহনি-মোহামেডান খেলা কে কবে চালু করছিল মনে নাই। ছোট হওয়াতে আমাদের জায়গা ছিল দর্শক গেলারি (বড় শুকনা ড্রেনের পাশে) ।

বকশিস বলতে আব্বার দেয়া নতুন ১/২ টাকা।

আজ বিকেল থেকেই নুসফিকার ঈদের প্রস্তুতি শুরু


আজ বিকেল থেকেই নুসফিকার ঈদের প্রস্তুতি শুরু , একটা নতুন জামা পড়া হাতে মেহেদি লাগানো পুরো বাড়ীর এ ঘর থেকে ঐ ঘরে যাওয়া । এক কথায় ঈদের আনন্দটাই তাদের জন্যেই । তবে কলোণীর সেই ঈদের মজা কি কখনো ফিরে আসবে ? আমাদের ছোট সময়কার ঈদের নতুন জামা গুলো যন্ত সহকারে আলমারীতে রেখে দিতাম , যাতে ঈদের আগে কেউ দেখতে না পায় । অতচ এখনকার ছেলে- মেয়েরা সবাই সবাইকে দেখানো নিয়ে ব্যাস্ত এবং কার জামা বেশি সুন্দর ও কে বেশি জামা পেয়েছে তা নিয়ে গবেষনা করা । নুসফিকা তার জামা গুলো পেয়ে অনেক খুশি ।
@ঈদ মোবারক@
সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা !!!

Tuesday, July 5, 2016

১৯৬৮ সালের মাঝামাঝি


১৯৬৮ সালের মাঝামাঝি বাবার কর্মস্থল সিএসএম এসে ভরতি হলাম হোসেন আহম্মদ পাড়া ফ্রি প্রাইমারি স্কুলে- ক্লাস ফো'রে। এর আগে নিয়মিত ভাবে কোন স্কুলে যাওয়া হয়নি তাই আব্বা বাসার কাছেই এক গৃহ শিহ্মক ঠিক করলেন। গৃহশিহ্মক না বলে টিউটর বলাই শ্রেয় কারন উনি বাসায় আসতেন না আমিই যেতাম ওনার গৃহে। 

আব্বা বললেন :
-তোর হাতের লেখাটা খুব খারাপ;ঠিক করা দরকার।
বুড়া মাস্টারের লেখা খুব ভালো। উনি তোকে ঠিক করে দেবেন।

আমি আমতা আমতা করে বললাম:
-- স্যার খুব মারে।
--স্যারের মার না খেলে লেখা পড়া হয় না। আমি স্যারকে বলে রেখেছি কাল থেকে যেতে হবে।
অগত্যা আর কি!
আমরা তখন থাকতাম কলোনীর বাইরে নবী কন্টাকটরের ভাড়া বাড়ীতে। স্যার জায়গীর থাকতেন নবী সাহেবের বাড়ীতে। নবী সাহেবের ছেলেমেয়ে - কামাল,রোকেয়া,বাহাদুর এর সাথে আমিও পড়তাম। তবে এটা বুঝতে পারতাম আমাকে স্যার স্পেশাল কেয়ার কতেন।

প্রথম দিনেই স্পেশাল কেয়ারের স্পেশাল ট্রিটমেন্ট। বাম হাতের তালুতে চিকন ছড়ির সপাৎ সপাৎ। হোম ওয়ার্ক হিসাবে বাংলা,ইংরেজী দু'পাতা দ'পাতা চার পাতা হাতের লেখা।

এভাবে দুমাস যাবার পরই আমার হাতের লেখাটা একটা
" জাতে উঠতে" পেরেছিল। যার পুরস্কার আমি বৃত্তি পরীহ্মা থেকে শুরু করে জীবনের অনেক পরীহ্মায় হতে নাতে পেয়েছি।
স্যারের এই ঝৃণ শোধাবার সাধ্য কী আমার।
স্যার, আপনাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাই এই লেখাটা ফটো পোষ্ট করলাম :

ঈদ অণুগল্প (পান্থজনের সখা)


মোট ছয়জন।এর মধ্যে দুজন যুবক, একজন প্রৌঢ়, দুজন নারী আর একজন শিশু। তারা সবাই স্বতন্ত্র ইচ্ছে নিয়ে এক স্থানে মিলিত হয়।কিছু সময় একসংগে কাটায়।পরস্পর পরস্পরের সাথে পরিচিত হয়।গল্পে গল্পে আর নানা অনুষঙ্গের জন্ম দেয়।কেউ কেউ বিভিন্ন অতীতের স্মৃতি হাতড়ে বেড়ায় এবং একই সঙ্গে বর্তমান কে খুজে পায়।অতঃপর তারা কিছু সময় একসাথে থাকার স্মৃতি নিয়ে যে যার পথে চলে যায় আর নিয়ে যায় কিছু অভিজ্ঞতাও

ঈদ অণুগল্প (চেনা অচেনা মানুষ)


রুপা বুঝে যায় মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক খুব ঠুনকো। একজন মানুষের সাথে আরেকজন মানুষের সম্পর্ক যতই গভীর হোক না কেন গোটা মানুষটাকে কেউ কখনো পেতে পারেনা।আসলে কোন মানুষই গোটা নয়, অনেকগুলো অংশ মিলে একজন মানুষ। গভীর ভালোবাসাই ওই একটা অংশই কেবল দেয়া যায় আর পাওয়া যায়।এমনই এক অবস্থায় অসুস্থ মেয়ে তুলতুল কে দেখতে আসে অপু।জীবনের নানা ঘটনায় অপু থাকে অন্য জায়গায়। মেয়েকে দেখতে এসে অপু মুখোমুখি হয় রুপার।আবার শুরু হয় সম্পর্কহীন দুজন মানুষের স্মৃতিচারণ আর দ্বন্দ্ব। শুরু হয় মানুষের সাথে মানুষের দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক এর।

ঈদ অণুগল্প (ভালবাসার জন্য মানুষ সব পারে)


ভালবাসার জন্য মানুষ সব পারে-
ঢাকায় পড়ালেখা করতে গিয়ে মেয়ে প্রেম করছে, ছেলের হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে- বাবা তা শুনে পরীক্ষার আগেই বাড়িতে নিয়ে যেতে এসেছে।শুধু তাই নয় পাত্র ঠিক করে এসেছেন। বাড়িতে চলছে বিয়ের আয়োজন। কিন্তু নাফিস ও তার প্রেমিকা শীলা দুজনেই বুঝতে পারে তারা একে অপরকে ছাড়া চলতে পারবেনা।কৌশলে যোগাযোগ করে তারা।নাফিস ধনীর ছেলে হয়েও গ্রামে চলে যায়।কাজ নেয় ডেকোরেটরের। বিয়ের আল্পনা আকা থেকে শুরু করে ঘর মোছা, পুকুরে কার কানের দুল পড়ে গেল তাও তুলে দেবার ব্যবস্থা করে নাফিস। দেখা যায় নাফিস সব পারে।এর মধ্যে নাফিস আর শীলা মুখোমুখি হয় অপ্রত্যাশিত বাস্তবতার।

এক সময় আমি আর নাজমুল অনেক ঝুম ঝুম বৃস্টিতে ভিজে কত জাগায় গেছি


এক সময় আমি আর নাজমুল অনেক ঝুম ঝুম বৃস্টিতে ভিজে কত জাগায় গেছি, বৃস্টি কে আমরা কোন কেয়ার ই করনি,ভাব ছিল এমন বৃস্টি পড়ার দরকার তাই পড়ছে আর আমাদের যেখানে যাওয়ার দরকার আমরা যাবো।

শাহিন কলেজ থেকে নিউ মার্কেট সাইকেল চালিয়ে ঝড়,বৃস্টি রোদ কিছুই মানতাম না আমরা দুজন চলে যেতাম ম্যাগাজিন কিনতে (ক্রিড়া জগত), সেই সব এখন মনে হলে নিজে নিজেই চিন্তা করি কি যে করেছি সেই সময় :

আজ প্রায় ১ যুগ বা ১২ বসর এর ও বেশি হল আমি আর নাজমুল এক সাতে এমন পাগলামি করিনি, যা আজ করলাম, দুপুরে নাজমুল কে ফোন দিলাম যে চলে আয় তোকে নিয়ে বাইক দেকতে যাবো, ও ঠিক ৩ টায় আসল কিন্তু বিপত্তি ঘটালো বৃস্টি, তাই বসে থাকতে থাকতে প্রায় ৫টা এর মধ্যে নাজমুল সামান্য ঘুম, যদিও খালি পেটে ঘুম আসেনা, শুধুই ঘুমের ভান ধরে চোখ বন্দ করে শুয়ে থাকা, যাক ৫ টায় নাজমুল বলে কিরে যাবি, আমি বললাম বৃস্টি তো পড়্‌, ও আমারে বলে তুই আগের মত নাই আমি বললাম আমি আছ্‌ আমি নাকি এখন ভয় পাই (হা হা হা) মামাকে নানা বাড়ির গলপ শুনানোর মত বেপার , তাই সাতে সাতে বললাম চল নিচে নেমে দেখি ঝুম বৃস্টি নাজমুল দাড়িয়ে গেল , আমি বললাম কিরে এখন, তাই নাজমুল বল চল আমি পারবো, তাই দুই বন্ধু মিলে এতো বসর পর আবার সেই ছোট বেলার পাগলামি করে বৃস্টিতে ভিজে বাইক চালিয়ে রুবি গেইট গেলাম,যেই বাইক টা কিনতে চাচ্ছি তা দেখলাম, তারপর দুজনে আবার এক সাতে বাসায় এসে কাপড় খুলতে খুলতে ইফতারির ডাক।এই সেই আমার প্রানের বন্ধু, অনেক ভাল থাক বন্ধু। নিচে দুজনের বৃস্টিতে ভিজার পর রুবি গেইট এ গিয়ে ছবি তুললাম সেই ছবি সবাই কে দেখানোর জন্য পোস্ট করলাম।

ছোট বেলায় আমাদের সময় পাখি,কিরনমালা এধরনের নামে ড্রেস ছিল না


ছোট বেলায় আমাদের সময় পাখি,কিরনমালা এধরনের নামে ড্রেস ছিল না।ঈদের পোশাক কিনতে সপরিবারে যেতাম বেবিটেক্সি করে নিউমার্কেটে।মা কানে,গলায়, হাতে সোনা পরে যেতেন।ছিনতাই শব্দটির সাথে পরিচিত ছিলাম না।যে ড্রেসটি সবার ভালো লাগতো সেটা বাবা কিনে দিতেন।বাসায় এসে ড্রেসটি লুকিয়ে রাখতাম।মাঝে মাঝে বের করে দেখতাম।যদি দেখার সময় বেল বাজতো,সাথে সাথে লুকিয়ে ফেলতাম,বাবাও সহযোগিতা করতো।ঈদের দিন কে কেমন ড্রেস পড়েছে,প্রচন্ড আগ্রহ নিয়ে দেখতাম।তবে একটি হোক বা দুটি হোক সেটা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতাম।

ঈদের জামাত


ঈদের জামাতে গিয়েই আগে বন্ধুদের খুঁজতাম, তারা কোথায় জোট বেধে বসলো,খুঁজে পেলে আমিও জোট বাঁধতাম।যেখানে বসবো ঠিক করতাম তার ঠিক বরাবর করে নতুন জুতা রাখতাম। ঈদের জামাত হতো বাসায় পাশেই অথচ যেতাম দেরীতে।যাওয়ার সময় ক্লাবের পাশের রাস্তা দিয়ে যেতাম আর আসতাম ইউনুস ভাইয়ের দোকানের সামনে দিয়ে।
অনেক কে দেখতাম নতুন জুতা রাখতো ক্লাব বাউন্ডারির উপরে,কিন্তু কেনো!!সেখানে তো সব কলোনীর মানুষ,জানবার মন চায় কি ভেবে ক্লাব বাউন্ডারির উপর জুতা রাখা হতো!!...

শেষ বিকেলের রোদ


আব্বার রুমের জানালা দিয়ে এক ধরনের আলো আসে বিকেলবেলা।শেষ বিকেলের রোদ বলে যাকে। জানালার দিকে তাকালেই কলোনি তে থাকতে নিজেদের বাসার জানালার কথা মনে পড়ে যায়।তখন ইচ্ছে করে উকি মেরে দেখি।মনে হয় এখনই দেখতে পাব,নিচে সবাই খেলতে নেমেছে।সুমন ভাই, মাসুদ, নুরু ভাই,আরিফ ভাই, লিংকন। শুধু আমিই বাকি। সবার চিতকার, চেঁচামেচি তে ঘরে থাকা দায়।পড়ি মরি করে নিচে যাবার জন্য বের হই।দেরি হলে যদি খেলা থেকে বাদ পড়ে যাই।

কিন্তু এগুলো শুধুই ভাবনা সত্য হবার নয়।তাই আমি আর আব্বার রুমের জানালার কাছে যাই না।শুধু দূর থেকে দেখি।যাতে ভাল লাগার রেশ টুকু না কাটে। ( বৃষ্টি র কারণে এখন সেই রোদের দেখা পাওয়া দায়)

হায় csm হ্যালো csm


আর এক দিন পরই আনন্দের দিন।।পবিত্র ঈদ।।দিনটি একদিকে যেমন আমার জন্যে আনন্দের তেমনি কষ্টের।।কষ্টের বললাম এ কারনে যে এ দিনটিতে আমি অনেক কিছু মিস্ করি।।আমার ফেলে আসা শৈশব এবং কৈশোর।।যখন ছোট ছিলাম মানে কলোনিতে থাকাকালীন স্কুলে পড়তাম ঐ সময়কার দিন গুলো,,ঐ সময়কার ঈদ আনন্দ গুলো আমি বিষণ মিস্ করি।।আমি মিস্ করি বন্ধুদের সাথে ঈদ জামাতে এক সাথে অংশ নেয়া,,আমি মিস্ করি অফিসার্স ক্লাবে হারুন হুজুরের পেছনে এক কাতারে ঈদ জামাত আদায় করা,,আপন মানুষ গুলোর সাথে কোলাকুলি করে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করা,,মিস্ করি ভাই ভাই ষ্টোর থেকে বেলুন-বাঁশি কিনে এক সাথে সব বন্ধুরা মিলে কলোনির এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত পেপু পেপু শব্দ করে কলোনিটাকে শোর চিৎকারে মাতিয়ে রাখা,,মিস্ করি খালাম্মাদের হাতের তৈরি মজার মজার খাবার গুলো।।হয়তো ওনারাও মিস্ করেন আমাদের মুখ গুলো,,হারিয়ে যাওয়া সেই দিন গুলো।।মিস্ করি ইউনুস ভাইয়ের দোকানের মিষ্টি পান,,আচার এবং ঠান্ডা কোক।।দুপুরে পোলাও মাংস খাওয়ার পর ওনার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ঠান্ডা কোক খাওয়া শেষে ঢেকুর তুলতে তুলতে খিলি পান মুখে দিয়ে অবস্থান ত্যাগ করার মুহূর্ত গুলো।।মিস্ করি পতেংগার সেই সাগর পাড়ের আড্ডাটা।।ওখানে বন্ধুরা মিলে বিকেল বেলা একসাথে আনন্দ করার মুহূর্তটা।।হয়তো আমার মতো আপনারাও মিস্ করেন আপনাদের হারিয়ে যাওয়া সেই সিএসএম-কে,,সিএসএমের মানুষ গুলোকে।।

ভাল থাকুন সবাই।।নিরাপদে থাকুন।।সবাইকে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা।।ঈদ মোবারক।।

এমন দিন এলে খুশীতে মন ভরে যেত


এমন দিন এলে খুশীতে মন ভরে যেত, শুধু চিনতা করতাম কখন ইদের নামাজ পরার জন্য নতুন পানজাবি পরব, নামাজ শেষে, গিয়ে সবার ঘরে ঘরে সালাম করে সালামি নিব, খাবারের চেয়ে সালামির প্রতি আগ্রহ টা বেশী থাকত, সালামির টাকা নিয়ে বাসায় কতই না ঝগড়া করছি তার ঠীক নাই, যখন রাত হত মনটা অনেক খারাপ হয়ে যেত, ঈদ কেন এতো তারাতারি চলে গেল, আর এখন তো পুরাই ডিজিটাল সালামি না দিলে, জোর পুর্রক আদায়, ছোট বেলায় ভাল ছিলাম

ঈদ অনুভাবনা


হঠাৎ কেন জানি মন টা উদাস হয়ে গেল।মনে হল কোথাও গিয়ে চুপচাপ বসে থাকি। বসার জায়গা টা কলোনি র কবর স্থানের পাশে হলেও খারাপ হয় না।কেউ বিরক্ত না করুক।আকাশে মেঘ থাকলেও বৃষ্টি নেই।কবরস্থান এর বাঁশ গাছ গুলো র হালকা মৃদু মন্দ হাওয়া। একটা দুইটা পাখি ডাকছে। কিন্তু তাতে পরিবেশ টা আরো ভাল লাগছে। মনে বাজতে থাকুক, 
" দূরে কোথাও, দূরে, দূরে, 
আমার মন বেড়ায় ঘুরে, ঘুরে"
সত্যিই আর কিছু চাই না। এত টুকুতেই মন টা ভাল হয়ে উঠত।

ঈদ অণুগল্প - মেঘদূত


নিলয় ১৪ বছর পর আমেরিকা থেকে ফেরে। তার ছেলেবেলা কেটেছে যে স্থানে সেই সিলেটের পাহাড়কে নতুনভাবে দেখা।লাবন্য পেশায় ফটোসাংবাদিক। এক কম্পিটিশন এর জন্য ছবি তোলার উদ্দেশ্যে লাবন্য সিলেট যায়।সেখানেই তাদের পরিচয়। কিন্তু গল্পের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতায়য় তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব্ব হয়ে গেলেও প্রেম হয়ে যায় না।তারা জানে এই দ্রুত গতির সময়ে নারী পুরুষের মধ্যে ভাল লাগার সৃষ্টি হলেও প্রকৃত ভালবাসা হয় না।এই ফেসবুকের যুগে ভালবাসাও ইন্সট্যান্ট,ক্ষণিক। লাবন্য আর নিলয়ের জীবনেও ভালবাসা তাই দ্রুত হারিয়ে যায়

ঈদ মানে খুশি,আনন্দ, মজা আরও কত কি


ঈদ মানে খুশি,আনন্দ, মজা আরও কত কি।কিনতু আমার কাছে আমার সেই ষোল বছর আগের কলোনির ঈদটায় ছিল শ্রেষট আর অতলনীয়।এখন তো শুধু সবার সাথে তালে তাল মিলানো।

কলোনিতে যখন ছিলাম তখন কত রকমের মজাই না করতাম।রমজান মাস টা জে আমাদের কখন শেষ হয়ে যেত বুঝতামি না।ঈদের দিন সকালে উঠে গোসল করে কখন জে নতুন জামা পড়বো সে চিনতায় সারারাত ঘুমাইতাম না।আর এখন তো অন্যরকম।তারপর building এর সবাইকে সালাম করে কে কত টাকা পাইতাম তার হিসাব করতাম।যেখানেই যাইতাম সবাই সালামি দিত।কত আন্তরিক ছিল কলোনির মুরব্বিরা।আর এখন কেউই কোনো সালামি দেয় না।কলোনি টারে বড় বেশি মনে পড়ে।কোনোদিনও ভুলতে পারবো না সেইসব দিনগুলারে।।সবাই ভাল থাকবেন আর সবার জীবনে ঈদ নিয়ে আসুক অনেক আনন্দ আর ভালবাসা।

ঈদ অণুগল্প - ২ রা ফাল্গুন


বহ্নি একটি গিফট শপের সেলস গার্ল। কাজ আর ঘর নিয়ে খুবই সাধারণ আর গৎবাধা জীবন তার। বিশ্ব ভালবাসা দিবসে ধুমকেতুর মত তার জীবনে আসে চন্দন।চন্দন বহ্নির দোকান থেকে কিছু উপহার কিনে আবার বহ্নির কাছেই রেখে যায়।একদিন বহ্নি আবিস্কার করে উপহার গুলো তে তার নাম লিখে দিয়েছে চন্দন। বারবার দেখা হয় চন্দনের সাথে।দুজনেই বুঝতে পারে একে অপরকে ভালবাসে। কিন্তু বহ্নি কখনোই চন্দনকে পুরোপুরি বুঝতে পারেনা।বহ্নি যখন চন্দনকে নিয়ে ঘর বাধার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ঠিক তখনই হঠাত করে উধাও হয়ে যায় চন্দন। বহ্নি অপেক্ষায় থাকে, চন্দন আসবে।আসে চন্দনের হাতে লিখা একটি চিঠি। আসে বহ্নির জন্য পাঠানো চন্দনের ভালবাসার উপহার

ঈদ অণুগল্প - রুপালি তারা


দয়াগঞ্জ গ্রামের একটি মেয়ে নাম টিয়া।শৈশব আর কৈশর থেকে যে স্বপ্ন লালন করে আসছে - সে রুপালি পর্দা র মানুষ হবে।যৌবনে পা দিয়ে তার সে স্বপ্ন আরো প্রবল হয়।নতুন সিনেমার একটিও বাদ দেয় না।মাতৃহীন টিয়া সংসারের কোন দায়িত্ব না নিয়ে সব দায় অবলীলায় বাবার উপর চাপিয়ে দেয়।টিয়ার আক্ষেপ - দয়াগঞ্জের কোনো মানুষের মধ্যে রুপালি পর্দার মানুষের কোনো প্রতিচ্ছবি খুজে পাওয়া যায় না।এর মধ্যে দয়াগঞ্জ এ আসে বাবলু।বাবলুর কথায় চলায় টিয়া খুজে পায় স্বপ্নের জগতের সেই মানুষের চরিত্র। এক সময় বাবলু গ্রাম থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়।কিন্তু টিয়ার আর সময় কাটে না যেন।তাই একদিন সবার অলক্ষ্যএ টিয়া পাড়ি জমায় বাবলুর কাছে - অথচ কোথাও খুজে পায় না।

Monday, July 4, 2016

পাশের বাড়ির মেয়ে


এই লিখাটা যাকে নিয়ে তিনি হয়ত কলোনি র কেউ নন।কিন্তু কলোনি তে আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন তার অভিনয় দেখে বড় হয়েছি,তার জনপ্রিয়তা, উত্থান সব আমাদের বেড়ে ওঠার সময়ে হয়েছে। বিপাশা হায়াত। সুপ্রভাত ঢাকা নাটকে যাকে দেখা গিয়েছিল,আবুল হায়াতের মেয়ে হিসেবে।সেদিন তার সাধারন মেয়ের ইমেজ এ মুগ্ধ হয়ে ছিলাম।কোন নাটকে তিনি আছেন শুনলেই অপেক্ষা শুরু হত। হুমায়ুন আহমেদের অন্য ভুবনের ছেলেটা নাটক আর বিশেষ করে অয়োময় এর লবঙ্গ চরিত্র তাকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে। বিপাশা হায়াতের মধ্যে ছিল এক ধরনের শান্ত,স্নিগ্ধ সৌন্দর্য যার কারণে খুব অল্প সময়ে তিনি দর্শক দের নজর এ পড়ে যান।আর ছিল পাশের বাড়ির মেয়ে ইমেজ,যাকে যেকোন পুরুষ তার মা বাবার সামনে পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন।উগ্রতা, উশৃঙ্খলতা এগুলো বিপাশা হায়াতের মধ্যে ছিল না।শালীনতা আর বিপাশা পরস্পর এর প্রতিশব্দ। হয়েছিলেন লাক্স এর মডেল। আর এভাবেই নিজের একটা আলাদা ইমেজ গড়ে তুলে সবার খুব কাছের মানুষ হয়ে উঠেন বিপাশা হায়াত

দুদিন ধরে মনটা খুবই খারাপ


দুদিন ধরে মনটা খুবই খারাপ। কোন কাজে মন দেয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।তারপর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কাজ করি বলে দেশ ও জাতির প্রতি দায়বদ্ধতার তাগিদে ৩ জুলাই বিকেল ৪ টায় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিলাম। সমাবেশ ও অন্যান্য কাজ শেষ করতে বিকেল ৫.৩০ বেজে গেল।আমার সাথে আমার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তিন চার জন বন্ধুরা ছিল আর ছিলেন আমাদের সুচয়নের পরিচালক।সাথে ছিলেন তাঁর এক বন্ধু।(নাম বললে অনেকে চিনবেন।)পরিচালক বলেন.... তোমাকে ওর বাসায় যেতে বলছে। আমি বললাম আমি তো একা যেতে পারবনা।সঙ্গে যারা আছে তাদের নিয়ে যেতে হবে।আমার বন্ধুরা ভদ্রলোককে বলল ইফতার করাতে হবে।উনি উওর দিলেন আমি কী ইফতার বানায়? আমি বললাম তাহলে তো আমি যাব না।আমরা কেউ যেতাম না।দুষ্টুমি করছিলাম।আবারো দুষ্টুমি মাথায় চাপলো।দিলাম অপু দাকে +(আপনারা অনেকে যাকে আদর করে মগা বলেন) কল।দাদা আপনার বাসায় ইফতার করবো।দাদা বললো কয়জন আছস? আমি বললাম আছি কয়েকজন।দাদা বললো বাসায় যা।তোর বউদিকে আমি বলছি। লাউন্ড স্পিকারে ছিল মোবাইল। আমার বন্ধুরা বললো মনে হলো যেন নিজের ভাই কথা বলছে। আমি গলা উচুঁ করে বললাম আমরা সি এস এম।খুব আনন্দে ওরাও আমার সাথে সাথে চুপ করে গেল। আমি আমার বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধুকে (পরিচালক) জিজ্ঞেস করলাম:অসাম্প্রদায়িক কে, আপনার বন্ধু???? না আমাদের সি এস এম।উনি আমাকে বললেন অবশ্যই তোমাদের সি এস এম।আর বললেন অপু কিন্তু সাংস্কৃতিক কর্মী, মাথায় রেখো।বিক্ষিপ্ত মনটা সাথে সাথে ভালো হয়ে গেল।ধন্যবাদ অপু দা

Sunday, July 3, 2016

গতকাল কলোনীর কিছু চুরির ঘটনা লিখতে


গতকাল কলোনীর কিছু চুরির ঘটনা লিখতে গিয়ে-বন্ধু মানিক ও অন্যান্য কিছু বন্ধুর কিছু গোপনিয় ঘটনা চলে আসায় আর ওপেন পেইজে লিখতে পারলাম না। ঘটনার মোড় ঘুড়িয়ে ভ্রমনের অভিজ্ঞতার দিকে নিয়ে গেলাম। আজকে আর একটা নিজের জীবন থেকে নেওয়া ঘনটার কিছু অংশ শেয়ার করলাম। প্যানাসনিক ব্যান্ডের কমিউনিকেশন সাইডে-পিএবিক্স ফ্যাক্স এর সফটওয়ার ও হার্ডয়ার ট্রেনিং এর জন্য জাপান ও সিঙ্গাপুর থেকে ট্রেনার আসল। তাদের সাথে হোটেল শেরাটন ও পূর্বানী হোটেলে অনেকগুলি গ্রুপিং ফটো তুললাম। ফটোগুলি দেখে বৌয়ের ধারনা আমি অনেক বড় ইঞ্জিনিয়ার হয়েগেছি-যেই বাসায় আসে তাকে ফটোগুলি দেখায়। একদিন বাসায় এসে দেখি বাসায় অনেক মানুষ। কি ব্যাপার? সবাই জানালো আমার মত ইলেকট্রনিক্স বিশেষজ্ঞ ইহজগতে আর নাই। সবাই চাচ্ছে আমি যেন দেখে শুনে তাদের টেলিফোন, ফ্যাক্স এমনকি কম্পিউটারও কিনে দেই। মোদ্ধা কথা বিনা দালালিতে দালাল। বিশেষজ্ঞ দালাল। সবাইকে হ্যান-তেন বলে খেদালাম কিন্ত বাড়ীওয়ালাকে ঠেকানো গেল না। একদিন সকলে অফিসে আসব এমন সময় বাড়ীওয়ালা এসে হাজির। 

বাড়ীওয়ালা আবার এখানে থাকে না। থাকেন উত্তরায় গাড়ী নিয়ে হাজির। বাড়ীওয়ালাকে সকল সকল দেখে ভাল লাগল না। ভাড়াতো কেয়ারটেকার ছ্যামরাটা নিয়ে যায় এই মড়া আবার এখন কেন? বাড়ীওয়ালা দর্জায় দাড়িয়ে বলল? আসতে হুকুম দিন। কথা শুনে গা জ্বলেগেল, ঢং, ঢংয়ে আর বাচেনা। আমি হাসি মুখ করে বললাম আসুন। বাড়ীওয়ালা এসে সোফায় বসল। তারপর ধিরে সুস্থে যা বলল তাতে আমার ট্যারা হওয়ার জোগার। বাড়ীওয়ালার ক্লাস 7 পড়ুয়া ছেলের জন্য কম্পিউটার ও নিজের জন্য একটি ফ্যাক্স মেশিন কিনবেন। ছেলেটা নাকি বখে গেছে। স্কুলে যায় না ঠিকমত, পুলিশেও দুই একবার ধরে নিয়ে গেছিল। ছেলে বলেছে বাবা কম্পিউটার কিনে দাও, কম্পিউটার না দিলে পড়বনা। আমি বুঝিয়ে বললাম ক্লাস 7 এর ছেলের জন্য তেমন দরকার নেই। আসলে ও পড়বে না। ফালতু বাহানায় ধরেছে। বাড়ীওয়ালা হাত তুলে বাধা দিলেন, সেতো জানে তবুও ঘরে একটা কম্পিউটার থাকা দরকার। একটা কম্পিউটার না থাকলে ঘরটা বেমানান লাগেনা? আমি বললাম জি লাগে। তাহলে আমাকে একটা কম্পিউটার ও ফ্যাক্স মেশিন কিনা দেন, আপনি ভাল চিনবেন। 

পরিসংখ্যান রিপোর্টঃ জুন_২০১৬_(১_জুন_২০১৬_থেকে_৩০_জুন_২০১৬_পর্যন্ত)

- Al Amin Billah Shujon

গত মাসের মত এই মাসেও লিখা এসেছে অনেক কম। জুন মাসে সি.এস.এম পেজ এ লিখালিখি আর লেখকের পদচারনা ছিল মে মাসের তুলনায় অনেক বেশি কিন্তু লিখা এসেছে তুলনামুলকভাবে অনেক কমযাইহোক এইবার ফলাফল প্রকাশ করি।

# Facebook CSM Colony পেজ এ জুন ২০১৬ (১ জুন ২০১৬ থেকে ০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত) ছোট, বড়, মাঝারি, বাংলা, ইংলিশ, বাংলিশ মিলিয়ে এখনো পর্যন্ত সকল ছোট, বড়, মাঝারি ভাই বোনদের মোট লিখার সংখ্যা (অনুছড়া/পরমাণু ছড়া/হঠাৎ ছড়া/কচুর ছড়া/বাথরুম খেলা/অন্যান্য খেলা বাদে) ১৪৭ টি (এভারেজ ৪.৯), যা মে তে ছিল ১৩৮ টি (এভারেজ ৪.৪৫)

# জুন মাসের ফলাফল সম্পর্কে  বিস্তারিত জানতে চাইলে http://csmcolony.blogspot.com এই সাইটের নিম্নলিখিত লিঙ্ক এ প্রবেশ করুন http://goo.gl/8ZkLCKএই লিঙ্কে জুন ২০১৬ এর সবগুলো লিখা (১৪৭ টি) আর্কাইভ করা আছে।

# জুন মাসে সবচেয়ে বেশি লিখা পোস্ট হয়েছে জুন ২০১৬ (১১ টি) আর সবচেয়ে কম লিখা পোস্ট হয়েছে ১ জুন এবং ২০ জুন ২০১৬ (মাত্র টি করে)

# জুন মাসে মোট লেখকের সংখ্যা ছিল ৪১ জন, যা মে তে ছিল ৩৬ জন, সুতরাং লেখকের সংখ্যা কিছুতা বেড়েছে, মাত্র ৫ জন (মে এর তুলনায় ১৩.৮৯%) বেড়েছে। আবার মে এর তুলনায় জুনে লিখার সংখ্যা বেড়েছে টি (মে এর তুলনায় ৬.৫২%)

# Facebook CSM Colony পেজ এ শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত (৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত) সর্বমোট লিখার সংখ্যা ১৬৩৭ টি। http://csmcolony.blogspot.com এই সাইট এ সবগুলো লিখা আর্কাইভ করা আছে এবং প্রতিনিয়িত আপডেট করা হয়।  

# যদি কারো লিখা ভুলবশত বাদ যায় তাহলে ক্ষমা করবেন এবং আমাকে ট্যাগ করবেন উল্লেখ্য মে তে লিখার সংখ্যা অনেক কম হবার জন্য এই মাসের পরিসংখ্যান করতে অনেকটা সহজ হয়েছে।

•    মে ২০১৬ তে আতিক ভাইয়ের এর লিখা সবচেয়ে বেশি, উনার সর্বমোট লিখার সংখ্যা ২৪,
•    দ্বিতীয় অবস্থান আছেন নিরু ভাই, স্কোরঃ ১১,
•    তৃতীয় অবস্থান আছেন মোসাদ্দেক আলী ভাই, স্কোরঃ ৯

সেদিন দুজনে


মোমিন চাচাকে আমি প্রথম দেখি নাজমুল ভাইদের তিনতলায় আসার পর। পুশন তখন অনেক ছোট।ওর নাম প্রথমে নাকি ছিল পূজা।পরে বদলে পুশন রাখা হয়।খুব স্মার্ট ছিলেন।আর চাচী ছিলেন খুব শান্ত। এর অনেকদিন পর উনারা আবার এলেন c1 এর তিন তলায়। ততদিনে প্রিন্স এর জন্ম হয়েছে। চাচা বাচ্চাদের খুব ভালবাসতেন। কলোনি র ছোট ছোট বাচ্চাগুলোকে নিয়ে ঘুরতেন। ওনারা যে বিল্ডিং এ থাকতেন, তার সামনে বসার জন্য কয়েকটা পাকা বেঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিলেন যাতে গল্প করার জন্য বসা যায়। চাচা বলেছিলেন, দোলনা করে দিবেন কিন্তু পরে কতৃপক্ষ অনুমতি না দেয়ায় আর দোলনা আসেনি। বিকেল বেলায় চাচা অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরে আসলেও প্রান খোলা হাসি লেগেই থাকত। একবার বেশ কয়েকটা বাচ্চা নিয়ে রিকশা করে ঘুরে বেড়াতে গিয়ে চাচা এক্সিডেন্ট করলেন। অফিসার্স ক্লাবে কোন অনুষ্ঠান হলে সেটা কত টা সুন্দর করে করা যায় তাতে চাচা অগ্রনী ভূমিকা পালন করতেন।এসব ব্যাপারে চাচীর মনে হয় নিরব মানসিক সাপোর্ট ছিল। তাই হাজারো ব্যস্ততার মাঝে চাচা এই কাজগুলো করতেন।আমি কখনো চাচী কে কথা বলতে শুনিনি। শুধু গান গাইতে শুনেছি। পয়লা বৈশাখ আসার আগে চাচী র রেওয়াজ করতেন।পুশন কে সামনে বসিয়ে। মোমিন চাচাকে আমার খুব রোমান্টিক মানুষ মনে হত।একবার কলোনি থেকে আসার পর টিভিতে চাচা চাচী কে দেখাচ্ছিল। উনারা রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছেন।

এর অনেক বছর পর চাচা কে দেখলাম কে ইপি জেড এর গেস্ট হাউজে। সময় গড়ালেও চাচার আন্তরিকতায় এতটুকু ভাটা পড়েনি।বরং তা আরো বেড়েছে। এরকম সুন্দর আর ভাল মনের মানুষ সুস্থ ভাবে বেচে থাকেন আরো অনেক বছর, যাতে করে আমরা ভাবতে পারি, যান্ত্রিকতা আমাদের সবকিছু তে প্রভাব ফেললেও আন্তরিকতাটুকু কেড়ে নিতে পারেনি।

প্রতিবেশিনী


আমাদের দোতলায় থাকতেন রুমা আপারা। উনারা ছিলেন ছয় বোন। কোন ভাই ছিল না। উনার আম্মা মাঝে মাঝে বেশ কিছু অদ্ভুত কথা বলতেন।এর মধ্যে কোন টা শুনে হাসি পেত আবার কিছু কিছু শুনে বিরক্ত লাগত।

একবার উনাদের একটা মোরগ খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। উনি পরিচিত যাকেই দেখছেন তাকেই জিজ্ঞেস করছেন কোথাও মোরগ টাকে দেখেছে কিনা। চাটগাঁইয়া শুদ্ধ মিলিয়ে বলছেন। সামনের বিল্ডিং এ থাকতেন পলি আপা।উনি আবার রিনা আপার বান্ধবী ছিলেন।পলি আপাকে দেখতেই খালাম্মা বললেন, " পলি, আমাদের রাতা মোরক (মোরগ)টা দেখছ? পলি আপা বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করলেন, জি খালাম্মা, বুঝিনি "
রিনা আপা পরে বুঝিয়ে বললেন।

আরেকদিন বিজয় দিবসে টিভি তে রুনা লায়লার গান দিচ্ছে। রুনা লায়লার পাশ দিয়ে সেনাবাহিনী কুচকাওয়াজ করছে আর রুনা লায়লা গান গাইছেন," লক্ষ প্রানের মুল্যে গড়েছি সোনার বাংলাদেশ"।

খালাম্মা সাথে সাথে জানতে চাইলেন, ওরা যে কুচকাওয়াজ করছে, ওগুলা ঠিক হচ্ছে কিনা"
আমি বললাম, কেন খালাম্মা, কি হয়ছে?

উনি বললেন, ওদের খেয়াল ত কুচকাওয়াজ এর দিকে নাই, ওরা ত সবাই রুনা লায়লার দিকে তাকিয়ে আছে" 
খালাম্মার কথা শুনে আর কথা বাড়ালাম না।

আরেকদিন উনার ছোট মেয়ে মুক্তা যার সবকিছুতেই বায়না করা অভ্যাস ছিল।আমি কলোনি র গেইট এর পাশে র ইসলাম এর দোকান থেকে হলুদ রং এর বেলুন কিনলাম। খেলছি।এটা দেখে মুক্তাও ওর আম্মাকে বলল,বেলুন কিনে দিতে।মুক্তা আবার বেলুন কে বলত, ফুতানা। ওর আম্মাকে যখন বেলুনের জন্য বার বার বিরক্ত করছে, সাথে সাথে খালাম্মা জানতে চাইলেন, বেলুন কোথায় দেখেছে। মুক্তা আমার দিকে হাত দেখাল। 

খালাম্মার উত্তর শুনলে যে কারো মাথা ধরে যাবে।বললেন, "জনিকে বল বেলুন কিনে দিতে।ও দেখায় ছে কেন? আমার কাছে ভাংতি টাকা নাই এখন। " উনি বড় বলে আমি কিছু না বলে চলে এলাম।

এমনই অদ্ভুত টাইপের কথা বলে উনি মাঝে মাঝে অবাক করে দিতেন