Thursday, July 14, 2016

তোমার চরণে দিব


আরতি আপা, আমাদের স্কুলের একজন আপা যিনি খুব সহজ সরল মানুষ ছিলেন।আপা ক্লাস ফাইভ এ আমাদের ড্রইং ক্লাস নিতেন।ক্লাস নেয়ার ফাঁকেফাঁকে আপা তার স্বভাব অনুযায়ী পান খেতেন।অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষার পর আপা খাতা দিবেন, কে কত পেয়েছে আমরা উকি মেরে দেখতে চাইছি। আপা বিরক্ত হয়ে স্কেল দিয়ে মাছি তাড়ানোর মত করে আমাদেরকে তাড়াচ্ছেন।খাতা দেয়ার পর আমরা সবাই যার যার ভুল খুজে বের করছি, আপা কেন নাম্বার কাটলেন।দেখা গেল Al Amin Billah Shujon, সবচেয়ে বেশি নাম্বার পেয়েছে। ওদিকে ক্লাসে যে ফার্স্ট বয় তাকে আপা ২৫ এ দিয়েছিলেন ৭ মানে ফেল। ও ত লজ্জায় শেষ। বার বার আপার কাছে ছুটে যাচ্ছে নাম্বার বাড়িয়ে ওকে পাশ করিয়ে দেবার জন্য।এখানেই আপার সততা চোখে পড়ে।আপা কিন্তু রোল দেখে ওকে পাশ করিয়ে দিতে পারতেন।বেশি নাম্বার দিতে পারতেন। কিন্তু উনি তা করেননি।উনি যে ভাল করেছে তাকেই বেশি দিয়েছিলেন। একসময় ফার্স্ট বয়ের অসহায় অবস্থা দেখে আপার মনে মায়ার সঞ্চার হয়।খাতা কাটার সময় আপা দৃঢ়ভাব দেখালেও মনে মনে আপা ছিলেন একজন মায়াবতী মহিলা।উনি ৯ দিয়ে ওকে সেবারের মত পাশ করিয়ে দিয়েছিলেন এবং পণ করিয়েছিলেন ড্রইং কে যেন সে গুরুত্ব দেয়।৭ থেকে ৯ পেয়ে ওই সময় আমাদের ফার্স্ট বয় আপার কথায় সম্মতি জানিয়েছিল।এর পর আপাকে অনেক দিন দেখিনি। ইদানীং আপার মত এক মহিলাকে প্রায় দেখি।তাই আপার কথা মনে পড়ল।

কিন্তু আপা যে কবেই আমাদের ছেড়ে ওই দূর আকাশের তারা হয়ে গেছেন, তা জানতে পারিনি। আপনি না হয় সেখান থেকেই আপনার আশীর্বাদ এর আলোক রশ্মি আমাদের উপর বর্ষন করুন।

নিয়াজ মোরশেদের হুজুর আর মক্তবের উপর লেখা পড়ে একটি ঘটনা মনে পড়লো


নিয়াজ মোরশেদের হুজুর আর মক্তবের উপর লেখা পড়ে একটি ঘটনা মনে পড়লো। ক্লাস ফাইভে থাকতে আমরা তখন জরুরী আবাসিক কলোনীতে এসেছি,ডি-টাইপে।পাশে ই-টাইপের সামনে ছিল 'মক্তব'। সেখানে ভর্তি হলাম।দুইজন হুজুর ছিলেন।একজন বয়স্ক,অন্যজন কম বয়সী।প্রথমে দুইজনই একসাথে আমাদের পড়াতেন। কিছুদিন পর উনারা ছাত্রছাত্রী আলাদা করে দুই রুমে আলাদাভাবে পড়াতেন।আমি পড়তাম কম বয়সী হুজুরের রুমে।তবে আমি একটু বিরক্ত ছিলাম হুজুরের উপর,আমার পড়ার প্রতি একটু বেশি খেয়াল করতেন বলে। কয়েকদিন যাওয়ার পর বাসায় বেল বাজল। আব্বা দরজা খুললেন।পিছন থেকে দেখলাম ছোট্ট মেয়ে দুইজন একটি 'চিরকুট' নিয়ে এসেছে।দিলেন আব্বার হাতে।চিরকুটটি পড়ে আব্বা বললেন,'আরবী পড়তে যাওয়ার দরকার নেই।' এরপর থেকে মক্তবে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল।এখন কারো মেয়েকে আরবী পড়াতে চাইলে মেয়ে হুজুরের কাছে পড়াতে বলি।

গতকাল রিপনের বাবার জন্মদিন ছিল


গতকাল রিপনের বাবার জন্মদিন ছিল। সে কারনে বাবাকে নিয়ে তার লেখাটা পড়ে ভালো লেগেছে। সেই সাথে শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায় মনটা আপ্লুত হয়েছে ষ্টিল মিলের অনেক বাবার জন্য যারা নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য নিজেরা ঘাম ঝরিয়েছেন, স্বীয় মর্যাদাকে বিসর্জন দিয়েছেন।।

কল কারখানার চাকরী এমনিতেই কায়িক শ্রম নির্ভর। তার মধ্যে ষ্টিলমিলের চাকরীটা একেবারেই ভিন্ন প্রকৃতির ( বিশেষ করে তখনকার প্রযুক্তির বিচারে) ।

মেল্টিং সোপ, বার মিল, ব্লুমিং মিল, হেভী প্লেট মিল এসব জায়গায় চাকরী করাটা ভীষন কষ্ট সাধ্য ছিল -যা আমরা সবাই জানি। সংসারে একটু সাছ্বন্দ আনতে, ছেলেমেয়েদের বাড়তি একটু বায়না মেটাতে তারা এসব জায়গার তপ্ত পরিবেশে ঘাম ঝরিয়ে ওভারটাইম করেছেন। এমনকি ওভারটাইমের নেশায় অনেক বাবার আয়ুষ্কাল সংকুচিত হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভালো রাখতে, সাছবন্দে রাখতে বাবারা নিজেদের পদোন্নতির সুযোগকে ইছছাকৃতভাবে ফরগু করে নিজের মর্যাদাকে বিসর্জন দিয়েছেন।

রিপনের বাবা, বোরহানের বাবা - এমন অনেক বাবার প্রতি তাই আমার বিশেষ শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা।
এমন বাবার সন্তান হওয়া গৌরবের। 

এমন বাবাদের গায়ে ঘামের গন্ধ থাকে না। 

থাকে ঘামের সৌরভ। আর সেই সৌরভে সুরভিত হয় আমাদের চারপাশ !!

Wednesday, July 13, 2016

উৎসব উৎসব


ছোটবেলায় বিটিভিতে একটা নাটক দেখেছিলাম।নাম উৎসব উৎসব। নাটক টার কাহিনী তে দেখা যায়, বাবার মৃত্যু তে ছেলেমেয়েরা সবাই দূর দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছে।ভাই বোনেরা একসাথে হয়েছে অনেকদিন পর। বাবাকে কবর দিয়ে আসার পর সবাই আবার বাবাকে ঘিরে নানা স্মৃতি মনে করে আড্ডায় মেতে উঠছে,আবার একসাথে বেড়াতে যাবার প্ল্যান করছে। এর মধ্যে ছোট খাট দু একটা মান অভিমান এর ঘটনা যে ঘটছে তা নয় কিন্তু সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে সবাই উৎসব মুখর থাকতে চাইছে।

তেমনি ছোটবেলায় যে কলোনি তে জন্ম হয়েছিল, বড় হয়েছিলাম সেই কলোনি থেকে চলে আসার পর মিল টা বন্ধ হয়ে যাবার পর কলোনি র মানুষগুলো নানা জায়গায় চলে গিয়েছিল।ফেসবুকে একটা পেজের মধ্য দিয়ে সেই মানুষগুলো আবার কাছাকাছি চলে এসেছে। এখানে তারা কলোনি নিয়েও যেমন স্মৃতিচারন করে তেমনি আবার নানা সময়ে একত্রিত হয়ে উৎসব এ মেতে উঠে।সেটা হাসপাতালে হোক,কিংবা কারো অফিসে বা বাড়িতে বা রেস্টুরেন্ট এ। নাটকের মত এখানেও যে মান অভিমানের ঘটনা ঘটেনা তাও নয় কিন্তু সেটা কেউ মনে রাখতে চায় না। কারো অসুখে, কারো বিয়েতে কিংবা অন্য কোন ছুতোয় তারা একসাথে হয় আর আনন্দে মেতে উঠে।




আমি কোন লেখক নই


আমি কোন লেখক নই। লেখার অভ্যাস আমার কখোনই ছিল না। সিএসএম পেইজের কল্যাণে টুক-টাক দুই-এক কলম লিখি। মহা সমুদ্রের শুরু আছে আবার শেষও আছে। কিন্ত আমার বাবা আমেরিকা চলে যাওয়ার পর বাবাকে নিয়ে যত ভেবেছি, শুরুটা পেয়েছি কিন্ত শেষ পাইনি। বাবাকে নিয়ে আমার ভাবনাগুলো ছিল সবসয়ম নদীর মত প্রবাহমান। প্রত্যেক মানুষের জীবনেই কিছুনা কিছু চাওয়া-পাওয়ার থাকে। আমার জীবনে কোন চাওয়া-পাওয়া ছিলনা। কেননা করুনাময় আল্লাহ তায়ালা আমাকে জন্ম থেকেই সন্তষ্ট করে রেখেছিলেন। আর এই সন্তষ্টির মুল ছিল আমার বাবা। বাবা ছিলেন আমার সকল হাসি-আনন্দের উৎস। তিনিই ছিলেন আমার সব চেয়ে ইনষ্টিটিউশন। আমার মনের সব প্রশ্নের সকল উত্তর পেতাম বাবার কাছ থেকে। আর এ কারনে বাবাই আমার কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাড়াতো। পৃথিবীর মহৎ ও উত্তম গুনের এমন কোন দিকছিলনা যা আমার বাবার ছিলনা? আমার বিশ্বাস পৃথিবীর সমস্ত উত্তম গুনের অধিকারী ছিলেন আমার বাবা। যাকে বলবো-A man with full good treats.

আমার বাবা ছিলেন আপোষহীন। সেই 1972 সাল থেকে আমরা এফ/10/15 নম্বর বিল্ডিং এ দীর্ঘ 28 বছর 8 জন মানুষ-15 ফুট বাই 15 ফুট রুমে মানবেতর জীবন-যাপন করেছি যা হয়তো ষ্টীল মিল কলোনীর অন্যতম দৃষ্টান্ত। তারপর ও আমার বাবাকে কোন দিন ইউনিয়নের কারো বিরুদ্ধে কোন দিন কোন অভিযোগ করতে শুনিনি। আমার বাবা ছিলেন বারমিলে-পদবী ছিল ‘‘মাষ্টা টেকনিশিয়ান” আমার বাবার বস ছিলেন খানসুর চাচা। অনেক বার আমার বাবাকে ফোরম্যান পদবী নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্ত ফোরম্যান হলে-ওভারটাইম করা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারনে-উনি প্রমোশন নেন নাই, সুধু আমাদের সচ্ছলতার কথা চিন্তা করে। এমনও দেখেছি-আমাদের একটু সচ্ছলতার জন্য 24 ঘন্টাও মিলে পড়ে থাকতেন। আমাদের জন্য নিজের জীবনটা কে কখোনই জীবন মনে করতেন না। 1996 সালে আমার মা ডায়েবেটিকস রোগে-পরকালে চলে গেলেন। নিজের লেখাপড়া বাদ দিয়ে মাকে নিয়ে ঢাকার বাডেম হাসপাতালে মাসের পর মাস পড়ে থেকেছি-কি দুঃসহ জীবন? কখন কখন আত্মীয়দের বাসায় কখনো হাসপাতালের বারান্দায় কিন্ত মাকে বাঁচাতে পারিনী। আমার বন্ধুরা তার কিছু অংশ জানে। মা গত হওয়ার পর-আমার বাবাকে এমনকি আমার আপন নানীও দ্বিতীয় বিবাহ করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্ত আমার বাবা বলতো-বিয়ে মানুষ একবারেই করে, তাছাড়া আমার ছেলেগুলোর বন্ধন নষ্ট হয়ে যাবে। আমার বাবা আমার মার অভাববোধ কোন দিন আমাদেরকে বুঝতে দেননি। নিজেই আমাদেরকে রান্না করে খাওয়াতেন। আমাদের সুখের কথা চিন্তা করে নিজের সুখকে বিসর্জন দিয়েছিলেন।

বাবা সম্পর্কে কিছু একটা লিখব বলে উৎসাহ ও উদ্যোম নিয়ে লিখতে বসে ছিলাম। অনেক কিছু লেখার ছিল কিন্ত ভাব প্রকাশে আমি খুব একটা পারদর্শী নই। তাই ছোট ছোট ঘটনার মধ্য দিয়ে, যা সকলের অজানা, আমার বাবার চারিত্রিক বৈশিষ্টের অন্য মাত্রা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমি জানিনা আমার বাবা পৃথিবীর সর্বত্তোম বাবা কিনা কিন্ত সন্দেহাতীতভাবে জানি পুনজীবন বলে আসলেই যদি পৃথিবীতে কিছু থাকত, তবে আমি আমার এই বাবা-মায়ের সন্তান হয়েই পৃথিবীতে মুখ দেখাতে চাইতাম। আমার বাবা-মায়ের সুখ শান্তিময় জীবন কামনা করে এখানেই শেষ করছি।

স্টিলার দের নিয়তি বোধ হয় খাবার টেবিল আর না হয় হাসপাতালের করিডোর


স্টিলার দের নিয়তি বোধ হয় খাবার টেবিল আর না হয় হাসপাতালের করিডোর। অন্তত পেজে পোসট করা ছবি গুলো তাই বলে

অফিসের কাজে সকাল থেকে পুরান ঢাকায় ছিলাম, চারটার দিকে কাজ শেষ করে সেখান থেকে বাসায় ফিরার জন্য গাড়িতে উঠতেই ফ্যাক্টরি থেকে ফোন এলো , আমাদের পণ্য পরিবহনের জন্য যে কন্ট্রাক্টর কে নিয়োগ করা হয়েছে তার প্রতিনিধি ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গনে ফ্যাক্টরির অন্য একটি গাড়ির চাপায় মারাত্মক আহত হয়েছে, যেহেতু আমাদের ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণ, আমাদের ফ্যাক্টরি র গাড়ির চাপায় আহত তাই তার চিকিৎসার দায়িত্বও আমাদের, তাছাড়া মানবতার খাতিরে এইসব যুক্তিও চলেনা, তাই তাকে নারায়ণগঞ্জ ফ্যাক্টরি থেকে দ্রুত শ্যামলির একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে আসতে বললাম, আর আমি সোজা ওই হাসপাতালের দিকে রওনা দিলাম, তারপর দেখলাম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পিশাচ রুপী কাজ, প্রথমেই বলল রুগীর চিকিৎসা করার মত সামর্থ্য আছে কিনা, তারপর বলল ৭০০০০ টাকা জমা দিলে চিকিৎসা শুরু করবে তারা, আমাদের কাছে টাকা পয়সা তখন বড় ব্যাপার না, তার চেয়েও বড় ব্যাপার হচ্ছে যেখানে এ ধরনের পিশাচ রুপী কাজ চলে সেখানে এ রুগীর চিকিৎসা এ হাসপাতালে কতটুকু হবে এটা নিয়ে শংকা। তাই রুগীকে সেখান থেকে আবার নিয়ে গেলাম কল্যানপুরের আরেকটি ক্লিনিকে, সেখানে চিকিৎসা কতটুকু হবে জানিনা তবে তারা দ্রুত রুগীকে নিয়ে অপারেশন থিয়েটারে চলে গেল।

এসব পিশাচ গুলোর মধ্যে যে কবে মানবতা বোধ আসবে তা আল্লাহই জানে।

খালারা বড় ভালোবাসে আমাকে


খালারা বড় ভালোবাসে আমাকে। বোনদের মাঝে মা ছিলো সবার বড়। প্রথম ভাইগনা আমি। মা/খালাদের মধ্য ছোট খালা বেচে আছে। আমরা সকল খালাতো ভাই/বোনেরা, খালাকে ঘিরেই আছি। তবে মামুদের সাথে সর্ম্পকটা বড়ই জটিল!! মামুরা আমার, বেচাতে উস্তাদ!! নিজেদের মধ্য সুন্দর বোঝাপোড়ার মাধ্যমে জমি বেচে। অবশ্যয় বোনদের ঠকিয়ে। এইবার ঈদেরদিন বিকালে, তিন নম্বর মামুর সাথে বাজারে দেখা হলো।

বহু কস্টে মামু জিজ্ঞাসা করলো, আব্বা কেমন আছো? তারচেয়ও কস্টে উত্তর দিলাম, ভালো আছি মামা। কোনো কথা খুজে না পেয়ে এবার মামু আমার জিজ্ঞাসা করলো, আব্বা তোমার পাঞ্জাবীটা খুব সুন্দর হয়েছে!! 

আমিও কোনো চিন্তা/ভাবনা ছাড়াই বলে ফেললাম, নেও মামা পাঞ্জাবীটা, এখনী খুলে দিচ্ছি!! তুমি আমার মায়ের ভাই মামু, একটা পাঞ্জাবীই না হয় তুমি চেয়েছ!! কিন্তু মামু, তোমার লুংগীটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে!! বহু কস্টে মামু আমার একটু হাসলো। ভাইগনার ভয়াভহ ইংগিতটা,মামুর কাছে পরিস্কার!! থাইক আব্বা, পাঞ্জাবীটা তোমারে সুন্দর মানাইছে, আমার লাগবো না। মামু আমার চলে যেতে যেতে, অন্য একজন কে বলছে, বড় আপা একটা "কমিন পুলা" রাইখা গেছে!! এই হারামীটার থেইকা বাবু অনেক ভালো!!।

বাড়িতে রাত্রে খেতে বসেছি। বাবু বলে উঠলো, ভাইয়া তোমার সাথে মামার কি হয়েছে? বললাম, বিশেষ কিছু হয়নাই, শুধু মামুর লুংগি ধরে একটু টানাটানি করেছি!! ভালো একটা ছওয়াবের কাজ করছো ভাইয়া!! 

আজ মা বেচে থাকলে খুব খুশি হতো!!! একটু সময়ের জন্য থমকে গেলাম!! বাবু কি মজা করছে?? নাকি আসলেই সিরিয়াস???

আমরা যখন স্কুলে ক্লাসে কোনো বইখাতা পাইতাম


আমরা যখন স্কুলে ক্লাসে কোনো বইখাতা পাইতাম তা ফেরত দিয়ে দিতাম।আমরা ষটীলমিলস সকুলের ছেলেমেয়েরা ছিলাম অন্যরকম।

আর গতকাল আমার ছেলের ইংলিশ সেকেন্ড পেপার কপিটা ক্লাসের ডয়ারে রেখে টিফিন খেতে যায় আর তখনি কে জানি কপিটা নিয়ে যায় আর ফেরত দেয় না।কপিটাতে ওর মিডটাম পরিক্ষার সব।জুবায়ের তো আবার আললাহর রহমতে কখনও সকুল মিস যায় না।যার কারণে প্রত্যেকটা গ্রামাটিক্যালে A সটার আছে।এখন আমি আবার কোথা থেকে কালেকট করবো।

আমার কথা হল যে ছেলেটা বাসায় কপিটা নিয়ে গেল ওর মা কি সেটা দেখে নাই।তাই মনটা খুব খারাপ।ওর মিসও খুব আপসোস করলো।কিছু করার নাই।কাকে কে হারাবে এ প্রতিযোগিতায় মায়েরা তাদের বাচচাদের কি শিখাচছে।দোয়া করবেন সবাই আমি জেন পরীক্ষার আগে আমার কপিটা আবার রেডি করতে পারি।গত পরীক্ষায় ও ইংলিশে 98 নাম্বার পেয়েছিল।কি জানি এবার কি করে।

শাহাদাত হুজুরের কাছে কয়েক মাস পড়ার পর


শাহাদাত হুজুরের কাছে কয়েক মাস পড়ার পর আমরা আবার এই মক্তব এ আসতে শুরু করলাম। ভোর ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটা খুব খারাপ লাগত সকালের ঘুম ছেড়ে আসতে।দুপুরে ঘুমাতে পারতাম না।তবুও আসতাম। এখানে এসে দেখি সোনিয়া আপা,সাকিব এরাও পড়ে। ডালিম ভাই,জুয়েল, মহিম পড়ত এখানে।এখানে পড়ানোর নিয়ম টা একটু অন্য রকম।অনেকগুলো ছেলে মেয়ে।আলাদা আলাদা রুমে ভিন্ন ভিন্ন হুজুরেরা পড়ান।আমাদেরকে যিনি পড়াতেন উনার নাম ছিল মোঃ নুরুল ইসলাম ।সহজ সরল টাইপের। একদিন না আসলে পরের দিন দরখাস্ত দিতে হত। জুয়েল কে দেখতাম মহিমকে নিয়ে ৭:২০ মিনিট এ আসত যখন ছুটি র টাইম ঘনিয়ে আসত। হাজিরা দিয়ে চলে যেত। কিভাবে যেন হুজুরের চোখ ফাকি দিয়ে ঢুকে যেত,হুজুর টের পেতেন না।

যেদিন কেউ কোরান শরীফ নিত,সেদিন সে মিষ্টি জাতীয় কিছু বা জিলাপি আনত।এগুলো আবার ছাত্রদের মধ্যে ভাগ করা হত। আর যারা ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র ছিল তাদের জীবন যাপন ছিল অন্যরকম। খুব ভোরে কোরান শরীফ মুখস্থ করতে উঠতেন।মাঝে মাঝে আমাদের সাথে তাদের সেই জীবনযাত্রার গল্প করতেন।অবাক হয়ে শুনতাম। তখন নিজেকে ওদের চেয়ে সুখী মনে হত।

কিন্তু সেদিন যখন গেলাম তখন এই মক্তবে র সাথে সেই মক্তব এর রুপ মেলাতে পারলাম না। যেন ধ্বংস স্তুপ এ পরিণত হয়েছে সেই মক্তব। খুব খারাপ লাগল। স্টিল মিলস কলোনি নামের মহাকাব্য টি যেন কেইপিজেড কলোনি নামের ছোট বিরক্তিকর গল্পে রুপ নিয়েছে।

আমাদের সময়কালে পুরো রোজার মাসে কোন দিন স্কুল খোলা দূরে থাক


আমাদের সময়কালে পুরো রোজার মাসে কোন দিন স্কুল খোলা দূরে থাক, বাসায় লেখাপড়া টাই ছিলো পুরোপুরিভাবে রিলাক্সে অনেকটা পিকনিক পিকনিক মুডে। এক্ষেত্রে গার্জিয়ানরাও ছিলেন ব্যাপক উদার। রোজার মাসে স্কুল কলেজ খোলা, পড়াশোনা করছি এটা কল্পনাও করা যেতোনা। তবে একবার রোজার মাসে একটি পরীক্ষা দেয়া লাগছিলো। ৯৬ সাল বি.কম পরীক্ষা চলছিল। হরতালের কারনে পরীক্ষা পিছিয়ে রোজার মাসে একটি সাবজেক্ট পরীক্ষা দেয়া লাগছিল। ঐ টাই ছিল রমজান মাসে জীবনে প্রথম ও আপাতত শেষ বারের মত পড়াশুনা।

এবার আসি বর্তমান অবস্থায়, এখন কার পোলাপান আর তাদের গার্জিয়ানরা (বিশেষ করে পোলাপানের মায়েরা, তারাই বাচ্চাদের লেখাপড়া নিয়ে অসুস্থ কম্পিটিশনে নেমে যায়) রোজার মাসে স্কুল বন্ধ, লেখাপড়ার বালাই নেই এ দৃশ্য কল্পনাও করতে পারবেনা। এখনতো রোজার মাসের অর্ধেক পর্য্যন্ত স্কুল কলেজ গুলো খোলা রেখে আবার মুখ থেকে ঈদের সেমাইয়ের গন্ধ চলে যাওয়ার আগেই ঈদের দু দিন পরেই স্কুল গুলো খুলে যায়, শুধু খোলাই নয় রীতিমত পরীক্ষাই শুরু হয়ে গেছে। আর চাঁন রাত পর্য্যন্ত বাচ্চা গুলার উপর বাসায় পড়াশোনার চাপতো ছিলোই। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আমাদের জেনারেশন কোন পড়াশুনা করে আসেনি, পড়াশুনা টা শুরু হইছে এই জেনারেশন থেকে। আর যাই হোক, আমরা লেখাপড়ায় যেমনই ছিলাম না কেনো পড়াশুনা করেছি আনন্দের ভিতর দিয়ে, এখনকার মত অসুস্থ প্রতিযোগিতা আর লেখাপড়া টা এতো কমার্শিয়াল ছিলোনা।

Tuesday, July 12, 2016

রোজা আসলো, আবার দেখতে দেখতে চলেও গেলো


রোজা আসলো, আবার দেখতে দেখতে চলেও গেলো, স্বাভাবিক জীবম যাপন রুটিনে এ একটি মাস কিছুটা ব্যতিক্রমী মাস। আর ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তো খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাস।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় রোজায় যা দেখে আসছি তার কিছুটা এখানে তুলে ধরছি।

শৈশবে রোজার মাস যেমন ছিল উৎসবের তেমনি ছিল আমার কাছে কিছু কিছু ব্যাপারে কষ্টের। উৎসবের কথা বিভিন্ন লেখায় উল্লেখ করেছি, তবে এখানে কষ্টের ব্যাপার টি আর উল্লেখ করলাম না। 

চাকুরী তে ঢুকার পর একটা নতুন জিনিস আবিষ্কার করলাম, পেশাগত কারনে যাদের সাথে কাজ করতে হয়,তারা সবাই বড় বড় ব্যবসায়ী (কাগজের)। সবসময় দেখে এসেছি সবার অর্থ বছর হয় জুলাই টু জুন। আর এই ব্যবসায়ী দের নিজস্ব অর্থ বছর হয় রমজান মাস টু রমজান মাস। সারা বছরের লাভ লোকসান, মজুদ হিসাব করে যাকাত প্রদান করে তারা। ব্যবসায়ী হিসেবে যতই দুর্নীতি আর নয়ছয় করুক না কেন, তাদের দেখেছি যাকাতের হিসাব পাই টু পাই পরিশোধ করে।

আর আমরা যারা চাকরী করি, তারা অপেক্ষায় থাকি ঈদ বোনাসের আর খুশির মাত্রা আরো বেড়ে যায় যখন বোনাসের পরেও ঈদের বন্ধের দু দিন আগে এমডি স্যারের হাত থেকে সাদা খাম পাওয়া যায় ( স্পেশাল বোনাস, আর আমার এমডি স্যারের ভাষায়, "আমাদের সাজসজ্জা খরচ", যার পরিমাণ টাও ভালোই হ্যান্ডসাম)। সাথে বিভিন্ন অফিসিয়াল ক্লায়েন্ট থেকে গিফট ( যেমন আমি এবার পেয়েছি দুটি পাঞ্জাবী আর একটি স্যুট পিস)। 

সব মিলিয়ে রোজা আর ঈদ ভালোই কেটে যায়। আর সবসময় কামনা করি প্রতিটি মানুষের প্রতিটি মূহুর্ত ভালো কাটুক।

Monday, July 11, 2016

ঈদ এলেই দেখি, উপহার দেওয়ার ধুম লেগে যায়


ঈদ এলেই দেখি, উপহার দেওয়ার ধুম লেগে যায়। বাবা/মা তাদের ছেলে মেয়েকে দেয়, ছেলে/মেয়েরা বড় হলে তাদের বাবা/মাকে দেয়। বন্ধু/বান্ধবী,প্রেমিক/প্রেমিকা তারপর বিয়া সাদী করে থাকলে শশুর বাড়ি, আহা উপহার আর উপহার!!!!। আমার বউ/বেটিও পেয়েছে। কিন্তু এই অধম একখান লুঙ্গিও পায়নি!!!! আরেক কপাল পোড়া রিপনকে তার সমন্ধী, পাঞ্জাবী দিয়েছে।গতকালও গিয়েছিলাম তারিককে দেখতে। শুধু গোলাপী পাঞ্জাবী না, হারামি আরও ম্যালা কিছু পেয়েছে!!! ছামি পাঞ্জাবি দিয়েছে, লিটন গেঞ্জি দিয়েছে, চাঁদ সুলতানা ব্র্যান্ডের গেঞ্জী দিয়েছে। তারিক হলো ভি আই পি। তবে আমিও পেয়েছি কিন্তু ঈদ উপলক্ষে নয়!! আদরের এক ছোট বোন, আমার জন্য পাঞ্জাবী পাঠিয়েছিলো। মাঝে মাঝে পড়ি। কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলি, আমার বোন পাঠিয়েছে। গতকাল খুব মন খারাপ করে বাসায় ফিরেছি। রাতে সারাফের মাকে বললাম, একটা ইদ গেলো আমাকে কেউ কিছু দিলোনা!! এই কথার মানে কি?? রিপনের মত পোড়া কপাইল্লাও শশুর বাড়ী থেকে পাঞ্জাবী পেয়েছে!!! আর আমি, একখান লুংগিও পেলাম না!!!! মানুষের কাছে মুখ দেখাতে পারিনা!! এই লজ্জা কোথায় রাখি!!! এর উত্তরে সারাফের মা যা বললো, একজন কসাইও হার মানবে!!! সারাফের বাবা, তোমার লজ্জা শরম এমনিতেই কম, তুমি লুঙ্গি ছাড়াও চলাফেরা করতে পারবে!!!!!!!!!!!!

সেদিন গিয়ে দেখলাম কলোনি র মসজিদ এর নাম বদলে ফেলা হয়েছে


সেদিন গিয়ে দেখলাম কলোনি র মসজিদ এর নাম বদলে ফেলা হয়েছে। চইকা জামে মসজিদ এখন কেইপিজেড জামে মসজিদ। অথচ এই মসজিদ নিয়ে ছেলেবেলার কত স্মৃতি।এই মসজিদে প্রথম নামাজ পড়তে আসা সুমন ভাই,মাসুদ, আরিফ ভাইদের সাথে। তারাবীহ নামাজ পড়া।খতমের দিন শাহাদাত হুজুরের কাছ থেকে জিলাপি নেয়া। জুমার নামাজের দিন নাসিম চোখে সুরমা লাগিয়ে আসত। খুতবার সময় আমি সুজনের পিঠে নাম লিখতাম আর ও বলত কি লিখছি। আবার শাহাদাত হুজুরের কাছে আরবী পড়তে আমি, সুমন ভাই,রিতা,রিনি,মাসুদ এসেছি এই মসজিদে। যেদিন হুজুরকে সম্মানী দিতাম,হুজুর আমাদেরকে নাস্তা করাতেন।রোজার সময় হুজুর আমাদের টাকা দিলেন ঈদের বন্ধের আগে।আমরা সবাই ঈদ কার্ড কিনতে গেলাম ভাই ভাই স্টোরে।মসজিদের পাশেই খালপাড়ে কত তোকমা খেয়েছি।

১৯৯৫ সালে শেষ নামাজ পড়েছি এই মসজিদে। এরপর বাসার সামনের মসজিদে। এখনো চোখ বন্ধ করলে শাহাদাত হুজুরের সেই আযান এর ধ্বনি শুনতে পাই যা কেবল ওই মসজিদ থেকে ভেসে আসত

আমার বউ এই পেজের একজন নিশ্চুপ সদস্য


আমার বউ এই পেজের একজন নিশ্চুপ সদস্য।।প্রায় প্রতিটি পোষ্টই তার নজরে আসে।।বেশ কয়েক দিন কয়েকটা পোষ্ট পর্যালোচনা শেষে আজ হঠাৎ বলে বসলো এই পেজে এতো খাবারের ছবি কেন??!!??সবারই কেবল খাই খাই স্বভাব।।সিনিয়র কয়েক জন ভাইয়ের ছবি দেখিয়ে বললো এনাদের বাড়ি কি চিটাগাং-এ।।এনাদের যখনই দেখি তখনই দেখি সাথে একটা খাবার টেবিল এবং আইটেম থাকেই।।কি বলবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না!!কেবল এটুকুই বলেছি সিএসএম মানে চা-পরটা।।শুনে বউ বলে এর মানে কি???

Sunday, July 10, 2016

বৃটিশরা ICS অফিসার দের অফিস রুমে আরাম করার জন্য লম্বা ইজি চেয়ারের প্রচলন করেছিল


বৃটিশরা ICS অফিসার দের অফিস রুমে আরাম করার জন্য লম্বা ইজি চেয়ারের প্রচলন করেছিল। বৃটিশ চলে যাবার পর CSP অফিসাররাও সেটা চালু রেখেছিল। 

শোনা কথা সারা রাত মাস্তি ফুরতি করে সকালে অফিসে গিয়ে রুমের বাইরে লাল বাতি জালিয়ে সাহেবরা আরাম করতো। 

আর BCS অফিসাররা সেই ধরনের আরাম কেদারা রুম থেকে বিদায় করেছে তবে সচিবালয়ে চাকরী করা সুবাদে কিছু কিছ সচিব, মন্ত্রীর রুমের পাশেই আরাম কেদারার স্থলে আলাদা রুমের ব্যবস্থা দেখেছি যেখনে খট পালং সহ আরাম- আয়েশ করার সমস্ত এন্তেজাম বিদ্যমান। 

এখানেও শোনা কথা তারা নাকি শারীরিক ভাবে অসুস্থ বলেই এ ব্যবস্থা। 

আমি আবার শোনা কথায় বিশ্বাস করি না ( হা হা)

যাহোক তুমি কালকে অফিস করার কিছু কৌশল এখান থেকে বের করতে পার কিনা দেখতে পার।

" আকলমানকে লিয়ে ইশারায় কাফি। হে "

হা হা হা --+++++ থামাতে পারছি না। @ Atiq Csm

ঈদের দু দিন আগে, রাত প্রায় দশটা আমি বাসার কাছের এক মার্কেটে


ঈদের দু দিন আগে, রাত প্রায় দশটা আমি বাসার কাছের এক মার্কেটে টুকটাক কেনাকাটা করে হেটেই বাসায় ফিরছিলাম, আচমকা কে যেন আতিক ভাই আতিক ভাই করে ডাকছে। আমি একটু অবাক হয়ে গেলাম।এ এলাকায় তো আতিক ভাই আতিক ভাই বলে এমন আন্তরিক ভাবে কেউ তো ডাকার কথা না, শুনার ভুল না তো আমার? কৌতুহলে পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখি আমাদের Iftekher Kashem বাপেন। কোলে তার ছেলে। জিজ্ঞেস করলাম এতো রাতে এখানে কি? বলল, তার বৌ এই মার্কেটে (পল্লবি শপিং সেন্টার) টেইলার্স থেকে কাপড় ডেলিভারি নিতে আসছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে অনেকক্ষন কথা বললাম। 

পুনশ্চ : বাপেন ছেলেটাকে কলোনিতে দেখতাম ক্রিকেটে ভালো পেস বোলিং করতে পারত। লেগে থাকলে হয়ত ভালো একজন পেসার হতো।

গতকাল (৯/৭;১৬) বিকেলে ছেলেকে নিয়ে মাঠে ক্রিকেট খেলছিলাম, মোবাইলে দেখি দেশের বাইরের কল, ফোন করেছে ফুটবলের দেশ সূদুর ব্রাজিল থেকে Titu Barua. স্কুল জীবনে সে আমার এক ক্লাস সিনিয়র হলেও আমার সাথে তার সম্পর্ক টা ছিলো খুবই মধুর ও বন্ধুত্বপূর্ণ। দারুন রসিক আর সেন্স অফ হিউমারে পরিপূর্ণ একজন সে।

এ ধরনের আন্তরিক পরিবেশ আর পুরোনোদের পেলে অনেক বিশৃঙ্খলা, অনেক কষ্টই ভূলে যেতে ইচ্ছে করে।

Saturday, July 9, 2016

একটা গোলাপি পাঞ্জাবী


একটা গোলাপি পাঞ্জাবী। পাঞ্জাবীটাও সুন্দর। পাঞ্জাবীটা বসে বসে দেখছি। কেটে ফেলবো নাকি পাঞ্জাবীর হাতাটা!! অর্ধেক হাত কাটলেই একটা চমৎকার ফতুয়া হয়ে যাবে!! নিচে নেমে একটা কেচি কিনে নিয়ে আসলে কেমন হয়?? নাহ কাজটা ঠিক হবেনা। আদর করে ছোট ভাইকে একটা পাঞ্জাবী দিয়েছে, বড় ভালোবেসে দিয়েছে, এই পাঞ্জাবীর হাত কেটে ফতু বানানোটা অমানবিক কাজ হবে। তারিককে পাঞ্জাবীটা খুব মানিয়েছে। আরে দেখতে হবেনা পাঞ্জাবীটা কে দিয়েছে!?? ঈদ মোবারক "গোলাপী পাঞ্জাবী"। ঈদ মোবারক জেরিন রিপা। ভালোবাসা রইলো এই ছোট বোনটির প্রতি।

ঢাকা শহরে খোলামেলা জায়গা পাওয়া খুবই কষ্টকর


ঢাকা শহরে খোলামেলা জায়গা পাওয়া খুবই কষ্টকর, পাওয়া যায়না বললেই চলে। বাচ্চা গুলো বড় হয় ফার্মের মুরগীর মত বন্দী জীবন নিয়ে। মাঝে মাঝে সিটি ক্লাব মাঠে ছেলেকে নিয়ে আসি, সেখানেও এত মানুষ যে এক চিলতে খেলার জায়গাও পাওয়া যায়না।

আজ ঈদের ফাঁকা শহরে সিটি ক্লাব মাঠ টিও ফাঁকা পাওয়া গেল, এই সুযোগে বাপ ব্যাটা মিলে চুটিয়ে ক্রিকেট খেললাম।

নুবাইদ তার নানার বাড়ীতে পা রেখেই বল হাতে উঠাতে নেমে পরে


নুবাইদ তার নানার বাড়ীতে পা রেখেই বল হাতে উঠাতে নেমে পরে !!

শহরে খেলাধুলা করার জায়গা নেই বললেই চলে । বাড়ীতে গেলে ছেলে-মেয়েরা অনেক খুশির মধ্যে দিন কাটাত , তারা বেশি ভাগ সময় খেলাধুলা ও দৌড়া দৌড়ির মধ্যেই থাকে । আজ নুবাইদ ও নুসফিকা বৃষ্টিতে ভিঁজে গোসল করেছে । আমি তাদের কোন বাঁধা দেই নি বরং আমিও তাদের সাথে বৃষ্টিতে ভিঁজে গোসল করেছি । মেয়েটা আমার অনেক খুশি বাবাও তাদের সাথে বৃষ্টিতে ভিঁজতেছে । মেয়েটাও বলেই ফেললো বাবা আমরা বাড়ীতে আরো কয়েকটা দিন থাকি । বাবার কি আর সেই সময় আছে - বাবা তো কামলা , কর্ম করে পেট চালাতে হয় । ছেলে ও মেয়েটাকে আরো এক সাপ্তাহ ছুটি দিলাম , আর আমাকে আগামীকাল কর্মে ফিরতে হবে । এই কয়টা দিন কর্মের শেষে বাসায় গিয়ে সেই রান্নার জামেলা পোয়াতে হবে । অফিস শেষ করে রান্না বান্না করা বড়ই কষ্ট । 

তাই চিন্তা করছি এই ৪/৫দিন কোন না কোন স্টিলারের ঘরে গিয়ে হামলা চালাবো । সাথে কেউ থাকলে আওয়াজ দিয়েন !!

মন খারাপের দৃশ্যাবলী


আমাদের স্কুলে ক্লাস কামাই করার জন্য জরিমানার বিধান ছিল।টিফিনে না আসলে ১ টাকা আর পুরো দিন না আসলে ৫০ পয়সা।ক্লাস সেভেনে আমাদের ক্লাস টিচার ছিলেন সাফা স্যার। বছর শেষে উনি যখন হাজিরা চেক করে দেখছেন,তখন দেখা গেল আমার ফাইন আসছে ৫০ পয়সা।তার মানে সারা বছর আমি ক্লাসে আসিনি একদিন।এটা নিয়ে সবার কি হাসাহাসি। স্যারও হাসলেন।সুজন খুব বিরক্ত ছিল এটা নিয়ে আমার উপর। বলত তোর কি অসুখ হয়না বা বিরক্ত লাগেনা।

সত্যি বলতে আমার যে অসুখ হত না,তা না কিন্তু সেটা স্কুল যখন বন্ধ থাকত। ঈদের বন্ধের সময় আমার ঈদের কয়েকদিন পর জ্বর আসত।কিংবা অন্য বন্ধের সময়। আর পরীক্ষা শেষে হাত পা কাটা যেত।

আর ক্লাস করতে যে খুব ভাল লাগত তা না।কিন্তু মনে হত কোন একটা ক্লাস না করলে দরকারি কিছু মিস করব।

মাঝেমাঝে ভাবি মন খারাপের জন্য যেমন কিছু বদলে যাওয়া দৃশ্য আছে তেমনি মন ভাল করার জন্য কিছু সুখ স্মৃতিও আছে

Friday, July 8, 2016

তানিয়ার বাসায়, জম্পেশ খানা খাইলাম


তানিয়ার বাসায়, জম্পেশ খানা খাইলাম। সব দেশী খানা

ঈদের খাবার মানেই হলো বিরানী, ফিরনী, সেমাই কোল্ড ড্রিংকস ইত্যাাদি। তানিয়া আমাদের খাওয়ালো খালাম্মার হাতের রান্না করা সাদা ভাত, বেগুন ভর্তা, পটল ভুনা, তিত করলা ভাজি, ঘন ডাল এবং ঘরোয়া আদলে রান্না করা মুরগী। তার পর আসলো জুস ও কাষ্টার। হোয়াট এ নাইছ খাওয়া... জসিম ভাই, নিরু ভাই, নাজমুল ভাই হোয়াট এ গ্রেট মিছ....

আমার বড়ছেলেটা এবার প্রথম ঈদী দিচ্ছে তার কাজিনদের


আমার বড়ছেলেটা এবার প্রথম ঈদী দিচ্ছে তার কাজিনদের।তার সে কি উৎসাহ।বারবার আমাকে রান্নাঘরে এসে বলছে মা আমি তাহলে সত্যি বড় হয়ে গেলাম!আগে আমাকে সবাই সেলামি দিত!আজ আমি দিচ্ছি!মা আমার না কেমন লাগছে।

পুনশ্চ:তার এ উৎসাহ বেশিক্ষণ টিকেনি।কারণ আমার এই ছেলেটা বেশ টিপেটিপে পয়সা খরচ করে। তার জমানো টাকা চলে যাচ্ছে এটা হজম করা তার জন্য অসম্ভব।

ঈদ নিয়ে যেমন কোন স্মৃতি নাই


ঈদ নিয়ে যেমন কোন স্মৃতি নাই।তেমনি পূজা নিয়েও নাই।শুধু দেখতাম দুর্গা পূজা আসলে স্কুল বন্ধ থাকত একসপ্তাহের জন্য। আর পূজা মন্ডপ ছিল দূরে,কলোনি র বাইরে,নারকেল তলায়। তাই কখনো দেখতে যাওয়া হয়নি। এই সময় টা থাকত শরৎকাল।কাশ ফুল ফোটার মাস। হালকা মিষ্টি রোদের সময়। অনেককে দেখতাম, সেজে গুজে পূজা মন্ডপে যাচ্ছে। তবে একটা জিনিস পূজার স্মৃতির সাথে মিশে আছে। কোন এক দূরের পুজা মন্ডপ থেকে ভেসে আসত একটা গান,

" ও পলাশ, ও শিমুল, কেন এ মন মোর রাঙালে,
জানিনা, জানিনা, আমার এ ঘুম কেন ভাঙালে।
আজও এই গানটা কোথাও শুনলে পূজা র কথা মনে পড়ে। আমি যেন শরৎ এর কোন এক দিন জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছি।আর দূর থেকে ভেসে আসছে সেই গান

স্বপ্ন ভঙ্গের গল্প


কলোনিতে থাকতে আমাদের কখনো কলোনি র মানুষ গুলো র সাথে ঈদ করা হত না।শুধু দুইবার ঈদ করতে পেরেছিলাম।১৯৮৮ ও ১৯৯২ সালে। আব্বা বলতেন আমরা বাড়ি যাব বলে দাদা পথ চেয়ে থাকবেন। তাই যেতে হত। বাড়ি তে গেলে ঈদের অনুষ্ঠান গুলো দেখতে পারতাম না।কারন আমার ছোট চাচা টিভি দেখা পছন্দ করতেন না।তাই টিভি দেখতে অন্য বাড়ি তে যেতে হত। আবার এদিকে বাড়ি থেকে ফিরে আসতে আসতে কলোনি তে ঈদের আমেজ ফুরিয়ে যেত। 

আমার দাদা যে বছর মারা যান,তার পরের বছর থেকে আমাদের কলোনি তে ঈদ করতে পারার কথা।কিন্তু ততদিনে আমাদের কলোনি তে থাকার ভিসা ফুরিয়ে যায়।তাই কলোনি তে আর ঈদ করা হয়নি

Thursday, July 7, 2016

ঈদের দিন সন্ধায় আমি আর নাজমুল আমার বাসায়


ঈদের দিন সন্ধায় আমি আর নাজমুল আমার বাসায়।পুরানো সেই দিনের কথা খুব খুব খুব মনে পড়ে, কিন্তু এখন মজা পাই বাচ্চাদের মজা দেখে, আমি বেক্তিগত ভাবে খুব মজা পাইছি আমার মেয়েদের ঈদের মজা করা দেখে।সাতে সাতে সি এস এম এর সকল কে বলছি আমার ধারনা ছিল আজ আমার বাসায় সি এস এম এর অনেকে এসে কলিং বেল দিবে কিন্তু কেউ দিল না,যাক যে যেখানেই আছো বা আছেন আশা করি ভাল ভাবে ঈদ পার করছেন , এই কামনা করছি।

ঈদের দিনের রোজ নামচা


এবারের ঈদটা আমার জন্য অর্থপূর্ণ একটা বিশেষ কারণে। নিজের মা আর সাশুড়ী মা দুজনকেই কাছে পেয়েছি বলে। জানিনা এব্যস্ততার জীবনে এমন সুযোগ আর পাব কিনা। তাদের সান্নিধ্য,দোয়া আর স্নেহাস্পর্শ আমার পরিবারকে ধন্য করেছে। দুজন মায়ের প্রতি আমাদের তাই অশেষ কৃতজ্ঞতা।

সকালে গুলশান কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ আদায় করে বংগভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে ঈদের শুভেছছা বিনিময়। বাসায় ফিরে অতিথি আপ্যায়ন করেই দিনাতিপাত।

আগামী কাল সারাদিন বরাদ্দ ভাই-বোন আর কাজিনদের জন্য।শনিবারটা আমরা অতিথি হব তাদের বাসায়।
শেষ হবে ঈদের ছুটি।।

ফের কাজের ভিতর লুটোপুটি।!!

ঈদের দিনটির মতই হোক প্রতিটি দিন । শুভ কামনা।

ঈদ মোবারক !!

এতো খাবার খাইবো ক্যাডা?


তারিকের সাথে ঈদের দিনটিতে ঢাকা মেডিকেলে আমাদের আড্ডা। ঈদ উপলক্ষে মেডিকেল থেকে দেওয়া বিশেষ খাবার তারিককে বুঝিয়ে দিচ্ছেন KPS (খাবার পরিবেশন সংস্থা)'র প্রেসিডেন্ট শ্রদ্ধেয় রিপন আখতারুজ্জামান।

আর আমাদের আনিত খাবারের মধ্যে ছিল চুটকি সেমাই, পায়েস, খিচুড়ি, পোলাও, চালের রুটি, জর্দা, চটপটি, গরুর গোস্ত, মুরগীর গোস্ত, কোল্ড ড্রিংক্স, মিস্টি পান ইত্যাদি।

বাবার সাথে ঈদগাহে যাচ্ছি


বাবার সাথে ঈদগাহে যাচ্ছি। বুকের সাথে বুক মিলানোর জন্য প্রথমেই বাবা আর নেছারকেই বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু পরে ঈদের কোলাকুলির জন্য এই বিশাল প্রসস্থ বুক আর পরিচিত কাউকে না পাওয়ায় স্বেচ্ছায় অপরিচিত কয়েকজনকে বেছে নিয়েছিলাম। অথচ আজ যদি CSM colony তে থাকতাম তাইলে কোলাকুলি করতে করতে বুকের ছাঁতি ইঞ্চি পরিমান হ্রাস পেত। রাতে ঘুমানোর সময় বুকে আনন্দের পেইন অনুভব করতাম।

আফসোস 17 বছর ধরে বুকটা এভাবেই হাহাকার করে উঠে প্রিয় মানুষগুলির সাথে ঈদের কোলাকুলি করার জন্য।।।। Dewan Munzur Ahmed md Rubel Ahmed Nazir

আজ সকালে অনেক ভোরে যখন আকাশ একটু একটু করে তার আলো ফোটাতে লাগলো তখন আমি ছিলাম ছাদে


আজ সকালে অনেক ভোরে যখন আকাশ একটু একটু করে তার আলো ফোটাতে লাগলো তখন আমি ছিলাম ছাদে।একদম খোলা আকাশের নিচে দাড়িয়ে সুন্দর আকাশখানাটিকে যে কি সুন্দর লাগছিল তা ভাষায় প্রকাশ করা জাবেনা। ঠিক যেন কলোনির সেই ঝলমলে আকাশ দেখলাম আর মনে পড়ে গেল কলোনির ঈদের সকাল।

মনে হয়না আজ বৃষটি আসবে।আকাশটা একদমই ক্লিন।একটু পরে সবাই উঠে পড়বে।।।এই ভোরের সময়টুকু অনেক কিছু মনে করিয়েদিল।আমাদের বাসার সবাইকে খুব মনে পড়ছে।বিশেষ করে আমমা আর আববাকে।ভাইবোনদেরও।আললাহ আমার বাবা মাকে তুমি জান্নাতবাসী কর।আমিন

২০১১ সালের পর থেকে প্রতি বৎসর ০৭ জুলাই আমাদের জন্য এক অভিসপ্ত দিন


২০১১ সালের পর থেকে প্রতি বৎসর ০৭ জুলাই আমাদের জন্য এক অভিসপ্ত দিন। কারন ২০১১ সালের এই দিনে আমার ছোট বোন শেলিনা আক্তার শেলি ইন্তেকাল করে। সে ছিল আমাদের সকলের প্রিয়। সে তার স্বল্প আয়ুতে অনেক কষ্ট করেছে তার ছেলে মেয়ে দুটিকে মানুষের মত মানুষ করার জন্য। কিন্তু ছেলে মেয়ে দুটি বড় হওয়ার আগেই তাকে চলে যেতে হয় ইহজগৎ ছেড়ে। কোন রকম অসুখ বিসুখ ছাড়াই। একেবারে স্বল্প নোটিশে।

আজকের ঈদের দিনে সকাল থেকেই মন খারাপ। কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে না। যেসব জায়গায না গেলেই নয় শুধুমাত্র সে সব জায়গায যাবো। Jashim Uddin, Tafsi Fariha,Ahmed Nazim, Towsif Noor Kabbo, Samira Chy.

Wednesday, July 6, 2016

হারিয়ে যাওয়া এলোমেলো সময়গুলো


কয়েকদিন ধরে আকাশ যেভাবে অঝোর ধারায় কেঁদেই চলেছে মনে হচ্ছে ঈদের দিনটাকে উজ্জ্বল ঝলমলে রাখতেই আকাশের এই কান্নাকাটি। 

তারপরেও জানিনা কোন গোপন রহস্য, কোন গোপন বার্তা আকাশ মনে লুকিয়ে রেখেছে,কালকের জন্য!!!

কালকের আকাশ যতই উজ্জ্বল আর চমৎকারই থাকুক না ঈদের নামাজ শেষে কিংবা নামাজ না পড়েই নতুন কাপড় পড়ে ফুল সাহেব বাবুটি সেজে সাগরিকা কিংবা বনানী কমপ্লেক্সে ঢু মারা হবে না সেই ছোট্ট বেলাটির মত। কিংবা সবাই মিলে গ্রুপ বেঁধে ঈদের দিনটিতে কলোনীর অলিগলিতে ঘোরাফেরা কিংবা বন্ধু বান্ধবদের বাসায় গিয়ে খালা চাচীদের রান্না করা মজাদার সেমাই খাওয়া হবেনা। ঈদের দিন বেলুন বাঁধা বাশি কিনে সবাই মিলে কি পরিমান যে পে-পো রব তুলতাম তা সত্যিই বর্নণাতীত। আহারে কি মজার দিনই না ছিল। আরো যে কত কি..............

আমাদের সন্তানদের জন্য আফসোসই হয় যখন ভাবি ওরা কত কিই না মিস করছে! ওদের ঈদ মানে নতুন কাপড় পড়ে এই রুম থেকে ওই রুমে দৌড়ানো আর বিকেলে হয়তো বাড়ির ছাদে যাওয়া আর নয়তো বাবা মার সাথে পার্কে কয়েক ঘন্টা ঘুরে আসা।

মাঝে মধ্যে নিজেরই আফসোস হয় যখন আমাদের সময়ের মজা করার গল্পগুলো ওদেরকে বলে পুরোপুরি বোঝাতে পারিনা। টাইম মেশিন থাকলে ভাল হত, সময়টাকে রিওয়ান্ড করে বৌ ছেলে মেয়েসহ ফ্যামিলির অন্য সবাইকে নিয়ে চলে যেতাম সেই সময়গুলোতে। পূর্বের সময়ে যেয়ে কিছু করতে না পারতাম কিন্তু দেখেতো চোখ জুড়াতো!!!

কাল ঈদ উল ফিতর।


কাল ঈদ উল ফিতর।
সবাইকে ঈদ মোবারক। ।

এবার ঈদের লবা ছুটিতে অনেক বাংলাদেশী দেশের বাইরে গিয়েছে ঈদ উদযাপন (?) করতে। উন্নয়নের ঠেলায় গতি আমাদের এখন উলটো দিকে। আগে ঈদে গ্রামে যেতাম নাড়ীর টানে। 

মা-বাবা,দাদা-দাদী,আত্মীয়-সবজন, গরীব - দুখী পাড়া প্রতিবাশী সবাইকে নিয়ে ঈদের দিনটি ছিল কত না মধুর !! 
আর এখন --------??
সেই পুরনো কথা : বেগ - আবেগে সন্ধি হবে না কখনো ।

ঈদ মোবারক !! ঈদ মোবারক !!

পুনশ্চ : আমার কিছু নিকট আত্মীয় ও বন্ধু বান্ধব গিয়েছে দেশের বাইরে ঈদ করতে। তাদেরকে আমার করুণা করতে, হেদায়েত করতে ইছছা করে।

আগে ঈদে পাঞ্জাবি কিনতাম কোতোয়ালি মোড়ের খাদিঘর নামক এক দোকান থেকে


আগে ঈদে পাঞ্জাবি কিনতাম কোতোয়ালি মোড়ের খাদিঘর নামক এক দোকান থেকে, ১৫০/২০০ টাকায় মোটামুটি মানের ভালো পাঞ্জাবী পাওয়া যেতো। "আড়ং " থেকে প্রথম পাঞ্জাবি কিনি সম্ভবত ৯৯ সালে, ৬০০ টাকা ছিল সে পাঞ্জাবি র মূল্য। আড়ং থেকে পাঞ্জাবী কিনেছি এটাই ছিল সেদিন ঈদের প্রধান আনন্দ। এরপরে তো চাকুরী তে ঢুকে গেলাম, তারপর নিজে কিনে বা উপহারের মাধ্যমে প্রচুর পাঞ্জাবী কালেকশনে যোগ হয়েছে, এর মধ্যে বেশ কিছু আছে দামী ব্রান্ডের। এইতো এই ঈদে তিনটি পাঞ্জাবী যোগাড় হয়েছে, একটি আড়ং থেকে নিজে কিনলাম, বাকী দু টি আমার দু জন অফিসিয়াল ক্লায়েন্ট গিফট করেছেন। তার মাঝে একটি দেশিয় খুব দামী brand. এর আরেকটি ইনডিয়ার খুব ভালো মানের দামী পাঞ্জাবি।

তা স্বত্তেও সেই ৯৯ সালে বহু কষ্টে ৬০০ টাকা যোগাড় করে জীবনে প্রথম "আড়ং" থেকে পাঞ্জাবী কিনার আনন্দ আর কোন কিছুর সাথে তুলনা হয়না।

সেই সময় ঈদের মজা শুরু হত চাঁদ রাত থেকেই


সেই সময় ঈদের মজা শুরু হত চাঁদ রাত থেকেই। ইফতারির চেয়ে কখন C-টাইপের মাঠে হাজির হব তার টেনশন বেশী থাকত। চাঁদ দেখার চেয়ে লুকোচুরি, গোল্লাছুট খেলতাম বেশী। চাঁদ দেখলে বড়দের সাথে আমরাও হইহই করে উঠতাম।

ফুল, পাতবাহার চুরিতে আমি ছিলাম ওস্তাদ। অফিসার্স ক্লাব, শেলী ভাইদের বাগান ছিল টার্গেট। রঙিন পাতা বাহারের ডাল বোতলে করে ড্রইং রুমে রাখতাম।

তখন আতশ বাজি পোড়ানতে এত বিধীনিষেদ ছিলনা। নানা রকম বাজি ফুটাতাম আর চন্দন চাচার দাবরানি খেতাম। একবার উনাদের দোতলার দরজার সামনে সিড়ীতে টাইম বোমা ফিট করে নিচে নেমে কনা/স্বর্ণা আপার সামনে পরলাম। ধরা খাওয়ার ভয়ে বুক দুর দুর করছে। আপা বললেন, এই কাকলিকে একটু ডেকে দাওতো। আমি পালাতেও পারছিনা। আবার তিন তলায় উঠলাম। ভয় পাচ্ছি বোম যদি ফুটে পুরা ধরা। কয়েক বার কলিং বেল চাপলাম। দরজা খুলতে দেরি হচ্ছিল। ইতি মধ্যে বোমা বুম…। কিছুক্ষন পর কাকলি আপা দরজা খুললেন। বললেন, কে বোমা ফাটাইছে? আমি বললাম, আমি না, আপা আপনাকে নিচে ডাকে…..বলে ভো দৌড়।

ঈদের দিন আমাদের বয়সিরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বেড়াতাম। বিশাল গ্রূপ ছিল কিনা! প্রথমে নিজ গ্রূপের সদস্যদের বাসায় তারপর অন্যদের।শরিফা আপা বিয়ের পর নেভী ২ নং কলনী চলে গেলে চইকা কলনী থেকে হেটে বন্ধুদের নিয়ে হাজির হতাম।

ঘর সাজানোর রেওয়াজ ছিল। রঙ্গিন কাগজ, বেলুন দিয়ে ঘর সাজাতাম। কার বাসা কত সুন্দর সাজান হয় তার প্রতিযোগিতা চলত। রঙ্গিন কাগজের চেইন ড্রয়িং রূমের চারপাশ থেকে এনে ফ্যানের সাথে লাগান হত।

১/২ টাকা দামি ঈদকার্ড গুলোর কথা মনে পরে। সিক্স মিলিয়ন ডলার ম্যান, বয়নিক ওমেন এর ছবি ওয়ালা কার্ড দেয়া নেয়া চলত। কখন কোন বন্ধুর সাথে আড়ি নিলে তার সাথে ভাব করার জন্য এই কার্ড বেশ কাজে লাগত।

ঈদের দিন ভোরে আবাহনি-মোহামেডান খেলা কে কবে চালু করছিল মনে নাই। ছোট হওয়াতে আমাদের জায়গা ছিল দর্শক গেলারি (বড় শুকনা ড্রেনের পাশে) ।

বকশিস বলতে আব্বার দেয়া নতুন ১/২ টাকা।

আজ বিকেল থেকেই নুসফিকার ঈদের প্রস্তুতি শুরু


আজ বিকেল থেকেই নুসফিকার ঈদের প্রস্তুতি শুরু , একটা নতুন জামা পড়া হাতে মেহেদি লাগানো পুরো বাড়ীর এ ঘর থেকে ঐ ঘরে যাওয়া । এক কথায় ঈদের আনন্দটাই তাদের জন্যেই । তবে কলোণীর সেই ঈদের মজা কি কখনো ফিরে আসবে ? আমাদের ছোট সময়কার ঈদের নতুন জামা গুলো যন্ত সহকারে আলমারীতে রেখে দিতাম , যাতে ঈদের আগে কেউ দেখতে না পায় । অতচ এখনকার ছেলে- মেয়েরা সবাই সবাইকে দেখানো নিয়ে ব্যাস্ত এবং কার জামা বেশি সুন্দর ও কে বেশি জামা পেয়েছে তা নিয়ে গবেষনা করা । নুসফিকা তার জামা গুলো পেয়ে অনেক খুশি ।
@ঈদ মোবারক@
সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা !!!

Tuesday, July 5, 2016

১৯৬৮ সালের মাঝামাঝি


১৯৬৮ সালের মাঝামাঝি বাবার কর্মস্থল সিএসএম এসে ভরতি হলাম হোসেন আহম্মদ পাড়া ফ্রি প্রাইমারি স্কুলে- ক্লাস ফো'রে। এর আগে নিয়মিত ভাবে কোন স্কুলে যাওয়া হয়নি তাই আব্বা বাসার কাছেই এক গৃহ শিহ্মক ঠিক করলেন। গৃহশিহ্মক না বলে টিউটর বলাই শ্রেয় কারন উনি বাসায় আসতেন না আমিই যেতাম ওনার গৃহে। 

আব্বা বললেন :
-তোর হাতের লেখাটা খুব খারাপ;ঠিক করা দরকার।
বুড়া মাস্টারের লেখা খুব ভালো। উনি তোকে ঠিক করে দেবেন।

আমি আমতা আমতা করে বললাম:
-- স্যার খুব মারে।
--স্যারের মার না খেলে লেখা পড়া হয় না। আমি স্যারকে বলে রেখেছি কাল থেকে যেতে হবে।
অগত্যা আর কি!
আমরা তখন থাকতাম কলোনীর বাইরে নবী কন্টাকটরের ভাড়া বাড়ীতে। স্যার জায়গীর থাকতেন নবী সাহেবের বাড়ীতে। নবী সাহেবের ছেলেমেয়ে - কামাল,রোকেয়া,বাহাদুর এর সাথে আমিও পড়তাম। তবে এটা বুঝতে পারতাম আমাকে স্যার স্পেশাল কেয়ার কতেন।

প্রথম দিনেই স্পেশাল কেয়ারের স্পেশাল ট্রিটমেন্ট। বাম হাতের তালুতে চিকন ছড়ির সপাৎ সপাৎ। হোম ওয়ার্ক হিসাবে বাংলা,ইংরেজী দু'পাতা দ'পাতা চার পাতা হাতের লেখা।

এভাবে দুমাস যাবার পরই আমার হাতের লেখাটা একটা
" জাতে উঠতে" পেরেছিল। যার পুরস্কার আমি বৃত্তি পরীহ্মা থেকে শুরু করে জীবনের অনেক পরীহ্মায় হতে নাতে পেয়েছি।
স্যারের এই ঝৃণ শোধাবার সাধ্য কী আমার।
স্যার, আপনাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাই এই লেখাটা ফটো পোষ্ট করলাম :

ঈদ অণুগল্প (পান্থজনের সখা)


মোট ছয়জন।এর মধ্যে দুজন যুবক, একজন প্রৌঢ়, দুজন নারী আর একজন শিশু। তারা সবাই স্বতন্ত্র ইচ্ছে নিয়ে এক স্থানে মিলিত হয়।কিছু সময় একসংগে কাটায়।পরস্পর পরস্পরের সাথে পরিচিত হয়।গল্পে গল্পে আর নানা অনুষঙ্গের জন্ম দেয়।কেউ কেউ বিভিন্ন অতীতের স্মৃতি হাতড়ে বেড়ায় এবং একই সঙ্গে বর্তমান কে খুজে পায়।অতঃপর তারা কিছু সময় একসাথে থাকার স্মৃতি নিয়ে যে যার পথে চলে যায় আর নিয়ে যায় কিছু অভিজ্ঞতাও

ঈদ অণুগল্প (চেনা অচেনা মানুষ)


রুপা বুঝে যায় মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক খুব ঠুনকো। একজন মানুষের সাথে আরেকজন মানুষের সম্পর্ক যতই গভীর হোক না কেন গোটা মানুষটাকে কেউ কখনো পেতে পারেনা।আসলে কোন মানুষই গোটা নয়, অনেকগুলো অংশ মিলে একজন মানুষ। গভীর ভালোবাসাই ওই একটা অংশই কেবল দেয়া যায় আর পাওয়া যায়।এমনই এক অবস্থায় অসুস্থ মেয়ে তুলতুল কে দেখতে আসে অপু।জীবনের নানা ঘটনায় অপু থাকে অন্য জায়গায়। মেয়েকে দেখতে এসে অপু মুখোমুখি হয় রুপার।আবার শুরু হয় সম্পর্কহীন দুজন মানুষের স্মৃতিচারণ আর দ্বন্দ্ব। শুরু হয় মানুষের সাথে মানুষের দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক এর।

ঈদ অণুগল্প (ভালবাসার জন্য মানুষ সব পারে)


ভালবাসার জন্য মানুষ সব পারে-
ঢাকায় পড়ালেখা করতে গিয়ে মেয়ে প্রেম করছে, ছেলের হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে- বাবা তা শুনে পরীক্ষার আগেই বাড়িতে নিয়ে যেতে এসেছে।শুধু তাই নয় পাত্র ঠিক করে এসেছেন। বাড়িতে চলছে বিয়ের আয়োজন। কিন্তু নাফিস ও তার প্রেমিকা শীলা দুজনেই বুঝতে পারে তারা একে অপরকে ছাড়া চলতে পারবেনা।কৌশলে যোগাযোগ করে তারা।নাফিস ধনীর ছেলে হয়েও গ্রামে চলে যায়।কাজ নেয় ডেকোরেটরের। বিয়ের আল্পনা আকা থেকে শুরু করে ঘর মোছা, পুকুরে কার কানের দুল পড়ে গেল তাও তুলে দেবার ব্যবস্থা করে নাফিস। দেখা যায় নাফিস সব পারে।এর মধ্যে নাফিস আর শীলা মুখোমুখি হয় অপ্রত্যাশিত বাস্তবতার।

এক সময় আমি আর নাজমুল অনেক ঝুম ঝুম বৃস্টিতে ভিজে কত জাগায় গেছি


এক সময় আমি আর নাজমুল অনেক ঝুম ঝুম বৃস্টিতে ভিজে কত জাগায় গেছি, বৃস্টি কে আমরা কোন কেয়ার ই করনি,ভাব ছিল এমন বৃস্টি পড়ার দরকার তাই পড়ছে আর আমাদের যেখানে যাওয়ার দরকার আমরা যাবো।

শাহিন কলেজ থেকে নিউ মার্কেট সাইকেল চালিয়ে ঝড়,বৃস্টি রোদ কিছুই মানতাম না আমরা দুজন চলে যেতাম ম্যাগাজিন কিনতে (ক্রিড়া জগত), সেই সব এখন মনে হলে নিজে নিজেই চিন্তা করি কি যে করেছি সেই সময় :

আজ প্রায় ১ যুগ বা ১২ বসর এর ও বেশি হল আমি আর নাজমুল এক সাতে এমন পাগলামি করিনি, যা আজ করলাম, দুপুরে নাজমুল কে ফোন দিলাম যে চলে আয় তোকে নিয়ে বাইক দেকতে যাবো, ও ঠিক ৩ টায় আসল কিন্তু বিপত্তি ঘটালো বৃস্টি, তাই বসে থাকতে থাকতে প্রায় ৫টা এর মধ্যে নাজমুল সামান্য ঘুম, যদিও খালি পেটে ঘুম আসেনা, শুধুই ঘুমের ভান ধরে চোখ বন্দ করে শুয়ে থাকা, যাক ৫ টায় নাজমুল বলে কিরে যাবি, আমি বললাম বৃস্টি তো পড়্‌, ও আমারে বলে তুই আগের মত নাই আমি বললাম আমি আছ্‌ আমি নাকি এখন ভয় পাই (হা হা হা) মামাকে নানা বাড়ির গলপ শুনানোর মত বেপার , তাই সাতে সাতে বললাম চল নিচে নেমে দেখি ঝুম বৃস্টি নাজমুল দাড়িয়ে গেল , আমি বললাম কিরে এখন, তাই নাজমুল বল চল আমি পারবো, তাই দুই বন্ধু মিলে এতো বসর পর আবার সেই ছোট বেলার পাগলামি করে বৃস্টিতে ভিজে বাইক চালিয়ে রুবি গেইট গেলাম,যেই বাইক টা কিনতে চাচ্ছি তা দেখলাম, তারপর দুজনে আবার এক সাতে বাসায় এসে কাপড় খুলতে খুলতে ইফতারির ডাক।এই সেই আমার প্রানের বন্ধু, অনেক ভাল থাক বন্ধু। নিচে দুজনের বৃস্টিতে ভিজার পর রুবি গেইট এ গিয়ে ছবি তুললাম সেই ছবি সবাই কে দেখানোর জন্য পোস্ট করলাম।

ছোট বেলায় আমাদের সময় পাখি,কিরনমালা এধরনের নামে ড্রেস ছিল না


ছোট বেলায় আমাদের সময় পাখি,কিরনমালা এধরনের নামে ড্রেস ছিল না।ঈদের পোশাক কিনতে সপরিবারে যেতাম বেবিটেক্সি করে নিউমার্কেটে।মা কানে,গলায়, হাতে সোনা পরে যেতেন।ছিনতাই শব্দটির সাথে পরিচিত ছিলাম না।যে ড্রেসটি সবার ভালো লাগতো সেটা বাবা কিনে দিতেন।বাসায় এসে ড্রেসটি লুকিয়ে রাখতাম।মাঝে মাঝে বের করে দেখতাম।যদি দেখার সময় বেল বাজতো,সাথে সাথে লুকিয়ে ফেলতাম,বাবাও সহযোগিতা করতো।ঈদের দিন কে কেমন ড্রেস পড়েছে,প্রচন্ড আগ্রহ নিয়ে দেখতাম।তবে একটি হোক বা দুটি হোক সেটা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতাম।

ঈদের জামাত


ঈদের জামাতে গিয়েই আগে বন্ধুদের খুঁজতাম, তারা কোথায় জোট বেধে বসলো,খুঁজে পেলে আমিও জোট বাঁধতাম।যেখানে বসবো ঠিক করতাম তার ঠিক বরাবর করে নতুন জুতা রাখতাম। ঈদের জামাত হতো বাসায় পাশেই অথচ যেতাম দেরীতে।যাওয়ার সময় ক্লাবের পাশের রাস্তা দিয়ে যেতাম আর আসতাম ইউনুস ভাইয়ের দোকানের সামনে দিয়ে।
অনেক কে দেখতাম নতুন জুতা রাখতো ক্লাব বাউন্ডারির উপরে,কিন্তু কেনো!!সেখানে তো সব কলোনীর মানুষ,জানবার মন চায় কি ভেবে ক্লাব বাউন্ডারির উপর জুতা রাখা হতো!!...

শেষ বিকেলের রোদ


আব্বার রুমের জানালা দিয়ে এক ধরনের আলো আসে বিকেলবেলা।শেষ বিকেলের রোদ বলে যাকে। জানালার দিকে তাকালেই কলোনি তে থাকতে নিজেদের বাসার জানালার কথা মনে পড়ে যায়।তখন ইচ্ছে করে উকি মেরে দেখি।মনে হয় এখনই দেখতে পাব,নিচে সবাই খেলতে নেমেছে।সুমন ভাই, মাসুদ, নুরু ভাই,আরিফ ভাই, লিংকন। শুধু আমিই বাকি। সবার চিতকার, চেঁচামেচি তে ঘরে থাকা দায়।পড়ি মরি করে নিচে যাবার জন্য বের হই।দেরি হলে যদি খেলা থেকে বাদ পড়ে যাই।

কিন্তু এগুলো শুধুই ভাবনা সত্য হবার নয়।তাই আমি আর আব্বার রুমের জানালার কাছে যাই না।শুধু দূর থেকে দেখি।যাতে ভাল লাগার রেশ টুকু না কাটে। ( বৃষ্টি র কারণে এখন সেই রোদের দেখা পাওয়া দায়)

হায় csm হ্যালো csm


আর এক দিন পরই আনন্দের দিন।।পবিত্র ঈদ।।দিনটি একদিকে যেমন আমার জন্যে আনন্দের তেমনি কষ্টের।।কষ্টের বললাম এ কারনে যে এ দিনটিতে আমি অনেক কিছু মিস্ করি।।আমার ফেলে আসা শৈশব এবং কৈশোর।।যখন ছোট ছিলাম মানে কলোনিতে থাকাকালীন স্কুলে পড়তাম ঐ সময়কার দিন গুলো,,ঐ সময়কার ঈদ আনন্দ গুলো আমি বিষণ মিস্ করি।।আমি মিস্ করি বন্ধুদের সাথে ঈদ জামাতে এক সাথে অংশ নেয়া,,আমি মিস্ করি অফিসার্স ক্লাবে হারুন হুজুরের পেছনে এক কাতারে ঈদ জামাত আদায় করা,,আপন মানুষ গুলোর সাথে কোলাকুলি করে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করা,,মিস্ করি ভাই ভাই ষ্টোর থেকে বেলুন-বাঁশি কিনে এক সাথে সব বন্ধুরা মিলে কলোনির এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত পেপু পেপু শব্দ করে কলোনিটাকে শোর চিৎকারে মাতিয়ে রাখা,,মিস্ করি খালাম্মাদের হাতের তৈরি মজার মজার খাবার গুলো।।হয়তো ওনারাও মিস্ করেন আমাদের মুখ গুলো,,হারিয়ে যাওয়া সেই দিন গুলো।।মিস্ করি ইউনুস ভাইয়ের দোকানের মিষ্টি পান,,আচার এবং ঠান্ডা কোক।।দুপুরে পোলাও মাংস খাওয়ার পর ওনার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ঠান্ডা কোক খাওয়া শেষে ঢেকুর তুলতে তুলতে খিলি পান মুখে দিয়ে অবস্থান ত্যাগ করার মুহূর্ত গুলো।।মিস্ করি পতেংগার সেই সাগর পাড়ের আড্ডাটা।।ওখানে বন্ধুরা মিলে বিকেল বেলা একসাথে আনন্দ করার মুহূর্তটা।।হয়তো আমার মতো আপনারাও মিস্ করেন আপনাদের হারিয়ে যাওয়া সেই সিএসএম-কে,,সিএসএমের মানুষ গুলোকে।।

ভাল থাকুন সবাই।।নিরাপদে থাকুন।।সবাইকে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা।।ঈদ মোবারক।।

এমন দিন এলে খুশীতে মন ভরে যেত


এমন দিন এলে খুশীতে মন ভরে যেত, শুধু চিনতা করতাম কখন ইদের নামাজ পরার জন্য নতুন পানজাবি পরব, নামাজ শেষে, গিয়ে সবার ঘরে ঘরে সালাম করে সালামি নিব, খাবারের চেয়ে সালামির প্রতি আগ্রহ টা বেশী থাকত, সালামির টাকা নিয়ে বাসায় কতই না ঝগড়া করছি তার ঠীক নাই, যখন রাত হত মনটা অনেক খারাপ হয়ে যেত, ঈদ কেন এতো তারাতারি চলে গেল, আর এখন তো পুরাই ডিজিটাল সালামি না দিলে, জোর পুর্রক আদায়, ছোট বেলায় ভাল ছিলাম

ঈদ অনুভাবনা


হঠাৎ কেন জানি মন টা উদাস হয়ে গেল।মনে হল কোথাও গিয়ে চুপচাপ বসে থাকি। বসার জায়গা টা কলোনি র কবর স্থানের পাশে হলেও খারাপ হয় না।কেউ বিরক্ত না করুক।আকাশে মেঘ থাকলেও বৃষ্টি নেই।কবরস্থান এর বাঁশ গাছ গুলো র হালকা মৃদু মন্দ হাওয়া। একটা দুইটা পাখি ডাকছে। কিন্তু তাতে পরিবেশ টা আরো ভাল লাগছে। মনে বাজতে থাকুক, 
" দূরে কোথাও, দূরে, দূরে, 
আমার মন বেড়ায় ঘুরে, ঘুরে"
সত্যিই আর কিছু চাই না। এত টুকুতেই মন টা ভাল হয়ে উঠত।

ঈদ অণুগল্প - মেঘদূত


নিলয় ১৪ বছর পর আমেরিকা থেকে ফেরে। তার ছেলেবেলা কেটেছে যে স্থানে সেই সিলেটের পাহাড়কে নতুনভাবে দেখা।লাবন্য পেশায় ফটোসাংবাদিক। এক কম্পিটিশন এর জন্য ছবি তোলার উদ্দেশ্যে লাবন্য সিলেট যায়।সেখানেই তাদের পরিচয়। কিন্তু গল্পের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতায়য় তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব্ব হয়ে গেলেও প্রেম হয়ে যায় না।তারা জানে এই দ্রুত গতির সময়ে নারী পুরুষের মধ্যে ভাল লাগার সৃষ্টি হলেও প্রকৃত ভালবাসা হয় না।এই ফেসবুকের যুগে ভালবাসাও ইন্সট্যান্ট,ক্ষণিক। লাবন্য আর নিলয়ের জীবনেও ভালবাসা তাই দ্রুত হারিয়ে যায়

ঈদ মানে খুশি,আনন্দ, মজা আরও কত কি


ঈদ মানে খুশি,আনন্দ, মজা আরও কত কি।কিনতু আমার কাছে আমার সেই ষোল বছর আগের কলোনির ঈদটায় ছিল শ্রেষট আর অতলনীয়।এখন তো শুধু সবার সাথে তালে তাল মিলানো।

কলোনিতে যখন ছিলাম তখন কত রকমের মজাই না করতাম।রমজান মাস টা জে আমাদের কখন শেষ হয়ে যেত বুঝতামি না।ঈদের দিন সকালে উঠে গোসল করে কখন জে নতুন জামা পড়বো সে চিনতায় সারারাত ঘুমাইতাম না।আর এখন তো অন্যরকম।তারপর building এর সবাইকে সালাম করে কে কত টাকা পাইতাম তার হিসাব করতাম।যেখানেই যাইতাম সবাই সালামি দিত।কত আন্তরিক ছিল কলোনির মুরব্বিরা।আর এখন কেউই কোনো সালামি দেয় না।কলোনি টারে বড় বেশি মনে পড়ে।কোনোদিনও ভুলতে পারবো না সেইসব দিনগুলারে।।সবাই ভাল থাকবেন আর সবার জীবনে ঈদ নিয়ে আসুক অনেক আনন্দ আর ভালবাসা।

ঈদ অণুগল্প - ২ রা ফাল্গুন


বহ্নি একটি গিফট শপের সেলস গার্ল। কাজ আর ঘর নিয়ে খুবই সাধারণ আর গৎবাধা জীবন তার। বিশ্ব ভালবাসা দিবসে ধুমকেতুর মত তার জীবনে আসে চন্দন।চন্দন বহ্নির দোকান থেকে কিছু উপহার কিনে আবার বহ্নির কাছেই রেখে যায়।একদিন বহ্নি আবিস্কার করে উপহার গুলো তে তার নাম লিখে দিয়েছে চন্দন। বারবার দেখা হয় চন্দনের সাথে।দুজনেই বুঝতে পারে একে অপরকে ভালবাসে। কিন্তু বহ্নি কখনোই চন্দনকে পুরোপুরি বুঝতে পারেনা।বহ্নি যখন চন্দনকে নিয়ে ঘর বাধার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ঠিক তখনই হঠাত করে উধাও হয়ে যায় চন্দন। বহ্নি অপেক্ষায় থাকে, চন্দন আসবে।আসে চন্দনের হাতে লিখা একটি চিঠি। আসে বহ্নির জন্য পাঠানো চন্দনের ভালবাসার উপহার

ঈদ অণুগল্প - রুপালি তারা


দয়াগঞ্জ গ্রামের একটি মেয়ে নাম টিয়া।শৈশব আর কৈশর থেকে যে স্বপ্ন লালন করে আসছে - সে রুপালি পর্দা র মানুষ হবে।যৌবনে পা দিয়ে তার সে স্বপ্ন আরো প্রবল হয়।নতুন সিনেমার একটিও বাদ দেয় না।মাতৃহীন টিয়া সংসারের কোন দায়িত্ব না নিয়ে সব দায় অবলীলায় বাবার উপর চাপিয়ে দেয়।টিয়ার আক্ষেপ - দয়াগঞ্জের কোনো মানুষের মধ্যে রুপালি পর্দার মানুষের কোনো প্রতিচ্ছবি খুজে পাওয়া যায় না।এর মধ্যে দয়াগঞ্জ এ আসে বাবলু।বাবলুর কথায় চলায় টিয়া খুজে পায় স্বপ্নের জগতের সেই মানুষের চরিত্র। এক সময় বাবলু গ্রাম থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়।কিন্তু টিয়ার আর সময় কাটে না যেন।তাই একদিন সবার অলক্ষ্যএ টিয়া পাড়ি জমায় বাবলুর কাছে - অথচ কোথাও খুজে পায় না।