Tuesday, March 29, 2016

আমাদের সবার প্রিয় মোজাম্মেল ভাই- ডা: মোজ্জাম্মেল হক শরিফী


কলোনীর আবাল বৃদ্বা বনিতা সবার কাছে খুব প্রিয় ।ভাল ছাত্র, ছোট বড় সবার সাথে মিশার অসাধারন ক্ষমতা, যে কোন বিপদ আপদ বা সামাজিক কর্মকান্ডে সবার আগে এগিয়ে আসা উনাকে আরো মহান করে তুলেছে।ছোটদের কোন ভুল বা অপরাধ সুন্দর করে বুজিয়ে সমাধান করে।কখনো মনেই হয়না এটা আমাদের বড় ভাই, মনে হয় এটা আমাদের বন্ধু।যে কোন সমস্যা নিয়ে খোলামনে আলোচনা করলে উনি উনার সর্বোচ্চ সমাধান বা সেক্রিফাইস করতে মোটেও পিছপা হন না।ভাই সত্যিই মন থেকে বলছি তোমার মত ভাই যেন সি এস এম পরিবারে বার বার জন্মে।এতক্ষন যার কথা বললাম সে আমাদের সবার প্রিয় মোজাম্মেল ভাই- ডা: মোজ্জাম্মেল হক শরিফী।অহংকারহীন মানুষটি সব সময় সি এস এম বাসীর পাশে থাকে। এই ভাইটি আমাদের এতো আপন করে নিয়েছে যে পারসোনাল সময় বলতে কিছুই রাখেনি সব সময় সি এস এম বা যে কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যায়।প্রচার বিমুখ এই ভাইটি গত আড্ডায় সবার অলক্ষে কি পরিমান সহযোগীতা করছে কাউকে বলে ব্যাখ্যা করা যাবে না।।পেশাগত জীবনেও উনি রোগীদের সর্বোচ্চ ছাড় কিংবা সহযোগীতার মাধ্যমে যতেস্ট সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।রোগী সি এস এম এর হলেতো কথাই নেই। মেধাবী,সৎ, পরিশ্রমী,সদালাপী,পরোপকারী আমাদের এই ভাইটি দীর্ঘজীবি হউক এই প্রত্যাশাই করি।

মেঘের বাড়ি


কেমন ছিল কলোনি র মেঘলা দিনগুলো। যতদূর মনে পড়ে মেঘলা দিনগুলো- ছিল হঠাত আসা মেহমানের মত।বলে কয়ে আসত না।কিন্তু মন ভাল করে দিত।হালকা হালকা বাতাসে, মাঝে মাঝে ঘূর্ণি, দেখতে ভালই লাগত। মাঠে সবার ছুটোছুটি। তারপর আস্তে আস্তে বাতাসের বেগ বাড়তে থাকত।

বাতাসে পাখির পালক, পলিথিনের টুকরো উড়ে বেড়াত।আমরা ছোটরা সেটা কে ধরার জন্য তার।পিছু নিতাম।বাতাসের সাথে সাথে সেটা ধীরে ধীরে উপরে উঠতে থাকত।একসময় আমাদের দৃষ্টি র সীমানা থেকে হারিয়ে মেঘের কাছাকাছি চলে যেত,যেন মেঘের বাড়ি গিয়ে থামবে।আমরা চোখ বড় বড় করে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতাম,অনেক দিনের চেনা মানুষ আস্তে আস্তে দুরে চলে গেলে যেমন লাগে, তেমন মনে হত।

আমারে নিয়া কেউ লেখেনাই, থাক,নিজেই নিজেরে নিয়া লেখি।


আমারে নিয়া কেউ লেখেনাই।
থাক,নিজেই নিজেরে নিয়া লেখি।

আমি উমামা বিনতে ইকবাল।মায়ের নাম চাদ সুলতানা(রিদমিক কী-বোরডে চন্দ্রবিন্দু পাইতেসিনা)। খালাদের নাম নাহিদ সুলতানা ও নাশিদ সুলতানা।বোনের নাম ফাতিমা বিনতে ইকবাল। এনারা সবাই এই গ্রুপের মেম্বার।এছাড়াও নুজাইমা বিনতে ইকবাল নামক আরো একটি বোন আমার আছে যার ফেসবুক নাই।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কোরবানি ঈদের আগ দিয়ে আমাকে এই গ্রুপে এড করা হয়।এরপর থেকে আমি এই গ্রুপের একটিভ মেম্বার।মাঝে মাঝে গায়েব হয়ে যাওয়া আমার অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য। গ্রুপের মামাদের পচানো আমার কাছে পৈশাচিক আনন্দের ব্যাপার।খালাদের আমি বিশেষ রকম ভালোবাসি ও শ্রদ্ধা করি।গ্রুপে ঝগড়াঝাটি লাগলে অনেকেই আমাকে রেগে গিয়ে প্রতিবাদী হতে দেখেছেন।আসলে অযৌক্তিক কথাবার্তা বা কাজকর্ম আমাকে রাগিয়ে তোলে।কাউকে অসম্মান করা দেখলেও আমার রাগ উঠে।মানুষটা আমি এমনেতে নরম সরম। কিন্তু হাসিমুখ দেখে ধোকা খাওয়ার দরকার নাই।আমি বদের হাড্ডি টাইপ মানুষ। বেশী খাতির করতে আসার দরকার নাই।ভুলায়ে ভালায়ে আপনাকে পাস্তার দোকানে নিয়ে গিয়ে অভদ্রের মত পাস্তা ট্রিট চেয়ে বসার মত কাজ আমি করতে পারি।

কলোনীতে ঈদ আসা মানে এপ্রিল 29 পোলাপাইনে ম্যারাথন আডডা মারা


কলোনীতে ঈদ আসা মানে এপ্রিল 29 পোলাপাইনে ম্যারাথন আডডা মারা, একটা না একটা বাসা খালি পাবো ঈদে,মরা রাশেদ,আর না হলে লিটন দের বাসা দুইটাই D টাইপে,কোরবানীর ঈদ হলে বিভিন্ন বাসা থেকে রান্না করা মাংস আসতো,আর না হলে দল বেধে এক বাসায় গিয়ে খেয়ে আসতাম,ঈদ মোটামুটি ৩ দিন পালন হতো কলোনীতে রেশ থাকতো আরো কয়েক দিন,আর রোজার ঈদে একদিন দুইদিন পর নিজেরাই রান্না শুরু করতাম,একবার লিটনদের বাসা খালি হলো আমাদের খুশি দেখে কে,যথারীতি ঈদের নামাজ শেষ করে বাসায় দেখা করে ভো দৌঁড় লিটন দের বাসা,কলি ভিডিও থেকে বি সি আর ভাড়া করে এনে কেউ ছবি দেখছে আর কেউ দুই গ্রুপ হয়ে তাস খেলায় বসে গেছে,সকাল থেকে বসে যে খেলা শুরু হলো এটা সারাদিন সারা রাত চলছে,আমি বিকালে একবার বাসায় গিয়ে দেখা করলাম,এবং আসার সময় একটা শট প্যানট নিয়ে আসলাম,আম্মাকে বললাম বিকালে ঝাউতলা ও যেতে পারি,সোজা আবার লিটনদের বাসা,বাসাতো পুরো আমাদের দখলে সিগারেটের ধোয়ায় ঘরের কিছুই দেখা যায়না,রাতে কেউ বাসা থেকে খেয়ে আসলো আসার সময় কেউ কেউ তরকারী নিয়ে আসতো,চাল তো আছে ভাত রান্না করতাম কোন কিছুর রান্না করা লাগলে সব আমার ঘাড়ে পড়তো,সকালে ডালে চালে খিচুড়ী চলতো,আমি বেশি খেলতে পারতাম না কারণ রান্না আমাকে করতে হতো বেশি চিল্লাচিল্লী করলে একজন এসে সাহায্য করতো,সবাই একবার হলেও বাসা থেকে ঘুরে আসতো,বিকালে ও নেমে হাটাহাটি করতো, আমি আর বাসা থেকে নামি নাই একে তো এক কাপড় আবার কোনমতে বাসায় জানলে বুঝবে আমি এখানে ৪দিনের দিন দুপুর ৩টায় কে এসে বলতেছে তোর জেঠাতো ভাই হোনডা নিয়ে নিচে বসে আসে তোকে ডাকতাছে বুঝলাম এবার ধরা খেয়ে গেছি,সাথে করে নিয়ে সোজা বাসায়, ভাগ্য ভালো তখন মোবাইলের যুগ ছিল না তাহলে ৩দিন না একদিন ও বাহিরে থাকতে পারতাম না

টিপু, ৯৮ ব্যাচ


টিপু আমাদের ছোট ভাই, কলোনীতে ওদের বাসার সামনে স্লিপ ছিল,সেখানে টিপুকে দেখতাম, খেলাধূলা করেছে, তবে আমাদের থেকে ছোট ছিল বলে ওকে বেশী খেলাতে নেওয়া হত না।আর ও স্লিপ পারের মাঠেই বেশী অবস্থান করত, আমরা বড় মাঠে,আমার ছোট বোন ঝুমুর এর ক্লাসমেট।

কলোনী থেকে বের হওয়ার পর টিপুর সাথে আমার যোগাযোগ ছিল না,আমার বোন মাঝে টিপুর রাজনৈতিক ব্যাপার নিয়ে বলতো।টিপু ভাল রাজনীতি করত আমি পরে জেনেছি।

পেজের মাধ্যমে আবার টিপুকে আমাদের মধ্যে পাওয়া,সব সময় কোন আড্ডা দিব বললেই চলে আসা।বেশীর ভাগ সময় খাওয়ার বিল নিজেই দিয়ে দিবে,কাউকে দিতে দিবে না।বতর্মানে ফার্নিচার T স্কোয়ার এর গর্বিত কর্নধার।সব সময় আড্ডা দিতে পছন্দ করে।

Monday, March 28, 2016

দেশ প্রেম ...


UAE তে Steven Rock একটি কোম্পানীতে যখন যায় এক নেপালী খালিজ টাইম পত্রিকা থেকে সযত্নে সংগ্রহ করা একটি বই আমাকে দেয়..বইটিতে বড় অক্ষরে বাংলাদেশ লিখা থাকায় খুব আগ্রহে নিয়ে নিলাম..জাতীয় পতাকা সহকারে বাংলাদেশ লেখাটিতে যে কতো বড় দেশ প্রেম লুকিয়ে ছিলো তখনো বুঝতে পারি নাই..তখনি বুঝলাম..যখন বইটি আমার গাড়ির ডিস্ প্লেতে রেখেছিলাম...যখন ড্রাইভ করছিলাম যতো বাংলাদেশী আমার পাশ দিেয় যাচিছলো একবার হলেও হর্ণ দিেয় জিজ্ঞেস করছিলো ভাই কেমন আছেন..শুধু বাংলাদেশি নয় যতো দেশ এর লোক যাচ্ছে ..পপ পপ Hi Hello..মনে হচ্ছিলো ছোট্টো একটি বই নয় পুরো বাংলাদেশকে নিয়ে আমি ড্রাইভ করছিলাম... গর্বিত বাংলাদেশ তোমাকে নিয়ে গর্বিত বাংলাদেশ তোমার মতো জন্মভূমিতে জন্ম হয়ে ...

কোরবানীর ঈদ আসলে আমাগো মতো কিছু পোলাপাইনের মাথা হট হইয়া যায়


কোরবানীর ঈদ আসলে আমাগো মতো কিছু পোলাপাইনের মাথা হট হইয়া যায়,তখন মনে হয়C/4/F থাকতাম,বাসা থেকে গরুর হাট দেখা যেত,যেদিন থেকে গরুর হাট বসা শুরু হতো সেদিন থেকে আমি ডালিম, শিপন, বিপুল,সব সময় হাটে আসা যাওয়ায় উপর থাকতাম, মসজিদের গেইট দিয়ে বেশিরভাগ আসা যাওয়া হতো, নামাজের সময় পিছনের গেইট টা খুলতো ৩/৪মিনিট লাগতো,আর অন্য সময় বাজার দিয়ে ঘুরে যাওয়া লাগতো,একেক জনের একেক চয়েস চলতো,আর বাসায় এসে তা বণনা চলতো,গাড়ি থেকে গরু নামলেই হুড়াহুড়ি চলতো কে আগে দেখবে,এভাবে সময় ঘনিয়ে আসতো গরু কিনার,কলোনীতে কে কেমন গরু কিনলো তার গবেষনা চলতো সবসময়,আর গরু কিনার সময় তো পারলে পুরো ফ্যামিলি রওয়ানা হতাম,একলা তো গরু কিনা হতো না ভাগে গরু কিনা হতো,আমার বাসা থেকে আমরা দুইভাই এভাবে প্রতি ফ্যামিলি থেকে একজন দুজন থাকতো,যাদের কিনা হয়ে গিয়ে তারাও আবার যেতো মজা করা জন্য,বেশির ভাগ গরু ছোটদের পছন্দে কিনা হতো,যতো রাগী গরু কিনা হতো ততো মনোবল বেড়ে যেতো,আমাদের আসল উদ্দেশ গরু লড়াই করে জিততে হবে, হাট থেকে গরু নিয়ে আসার সময় গরুর রশি ধরার জন্য কাড়াকাড়ি লেগে যেতো,দাম বলার প্রতিযোগিতা চলতো,একবারতো কাগজে গরুর মূল্য লিখে দিয়েছিলাম এটা নিয়ে কতো হাসাহাসি,কলোনীর মধ্যে গরু ডুকাতে পারলে আর পায় কে তখন নিজেদেরকে মহারাজা মনে হতো,কোরবানীর আগ পযন্ত এই গরুর পিছনে সময়টা ব্যয় করা হতো,একবার ঈদের আগের দিন বিকাল বেলায় সিটাইপ মাঠে ২/৩টা গরু চড়তে ছিল,আমি আমাদের গরু নিয়ে আর একটা গরুর সাথে লড়াই লাগিয়ে দিলাম যে সে লড়াই না মনে হচেছ ইরাক আর ইরানে লড়াই থামাথামির নাম নেই আমরা তো ভয় পেয়ে গেলাম আমাদের গরু রশি ধরতে গেলাম আমি, গরু দিলো দোড়ানি আমি গিয়ে পড়লাম C/2পাশের ড্রেনে সব সময় পানি ময়লা থাকতো তখন আর কে আর কার দিকে তাকায় সোজা বাসায় আম্মা তো পারলে আমারে কোরবানী দিয়া দে সোনা রুপা পানি দিয়ে গোসল করাইয়া উত্তম মাধ্যম দিয়া চাঁদ রাতে ঘরে আটকাইয়া রাখলো,আর এখন প্রতিরাত ই একরকম মনে হয় হায়রে কলোনী কই পামু গরুর লড়াই কই পামু ড্রেন

লাল নীল বাতি সমাচার


সাড়ে চারটায় বাস ছাড়লো। একটু পরেই যেন ঝুপ করে সন্ধ্যা নামলো। সাথে সাথেই আলোর ঝলকানি চোখে পড়তে লাগলো। এখন সব দোকান পাট,গাড়িতে বেশ লাইটিং করা হয়। খাবারের দোকানগুলাতে ত কথাই নেই। মালিবাগে একটা দোকান আছে নাম কাকার বিরিয়ানী। ওখানে আলোর কারনে কাকাকে খুজে পাওয়া বেশ কস্টসাধ্য। সন্ধ্যার পর রাস্তায় বের হলে ভালই লাগে। কত আলো চারপাশে। রাস্তায় বিলবোর্ড, স্ট্রীট ল্যাম্প,গাড়ির হেড লাইট,ট্রাক বা বাসের নিজস্ব লাইট ছাড়াও কিছু ডেকোরেশন লাইট,বিয়ে বাড়ি হলে চোখে পড়ে মেলা আলো। যা বলছিলাম,এই আলোর ঝলকানি পুরা রাস্তা জুড়েই দেখতে দেখতে আসলাম। লাল,নীল,সবুজ,হলুদ আরো কত রঙ এর আলো। ক্ষনে ক্ষনেই উদাস হচ্ছিলাম।

কাঁদ চুলটানা


একটা গ্রুপ পেইজে কিছুদিন আগে একটি মেয়ের সাথে ফেইসবুক ফ্রেন্ড হয়েছিলাম। গ্রুপে তার কিছুদিন পরে একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম। তখন একজন ওই পোষ্ট একটা কমেন্টস করছিলো। কমেন্টস পরে দেখি মেয়েটা আনফ্রেন্ড করে দিলো। জিজ্ঞাস করলাম কেন আনফ্রেন্ড করা হইলো। তখন ও বললো monthly review তে ভুলে বাদ পরছে। পরে অবশ্য ও নিজেই request পাঠাইছে। তার কিছুদিন পর একটা প্রোগ্রামের উছিলায় ওনি চিটগাং আসলো। প্রোগ্রাম বাদ দিয়ে আমাদের সাথে মিটিংএ যোগ দিলো। মিটিং শেষে বললো তাকে নিয়ে পরের দিন পুরাতন স্মৃতিবিজড়িত স্থানে যেতে হবে। পরের দিন শনিবার বিধায় রাজি হলাম। 

এক বন্ধুর গাড়ি নিয়ে তার হোটেলে গিয়ে তাকে নিয়ে বের হলাম।বললেন প্রথমে সেন্টমার্টিন হোটেলে যাবে। সেখানে একটা লাঞ্চ পার্টি আছে। আমাদের লোকদের আয়োজন করা পার্টি অথচ দাওয়াত পাই নাই। ওনাকে গাড়িতে বললাম আপনাদের ব্যাচের সবাইকে তুই করি বলি। তাই আপনাকেও এখন থেকে তুই করে বলবো। এক বাক্যে বললো তোর যা ইচ্ছা তাই বলতে পারবি। তখন থেকেই তুই করে বলা। এর সপ্তাহ খানেক পরে আমি ঢাকায় গেলাম। সকালে এবং সন্ধ্যায় একটা প্রোগ্রামে দেখা হলো। সেখানে আমার হারিয়ে যাওয়া তিন মেয়েকে পেলাম। তারা প্রথম দেখায় কত সহজে আপন করে নিলো। এতক্ষন যার কথা বলছি তার নাম হলোঃ কাঁদ চুলটানা কইন্যা। 

বাদল বরিষণে


খুব বৃষ্টি হচ্ছে। মনে হচ্ছে বর্ষাকাল এই বৃষ্টি মনে করিয়ে দিচ্ছে কলোনি র বৃষ্টির দিনগুলোর কথা। কি করতাম এই দিনগুলো- তে। যতদূর মনে পড়ে কাঠের কালো কাপড় এর ছাতা নিয়ে স্কুলে যেতাম।তখন টিপ ছাতা এত এভায়লেবল ছিল না। স্কুল থেকে ফিরে খেলতে পারতাম না। কাপড় ভেজালে বকা খেতে হবে তাই। দুপুর ১২:৪৫ এর দিকে আমার একটা কাজ থাকত।আব্বার কাছে ছাতা দিয়ে আসা অফিসে গিয়ে।আব্বা প্রায়ই ছাতা ছাড়া অফিসে যেতেন।আসার সময় একটা টাকা দিতেন ওটা দিয়ে জেক্স থেকে একটা চকলেট বা অন্যকিছু কিনে খেতাম। বিকাল বেলা ছাতা নিয়ে হয়ত হাটতে বেরোতাম।আর ছিল মুরগি গুলো কে খোয়াড়ে পুরবার ঝামেলা।খোয়াড়ে র সামনে গিয়ে মুরগি গুলো কি যেন ভাবত,ঢুকতে চাইত না।মেজাজ চড়ে যেত আবার কিছু করাও যেত না। এদিকে সন্ধ্যা তাড়াতাড়ি হত বলে পড়তে বসতে হত তাড়াতাড়ি। পড়া শেষ করে উঠে টিভি দেখা।

তখন টিভিতে এত অনুষ্ঠানের ছড়াছড়ি ছিল না।ভাল কিছু না থাকলে ভাত খেয়ে তাড়াতাড়ি ঘুম কাথা মুড়ি দিয়ে। আহ! কি শান্তির ঘুম।ঐ। ঘুমের কাছে পৃথিবীর সব লোভনীয় জিনিস হার মানে

ভাইয়া তেলের ড্রাম পাইছো??


ভাইয়া তেলের ড্রাম পাইছো?? হুম, পাইছি। কি করবা এক ড্রাম তেল দিয়া!? সব হারামিরে মালিশ করবো! আইচ্ছা ভালো মত করো! আমাগো সারাফের মা"রেও একটু কইরো। মোটু বাড়ি থেকে, এক ড্রাম খাটি সরিষার তেল পাঠাইছে! কারে দিয়া শুরু করি? 

জসিম শালারে দেই, এই শালারে কেউ তেল দেয়না! অথচ, আমার দেখা মতে জসিমের চেয়ে ভালো, কোনো শালাই নেই! শালার গুনের শেষ নাই! শালা জিবনে একটা প্রেম করছে, শালা ঔইডারেই বিয়া করছে! শালাই, আমাগো তিনটা মায়ের জন্ম দিছে! শালা ছাত্রও ভালো আছিলো!! রাজনীতি কইরা শালায় লেখাপড়ার বারোটা বাজাইছে! শালার সব চেয়ে ভালো গুন, শালায় বেনসন সিগারেট খায়।(দোষ পরে, পীরের উপর)!!!। আজ, মাসুক,একরামের মানসিক যে সমস্যা, তার জন্য এই জসিম শালায় দায়ি!! নিরু সাক্ষী!! শালায়, চিটাগাং-এ, বিশাল এক আড্ডার সফল নেতৃত্ব দিছে। এই জন্য আমরা কৃতজ্ঞ, এবং আমাদের অন্তরের ভালোবাসা, আমার এই বন্ধুর প্রতি। ভালো থাকিস শালা। 
আর কারে দিমু!!?? পাইছি, গাড়িরে দেই। রিপন গাড়ি, না নারী /না পুরুষ, রিপন একজন মহাপুরুষ!! "যে জানে, সেই একমাত্র সাক্ষী"!! কাহারো আপদ বিপদ দেখিলে, সে ঝাপাইয়া পড়ে। নিজে ধার করে, বন্ধুদের টাকা দিয়ে সাহায্য করে, আমি নিজে সাক্ষী। বউরে খুব ভালোবাসে!!! নিজের চোখে দেখছি!!!! 

পুলক ও সুজন


যেহেতু আজ পেজের ব্যক্তি পরিমাপক তেল দিবস তাই,ছোট ২ টা ভাই এর কথা না লিখে পারলাম না।

পুলক
আমাদের সিএসএম পেজের একজন এডমিন,সব সময় চুপচাপ থাকে,তবে ভিতরে মিচকি শয়তান।
কলোনীতে থাকতো bh1 এ,আমাদের সাথে কলোনীতে থাকতে কথা কখনো হয় নাই। এই পেজেই তার সাথে আমার ও অনেক ভাই- বোনের সখ্যতা।

সুজন
ছোট কাল থেকেই তাকে চিনি,খুবই দুষ্ট আছিল।ইউনুস ভাইয়ের দোকানে গিয়ে ওর বাবার নাম ( শাহআলম কাকা)বলে কোক খেত।সব খেলাতে মোটামুটি পারদর্শী ছিল।
কলোনী থেকে বের হওয়ার পর পেজের মাধ্যমে আবার সুজনকে পাওয়া।তবে সুজন ওর মনের মত না হলে একটু অভিমান করে।আবার পরে ঠিক হয়ে যায়।

সবাই যখন লিখছে ভাবলাম আমিও কিছু লিখি


সবাই যখন লিখছে ভাবলাম আমিও কিছু লিখি।গুছিয়ে লিখতে পারিনা বলেই নিয়মিত লিখা হয়না।

মাহমুদুল হাসান।যখন ক্লাস এইট কিংবা নাইন এ পড়ি তখন প্রিন্স মাহমুদের সুরের গান গুলো ভালোই শুনতো সবাই।তখন সে লিখতো প্রিন্স মাহমুদ।সবাই এইটা নিয়ে খুব দুষ্টুমি করতাম আপেলের সাথে।আমি,শাকিল,আপেল,রুমি,লিটন এই কয়েক জন কলোনীতে ঘনিষ্ট ছিলাম বেশী।পরে নাজিম,ওয়াহিদ এবং তৌহিদ। বেশ ভালোই কাটছিলো দিনগুলা।যখন ক্লাস টেন এ উটলাম তখনি আপেল চলে আসলো কলোনী থেকে।এরপর অনেক বছর একটা গ্যাপ ছিলো।প্রায় ১০ কি ১১ বছর তো হবেই।আপেলের সাথে আবার দেখা হলো চট্টগ্রামে।একা আপুর( শাকিলের বোন) বিয়েতে। সবাই মিলে অনেক মজা করলাম।অনেক দিন পর আবার একসাথে হয়েছিলাম সেইদিন।

বুবু( চাদঁ সুলতানা বন্যা)


তাকে আমি কলোনীতে দেখি নাই। বুবুর সাথে আমার পরিচয় এই পেজের মাধ্যমে।

শুনেছি বড় ভাইদের মুখে কলোনীতে থাকতে খুব মুডি ছিল।কোন ছেলের সাথে কথা বলতো না।কলেজ বাসে তারা চার এক সাথে যেত।রনি আপু,মিতু আপু আর একজন কে আমি এখন মনে করতে পারতেছি না।রনি আপু ভাইদের সাথে হাসিমুখে কথা বলতো শুনেছি।কিন্তু বুবু ওরে বাবা,খুব নাকি মুড নিয়ে বসে থাকত বাকী দুজনের টা জানি না।

যা হউক এই পেজের মাধ্যমে দেখলাম তার সরব উপস্হিতি,সবাই কে পচায়,নিজে ও পচে।

তবে বুবুর একটাই দোষ অল্পতেই রেগে যায়,আর হেরে যায়।আবার নিজেই অনুতপ্ত হয়ে কাঁদে।

যখন তারিক কে দেখতে চিটাগাং থেকে সিএসএম এর চারজন প্রতিনিধি ঢাকা গিয়েছিল তখন তারা ফিরে এসে বুবুর সমন্ধে বিস্তারিত বলল।সে আমাদের ভাই গুলোকে নিজে গাড়ি ড্রাইভ করে কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছে দিল তখন রাত মনে হয় ১০ টা।এবং যতক্ষণ ভাইরা চোখের আড়াল না হওয়া পযর্ন্ত সেখানে ছিল এবং বাসায় এসে ফোনে খবর নিয়েছে।তখন বুবুকে অন্যরকম চিনলাম।

ডাল পুরি,কিমা পুরি


তখন আমার বয়স সাত কি আট।আম্মা একদিন সন্ধ্যাবেলা খেলে আসার পর বললেন ডালপুরি নিয়ে আসতে আজমির হোটেল থেকে।আমি গিয়ে বললাম,পুরি দিতে।দোকানদার কি বুঝলেন জানিনা,আমাকে দশটা কিমা পুরি দিয়ে দিলেন। তখন একটা ডালপুরি র দাম ১ টাকা, আর একটা কিমাপুরির দাম ৩ টাকা।আমাকে ১০ টাকা দিয়ে ১০ টা কিমা পুরি দেয়া হল।বাসায় নিয়ে এলাম।খেয়ে সবাই খুশি।

পরের দিন আবার আমাকে পাঠানো হল।এবার আমার ভুল ভাঙিয়ে দিল আরেক জন যিনি ক্যাশে বসেছিলেন।তিনি বললেন যে ডালপুরি ১ টাকা আর কিমাপুরির দাম ৩ টাকা।তাই দাম অনুযায়ী টাকা দিতে হবে।আমি একবার বলতে চাইলাম গতদিন আমাকে ১০ টাকা দিয়ে ১০ টা কিমা পুরি দেয়া হয়েছে।কিন্তু ভাবলাম আমার কাছে ত বাড়তি টাকা আনিনি।তাই পেটের কথা পেটেই হজম করে ফেললাম।ভয় পেয়েছিলাম যদি লোক টা টাকা খুজে আর দিতে না পারলে আমাকে অপমান করে কিংবা বেধে রাখে।তখন কি হবে।বাসায় এসে মাকে সব খুলে বললাম।আম্মা বললেন, স্কুল থেকে এসে যেন কালকে টাকা টা ফেরত দিয়ে আসি।স্কুল থেকে এসে যখন টাকা ফেরত দিতে যাই তখন বয়স্ক করে একজন বসে ছিলেন।তিনি সব শুনে টাকাটা নিয়ে আমাকে ১ টা সিঙ্গাড়া উপহার দিলেন

চাঁদ সুলতানা বন্যা একজন মহীয়সী নারী


দিলাম পোস্ট কইরা। কপালে কি আছে আল্লাহ্‌ ভালো জানে। যদি আমার এই পোস্টে তেলের বাজারে কোন প্রভাব পরে তাহলে আসলাম ভাই, নাজমুল ভাই এবং রেজা ভাই দায়ী থাকবে।

চাঁদ সুলতানা বন্যা একজন মহীয়সী নারী। এই কথাটি সব সময় বলা হয়, কিন্তু আমার মনে হয় যে এই একটি কথায় চাঁদ সুলতানা বন্যাকে ঠিক ধরা যায় না। তিনি ছিলেন অনেকটাই ব্যতিক্রমী এবং জীবনকে তিনি ভিন্নভাবে চেনার চেষ্টা করেছেন। সংস্কৃতির নানা অঙ্গনে, রাজনীতির ক্ষেত্রে, সামাজিক সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে, FB আন্দোলনের ক্ষেত্রে তাঁর যে ভূমিকা, সেখানে তিনি সাহসী, ব্যতিক্রমী, অসাধারণ তীক্ষ্ন গুণী ও প্রখর চেতনাসম্পন্ন এক অসামান্যা নারী ছিলেন। কেউ কেউ তাঁকে নারীবাদী বলে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেছেন। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটি ঠিক তাঁর জন্য যথাযথ অভিধা নয়। তিনি কিন্তু আসলে নারী ও পুরুষ দুজনে মিলেই সামাজিক অগ্রগতির যে ক্ষীণরেখাটি আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, তার যে ধারা, সেটি যাতে আরো একটু প্রসারিত হয়, আজীবন সেই ক্ষেত্রে একনিষ্ঠভাবে সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁর তুলনা আমাদের CSM এ খুব বেশি নেই। তিনি তাঁর জীবনকথা যেগুলো, যা বলেছেন, সেগুলোও খুব সাধারণ, সরল, সহজ ও হৃদয়স্পর্শী ভাষায়। তাঁকে নারীবাদী না বলে বলা যায় পুরুষ ও নারীর সম্মিলিত প্রয়াসে সামাজিক অগ্রগতির ধারাটিকে তীব্র-তীক্ষ্ন করে তোলাই তাঁর প্রয়াস ছিল এবং তিনি আমাদের এই সমাজের জন্য, আমাদের সংস্কৃতির জন্য যে কাজ করেন, সেটি তুলনারহিত। এই রকম মানুষ আমার আর তাৎক্ষণিকভাবে মনে পড়ে না।

এই অসামান্য মহিলা, আমাদের সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তিনি ছোটবেলা থেকে ডানপিটে হওয়ার চেষ্টা করতেন, গাছে চড়ার চেষ্টা করতেন (এই লাইনটা রেজা ভাইয়ের জন্য লিখা)। সে জন্যই এই মহীয়সী নারীকে, ব্যতিক্রমী নারীকে, অসম্ভব নিপুণ নারীকে গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

শায়লা,আমাদের আতিক ভাই ও জাবেদ এর একমাএ আদরের ছোট বোন

- Aslamuddin Mamun

শায়লা,আমাদের আতিক ভাই ও জাবেদ এর একমাএ আদরের ছোট বোন।এখন আদর আগের মত আছে কি না জানি না,সেটা ওরাই ভাল বলতে পারবে।

এই পেজের মাধ্যমে এখন আমাদের ও আদরের বোন।

পেজে সব সময় সরব তার উপস্হিতি।কলোনীতে মনে হয় আমি তারে চিনতাম না,সে ও আমাদের কে মনে হয় চিনবে না।এই পেজের মাধ্যমে তার সাথে আমাদের পরিচিতি ও তার সকলকে আপন করে নেওয়া।

আড্ডাতে শায়লার সাথে আমার তেমন কথা হয়নি।বিদায়ের সময় তার ছেলে ও বর সহ অডিটোরিয়াম এর সামনে কথা হয়,এবং তার বরের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।তার বরটা খুব ভাল মানুষ।

শায়লাকে নিয়ে লিখার কারণ সে বলে সে সহজ সরল।এখন কতটা তা তার সাথে মিশেছে তারা বলতে পারবে।তবে তার প্রতিবাদী উওর আমরা দেখেছি এই পেজে।

সব শেষে একটা কথা বলব বোনটা পরিবার সামলিয়ে এই পেজের জন্য সময় দিচ্ছে।চাইবো সব সময় এরকম থাকিস বোইনে।আমাদের এই পেজের বন্ধনন যাতে সব সময় অটুট থাকে,সুখে- দুঃখে আমরা যেন এক থাকতে পারি।

অফিসে যেতে পারিনি আজ


সকাল থেকে আবার জ্বর, আর মুখের ভিতর যন্ত্রনা তো আছেই। অফিসে যেতে পারিনি আজ।ওয়ার্কিং ডে তে অফিস না করে ঘরে বসে থাকা আরেক যন্ত্রণাময় ব্যাপার, এটাতেই বুঝা যায় রিটায়ার্ড লোকেরা কেনো এত খিটমিট করে।

ছোট বেলায় জ্বর হলে আব্বা মাথার কাছে সময় পেলেই বসে থাকতো, চুলে হাত বুলিয়ে দিতো, বিভিন্ন রুপকথার গল্প বলত। এখন মাথার কাছে বসেননা, তবে দূর থেকে যে ছটফট করেন,সেটা বুঝি।খুব ছোট সময়ে একবার জ্বরে আব্বা কাগজী লেবু কেটে আমার মুখে একটু রস চেপে দিয়েছিল, সেই লেবুর ঘ্রান আমার মুখে এখনো লেগে আছে, এরপর থেকেই এই ছোট্ট ফল টির প্রতি আমার অসীম দুর্বলতা। এখনো জ্বর বা মাথা ব্যাথা হলে কাগজীলেবুর ঘ্রান নেই। বাসায় আজ লেবুটি নেই, যদি আব্বাকে বলি, তাহলে এই রোদেগরমে যেখান থেকে পারুক এটি যোগাড় করবে, তাই চুপ করে আছি, আর কষ্ট দিতে ইচ্ছে হচ্ছেনা। এমনিতেই আব্বা তার চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজ নিজের টা নিজেই করে। খুব কমই আমি তাঁর সাথে গিয়েছি। নিজেকে খুব অপরাধী লাগে। শরীর খারাপ হলে মন দুর্বল হয়ে যায়, তাই এতো কিছু মনে অাসছে।

সকাল থেকেই হাল্কা জ্বর ছিল


সকাল থেকেই হাল্কা জ্বর ছিল, দাঁত ফেলে আসার পর জ্বর টা বেড়েছে, একটু আগে ঘাম দিয়ে জ্বর সেরেছে, জ্বরের চেয়ে ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়াটা আমার কাছে ভয়ানক কষ্টকর। ঘুম আসছেনা এপাশ ওপাশ করছি। আচমকা জনির বুয়া নিয়ে লেখাটি মনে পড়ল। "বুয়া" ছোট্ট একটি টপিক, অথচ জনি কত সুন্দর ভাবে এটি ফুটিয়ে তুলেছে। আসলে কলোনি র যেকোন ছোট টপিক দিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর কাহিনী লেখা সম্ভব। 

কলোনিতে ঢুকার পরপরই আমরা বকুলির মা নামক একজন বুয়া পাই, তার চালচলন, আদবকায়দা দেখলেই বুঝা যেত গৃহস্থ ঘরের মহিলা,ভোলার নদি ভাংগার শিকার হয়ে বুয়া গিরি করা লাগছে, প্রায় সময় তার কাছে খালি বাসার চাবি দিয়ে রাখতাম, বুয়া তালা খুলে নিজের মত করে কাজ করে চলে যেত। এতোটাই বিশ্বস্ত ছিলো। আমরা তাকে ফ্যামিলি মেম্বার মনে করতাম, আমাদের তিন ভাই বোন কে তিনি তুই করে সম্বোধন করত।বুয়ার স্বামী খুব সম্ভব ত ভ্যান বা ঠেলাগাড়ি চালাতো, তবে সসবসময় ফিটফাট থাকতো। আমি যে রাজনীতিক মতাদর্শ বিশ্বাস করতাম বুয়ার স্বামী ও একই মতাদর্শ বিশ্বাস করত, মাঝেমধ্যে এই লোক আমার সাথে রাজনীতি নিয়ে ব্যাপক জ্ঞানগভীর আলোচনা করত,আমি তার রাজনীতি সচেতনতায় বেশ চমৎকৃত হতাম এটা ভেবে একজন অশিক্ষিত সাধারণ লোক কিভাবে এতো কিছু বুঝে।

যেদিন কলোনি ছেড়ে চলে আসি সেদিন নাকি এই বকুলির মা বিলাপ করে মরা কান্না জুড়ে দিয়েছিল, তার কান্নাতে আশেপাশে অনেকের চোখ ভিজে উঠেছিল সেদিন, ভাগ্যিস এ জিনিস আমি দেখেনি, আমি সকালবেলা ই মালপত্র নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। এসব কান্না আমার সহ্য হয়না।

আব্বা চলে যাবার পর পেইজে তেমন একটা লেখা হয়না


আব্বা চলে যাবার পর পেইজে তেমন একটা লেখা হয়না। সবসময় মন একরকম থাকেনা। তবে টুকিটাকি লিখি আর কি। আমার আজকের লেখাটা Aslamuddin Mamun কে নিয়ে। আমি শুরু থেকেই বলে আসছি যে কলোনিতে বেশিদিন ছিলাম না,সবাইকে চিনিও না। পেইজের মাধ্যমে পরিচয়। আড্ডার আগে পরে অনেকের সাথে দেখা,পরিচয় কথা হয়েছে। এই পেইজের সবাই আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। আজ মামুন কে নিয়ে লিখতে ইচ্ছা হল। আড্ডার আগের রাতে দেখেছি ওর প্রাণোচ্ছল ব্যস্ততা, আড্ডার দিন পুরা খেলার ইভেন্ট টা ও একা পরিচালনা করেছে। একটু পর পর বিজয়ী বাচ্চাগুলাকে মঞ্চের কাছে এনেছে আর আমি আর তানিয়া নাম ঘোষনা করেছি। অসাধারণ। ইদানীং হয়ত বেশি খেয়াল করছি তাই লিখছি। এই পেইজের প্রতিটা সদস্যের জন্মদিন,কারো মৃত্যুর মত কঠিন খবরগুলাও আগে পোস্ট করে দিচ্ছে। আমি আপ্লুত একারনে যে আমার আব্বার চলে যাবার পোস্টটা সেও দিয়েছে আতিকের সাথে সাথেই। ভাই মামুন ভাল কাজের কোন সংজ্ঞা নেই। তুই ক্লিয়ার মন নিয়ে যা করবি তাই ভাল। তুই সেই কাজটাই করছিস। ধন্যবাদ দেবোনা। আমার অন্তর থেকে দোয়া থাকলো আল্লাহ তোর প্রতিটা ভাল কাজের সুফল দিন আর আমরা যেন তোর কাজের মুল্যায়ন করতে পারি। আমি এখন নেত্রকোনায়। আমার আব্বার বাসায়। অনেক কিছুর সাথে এটাও মনে হল। শুধুমাত্র দোয়া দিতেই এই লেখা। অনেক ভাল থাক,আল্লাহ অনেক ভাল রাখুন তোকে।

Sunday, March 27, 2016

বাবা


বাবা শব্দটা শুনলে বুকটা যেন কেমন করে উঠে।।চোখের সামনে ভেসে উঠে অনেক অনেক স্মৃতি।।কানে বেজে উঠে বাবার ভালবাসার এবং শাসনের কন্ঠস্বর।।আজ বাবাকে খুব মনে পড়ছে!!কেন জানিনা।।তবে বেশি যেটা মনে পড়ছে তা হলো বাবার পরিশ্রম,,ত্যাগ আর ভালবাসা।।আগেও কোথায় যেন বলেছিলাম""বাবা আমাদের দু'ভাইকে কখনও শাসন করেনি।।স্বাধীনতা দিয়ে মানুষ করেছিলেন।।তবে বাবাকে প্রচন্ড ভয় পেতাম।।তবে সেটা ছিল শ্রদ্ধা জনিত ভয়।।কোন দিন বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতাম না।।আজ পর্যন্ত না।।আমাদের দু'ভাইয়ের চাওয়া পাওয়া গুলো বাবা আপ্রান চেষ্টা করতেন পূরন করতে।।

""বাবার ভালোবাসা""

বাবা আমাকে প্রায়ই গোসল করিয়ে দিতেন।।যদিও খুব বিরক্ত লাগতো তখন তবে এই বয়সে এসে খুবই মিস করি।।যেটা এখন আমি আমার সন্তানের সাথে করি।।

বাবা ভালো খাবারটা কখনওই খেত না।।মা পাতে দিলে তুলে রাখতেন,,বলতেন লিটনকে দিও।।যেমন:-আম।।বাবা আমের বাড়াটা খেত আমাকে দু'পাশের অংশটা মায়ের আড়ালে চুরি করে খাইয়ে দিতো।।এখন আমি যেটা আমার সন্তানের সাথে করি আর বাবা তখনি আমার চোখের সামনে হাজির হয়।।

থ্রী ব্রাদার্স


আশির দশকের শেষ দিকে চিটগাং নিউমার্কেটে একটা খাবারের দোকান ছিল। নাম ছিল থ্রী ব্রাদার্স পরবর্তীতে থ্রী বেগার্স বর্তমানে থ্রী ব্রাদার্স শাড়ির দোকান। ওই সময়ে যারা কলেজে পড়ালেখা করতো তারা বিশেষ করে ছেলেরা কম বেশী সবাই জানতো। জানতো কি করে পেট ভরে খেয়ে অল্প টাকা দিয়ে পার পাওযা যায়। আমি তখন ক্লাস টেনে পড়ি। কলনির এক ভাইয়ের সাথে মার্কেটে গেলাম। উদ্দেশ্য ঘুরাঘুরি করা। ও তখন ফার্ষ্ট ইয়ারে পড়ে। ঘুরাঘুরি শেষ। ২.৩০ টা বেজে গেছে। সাড়ে তিনটায় কলেজ বাস। আরও এক ঘন্টা সময় হাতে আছে। ক্ষিধাও লাগছে। ওরে বললাম ওডা ভোগ লাইগ্গে। ও বললো ভোগ লাইগ্গেনা চল তোরে লই এক জাগাত যাইয়ুম। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম টাকা আছে নাকি। সে বললো যে টাকা আছে তাতে মুটামুটি পেট ভরবে। 

তারপর নিয়ে গেলো থ্রী ব্রাদার্সে। আমি নিচে বসতে চাইলাম। ও বললো চল দোতলায় বসি। আমি তখনো কিছু বুঝি নাই। আমারে বললো কি খাবি? যে কোন একটা হলে চলবে। ও বললো আলুর চপ খেলে মোটামুটি ঘন্টাখানেক থাকা যাবে। আমিও সায় দিলাম। তারপরে দুইটা আলুর চপ আর দুইকাপ চায়ের অর্ডার দিল। যথারীতি আলুর চপ শেষ করে চা খেলাম। তারপর ও বয় ডাক দিল এবং ওকে পাঁচ টাকা দিয়ে বললো বিল নিয়ে এসো। বয় বিল নিয়ে আসলো। বিল দেখেতো আমি অবাক। মাত্র দুইটা চায়ের বিল!! আমি প্রতিবাদ করতে চাইলাম। ও আমার হাতে চাপ দিয়ে বললো চুপ থাক। আমি চুপ করে পেছনে দাঁড়িয়ে। ও ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে সাবলীল ভাবে বিল দিলো। বিল দিয়ে আমরা বের হলাম থেকে। হোটলের ম্যানেজারও বুঝতে পারলো না। হোটেল থেকে বের হয়ে ওকে জিজ্ঞাসা এইটা কি হইলো? স্বাভাবিক ভাবে উত্তর দিয়ে বললো এইটা কোন ব্যাপার না। পরে অনেক জনের কাছে শুনলাম এই রকম কাজ তারা প্রায়ই করে। এক সময় হোটেলটা বন্ধ হয়ে গেলো। সবার কি আফসোস!!

কাল নাকি হরতাল শুনলাম


কাল নাকি হরতাল শুনলাম, হরতাল হোক আর গাছের তালই হোক অফিস আমার খোলা। অফিস কোন মাফ নাই।

তবে অফিস খোলা থাকলেই ভালো, বউ নামক যন্ত্রনার বকবকানি হেকে রেহাই পাওয়া যায়। ( সব পুরুষেরই কিন্ত একই মত, কেউ প্রকাশ করেনা, আমি প্রকাশ করি, ডিফারেন্স এটাই)। যদিও গত চার পাঁচদিন ধরে এই যন্ত্রনার সাথে কোন বাতচিত নাই (আলহামদুলিল্লাহ), বাংলাদেশ ভারতের কাছে ১ রানে হারার পর রাগের মাথায় বউরে কি জানি কইছিলাম, তারপর থেকে ই বাক্যালাপ বন্ধ। বাংলাদেশ হারার সবচেয়ে বড় বেনিফিট বোধ হয় এটা। কথা বন্ধ হলে কি হবে, পোলারে দাঁতের ডাক্তার দেখাইতে নিয়া সু কৌশলে বউ কেমনে জানি অই খানে ডাক্তার ব্যাটার ছুড়ি প্লাসের তলে আমারে শুয়াইয়া দিছে, আজ তিন দিন ধইরা ডাক্তার ব্যাটা আমার দাঁত লইয়া ঘটর ঘটর করতাছে,। দেখাইতে গেল পোলারে ডাক্তার আর বাটে ফালাইলো আমারে, অথচ আজ চার পাঁচদিন ধরে এই মহিলার লগে আমার কোন বাক্যালাপ নাই।

এ জন্যই আমি বারবার কই 
" বিয়া করছো তো মরছো"।

মামুন এর পিড়াপিড়িতে লিখতে চেস্টা করা


সত্য ঘটনাঃ
১৯৮৬ কী ১৯৮৭ সালের ঘটনা,তখন আমরা বন্ধুরা সব সময় কারো না কারো বাসায় খেলা দেখা বা ছায়াছন্দ দেখা এক জনের বাসায় করতাম।তো একদিন সবাই হইতো ছায়াছন্দ দেকছিলাম এমন সময় কারেন্ট চলে গেল কী আর করা,বসে আছি,কিন্তু যাদের বাসায় টেলেভিশন দেকছি তাদের বাসায় মেহ্মান এসেছে,তাই আমরা ঠিক করলাম আমরা এখন স্কুল এর পেছনে যাবো খেলতে, তখন খেলা আর খেলা আমাদের বন্ধুরা অন্য কাজে সময় খুব কম দিতাম।

মুল ঘটনা হল, আমরা সবাই যে বন্ধুর বাসায় তেলেভিশন দেখছিলাম সেই বন্ধু বাসায় রয়ে গেল কারন ওদের বাসায় মেহমান এসেছে,তার ঠিক আধ

একটা সময় সিড়ির জানালার


একটা সময় সিড়ির জানালার ( সি টাইপে)বৈদ্যুতিক বালব আর সিঁড়ি র কাঁচ অপারেশন এ আমরা একেকজন "এন এক্সপার্ট হেডমাস্টার" হয়ে উঠি, কাঁচ খুলার জন্য কোমরে সবসময় প্লাস গুঁজে রাখতাম, ফাঁক পেলেই ১ মিনিটের মধ্যেই কাঁচ খুলে ফেলেছি। দেখা যেত কোন সিঁড়ি র জানালায় মাত্র কাঁচ লাগাচ্ছে আর আমরা তক্ক্কেতক্কে থাকতাম, কাঁচ লাগিয়ে যাওয়া মাত্র সে কাঁচ নিমিষেই উধাও করে দিতাম। স্টিল মিল মেইন গেটের পাশের একটি ছবি বাঁধাই র দোকানে মোটামুটি ভাল দামেই বিক্রি করতাম, পরে সাপ্লাই বেশি দেওয়াতে দাম পড়ে যায়, তাই এ বানিজ্য ছেড়ে দেই।

এবার আসি বৈদ্যুতিক বালবের অপারেশনে এটাও শুধু সি টাইপে চলত, আমাদের অপারেশনের কারনে প্রায় সিড়ি সবসময় অন্ধকার থাকতো, এমনকি নিজেদের বিল্ডিং এতএত সিঁড়ির বালব ও আমাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।

৯২ সালে আমরা ইস্পাত ক্রিকেট ক্লাব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন জুনিয়র ক্রিকেট লীগে অংশ নেই


৯২ সালে আমরা ইস্পাত ক্রিকেট ক্লাব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন জুনিয়র ক্রিকেট লীগে অংশ নেই। গ্রুপ পর্যায়ে প্রথম খেলায় খুব সহজেই আমরা জয়ী হই, তবে যাদের বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছিলাম সেই টিমের নাম এই মুহুর্তে মনে পড়ছেনা। গ্রুপের ২য় ম্যাচ টি ছিলো আগ্রাবাদ সোনালী সংঘের সাথে, টিম টি খুব শক্তিশালী টিম ছিলো, আবার এই টিমের সাথে আয়োজক দের খুব দহরমমহরম সম্পর্ক ছিলো, ঠিক যেমন আইসিসি আর ইন্ডিয়ার সম্পর্ক যেমন। খেলা ছিলো দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে, খেলার দিন খুব সকালে মাঠে চলে যাই, কিন্তু কিছুক্ষন পরেই ঝুম বৃষ্টি, পুরা মাঠ পানিতে থৈ থৈ, আমরা খেলা হবেনা ভেবে লাঞ্চের জন্য আনা সব খাবার খেয়ে শেষ করে ফেলেছি। উমা কিছুক্ষণ পর দেখি ঝকঝক রোদ আর মাঠ শুকিয়ে পুরা খটখট হয়ে আছে আসলে ঐ মাঠের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা খুবই ভালো ছিল। যাক যথাসময় খেলা শুরু হলো, এবং যথারীতি আমাদের হার, অবশ্য ঐ টীম আয়োজক ও আম্পায়ার এর ভালো বদান্যতা পেয়েছিল। এর মধ্যে এক আম্পায়ার ছিল স্টিল মিল টিমের গোল কিপার তপন ঐ ব্যাটাও আমাদের বিপক্ষে নির্দয় ভাবে ডিসিশন দিছে।

ডিসেম্বর মাস শেষে নানা বাড়ি না হলে দাদা বাড়ী যাওয়া হতো


ডিসেম্বর মাস শেষে নানা বাড়ি না হলে দাদা বাড়ী যাওয়া হতো,৮৮/৮৯ সাল আব্বা একবার আমাদের কে দাদা বাড়ি দিয়ে আসলো ১০/১২দিন পর আবার এসে নিয়ে যাবে তখন আমাদের নতুন বাড়ি তৈরী হচেছ,খাট ছিল একটা কোন তোশোক নেই কাথা বিছিয়ে তোশোক বানানো হতো, বালিশ ও ছিল চারটা,ইলেট্রিকসিটি লাইন নেয়া হয় নি বাড়িতে শুধু দাদী একলা থাকতো,আমরা বাড়ি যাওয়াতে আব্বা দাদিকে চিটাগাং নিয়ে আসলো পাহাড়তলি আমবাগান,জেঠার বাসায় চিকিৎসা করাতে, আমাদের বাড়িতে প্রচুর আম, নারিকেল গাছ ছিল গ্রামের শেষ সিমানায় ছিল আমাদের বাড়ি রাস্তা পাশে,আমি আবার রাতে শোয়ার সময় দুইটা বালিশ ছাড়া শুতে পারতাম না,এই নিয়ে আম্মার সাথে প্রতিদিন ঘানর ঘানর করতাম,বালিশ ছিল চারটা আমরা দুই ভাই একবোন আর আম্মা চারটা হয়ে যেতো, কিন্তুু আমার যে আর একটা বালিশ লাগে,ছোট ভাই রকিবুল তখন ৮/৯ বছরের একদিন শোয়ার পর ছোট ভাইয়ের মাথা থেকে বালিশটা টান দিলাম জোরে এতে বকিবুলের মাথা জোরে খাটের তত্তা মধ্যে বারি লাগলো রকিবুল তো কান্না শুরু করে দিল,আম্মা আমাকে বাড়ি থেকে বাহির করে দরজা লাগিয়ে দিল তখন রাত মনে হয় নয়টা কি সাড়ে নয়টা শীতের রাত,আমি ও অনেক সময় বাসার সামনে দাড়িয়ে রইলাম মনে করছি দরজা খুলবে,দরজা না খুলাতে শেষ মেষ উঠানের মধ্যে একটা আম গাছে উঠে বসে রইলাম,ডালটা বেশি উচুতে না ভয়ও লাগতাসে কি করবো,হঠাৎ দেখি একটা টচ লাইট এর আলো এদিক ওদিক জলতাসে আর আমাদের বাড়ির পাশে রাস্তা দিকে আলো টা আসতাছে, আমি তো চুপচাপ গাছে বসে আছি, লাইটের আলো গাছের মধ্যে আমার শরীরের মধ্যে পড়লো,আর তো লাইট ওয়ালা চিৎকার শুরু করে দিল এই কে গাছে লাইট মারতাছে আমার শরীরে আমি তো আরো ভয় পেয়ে গেলাম,আমি মিন মিন গলাতে বলি আমি তার চিৎকার শুনে আর দুএকজন আশেপাশের বাড়ি থেকে বাহির হয়ে আগাইয়া আসলো গাছ থেকে নামাইয়া রুমে দিয়ে আসলো,এতো অল্প বয়সে এতো সাহস কি ভাবে পেলাম এখন বুঝতাসি জিদ টা ই সাহস জোগাইছে তাইনা

হাত ঘড়ি কান্ড


দুপুর বেলায় সবসময় যে আমরা খেলতে বের হতাম তা না।মাঝে মাঝে কোন মেহমান আসলে তখন বের হয়ে যেতাম।কারন মেহমান আসা মানেই ঘর ভরা মানুষ,আওয়াজ ইত্যাদি ইত্যাদি।
একবার আমাদের বাসায় এক মেহমান এলেন।সম্ভবত আমার ছোট মামা।উনি উনার হাত ঘড়ি খুলে রেখে ওয়াশরুমে গেলেন। আমি ঘড়ি টা হাতে নিয়ে দেখতে দেখতে একসময় বের হয়ে গেলাম
।লিংকন কে সাথে নিয়ে সামনে গিয়ে কি যেন দেখছি।এমন সময় দেখলাম,পকেট এ ঘড়ি নাই।পাশে মিষ্টি দের বিল্ডিং এর ছায়ায় বসে গল্প করছিল বিল্লাল,আমাদের তখনকার বুয়া বকুলের মায়ের ছোট ছেলে। আমি জিজ্ঞেস করলাম,
বিল্লাল,তুমি কি একটা ঘড়ি পাইছ?
বিল্লাল মাথা নাড়ল,না সূচক।
আমার একটা ঘড়ি পড়ে গেছে,দেখছ?
না, বিল্লাল বলল।
আমি আর লিংকন এদিক ওদিক খুজে পেলাম না।বাসায় চলে গেলাম।বিকালে শান্তিমত খেলতে পারলাম না।তখন পর্যন্ত মেহমানের ঘড়ির খবর নাই।মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ করছি।সন্ধ্যার পরে ঘড়ি খোজা শুরু হল।আমি জানি না বলে সরে পড়লাম।রাতে পাশের বাসার মাসুদকে নিয়ে নামাজ পড়তে গেলাম।খুব করে আল্লাহ কে ডাকলাম।বাসায় এসে দেখি হুলস্থুল অবস্থা। বুয়া আসছে।আমার বোন বলছে, ঘড়ি হারায়ে আল্লাহ কে ডাকতে গেছিলা।বুয়া সব বলে দিছে।আমি ত থ।

Saturday, March 26, 2016

আজ বহু দিন পর আমি, লিটন আর মনিরুল নারায়নগঞ্জে একসাথে হয়ছিলাম


আজ বহু দিন পর আমি, লিটন আর মনিরুল নারায়নগঞ্জে একসাথে হয়ছিলাম, দুপুর থেকে বিকাল পর্য্যন্ত অনেক জায়গায় ঘুরলাম, অনেক আড্ডা দিলাম, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক কথা বার্তা হল। বিশেষ করে আমাদের ঔষুধ বিক্রির কাহিনী নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, ঔষধ বানিজ্যের ক্ষেত্রে মনিরুল ছিলো ওস্তাদ মানুষ। আমরা প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে, দরকারে বেদরকারে স্টিল মিলের হাসপাতালের ডাক্তারের কাছ থেকে ঔষধ লিখিয়ে নিয়ে সে ঔষধ এ.কে ফার্মেসী তে বিক্রয় করে দিতাম। আর মনিরুল তার গুণাবলী দিয়ে ডাক্তার সাহেব এর কাছ থেকে তার (মনিরুলের) মন মত ঔষধ লিখিয়ে নিতো, আর এ ক্ষেত্রে তার প্রিয় ঔষধ ছিলো গ্রাইসোভিন নামক একটি ক্যাপ্সুল। যেটি চর্ম রোগের ঔষধ ছিলো আর প্রতিটি ক্যাপসুল এর দাম ছিল ৪ টাকা করে। আর অফিস টাইম শেষে হাসপাতালের ইমার্জেন্সী থেকে ঔষধ তোলা ছিল আমাদের নিয়মিত ঘটনা। মরহুম সিদ্দিক কাকা (বন্ধু রাজুর বাবা) আমাদের আকাম বুঝতে পেরে ইমার্জেন্সি তে আমাদের ঔষধ দেয়া বন্ধ করে দেন। সে জায়গায় আমাদের শেষ ভরসা ছিল বড়ুয়া বাবু নামে একজন। তবে ঔষধ বিক্রির অর্জিত টাকা আমরা কখনো বিপথে খরচ করিনি, হোটেল খাজা আজমির, এক টিক্কা হোটেলে (চায়ের দাম এক টাকা ছিল বলে এক টিক্কা হোটেল) নাস্তা, বিড়ি সিগারেট আর মাঝে মাঝে সিনেমা দেখায় এ টাকা ব্যয় হতো। 

আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি


বুঝলি বাবা, এই বড় বড় সরপুঁটি মাছ, কেবল পাতে নিছি আর তখনি ঠা ঠা গুলির আওয়াজ। আহারে সাধের মাছ ফালায় থুইয়া, যে যার জান নিয়া দৌড়। না, এই শালাদের, এই দেশ থেকে না তাড়ালে, এই মজার মাছ খাওয়া যাবেনা। যুদ্ধেই যামু। আর বাড়ি ফিরি নাই। কায়ছার চাচা আমার, যুদ্ধে গেল। এই দেশ স্বাধীন করার জন্য। সামনা/সামনি সে অনেক যুদ্ধ করেছে, পাক সেনাদের সাথে। অসিম সাহসি একজন মানুষ। অনেক গভীর আবেগ নিয়ে, সে মুক্তিযুদ্ধের গল্প করে। অনেক সময় মজা করে বলি, চাচা তুমি মাছ খাওয়ার জন্য যুদ্ধে গিয়েছিলে!? মিট মিট করে হাসে। বড় গভীর সে হাসি। যুদ্ধটা দরকার ছিলোরে বাবা। কি মিল আছে, আমাদের সাথে, ওদের!!?? না সংস্কৃতি, না ভাষা, না আদব কায়দা!!!?? শুধু আমাদের শোষন করেছে। তাই যুদ্ধ করেছি, যা ভাগ শালারা, আমাদের কে, আমাদের মত করে থাকতে দে। চাচার কানের লতিটা নাই। অল্পের জন্য গুলিটা অন্য যায়গায় লাগেনি। আলতো করে ছুঁয়ে গেছে, কানের নিচটাতে। চাচা তুমি কি খুশি, এই দেশ সাধীন করে?? আবারো সেই মিট/মিট করে হাসি!! সাধীন হয়েছে বলেই, আজ এই কথা, আমাকে জিজ্ঞাসা করতে পারছিস। গোলামরা শুধু জি হুজুর, জি হুজুর করে যায়, ভালো মন্দ বুঝার ক্ষমতা তাদের নাই। সাধীন দেশ, আমরা সাধিন, এর চেয়ে আনন্দ আর কি আছেরে??? চোখে পানি চলে আসে, কায়সার চাচা যখন দেশ নিয়ে কথা বলে। 

বিজ্ঞাপন বাহার


অনুষ্ঠানের বা নাটকের ফাঁকে বিজ্ঞাপন দেখলে আমরা সবাই বিরক্ত হই।অথচ একসময় এই বিজ্ঞাপন ছিল টিভির প্রান।আতিক ভাইকে মাঝে মাঝে দেখা যায় পুরনো দিনের জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন গুলো শেয়ার করতে।দেখলে ইচ্ছা করে সেই দিনগুলোতে ফিরে যাই।জানি সেটা কোনদিন সম্ভব নয়। 

তবে কলোনি তে থাকতে আমার একটা বাজে অভ্যাস ছিল। দোকানে বিভিন্ন পন্যের যে ঝোলানো কাগুজে বিজ্ঞাপন গুলো থাকত,সেগুলো আমি তাদের কাছ থেকে চেয়ে নিতাম।প্রথমে কেউ দিতে চাইত না।কোম্পানি র অজুহাতে না করে দিত।পরে যখন বোঝাতে পারলাম যে এটা আমার শখ,আস্তে আস্তে দেয়া শুরু করল।যেমন লাইফবয় প্লাসের বিজ্ঞাপন টা ইউনুস ভাই থেকে,লাক্সের টা বেলাল ভাই, পেপস ক্লোভের টা জেক্সের শাহনুর ভাই থেকে, জুহির ডাবুর আমলা কামাল দের দোকান থেকে, জেনিসল টা ইলিয়াস সওদাগর এর দোকান থেকে। এভাবে কলোনি আর কলোনি র বাইরে পরিচিত দোকান থেকে নিতাম।

এই কাগুজে বিজ্ঞাপন এর সাথে কলোনি র সুন্দর আবহের একটা দারুন বিষয় মিশে গিয়েছিল।জেক্সের বুড়া আংকেল এগুলো দিতে চাইতেন না।কিন্তু মাহামুদ আর শাহনুর ভাই দিতেন। বেলাল ভাই আর ইউনুস ভাই কোন কিছু না বলেই দিতেন।

কবি সুভাষ চট্টপধ্যায় লিখেছিলেন-ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত


কবি সুভাষ চট্টপধ্যায় লিখেছিলেন-ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত। তাকে শ্রদ্ধা জানাই। কারণ বসন্ত আসার জন্য তিনি কোন ফুলের জন্য অপেক্ষা করেন নি। বসন্ত তার আপন ইচ্ছায় এসে সময় মতো চলেও যাবে। কিন্ত আজকাল তা হবার উপায় নেই। বসন্ত আসার আগে বুটীক দোকান গুলো হলুদ শাড়লি পসরা সাজাবে। কিশোরী তরুনীরা লাল হলুদ পোষাক পরে চুলে, হাতে গলায় লাল হলুদ ফুলের মালা পরবে তবেই না বসন্ত এসে পৌছাবে। তার আগে বসন্ত আসা চলবে না। একই ভাবে, পহেলা বৈশাখ আসতে হলেও বিরাট আয়োজন। তা নববর্ষ বলে কথা-একটু আয়োজন তো লাগেই। লাল পাড় সাদা শাড়ী, পায়জামা পাঞ্জাবী, পান্তাভাত না হলে বৈশাখ ঠিক জুতসই ভাবে এসে পৌছাতে পারে না। আমরা যারা অর্ধশাতাবব্দী বয়স পেরিয়ে এসেছি তাদের কাছে ব্যাপারগুলো কেমন যেন আরোপিত মনে হয়। এই ইট কাঠের জীবনে, সাফল্য আর অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগীতার প্রকৃত ফুল গাছ চেনার সময় কই? পুরো ব্যাপারটাই বাণিজ্যিক আর বিপনন। তাইতো বুঝে না বুঝে কী ভয়ানক ভুল শেখাচ্ছি পরবর্তী প্রজন্মকে।

স্বাধীনতা দিবসের সেই সময়,এই সময়


কলোনি তে স্বাধীনতা দিবস মানে ২৬ মার্চ এর দিন মানে ছিল খুব সকালে স্কুল মাঠে এক হওয়া,লাইন ধরে মেইন অফিসের সামনে যাওয়া, ফুল দেয়া,জিলাপি নিয়ে বাসায় ফেরা।তারপর দূর থেকে দেশাত্মবোধক গান মাইকে ভেসে আসা।সেটা সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা কিংবা শাহনাজ রহমত উল্লাহ এর হতে পারে। সারাদিন কলোনি তে উৎসব ভাব বিরাজ করত। কেউ মেলায় যেত,কেউ বা পতেংগা বিচে দল বেধে।টিভিতে দেখানো হত অনেক যত্ন করে বানানো মুক্তিযুদ্ধ এর নাটক। এসব দেখে নিজের মধ্যে কিছুটা দেশের প্রতি ভালবাসা অনূভুত হত।মনে পড়ে একবার,আমি স্বাধীনতা দিবসের র‍্যালির পিছনে হাটছি,রিনি জানালা দিয়ে বলছে," জনি চলে আসো,আজকে জিলাপি দিবে না"।

আর এখন স্বাধীনতা দিবস পেয়েছে পোষাকি রুপ।স্কুল গুলো বাচ্চাদের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে,সেখানে নির্দিষ্ট রং এর পোষাক পড়ে যাওয়া।কনসার্ট এর আয়োজন হয়। ফ্যাশন হাউজ গুলো দেশপ্রেমের নামে ব্যবসা করতে চায়।টিভি চ্যানেল গুলো স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নানা কিছুর আয়োজন করে।সব খানেই লোক দেখানো বিষয় টা বড় হয়ে দাড়ায়,প্রাণের ছোয়া খুবই কম।

রেজা ভাই ও সিগারেট


যখন থেকে বুজতে শিখেছি ধুম পানে বিষপান তখন থেকেই দেখেছি আমার পছন্দের সব বড় ভাই গুলা এই নেশাতে আশক্ত। খুব খারাপ লাগতো, শুধু ভাবতাম কেনো উনারা এই খারাপ কাজটা করে?

রেজা ভাই, বাবাকে খুব সন্মান করতেন, একদিন বাবা আর আমি সিঁড়ি বেয়ে নামছি, বাজারে যাব, রেজা ভাই সিড়ির চিপায় দারিয়ে.... ফুঁকছিল আর খুব সম্ভব জসীম ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছিল, তো টান টা যেই দিয়েছে ঠিক তখনি বাবা আর আমি উনার সামনে, উনি জাস্ট মুখটা ফুলিয়ে সোজা হয়ে পাথরের মতো দারিয়ে থাকলেন, বাবা বুজতে পেরে তাড়াতাড়ি ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেন। আমিতো অবাক, কিরে, ভাই আজকে বাবাকে সালাম দিলনা আর বাবাও কিছু বললোনা? এমন ভাব যেন কেউ কাউকে চিনে না, মাথার মধ্যে শুধু???? ঘুরতে লাগলো, বাবাকে বললাম ওখানেতো রেজা ভাই ছিল, বাবা বললো তো? তুমি কথা বললে না যে? বাবা হেসে বললেন আমি কথা বললে সে আরও লজ্জা পেতো, আমি বললাম কেন? উনি বললেন তুই বুজবি না বড় হলে বুজবি, তার কিছুদিন পর বাশায় সব বড় ভাইদের আড্ডায় ব্যাপারটা বুজলাম।

রিনিসহ যারা আমাকে চিনতে পার না তাদের জন্য


রিনিসহ যারা আমাকে চিনতে পার না তাদের জন্য
আমি এত্ত বুড়া, এত্ত বুড়া,, এত্ত বুড়া যে----
নতুন করে পরিচয় দিতে হয়।
তবু ভালো লাগে ভাবতে---
" ---আমি তোমাদেরই লোক "
" ---আমরা আমরাইতো "
বলছি শোন--
৭২ সালে ' ইস্পাত কারখানা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ' যখন যাত্রা শুরু করে তখন আমি কলেজিয়েট স্কুল থেকে TC নিয়ে ঐ স্কুলে ভরতি হই।
৭৫ সালে স্কুলের ১ম ব্যাচের ছাত্র হিসাবে SSC পাশ করি।
হাফিজা,লিয়াকত,হালিম,সাদিয়া, সুফিয়া আর হোরায়্ররা- আমরা সাত ভাই বোন। আশা করি অনেকেই এখন চিনতে পারবে।
আমরা প্রথমে ই- টাইপে ছিলাম পরে সম্ভবত C-4/B তে থাকতাম। 
৯০ তে আব্বা অবসরে যান।
আর কয়েক বছর পর আমারও যাবার সময় চলে আসবে।
জীবনটা এতো ছোট কেন?

Friday, March 25, 2016

ঢাকার আবিয়াইত্তা (অবিবাহিত) সিএসএম এর পোলাপাইন


ঢাকার আবিয়াইত্তা (অবিবাহিত) সিএসএম এর পোলাপাইন - মাইয়াডি বিয়া করেনা ক্যারে? গার্ডিয়ানরা একটু সদয় অইলেই কিন্তু সব অইয়া যায়। তাইলেতো বিয়ার দাওয়াতের উসিলায় সবাই মিইল্লা একটা আড্ডাবাজী অইয়া যাইতো যেমনডা অইছে নাজিম কিংবা রিয়াদের (রনির ভাই) বিয়াতে।

আসলেই আর ভাল্লাগছে না। সবাই মিলে যে কোন উসিলায় একসাথে হতে মন চাইছে। চিটাগাংয়ে নাজিমের বিয়েতে যাবো বলে মনে মনে স্থির করেছিলাম। নাজিম ওর বিয়ের কার্ডটাই আমাকে ইনবক্স করে অনেক রিকোয়েস্ট করেছিল। কিন্তু যাওয়াও হলোনা আর CTG CSM বাসীদের সাথে ফেল্ফিও তোলা হলোনা।

রেজা ভাই আমাদেরকে নিয়ে পিকনিক করবে বলে জানিয়ে শ্বশুর বাড়ী যেয়ে দিব্যি মোজ মাস্তি করছেন (আজ বোধ হয় চলে এসছেন)। এর মধ্যে তারিকের বাড়ীতেও একফাঁকে ঢুঁ মেরেছেন যদিও কমিটমেন্ট করেছিলেন আমাকে নিয়েই ওদিকটায় যাবেন। যাই হোক কি আর করার। এদিকে বড়াপা সবাইকে নিয়ে বাবার হাজারো স্মৃতি বুকে ধারন করে বাবার স্মৃতিময় পিত্রালয়ে গিয়েছেন। রিপন ভাই বোধহয় ওনার তারের ব্যবসা নিয়েই ব্যাস্ত মানে তারের জালে একে অপরের সাথে কমিনিউকেট করানোয় ব্যাস্ত। আর আতিক ভাই ছুটির পুরো সময়টাই ফ্যামিলিকে দেন বলেই জানি। খুব্বি ভাল। হাজারো ব্যাস্ততার মাঝে সপ্তাহের একটা দিন ফ্যামিলির জন্যই রাখা দরকার। আমার মতো ছা-পোষা মানুষরা যেটা করে আর কি।

আমরা ঢাকার বাকীরা কি তাইলে গার্ডিয়ানলেস হয়ে গেলাম????????????

দারুন দহন দিনে


খুব গরম পড়ছে।কলোনি তেও গরম পড়ত।কিন্তু গাছপালা বেশি থাকাতে সেটা কখনোই বুঝতে পারতাম না।প্রতিটা বিল্ডিং এর সামনে ছিল নানারকম গাছ,সেটা ফুলের হোক, বা ফলের কিংবা নারকেল গাছ। কয়েক বিল্ডিং পরপর টিউবওয়েল বা ওয়াসার ট্যাংকি। গলা ভেজানোরর জন্য,খেলতে খেলতে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া ছেলে মেয়েদের জন্য।সহজে কারো কোন বড় অসুখ হত না।

রাতের বেলা হলে অন্যরকম এক আবহ,নারিকেল গাছের ঝিরিঝিরি বাতাসে গরম যেন নিজের অস্তিত্ব এর জানান দিতে সাহস পেত না।নিচতলার মানিক ভাইকে দেখতাম রাতের বেলা হাটতে হাটতে পুকুরপাড় এ নারিকেল গাছের দিকে চলে যেতেন।ওখানে কাউকে পেলে গল্প করতেন।বাতাসে পুকুরের পানিতে ঢেউ খেলে যেত। বাসার দরজা জানালা খুলে ঘুমাতে কারো মানা ছিল না, চারিদিকে এক অদ্ভুত নিশ্চিন্ত নিরাপত্তায় ঘেরা।

এখন গরম কাল আসে,কিন্তু ছায়াঘেরা পরিবেশ নেই,নেই নারকেল পাতার ঝিরিঝিরি হাওয়া

সপ্তাহে বা ১৫ দিনে ১টি বাংলা সিনেমা দেখাতো বিটিভি তে


সপ্তাহে বা ১৫ দিনে ১টি বাংলা সিনেমা দেখাতো বিটিভি তে (তখন আমরা খালি টিভি ই বলতাম), রাত সাড়ে আট টা থেকে শুরু হতো মাঝখানে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন টিজ্ঞাপন দেখিয়ে রাত বারোটা পর্য্যন্ত চলত, রাত দশটার ইংরেজি সংবাদের সময় যখন সিনেমার বিরতি তখন দলবেঁধে সবাই বের হয়ে সিনেমা টির চুলচেরা বিশ্লেষণ সহ বাদবাকি কাহিনী নিয়ে ভবিষ্যৎ বানী শুরু করতাম। আর প্রতিটি সিনেমায় নির্দিষ্ট একটি সংলাপ থাকতো, যেটি পরবর্তী কয়েকটি দিন ছেলে বুড়ো সবার মুখে মুখে ফিরত।

এখন প্রযুক্তির কল্যানে সব বিনোদনই হাতের মুঠোয়, আংগুলের এক চাপে পুরো দুনিয়াটা চোখের সামনে হাজির হয়ে যায় এক নিমিষেই, তারপরও আজো খুজে ফিরি সাদাকালো যুগের সেই ভাবনাহীন, জটিলতা মুক্ত সেই স্বর্ণালী দিনগুলো, বোধ করি আজীবন খুজে ফিরতে থাকবোই।

সেইদিন


মেল্টিং সপের চিমনী আর কলোনীর পানির ট্যাংক-এদু"টো জিনিস ছিল আমাদের পরিচয়েরর প্রতীক। একেবারে রেজিটারড ট্রেড মারক করা । স্টীলারদের কেউ কি কখনো কলোনীর পানির ট্যাংক্টির উপরে উঠেছ?

মনে মনে কোন এক গোধুলি বেলায় পানির ট্যাংকের উপরে উঠে পশ্চিম দিকে তাকালে কেমন লাগতো ভাবোত দেখি। মুঠোফোনে স্ন্যাপ নিলে হয়তোবা এমন হোত :

সমুদ্রের কোলে সূর্যটা নুয়ে পড়েছে- নীল আর গোধুলীর আবীরে মাখামাখি,সামনে হয়তো সবুজ 
তরমুজের খেত, তারও সামনে নতুন কলোনির দালান, হোসেন আহম্মদ পাড়ার রাস্তা,আর একেবারে সামনে আমাদের চির চেনা কলোনি গেটের রাস্তা,তার ডানে বি-টাইপ কোয়াটার,জ্যাক্স,বামে আগ্রনী আর সোনালী ব্যাংক। ( জনতা ব্যংকটা হয়তো ফ্রেমে আসতো না)

এইদিন :
আজ বিকেলে ছুটির দিনে গিন্নীকে নিয়ে ছাদে উঠেছিলাম হাটা-হাটি করতে। হাটা শেষ করে নামার আগে গোধুলী বেলার কিছু ছবি তুলেছিলাম।
স্টীল মিল কলোনীর পানির ট্যাংক থেকে তোলা সেই কল্পিত ছবির সাথে তুলনা করে দেখতো।
স্টিল মিলের ছবিটা নিশ্চয় অনেক অনেক সুন্দর।
তাই না ???

সতত শ্রদ্ধাভাজন


ক্লাস থ্রি তে কি ফোরে।ক্লাসে এলেন শ্রদ্ধেয় মহসিন স্যার।জানতে চাইলেন,
তোদের এখন কার ক্লাস?
শিউলি আপার।
ও, খোদেজা আপার,
না,স্যার, শিউলি আপার।
ওই একই।
সেই প্রথম আমি জানলাম খোদেজা আপা আর শিউলি আপা একই ব্যক্তির দুই নাম।আপা যখন সি টাইপ ছেড়ে ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বর মাসে আমাদের বিল্ডিং এর নিচতলায় এলেন,তখন একটু ভয় পেয়েছিলাম।কারন এর আগে স্কুলের শিক্ষক আমাদের বিল্ডিং এ ছিলেন না।আপাই প্রথমে আসেন।সবসময় তটস্থ থাকতাম কোন ভুল হয়ে গেল কিনা,বেয়াদবি হয়ে গেল কিনা।কিন্তু না দেখলাম, মানুষ টা যত রাশভারী ভেবেছিলাম,তত টা না।পুরো টাই উল্টো। খুব সহজে কিছু মনে করেন না।দুশ্চিন্তা গেল কিন্তু শ্রদ্ধা বেড়ে গেল বহুগুণ। তার কয়েক বছর পর আপা হয়ে গেলেন পাশের বাসার প্রতিবেশী। মন খুলে কথা বলেন,পড়তে ভালবাসেন।আপার হাতে দেখতাম পড়ার কিছু না কিছু থাকত।সেটা পেপার হোক বা বই।ক্লাসেও ছেলেদের মারতেন না,কিন্তু বুঝিয়ে বলতেন।মাঝে মাঝে অভিমানের ছলে অনেক কথা বলতেন।বুঝতাম সেগুলো আপার মনের কথা নয়।

প্রতিদিন একটি গোলাপ


একটা সময় এসেছিল,মনে হয়েছিল সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে দূরে চলে যাই।কিন্তু না সেটা হত চরম ভুল।ইদানীং মনে হয় প্রতিদিন একটা করে লিখা দেই এই পেজে।অনেক কিছুই ত আছে।কে লাইক দিল,কে কমেন্ট করল মাথা ব্যথার বিষয় না।কিন্তু কেউ যখন অনেক স্নেহ করে কিছু বলে বা লিখে তখন কৃতজ্ঞতা জানাতে কিছু লিখি।কিন্তু ব্যস্ত সময়ের নিষ্ঠুর আঘাতে সেটা আর সম্ভব হয় না।তবুও মনেতে তার স্থায়ী আবাদ, হৃদয়ে তার নিত্য আসা যাওয়া।

সুজনের লিখার রেফারেন্স ধরে বলতে চাই,গত সপ্তাহে 
নাকি লিখার পরিমান অনেক কমে গেছে।বিষয় টা শুনতে বা পড়তে ভাল লাগেনি।তাই আবার লিখা দিয়েছিলাম।এখন ত থেকে ভাবছি প্রতিদিন চেষ্টা করব

একটা করে লিখা দিব। কত কিছুই ত আছে এই মানুষগুলোর সাথে বলার, ভাগাভাগি করার।১৪ বছর সময় টাত কম নয়।একটু পিছন ফিরে তাকালেই সোনালি দিন। তাকে ভুলি কি করে।মায়ের,ভাইয়ের,বোনের এত স্নেহ,কোথায় গেলে পাবে কেহ।হুম, আমার কাছে প্রতিদিন এই পেজে লিখা মানে শুধু লিখা নয়,প্রতিদিন একটি গোলাপ এর শুভেচ্ছা জানানো।ভাল থাকুক এই ভাল মানুষগুলো, এই কাছের মানুষগুলো, এই বড় মনের মানুষগুলো।

হাভ ভাব ভালো মনে হচ্ছে না


হাভ ভাব ভালো মনে হচ্ছে না। ভ্যানিটিব্যাগ থেকে সানগ্লাসটা বের করে, চোখে দিলেন। ঘাড় টা ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকালেন। কাজরা পার হচ্ছি, সামনেই রাজশাহী বাস স্ট্যান্ড। সারাফের বাবা, তোমার তো, ঢাকায় থাকার কোনো ইচ্ছা নেই, তাছাড়া অনেক টাকার ব্যাপার, সেটাও তোমার নেই। আল্লাহ রে, আমারে এইডি কি জিগায়!! কিছু না বলে, মতলবটা বুঝার চেস্টা করছি। তুমি তো গ্রামে থাকবে, তাই না? কেন, তুমিও থাকবে! একটাই মেয়ে আমাদের, লেখাপড়া শিখিয়ে, বিয়ে সাদি দিয়ে, আমি আর তুমি গ্রামে চলে যাবো। উনি, আমার এই কথার ধার/কাছ দিয়েও গেলেন না! আচ্ছা, রাজশাহী তে যায়গা কিনলে কেমন হয়?? বুঝলাম, বাপের বাড়ীর কাছা/কাছি চলে এসেছে। এখন ভদ্র মহিলা তার performance গুলি show করবে!!! ভালোই তো হয়। 

১৪/১৫বছর আগের ঘটনা


১৪/১৫বছর আগের ঘটনা,ঢাকা কল্যাণপুরের হালচাল পুরোপুরি আয়ত্তে মধ্যে কোনখানের পানি কোথায় ডালতে হয় মোটামুটি জানি,কল্যাণপুর একসময় বিএনপি ঘাঁটি ছিল,ব্যবসার সুবাধে সবার সাথে পরিচয় হয়েছে,কিছু সমবয়সী ছেলে পেলে সাথে ভালো সম্পক হয়ে গেলো,তার মধ্যে আবার কমিশনারের ছোট ভাইও ছিল, তার সাথে আবার আমার খাতির ভালো ছিল,তাদের বাসায় নীচতলা একরুম ভাড়া নিলাম,আমার এপ্রিল ২৯এর বেশির ভাগ দোস্তরা এই বাসায় ঘুরে গিয়াছে,তো একদিন দুপুরে দোকানে কমচারী বসিয়ে আমি বাসায় আসলাম, তখন ঢাকা শহরে পানির সমস্যা বেশি ছিল,কলে পানি নেই বাসার বাহিরে এসে দাড়ালাম,দেখি তিতাস রাসেল, মানিক দাড়িয়ে দাড়িয়ে গল্প করছ,আমি ও তাদের সাথে যোগদিলাম, হঠাৎ দেখি একটি ছাগল রাস্তারর পাশে দাড়িয়ে আছে, ছাগল টা কার জানতে চাইলাম তিতাস বললো কল্যাণপুরে আওয়ামী এর একবড় ভাই মাতবর তার ছাগল,আমি তখন বললাম ছাগলটা খেয়ে পেললে কোন সমস্যা হবে নাকি তারা সবাই বি এন পি করতো বললো না কোন সমস্যা না তখন মানিক করলো কি ছাগলটা কোলে করে সোজা আমাদের রুমের বাথরুমে তিতাস বাসা গিয়ে ধারালো একটা ছুরি নিয়ে এসে বাথরুমের ভিতর জবেহ করে দিল কোন মতে বটি দা দিয়ে ছাগল এর চামড়া ছিলে বড় একটা পলিথিনে সব নাড়ি ভুরি ময়লা সুন্দর করে রেখে দিলাম,গোশত সব আমার রুমে রুমের অবস্তা দেখে আমি তো থ,পুরা ঘর পিছলা,এখন চাল মসল্লাল দরকার সামনের রুম থেকে টাকা উঠালাম,ফ্রি বাবুচী দিয়ে রান্না শুরু করে দিলাম, মানিক রাসেল ময়লার পলিথিন রিকসা করে সোজা কল্যাণপুর খালে রাতে খেতে বসে খালি গোশত পরের দিনও ছাগলের গোশত খা খা কতো খেতে পারবি খাইলেও শেষ হয়না

আমাদের যৌবন কালে (মানে কলোনি তে) প্রেম ভালবাসা একটি নিয়মিত ব্যাপার হলেও


আমাদের যৌবন কালে (মানে কলোনি তে) প্রেম ভালবাসা একটি নিয়মিত ব্যাপার হলেও, বিষয়টি ছিলো টপ সিক্রেট, এগুলো এমন ভাবে গোপন রাখার চেষ্টা করা হতো যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর অতিগোপনীয় পরমানু কর্মসূচি, অবশ্য গোপন না রেখে উপায়ও ছিলনা, অনেকেই এই সব প্রেম কাহিনী রসিয়ে রসিয়ে অপরের সাথে গল্প করে চরম মজা পেত আর এসব শুনে রোমিও জুলিয়েটের বাপ মার চান্দি গরম হোত।আহ, তখন যদি হিন্দি সিরিয়ালের যুগ থাকতো তাহলে অই গল্পকার রা হিন্দি সিরিয়াল নিয়ে ব্যাস্ত থাকতো, পোলাপাইনের প্রেম কাহিনী নিয়া আজাইরা খাজুরা প্যাচালের সময় পাইতোনা। আফসোস!!

যাক খুশির ব্যাপার হচ্ছে csm colony তে আমরা এখন প্রেম ভালবাসা নিয়ে খোলাখুলি মতবিনিময় আলোচনা ভালোচনা ( ভালো ভালো কথাকে ভালোচনা বলে) করছি। এটা জেনে প্রেম সম্রাট আমাদের হাজি এরশাদ কাক্কু অত্যন্ত খুশি হয়েছেন।

তাকে এই পেজের অনাহারী থুক্কু অনারারী মেম্বার করার জন্য কতৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি।

Thursday, March 24, 2016

কেরামত এর মন গত এক সপ্তাহ যাবত খুবই খারাপ


কেরামত এর মন গত এক সপ্তাহ যাবত খুবই খারাপ। কেরামত নিজেকে ফেসবুকের একজন কবি ও লেখক মনে করে (গায়ে মানেনা আপনিই মোড়ল পদ্ধতিতে)। গত এক সপ্তাহ আগে-তার সহধর্মিনী তাকে বলেছে-আজ একটা হেস্ত-নেস্ত হবে-হয় ফেসবুক রাখবা না হয় আমাকে! অনেক দিন মানা করেছি শুনোনি-তোমারমত বেহায়া, নিলজ্জ ও অসভ্য আমি জীবনে দুইটা দেখিনি (শব্দ তিনটি সামাজিক জীবনে পজেটিভ অর্থেও ব্যবহার হয়-সেটা এখানে প্রযোজ্য হবে না)।
কেরামত প্রথমে ফেসবুকের কথা চিন্তা করে-ডিভোর্সের কথা ভেবে ছিল। ডিভোর্সের মধ্যে বেশ একটা মর্ডান গন্ধ আছে। কিন্ত পরে ভেবে দেখল তাতে অনেক হাঙ্গামা। আগেরমত তো সুধু তিন তালাক বললেই হবে না, রিতিমত কোর্ট কাচারী করতে হবে, উকিল মোক্তার ধরতে হবে। কিন্ত কোর্ট কাচারী, উকিল মোক্তার করতে গেলে তার অদ্ভত এক সমস্যা হয়। এই গরমে উকিল সাহেবদের কালো কোট পড়ে থাকতে দেখলেই তার শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। কিভাবে যে, উকিল সাহেবরা সহ্য করে তা উপর ওয়ালাই বলতে পারবে। সুতারং বহু চিন্তা ভাবনা করে দেখেছেন সে ঝামেলায় গিয়ে কাজ নেই। তাছাড়া বউ গেলে বউ পাওয়া যাবে। 

CSM COLONY মানে


CSM COLONY মানে
পুকুরপাড় এ দখিনা হাওয়া,
CSM COLONY মানে
দলবেঁধে স্কুলে যাওয়া।
CSM COLONY মানে
বৃষ্টির দিনে চতুর্থ ঘন্টার পর ছুটি,
CSM COLONY মানে
পাইন্না খেলায় লুটো পুটি।
CSM COLONY মানে
বি এইচ ওয়ানের মত মিলেমিশে থাকা,
CSM COLONY মানে
সিনিয়র ভাইদের আতিক চাচার বকা।

বানী চিরন্তন (এরশাদীয়)


প্রথম প্রেম দ্বিতীয় প্রেম বলে কিছু নেই, প্রেম একটি চলমান প্রক্রিয়া।
-----------হাজী এরশাদ কাক্কু

মন দিয়েছি আমি, প্রেম করেছো তুমি" এই লাইন টি নিয়ে ব্যাপক গবেষনা হতে পারে। মনে রাখবেন ক্রিকেটই জীবনের সব কিছু নয়।
..........হাজি এরশাদ কাককু।

নীরবতা মানে সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়, অনেক নীরবতা মানে বুক ভরা প্রেমের আবেগ।
---------- কবি হাজী এরশাদ কাক্কু।

বিচ্ছেদ মানেই প্রেমের সমাপ্তি নয়, বিচ্ছেদ মানে প্রেমের আরেক জ্বালাময়ী রুপ।
..............কবি আলহাজ্ব লে জে হু মু এরশাদ কাক্কু

শুধু জন্মদিনে রোমান্সের অপেক্ষা করা বোকামী,রোমান্স করতে হবে ৩৬৫ দিন।
...................হাজী এরশাদ কাক্কু।

রোমান্সের কোন নির্দিষ্ট বয়স বা স্থান নেই, খেলার মাঠ থেকে সমুদ্র সৈকত সব জায়গায় রোমান্স করা যায়।
-------------কবি এরশাদ কাক্কু।।

বর্ষাকাল কে যতই রোমান্টিক মনে হোক না কেন, এই বৃষ্টির কারনে তোমার ডেটিং মিস হওয়ার সম্ভাবনা ৮০%।
-------- কবি এরশাদ কাক্কু

প্রেম মানেই পাগলামি, যে প্রেমে পাগলামি নেই সে প্রেম গুলি বিহীন বন্দুকের মত।
---- হু মু এরশাদ কাক্কু।
প্রেমের আকাশী, লাল,নীল, সাদা কালো কোন রঙ নেই, প্রেম সবসময় কালার ব্লাইন্ড, একেবারে পানির মত স্বচ্ছ।
-------- হু মু এরশাদ কাক্কু।

যে প্রেমে কোন বাধা বিঘ্ন আসেনি সে প্রেম তো পাঁচ দিনের নিস্ফলা ক্রিকেট টেস্ট ম্যাচ। 
---------- কাকু এরশাদ।

যে প্রেমিক প্রেমে ধরা খেয়ে বাসায় ঝাড়ুর বারি খেয়েছে, সে প্রেমিকই প্রেমের সত্যিকারের স্বাদ পেয়েছে।
------------- এরশাদ কাকু।

প্রেম থাকবে বিরতিহীন, প্রেমে বিরতি মানেই পৃথিবীর লোডশেডিং।
------ আলহাজ্ব হু মু এরশাদ কাকু।

প্রেম মানেনা কোন সামরিক শাষন।
------ লে: জেনারেল আলহাজ্ব হু, মু,, এরশাদ কাকু।

ট্যাংকীর তলায় শহীদ হওয়ার চেয়ে, সিঁড়ির তলায় গাজী হয়ে বেঁচে থাকায় অনেক রোমান্স।
_---------------- আলহাজ্ব এরশাদ কাকু।

যে প্রেমিক দুপুরের ব্যাস্ত রাজপথ প্রেমিকার হাত ধরে পার হতে পেরেছে, সে প্রেমিকই প্রেমের মহত্ব জানে।
-------- এরশাদ কাকু।

যারা প্রেম করতে গিয়ে সিঁড়ির নীচে ধরা পড়ে নাই, তারা কোন দিন সত্যিকার প্রেমের মর্ম বুঝবেনা। 
---------- আলহাজ্ব হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ কাকু।

প্রেমের কোন সময় নেই, স্থান নেই, প্রেম সবসময় বহমান।
--------- আলহাজ্ব হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।

দুটো দু:স্বপ্ন আমাকে সবসময় তাড়িয়ে বেড়ায় : 
প্রেমবিহীন জীবন আর
ফেসবুকহীন স্মার্ট ফোন।
----------- পল্লীবন্ধু আলহাজ্ব হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ কাকু।

নিচের কথাটা ঠিক আছে


নিচের কথাটা ঠিক আছে।কিনতু উপরের কথাটা আমি মানতে পারছি না।কারন আমি নিজের সংসার জীবনে দেখছি আমার Husband তার বাবা আর মায়ের কি পরিমান কেয়ার নেন যা আমি লিখে বুঝাতে পারবো না। সবসময় আগে আববা আমমা সকল চাহিদার পর আমি আর আমার ছেলে।এতে আমার কোন কিছু বলার নেই।কারন আমিও জানি বাবা মা হল সবার আগে।তবও শশুরবাড়ির লোকদের বলতে শুনি ছেলেকে বিয়ে করালে সে পালটে জায়।এটা ভুল কথা। হা অনেক ছেলে কিনতু পালটায়য়।হয়তো একশ ভাগের ২০% ভাগ পাওয়া জাবে। তাই ভাই বোনদের বলছি তোমরা শশুরবাড়ির একথাটি কখনও যেন সত্য না হয় সেভাবে নিজেদের উপসথাপন করতে হবে।সব মেয়েদের এটা ভাবতে হবে জে বিয়ের শশুরবাড়ি হল আমাদের নিজের বাড়ি,শশুরবাড়ির লোকজন হল আমাদের আপনজন।একটু বেশি ফাজলামি করলাম কি।

অনেক দিন সমুদ্রের পাড়ে যাওয়া হয় নাই


অনেক দিন সমুদ্রের পাড়ে যাওয়া হয় নাই,এপ্রিল 29 এর সকলে মিলে ঠিক করলাম আগামীকাল হাউজিং কলোনীর রোড দিয়ে সমুদ্রে যাবো মোটামুটি ৮/১০জন সকালে রেডি সাথে কলসি,গ্লাস,পেপার,ঘুনা তার,পলিথিন, বল,হালকা ইমোসনাল পানীয়,যাওয়ার পথে হোটেল থেকে সিঙার চমুচা নিলাম বেশি করে,পথে তরমুজের বাগান পড়ছে মালিক আমাদের সবাইকে একসাথে দেখে একটি তরমুজ খেতে দিল,(না দিলে চুরি করে খাবো এই ভয়ে মনে হয় দিয়ে দিয়াছে)সমুদ্রে গিয়ে অনেক দাপাদাপি করলাম বল খেললাম, ইমোশনাল পানি খেয়ে কেউ কেউ বালির মধ্যে ডুব দিয়া আছে, এই করতে করতে ১টা বেজে গেলো,এখন কাকড়া ধরবো কাকড়া ধরতে যে জান বাহির হয়ে যায় ঐদিন ই বুঝলাম,মোটামুটি ১০/১২টা ধরলাম বালুর মধ্যে গত করে কাকড়া গুলি তারের মাঝে ডুকালাম তারপর পেপারে আগুন দিয়ে কোনমতে পুড়লাম কিছু হইছে কিছু হয় নাই এগুলি ইমোশনালের প্রভাবে মজা করে খেলাম সবাই মিলে,পেপার ও শেষ তখন ঠিক করলাম কলোনীতে নিয়ে যাবো রাতে পুড়ে খাবো, যেই বলা সবাই মিলে কাকড়া ধরা শুরু করে দিলাম৩০/৪০ ধরে বিকাল ৩ টার দিকে কলোনীতে ধুকলাম সবার শরীর সাদা ছোপ ছোপ হয়ে গিয়াছে, কাকড়া গুলি পলিথিন এর ভিতরে রেখে জিমি রাশেদ দের সিড়ির নিচে রেখে দিলাম,সবাই বাসায় গিয়ে বিকালে পর বাহির হলাম,রাতে পুকুর পাড়ে কাকড়া পোড়া খাওয়া হবে এটা আমাদের গ্রুপে যারা যায় নি তাদের কে জানানো হলো,মাগরিবের আযানের পর জিমি আর মরা রাশেদ গেলো কাকড়া আনতে আমরা সবাই পুকুর পাড়ে বসে আছি,দুজনে গালাগালি করতে করতে আসতাসে এসে আমাদের হাতে ৮/১০টা কাকড়া দিলো আর জিমি রাশেদ তো গালির দেওয়ার জন্য গ্রুপের সেরা সবাইকে শুরু করে দিলো,কি হয়েছে কিভাবে জানি পলিথিন ছিদ্র করে বেশির ভাগ কাকড়া এদিক ঔদিক মনের সুখে ঘুরতাসে সবাই মিলে আবার রাশেদদের সিড়ির তলায় এই রাতে কাকড়া খুজতাছি, দিনের বেলায় কাকড়া খুজতে খবর হয়ে গিয়াছে এবার রাতে কাকড়া খুজতে কেমন লাগছে বুঝেন ঠেলা

সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি খেলাধূলা নিয়ে আগামী এক মাস কোন আলোচনায় যাবোনা


প্রতিদিন খবরের কাগজ উল্টালেই সব নেগেটিভ খবর, উল্লাস করার মত খবর আসে কালে ভদ্রে। উল্লাস যা করার নিজেরা নিজেরা করি, জাতীয় ভাবে উল্লাস করার সুযোগ আসে কম। কলোনী থাকাকালীন সময়ে প্রতিটি ছোট ছোট আনন্দদায়ক ঘটনাই আমাদের জন্য উল্লাসের ব্যাপার ছিলো, কলোনী থেকে বের হওয়ার পর সহজেই আর কিছুতে উল্লসিত হই না।জীবন টা পুরোপুরি যান্ত্রিক হয়ে আছে। বহু আশা নিয়ে টিভির সামনে বসি একটু উল্লাসের আশায়। এমনই ফাটা কপাল আমাদের , জনাব উল্লাস সাহেব আমাদের কাছে আসতেই চায়না।

সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি খেলাধূলা নিয়ে আগামী এক মাস কোন আলোচনায় যাবোনা।

পুনশ্চ : আমি আইপিএল দেখিনা, কারন আইপিএল আর জুয়ার টেবিল আমার কাছে একই রকম লাগে।