Tuesday, May 3, 2016

আমাদের সকুলের গেইটাও চেঞ্জ হয়ে গেছে


আমাদের সকুলের গেইটাও চেঞ্জ হয়ে গেছে।আমার আগের গেইটাই ভাল লাগতো।খুব মনে পড়ে সেই দিনের কথা।যখন এসেন্মলি হতো পিটি স্যার বলে দিত সবাইকে আট টার আগে সকুলে ঢুকতে হবে আর না হলে গেইটের বাহিরে দাড়ায় থাকতে হবে।আমি অনেকবার গেইটের বাহিরে দাড়ায় থাকতাম।পারতাম না আগে আসতে।আবার আসলে অনেক লাইন ধরতাম না আমরা কয়জন ক্লাসে বা বাথরুমে লুকায় থাকতাম।অনেক রোদ হলে তাই-ই করতাম।কিনতু বাদলবাবু স্যার এসে চেক করতো।ধরাও কাইচি বহুবার।পরে যখন নাইন/টেনে তখন আমরাইতো জাতীয় সংগীত গাইতাম।ও অনেক মজার দিনগুলা সব হারায় গেল।আবার ছেলেদের এসেম্লির সময় ছিল আমাদের টিফিন টাইমে।তখন কত বদমাইশি করতাম।পিটি স্যার বলতো ছেলে লাইন চলাকালীন সময় মেয়েরা বের হবে না।কিনতু তারপরও আমরা বের হতাম।আমি তো অনেক সময় টিফিন পিরিয়ডে বাসায় জেতাম যে আর আসতাম না।এ রকম অনেকবার করেছি।আর আমরা পিছনে জানালা দিয়ে দেখতাম বড় ভাইয়েরা কবরস্থানের ওদিকে টিন টপকিয়ে সকুল পালাচছে।আর খালের পাড়ে,বইজ্জার বাগানে বসে টাস খেলছে।

ভেবেছিলাম চাচীকে দেখে এসেই তার অবস্থাটা সবাইকে জানাব


ভেবেছিলাম চাচীকে দেখে এসেই তার অবস্থাটা সবাইকে জানাব। আমি দুখিত সেটা করতে পারিনি. 
সময় ও মনের অবস্থার কারনে।

তবে এর মধ্যে কথা বলেছি পলাশের সাথে। খুব শিঘ্রী বসব তোমাদের কয়েকজনের সাথে।। ভালো কিছু করার জন্যই একটু সময় নিছছি।

চাচীর বরতমান শারিরীক অবস্থা, মনের অবস্থা,আর্থিক অবস্থা সবই ভংগুর। এ অবস্থায় আমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে।

সব হারিয়ে এই 'একা' হয়ে যাওয়া মানুষটির উদ্দেশ্যে আমরা সবাই বলি :

"কেদো নাকো মা, 
তোমার সন্তানেরা ঘুমিয়ে পড়েনি ---"
বলবতো?

সকলের অনুমতি প্রার্থনাপূর্বক লেখাটি আবার পোস্ট করছি


এই লেখাটি গত বছর জুলাই বা আগস্টের দিকে লিখেছিলাম আমার টাইমলাইনে, উল্লেখ্য এই লেখাটিই ছিল আমার কলোনি নিয়ে উল্লেখ করার মত স্মৃতি চারন মূলক প্রথম পোস্ট।পরবর্তিতে এই সিএসএম পেজে লেখাটি আবার দেই, দুর্ভাগ্যবশত লেখাটি কিছুদিন পর ডিলিট হয়ে যায়। সকলের অনুমতি প্রার্থনাপূর্বক লেখাটি আবার পোস্ট করছি।

কলোনিতে কারেন্ট চলে যাওয়া মানে আমাদের কাছে ছিল চাঁন রাতের মত, এমনই এক অন্ধকার চাঁন রাতে আমি, মনিরুল,দুলি আর মরা রাশেদ ( মোর্শেদ ভাইয়ের ছোট ভাই) তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা কে বি এম শাহজাহান (C9)ভাইদের ডাব গাছ থেকে ডাব চুরি করতে গেছি, তুলনামূলক ওই গাছটি একটু নীচু ছিল।আমাদের মাঝে শুধু রাশেদই গাছে উঠতে পারে। তাই রাশেদ কে গাছে তুলে দিয়ে বাকী আমরা তিনজন একটু দূরেই সোনালি ব্যাংকের পিছনে চুপচাপ বসে আছি, একটু পরেই ধূপ করে শব্দ, তার মানে আমরা ধরে নিয়েছি রাশেদ উপর থেকে ডাব ফেলেছে। আমরা তিনজনই গাছের কাছাকাছি গিয়ে অন্ধকারে কোন ডাব দেখতে না পেয়ে উপরে গাছের দিকে তাকিয়ে রাশেদ কে উদ্দেশ্য করে বললাম রাশেদ ডাব কই ফেলছস, কয়েক সেকেন্ড পর নীচের অন্ধকার ঝোপ থেকে রাশেদের কাতর কন্ঠ স্বর "অডা ডাব ন ফরে, আঁই ফরি গি" ( ডাব পড়ে নাই, আমি পড়ে গেছি)। এর মধ্যেই শাহজাহান ভাইদের বাসা থেকে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হয়ে গেছে, কোন মতে মৃদু আহত রাশেদ কে টেনে হিচড়ে আবারো সোনালী ব্যাংকের পিছনে লুকিয়ে থাকলাম।

চুলার উপর ভাত বসাইয়া সিএসএম পেজে ঢুকলাম


চুলার উপর ভাত বসাইয়া সিএসএম পেজে ঢুকলাম, দেখি তৈলের ছড়াছড়ি এই জন্যেই তো গতকাল মুরগী রান্না করতে গিয়ে দেখি তৈল সর্ট তা এখন বুঝতে পারলাম । বৌয়ের সাথে ফোনে কথা হলো , বললাম- কবে আসবা । উত্তরে বলে- কেন ? তোমার সিএসএম আছে না ! 

এখন কি আর অফিস থেকে এসে রান্না করতে মন চায় ? বৌয়েরা কেন জানি সিএসএম-কে তাদের প্রতিধন্ধি মনে করে ? 

অবশ্য Nazmul Huda নাজমুল ভাই গত দুইদিন আগে ওনার বাসায় যেতে বলেছিল । অনেক দিন আগে Jafar Alam Alam জাফর ভাই বলেছিল- আরে কোন সমস্যা হলে আমার এখানে চলে আসবি ! পতেঙ্গায় যাওয়া আর বড়পোল থেকে নোয়াখালী যাওয়া একই কথা । 

এভাবে আরো কয়েকটা দিন থাকতে হবে , অফিস থেকে এসে রান্না করা তারপর খাওয়া । ও আমার চট্টগ্রামের বড় ভাইরা এই কয়েকটা দিনের মধ্যে কি সিএসএমের কোন খাওয়ার প্রোগ্রাম/আয়োজন হবে না । হলে তো ভালই হয় অন্তত একটা দিন রান্না করা থেকে মুক্তি পেতাম । কোন বিয়ে শাদিও কি নাই ? 

যাক অবশেষে পেজে লিখতে লিখতে ভাতটা হয়ে গেছে , মুরগীটা তো গতকালের রান্না করা আছে, ফ্রিজ থেকে বের করে একটু গরম করে নিলেই হবে, আজ এতেই চলে যাবে । আগামীকাল যদি কোন প্রোগ্রাম থাকে , বড় ভাই সহ সবাইকে বিনীত অনুরোধ একটা হেলো করলেই হবে - তাতে এই বান্দা হাজীর হবেই আর রান্না করা থেকে একটা দিন রেহাই পেতাম !!!!!

কষ্ট থেকে মুক্তি পাবার একটা চরম সত্য হল, কস্টটা পেতেই হবে


কষ্ট থেকে মুক্তি পাবার একটা চরম সত্য হল, কস্টটা পেতেই হবে। কস্টকে পাশ কাটিয়ে আমি কিংবা আমরা ভাল থাকতে পারবো না। কেউ একজন কোন এক সময় আমাকে ছেড়ে চলে গেছে ? আমি যাই ভাবি না কেন রাতের একটা সময়ে কষ্টটা (নিরব ঘাতক) আমাকে পেতেই হবে। কস্ট থেকে মুক্তি পাবার এর আসলে কোন উত্তর আমার জানা নেই।

আমি কিংবা আমরা নিজের কস্টকে ভূলে থাকার জন্য হয়ত কিছুক্ষণ জোর করে অন্যকে হাসাতে পারব, কিছুটা সময় বন্ধুদের আড্ডা সাথে নিজেকে মানিয়ে নিবো, কিংবা মুভি দেখে ঘন্টা তিনেক সময় পাড় করতে পারবো সর্বপরি, বাসায় ফিরে ক্লান্ত শরীরে পরিবারের সাথে কিছুটা সময় নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবো। কিন্তু কাজ হবে না, রাতের গভীরতা বাড়ার সাথে সাথে সেই কস্ট আমাকে সহ্য করতে হবে।

চোখের জল আটকে রাখা যায়না। তাই যতদুর কান্না করা যায় কান্না করতেই থাকো নিরবে, একাকীত্বে। একটা সময়ে দেখবো চোখেরা আর কান্না করতে পারে না। সহ্য হয়ে যায় একটা সময়ে। কস্টকে সহ্য করতে জানতে হয়। সবাই সহ্য করতে পারে না। জীবন চলার পথে সৃস্টিকর্তা যেন আমাদের সকলকে সেই সহ্য করার শক্তিটুকু দেন।

একটা কাজ করতে হবে,টাকা দরকার,অনেক টাকা


একটা কাজ করতে হবে,টাকা দরকার,অনেক টাকা। হাতে এক কানাকড়িও নেই। এদিক সেদিক উদভ্রান্তের মত টাকার জন্য ঘুরে বেড়াতে লাগলাম। অবশেষে টাকা যোগাড় হলো। তার মাঝে একজন থেকে চারশত টাকা নিয়েছিলাম। এরপর এই জীবনে কত চারশ টাকা হাতের উপর দিয়ে এলো আর গেলো, কিন্ত ঐ চারশ টাকা আর ফেরত দেওয়া হয়নি শুধুমাত্র আমার নিজের অবহেলা আর গাফলতির কারনে। টাকা প্রদানকারী কলোনির ঐ মুরুব্বি স্থানীয় ব্যক্তির সামনে পড়লে লজ্জায় পড়তে হয় আবার টাকা টি ফেরত দিতেও সংকোচ লাগে এই কারনে যে, এতদিন পরে টাকা ফেরত দিতে গেলে উনি কিছু মনে করেন কিনা।এদিকে আজ থেকে বাইশ তেইশ বছর আগের চারশ টাকা তৎকালীন বাজার মূল্য অনুযায়ী অনেক টাকা। সব মিলিয়ে এই ব্যাপারটি নিয়ে আমি সবসময় এক ধরনের লজ্জায় ও হীনমন্যতায় থাকি।

পরিশিষ্ট, এত কষ্ট করে টাকা যোগাড় করে সেদিন যে কাজ টি করতে চেয়েছিলাম তার রেজাল্ট পাইনি কোনদিন আর পাবোওনা কোনদিন।

Monday, May 2, 2016

ভালই বৃষ্টি হচ্ছে


ভালই বৃষ্টি হচ্ছে ।আমরা মা ছেলে বৃষ্টি উপভোগ করছি ।হাজারো স্মৃতি মনে ভীর করছে ।কখন ও কি ফিরে পাবো সেই প্রিয় স্টীল মিল ? খাল পাড়ে বসে কি কখন ও বৃষ্টি উপভোগ করতে পারবো ?সেই বৃষ্টি ভেজা শরীরে জ্বর আসলে মা বলবে - তো যাবি আর খাল পাড়ে ?খাল পাড়ে না গিয়ে দুইটা বসে পড়ালেখা করলে অনেক ভাল করতি ?খাল পাড়ে গিয়ে কি মজা পাস বুঝি না ।সারা কলোনি ঘুরে বেড়ালে তিনটা মেয়ে পাওয়া যাবে না যারা খাল পাড়ে যায় ।তুই আর মেরী যে কি মজা পাস আল্লাহ ভাল জানে ।মা তুমি তো জান না খাল পাড়ে গেলে প্রাণ ফিরে পাই ।গুপ্ত ধন ও আছে ।

হি হি হি

আসুন আমরা সবাই মজা করি


আসুন আমরা সবাই মজা করি। সকল ভেদাভেদ ভুলে আমরা সকল ভাই বোনেরা মিলে আনন্দ করতে চাই, মজা করতে চাই। আর যারা লিখতে পারেন তারা লিখতে থাকেন। আমরা যারা লাইক / কমেন্টস দেই তারা সবাই আপনাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বো। আপনার যা মন চায় তা আপনি লিখতে পারবেন। গল্প, উপন্যাস, ভ্রমন কাহিনি যা মন চায়। তবে লেখা হতে আপনার কিংবা আপনার সম্পর্কিত। লিখার সময় একটি বিষয়ে লক্ষ্য রাখবেন আপনার লেখা থেকে যেন কেউ কষ্ট না পায় কিংবা কারো মনে যেন আঘাত না করে। আজকে যদি একজনকে আপনি আঘাত করেন, আরেকদিন সে সুযোগের অপেক্ষায় আপনাকে আঘাত করার জন্য। কি দরকার কাউকে আঘাত করার? আমার যদি কাউকে পছন্দ না হয় তাহলে চুপ করে থাকবো। প্রয়োজনে তার পোষ্টে লাইক / কমেন্টস করবো না। তারপরেও কেউ যদি আমাকে বা আপনাকে আঘাত করে তাহলে আমরা সিনিয়র ভাইদেরকে (যার সাথে আমার/আপনার ভাল সম্পর্ক) যে কোন উপায়ে বিষয়টি অবগত করবো। আমি বিশ্বাস করি আমাদের ভাই বোনদের সাময়িক ভুল বুঝাবুঝি তা অচিরেই ঠিক হয়ে যাবে। কারন আমরা আমরাইতো। তাই আমি সকল ভাই বোন/ ভাগিনা / ভাগিনিকে আবারো আহ্বান জানাই আসুন আমরা প্রান খুলে মজা করি। আমরা সকল ভাই বোন সিএসএম বন্ধনে আবদ্ধ হই।

1985/86/87

মুন্নি আর লিন্দা

সিএসএম এর সকল ছোটভাই আর বড় ভাইদের কাছে আমার আকুল আবেদন


সিএসএম এর সকল ছোটভাই আর বড় ভাইদের কাছে আমার আকুল আবেদন আপনারা দয়া করে এটা যারা সেবন করেন তারা আজকে থেকে শপথ করেন চর কখনও সেবন করবেন না।এটা খুবই ক্ষতিকর একটা বস্তুু যার কারনে আপনি মৃত্যুপথ বেচেঁ নিচছেন।আমার দেখা একজন মানুষ(নাম বলা যাবে না)খুব অলপ বয়সে সিগারেট খাওয়াতে মারা যায়।আমি অনেক কষট পেয়েছিলাম।আমি জানি এখনও অনেকে আছেন যারা টেনশন হলেই এটা খান।না আর না এবার আর কেউ তা করবেন না।যারা খান তারা আজকে থেকে তাদের সবচাইতে প্রিয় মানুষটার কথা ভেবে ছেড়ে দওয়া যায় না।আমার এ Request টা রাখবেন।বলতে পারেন ভাইদের কাছে একটা আবদার।দয়া করে রাখবেন আশা করি।সবাই একসাথে বলি না আর খাবো না, কেউ খেলে তাকে বুঝাবো।।।।

সবাই বৃষ্টি বৃষ্টি করে কতো স্ট্যাটাস দিলো


সবাই বৃষ্টি বৃষ্টি করে কতো স্ট্যাটাস দিলো। আমি একটা স্ট্যাটাস দেওয়ার আধ ঘন্টার মধ্যে বজ্রপাত সহ ভালই বৃষ্টি হলো। সেই বৃষ্টির কারনে আমার কিঞ্চিৎ সমস্যাও হয়েছিল। আজকেও সারাদিন প্রচন্ড গরম। বিকাল থেকে আকাশ মেঘলা। অফিস থেকে বের হওয়ার সময় যথারীতি ব্রজপাত সহ বৃষ্টি। অনিচ্ছা সত্ত্বেও অফিসে অনেকক্ষণ বসে থাকতে হলো। আমি প্রায়শঃ লক্ষ্য করি অফিসে যাওয়ার সময় কিংবা অফিস থেকে বের হওয়ার সময় বৃষ্টি আসে। হয়তো অফিসে ঢুকতে বাঁধা দেয়। নয়তো অফিস থেকে বের হতে বাঁধা দেয়। কেন এমন হয়??

একেবারে বাঘ মার্কা গরমের পর গতকাল সন্ধ্যায় এক পশলা বৃষ্টি


একেবারে বাঘ মার্কা গরমের পর গতকাল সন্ধ্যায় এক পশলা বৃষ্টি, মোটামুটি গরমের প্রভাব কিছুটা কমিয়েছে। চলাফেরায় শান্তি শান্তি ভাব।

বৃষ্টি দরকার, তবে পরিমান বেশী হলে যে কি হয়, যারা মিরপুর ১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, শান্তিনগরে আর ওদিকে আগ্রাবাদ থাকে তারা বুঝে। রাস্তায় শিপিং সার্ভিস চালু করা যাবে।

বৃষ্টি নিয়ে সবচেয়ে বেশী গান, কবিতা লিখেছেন মনে হয় আমাদের রবি বাবু। ওনি জমিদার পুত্র। বারান্দায় বসে বসে বৃষ্টি দেখতেন আর গান কবিতা লিখতেন। আর আমরা যারা ম্যাংগো পাবলিক তাদের যে কি অবস্থা তিনি কি আর বুঝতেন। এই বর্ষায় কাাঁচা বাজার বা মাছ বাজারে যাওয়া আর সিটি কর্পোরেশনের পরিছ্ছন্নতা কর্মী হওয়া একই ব্যাপার।আর অফিস টাইমে বা শেষে গাড়ী ধরার জন্য বৃষ্টি মাথায় নিয়ে যে কি পরিমান ছুটাছুটি করতে হয়, সে বিড়ম্বনা কোন দিন রবি বাবু দেখেন নি।দেখার কথাও না। 

অনেকে আবার বৃষ্টির সাথে প্রেম রোমান্স কে মিলিয়ে ফেলেন, আরে বাবা ! কেউ কি চিন্তা করে দেখছেন একবার এই বৃষ্টির জন্য কত জনের কত আউটডোর ডেটিং বাতিল হইছে। অবশ্য এখন ডিজিটাল যুগের পোলাপান আউটডোর ডেটিং এর চেয়ে ইনডোর ডেটিংই পছন্দ করে বেশী (ওই ব্যাচেলর ছবির ”লিটনের ফ্ল্যাট ”টাইপ আর কি)। আর বর্ষা বাদলে ইনডোর ডেটিং ই ভালো জমে।

Shondhay Chandan chachir shathe ph e kotha holo


Shondhay Chandan chachir shathe ph e kotha holo. Opash theke ph receive kortei shunlam harmonium r bachha der golar awaz. Mone hochhilo jeno pakhi der kichir michir. Mone pore gelo steel mill e chachir bashar chhobi. Jokhoni jetam thik emon e kolotan. Hello bolar sathe sathe jiggesh korlen ke bolchhen. Bollam chachi ami ruba. Sathe sathei jei uchhash r anondo jhore porlo tar gola theke kichhukhoner jonno bhulei giyechhilam chachi khub oshustho. Sei golar awaz sei porichito hashi. Bollen ami hello shunei bujhechhilam eta ruba. Ki korchhi jggesh korlen nize ki korchhen ekhon tai bollen. Ekta school e achhen chachi. Then bhishon onondo niye bollen jano ami ekhon tomar oi gaan ta bachha der shikhechhi....then geye geye bollen.....phoole phoole projapoti urchhe urchhe...Tarpor jiggesh korlen etar gitikar ki tomar mone achhe? Bollam chachi ami khuje ber kore apnak janabo. Then arekta deshattobodhok gaan er line gailen bollen etar gitikar o dorkar. Bollam ami janabo. Steel mills er jara jara ph korechhilo shobar name ek ek kore bollen. Showkat bhai giyechhilen chachi ke dekhte tao bollen. 

Sunday, May 1, 2016

জীবন ধন্য


ষ্টীল মিলস কলোনির বাসিন্দা হয়ে জীবন ধন্য। এখানে যখন ছিলাম তখন তো সবার প্রতি সবার আন্তরিকতা ছিলই। এরপরতো অনেকের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলাম। csm colony এই পেজ খোলার পর আবার সবার সাথে যোগাযোগ শুরু হলো। যাদের সাথে আগে কখনও কলোনিতে থাকতে কথা হয়নি বা চিনতাম না এই পেজের মাধ্যমে পরিচয় হয়েছে। ষ্টীল মিল এর হওয়াতে সবাই সবার প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক। আমাদের আড্ডার দিন রাতের খাবার নেয়ার কুপন হারিয়ে ফেলেছিলাম এই কথা শুনে Aslamuddin Mamun ভাই সাথে সাথে ওনার থেকে কুপন আমাকে দিলেন খাবার নেয়ার জন্য। আমি বল্লাম আপনার লাগবে না? উনি বললেন সমস্যা নাই তুমি নিয়ে নাও। তারপর আরেক ভাই এর কাছে আমি আবদার করেছিলাম (বলতে নিষেধ করায় আমি নাম বললাম না) সে অনেক দূর থেকে আমার আবদার রেখেছে। যা আমি ভাবতেও পারি নাই। আসলে ষ্টীল মিলের দেখে সম্ভব হয়েছে। Khurshed Alam Manik ভাই চাঁদপুর থেকে রাত ৯টায় কুমিল্লাতে এসেছে। আম্মা আমার বাসায় আছে শুনে রাত ১০টায় আমার বাসায় এসেছে আম্মার সাথে দেখা করতে। এই আন্তরিকতা আমার মনে হয় জগতে আর কোথাও দেখা যাবে না। এ যেন নতুন করে পুরাতন জিনিস ফিরে পাওয়া। তাই এখানের বাসিন্দা হয়ে আমি ধন্য।

মানুষ গড়ার কারিগর


আমার সব বন্ধুরা স্যারের ক্লাস আমার আগে পেলেও আমি একটু দেরিতে পেয়েছিলাম। কারন আমি যে সেকশন এ থাকতাম,স্যার সে সেকশন এ ক্লাস পেতেন না। অবশেষে ক্লাস এইটে স্যার আমাদের বিজ্ঞান ক্লাসে এলেন। কিন্তু তার আগে ক্লাস সেভেনে স্যারের বাসায় আমি অংক করতে যেতাম।আমি,নাসিম আর জিকু। সকাল ৭ টার দিকে।

আমার গলার ভয়েস ছিল লাউড। তাই মাঝে মাঝে কথা বললে মুনতাহা র ঘুম ভেংগে যেত।তখন স্যারের বেতের বাড়ি খেয়ে গলা নামিয়ে নিতাম। স্যারের কাছে উৎপাদকে বিশ্লেষণ সহ অন্য অংক করা শিখেছিলাম।

স্যার যখন বিজ্ঞান ক্লাস নিতেন, তখনো স্যারের মার খেয়েছি তবে দুষ্টুমির জন্য। পড়া শিখলে স্যার খুব খুশি হতেন। আবার পড়া দিতেন মেপে মেপে যাতে ছাত্রের জন্য প্রেশার না হয়।

পরীক্ষার হলে স্যার কিভাবে যেন নকল করছে কে তাকে ধরে ফেলতেন। স্যারের চোখ ফাঁকি দিয়ে কেউ এ কাজ করতে পারত না।তাই স্যার যেদিন পরীক্ষার হলে ডিউটি দিতে আসতেন,সেদিন মোটামুটি তটস্থ থাকতে হত।

স্যার কথা বলার সময় হাসতেন, সেই হাসিতে থাকত একরকম শুদ্ধতা। কাউকে অসম্মান করা পছন্দ করতেন না, প্রতিবাদ করতেন।ছাত্রদের মানসিক গঠনে স্যারের খুব দারুন ভূমিকা রাখতেন।এজন্য ছাত্র রা স্যার কে অনেক পছন্দ করত।

আজ স্যারের জন্মদিন। অনেক দিন হয়েছে স্যারের সাথে দেখা হয়নি।সারাজীবন স্যার আমাদের মানুষ করার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। আজ স্যারের সন্তানেরা মানুষ হবার পথে। ইচ্ছা করে স্যার কে কখনো অসম্মান করিনি, অলক্ষ্য এ হয়ত আমাদের কোন আচরনে কষ্ট পেয়ে থাকতে পারেন, যা হয়ত মন থেকে চাইনি কোনদিন। কারন আপনার আশীর্বাদ আমাদের পথ চলার পাথেয়।

ভাল থাকবেন স্যার।জন্মদিন এর অনেক অনেক শুভেচ্ছা থাকল আপনার জন্য

যে যেখানে দাঁড়িয়ে


চন্দন চাচার ছেলে আসিফ ভাই ছিলেন আমার সিনিয়র। উনার সাথে আমার পরিচয়ে র শুরুটা ভাল ছিল না।আমাদের শুরু হয়েছিল পাথর ছোড়াছুঁড়ি দিয়ে।আমাদের দলে ছিলেন সুমন ভাই,আরিফ ভাই, নুরু ভাই, মাসুদ আর আমি।আর উনার গ্রুপে উনি,সুজি,শিলু, রকিবুল ভাই এরা। আমাদের মারামারি দেখে রিনির বাবা(প্রয়াত শামসুল হক কাকা) থামাতে এলেন।বকা দিলেন।

তারপর কিছুদিন পর উনি আমাদের বিল্ডিং এর সামনে খেলতে এলেন।গলার ভয়েস ছিল স্পশট,জোরালো। স্মার্ট ছিলেন ওই বয়সে।স্কুলে একবার ব্রেক ড্যান্স দিয়েছিলেন। সবার নজরে এসেছিলেন। রিনি তখন গান শিখত চাচী র কাছে। এসে আমাকে, মুক্তাকে শেখাত গানগুলো। 

আর বলত ওরা গান শিখতে গেলে আসিফ ভাই উনাদের বাসার কামাল নামের ছেলে টা কে নিয়ে কি কি দুষ্টআমি করেন।আমরা অবাক হয়ে শুনতাম। ওকে মানা করতাম গান শিখতে যেতে।তার কিছুদিন পর ও গান শেখা ছেড়ে দেয়। আসিফ ভাই রা চলে যান।

আজ রিনির আব্বাও নেই,নেই আসিফ ভাই। সেদিন উনার মারা যাবার কথা শুনে মনে হল মানুষের জীবন এত ছোট হয় কি করে।আমার ত প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। তারপরেও মেনে নিতে হয় কিছু সত্য। এক জীবনে সবার হয়ত দীর্ঘায়ু পাওয়া সম্ভব হয় না, পূরন হয় না সব আশা,স্বপ্ন।হয়ত এটাই জীবন।আমাদের জীবনে ভাল সময় আসে খুব কম।কিন্তু তাড়াতাড়ি চলেও যায়।আসিফ ভাইয়ের মৃত্যু যেন সেই কথা বলে গেল

চন্দন চাচী প্রসঙ্গ এবং অপ্রাসঙ্গিক কিছু কথা


(চন্দন চাচীর কাছে গান শিখতে যাওয়ার নেপথ্য কাহিনী এর আগেও আমি এই পেইজে লিখেছি।তবুও আবার লিখলাম)

খুব সম্ভবত ১৯৮৮ সাল। আমার বয়স তখন চার বছর। সি টাইপের আমাদের বাসার রান্নাঘরের সামনে নেংটু হয়ে রকস্টারের মতো চিৎকার করে গান গাচ্ছিলাম। দোতলার আশিক ভাইয়ের আম্মা উনাদের রান্নাঘরে যাবার পথে আমাকে দেখে মুচকি হেসে চলে যান। আর আমি উসাইন বোল্টের মতো ঝড়ের গতিতে ফালুদা হওয়া ইজ্জতের(!?) বাকিটুকু নিয়ে এক দৌড়ে ঘরের ভিতরে। গানের প্রতি আমার অকৃত্রিম ভালোবাসা (!?) দেখে আশিক ভাইয়ের আম্মা আমাকে গান শেখানো জন্য আমার আম্মাজানকে পরামর্শ দেন।এর কিছুদিন পরই আম্মা আমাকে গান শেখাতে চন্দন চাচীর কাছে নিয়ে যান।

সাড়ে চার বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগেই আমি গান শেখা শুরু করি চাচীর কাছে। টুকরোটুকরো কিছু স্মৃতি ছাড়া বাকি সময়টুকু ঝাপসা হয়ে আছে।কি গান শিখেছিলাম চাচীর কাছে, কতটুকুই বা শিখেছিলাম,তার কিছুই মনে নেই। শুধু মনে আছে, আমি সব আপুদের মাঝে একমাত্র ছেলে ছিলাম বলে চাচী বলেছিলেন, "তুই হলি সূর্য। বাকি সব গ্রহ। সূর্যের চারিদিকে যেমন গ্রহ থাকে,তেমনি তোর আশেপাশে এরা গ্রহ "। গ্রহ নক্ষত্রের এতো জটিল হিসাব বুঝার মতো বয়স না থাকলেও অন্তরীক্ষের মতো চাচীর মমতার বিশালত্ব বুঝতে আমাকে বেগ পেতে হয়নি।

আহ্ কি শান্তি


আহ্ কি শান্তি। চারিদিকে ঠান্ডা ঠান্ডা cool cool ভাব। আজকে রাতে dermy cool ও লাগবে না। লাগবে না নবরত্ন তেলও। এই কয়দিনের প্রচন্ড গরম গরম তাপ মাত্র আধ ঘন্টার হাল্কা বৃষ্টিতে একেবারে cool হইয়া গেল। মামু এতদিন তোমার আগমনের প্রতীক্ষায় থাকতে থাকতে ভাবছিলাম কই গিয়া পালামু। মামু তুমি এতদিন না আসাতে তোমার সৎ ভাই সূর্যি মামার তেজ বাইড়া গিয়াছিলো। তোমার ভাইয়ের যতই তেজ থাকুক তুমি আসলে সে তোমার ভয়ে লুকায়ে যায়। তাই এখন থেকে তুমি প্রতিদিন আসিও অন্তত আগামি ৪/৫ মাস। দিনে একবার হইলেও তোমার দেখা পাইলে পরানডা জুড়ায়ে যাবে।

"নিজেই নিজের"


লিখাঃ কাব্য।
আজকে দিনটা কেমন জানি,মন টা ভালো নেই,নিচে রফিকের দোকানে গেলাম।রফিক ভাই, এক কাপ চা দেন,সাথে চনামুড়িও দিয়েন।আশ্চর্য রফিক ভাই সাড়া দিচ্ছে না কেন? ভাই কি মশকরা করছেন!।প্রচুর চিল্লাচিল্লি করেও সাড়া পেলাম না।বিষন্ন মনে তাই রাস্তার বাম পাশ ধরে হাটতে লাগলাম।সবাই সবার মতো,আর আমি আমার মতো করে চলতে থাকলাম। (কিছুক্ষন পর)

ঘড়িটা এমন করছে কেনো?ঘর থেকে বের হলাম ১১.১ এ অথচ আমি প্রায় ৩ ঘন্টা ধরে হাটালাম কিন্তু এখন বাজে ১১.৩।অবাক হলাম,আরও অবাক হলাম যে এতোদুর হাটার পরও আমি মোটেও ক্লান্তি বোধ করছি না।কি সব ভুতুড়ে কান্ড ঘটছে আমার সাথে??হটাত রাস্তায় হোচট খেয়ে একজনের গায়ের উপড় পড়লাম,কোন রি একশন নাই,অবাক আর অবাক এমন মনে হতে লাগল যেন আমি তার গায়ের উপড় পড়িনি।কিন্তু আমি পড়েছি,ব্যাক্তিটি সরে যাওয়ার পরে আমি রাস্তায় ও পড়ে গিয়েছি,কিন্তু কোন ব্যাথা পাইনি,আমার শরীরের কোথাও ছিলকেও যায়নি।কি সব আজব ব্যাপার সেপার।আমি কি আদৌ এই দুনিয়াতেই আছি?নাকি অন্য জগত এ!!!

Saturday, April 30, 2016

ভুল মানুষেরই হয়


ভুল মানুষেরই হয়। আমিও মানুষ। আমারও ভুল হতে পারে। আমি যদি নিজের অজান্তে কাউকে কোন দুঃখ দিয়ে থাকি কিংবা আমার কোন আচরনে কেউ দুঃখ পেয়ে থাকলে তার জন্য আমি দুঃখিত। আর একটি কথা আপনি যদি কখনো কারো কাছ থেকে শুনেন আমি আপনার বিরুদ্ধে কোন কটু কথা বলেছি আপনি তৎক্ষনাত কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাকে এই নম্বরে (01819-636321; 01619-636321) ফোন করে তার সত্যতা যাচাই করবেন। যদি ফোন করা সম্ভব না হয়, তাহলে ইনবক্সে জানান। তাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে কারো মাধ্যমে আমাকে ফোন করতে বলবেন। আমি নিজে আপনাকে ফোন করবো। তারপরেও আমি চাইনা আমার দ্বারা কেউ মনে কষ্ট পাক। কিংবা অযথা কোন ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হোক তাও আমি চাইনা। আর আমি যদি আপনাকে কিছু বলেও থাকি তবে তার সঠিক ব্যাখ্যা আমার কাছেই থাকবে। এবং তা দ্রুত সমাধান করা যাবে। অন্য কারো কাছ থেকে জানতে চাইলে তার সঠিক ব্যাখ্যা হয়তো আপনি পাবেন না। তাতে আপনার মনটা আরো বেশি খারাপ হবে। তাতে আমাদের কারো কোন লাভ হবে না। বরং তাতে সম্পর্কের অবনতি হবে। আশাকরি ব্যাপারটা সবাই বুঝতে পারবেন।

এ পেজের একেবারে শুরুর দিকে চন্দন চাচাকে নিয়ে একটি লিখা লিখেছিলাম


এ পেজের একেবারে শুরুর দিকে চন্দন চাচাকে নিয়ে একটি লিখা লিখেছিলাম, ব্যাক্তি পর্যায়ে কাউকে নিয়ে ওই টাই বোধ হয় প্রথম কোন লিখা। চন্দন চাচা বা চাচির সাথে আমার তেমন কোন ব্যাক্তি গত পরিচয় ছিলনা। যে টুকু পরিচয় চাচার সাথে ছিল সি টাইপ মাঠে ক্রিকেটের কল্যানে, উনাকে একটু ভয়ই পেতাম।ভিক্টর ভাইয়ের সাথে অবশ্য ভালো সম্পর্ক ছিলো আমার,এক সাথে স্কাউটিং করতাম আমরা। উনাদের (ভিক্টর ভাই ও চাচা)সাথে আমার শেষ দেখা হয়েছিল ৯৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া তে।

গত রাতে চাচীর ছবি এ পেজে দেখে ও সব কিছু জেনে খুবই খারাপ লাগছে, তার উপর আসিফের খবর সব মিলিয়ে মর্মস্পর্শী। 

জানতে পারলাম চাচী এখন পল্লবি থাকেন, আমিও পল্লবির বাসিন্দা এছাড়াও অপু ভাই সহ সিএসএম এর অনেকেই এই মিরপুর পল্লবী তে বসবাস করে। গতরাতেই অপু ভাইয়ের সাথে আমার যোগাযোগ হয়েছে, ইনশাল্লাহ চাচির জন্য আমরা কিছু একটা করার চেষ্টা করব, বাংগালি রাজিবও ঢাকা আসবে চাচির সাথে দেখা করতে। চন্দন চাচার শেষ কর্মস্থল ব্রাহ্মণবাড়িয়া গ্যাস ফিল্ডে আমার যে আত্মীয় চাচার সহকর্মী ছিল তাঁর ছেলেরাও এখন পল্লবী থাকে তাদের আমি বিষয়টি জানিয়েছি, তারাও চাচির সাথে যোগাযোগ করবে।

কত সুন্দর উদার সাংস্কৃতিক মনা একটি পরিবার আজ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে কত অসহায়।
সৃষ্টিকর্তা আমাদের সবাইকে ভালো রাখুক।

মানুষ চেনা দায়


এই পেজে অনেক মেম্বার। কিন্তু আমি ভাবতাম সবাই রেগুলার না। হয়ত থাকার জন্য আছে। কিন্তু একটা বিষয় খেয়াল করলাম, কালকে চন্দন চাচী র পোস্ট টা দেয়ার পর অনেক মেম্বার তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন খুব সুন্দর ভাবে।তার মানে আমরা এখনো একে অন্যের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়ানো র জন্য প্রস্তুত আছি। খুবই ইতিবাচক ব্যাপার, উৎসাহ জনক ব্যাপার। 

চাচীকে নিয়ে লিখাটা পড়ার পর সবার মত আমারো মন খারাপ হয়েছে। মানুষের পাশে কেউ না থাকলে তার মনের অবস্থা কেমন হতে পারে সেটা কম বেশি আমরা সবাই বুঝি। 

আসল ব্যাপার যেটা চোখে পড়েছে তা হল যাদের কে অনিয়মিত মেম্বার বলে ভাবছি, যারা নিয়মিত লাইক, কমেন্ট করেন না, তারা যে পোস্ট গুলো পড়ে দেখেন না তা নয়।হয়ত পড়েন কিন্তু ভাল লাগেনা বলে প্রতিক্রিয়া জানান না। 
এই পেজে অনেক দিন লিখার কারনে সবার সম্পর্ক এ একটা মোটামুটি ধারনা হয়ে গেছে।কিন্তু যারা নীরব থাকেন,তাদের কে নিয়ে আমার ভয়।কারন হাবিজাবি সব নিয়ে লিখি বলে কখন যে কার বিরক্তি র কারন হয়ে যাচ্ছি বুঝতে পারছি না।

আজ ৩০ এপ্রিল। এ মাসের শেষ দিন।আমারো শেষ লিখা। সুজন হয়ত সুস্থ হয়ে ডাটা দিবে।তা নিয়ে ভাবছিনা। লিখালিখি মনের বিষয়, প্রতিযোগিতা র না। আমার ভয় যেন সত্যি না হয় মনে মনে তাই কামনা করছি

আসলে মনটা অনেক খারাপ


আসলে মনটা অনেক খারাপ।কি করবো বুঝতে পারছিলাম না।তাই আমার সব ভাইবোনদের সাথে শেয়ার করলাম।আসলে এ দুনিয়াতে সহজসরল হলেও কষট পেতে হয় আবার অতি চালাকেরও গলায় দড়ি।আমি আমার আপন মানুষদের কে খুব আপন মনে করি আর অনেক বিশ্বাসও করি।কিনতু ওরা আমাকে কখনও আপন মনে করেনা তা আজ একটু আগে বুঝলাম।আর ভাবলাম হায়রে মানুষ।মানুষের এতো রুপ।কিনতু আমি কখনও এগুলা করিনি আর আমি বুঝিও না মানুষের চালাকি।থাক আবার চিন্তা করলাম আললাহ তো আছে,উনি তো সব দেখছে।যে যা করবে আললাহ তার ফল দিয়ে দিবে।আমি যদি ভিতর থেকে ভাল থাকি তাহলে জে যত চালাকি আর আমাকে ছোট করার চেষটা করুক না কেন কিছুই হবেনা।কারন সত্যের জয় হবেই।তবুও মনকে মানাতে পারচিনা তাই লিখে ফেল লাম।মনটা বেশি খারাপ মনে হয় চিৎকার করে কাননা করি।কিনতু তাও পারবো না।আসলে আমি খুব সহজে মানুষ বেশি আপন মনে করি।এটা ঠিক না আজকে বুঝলাম।আমার জন্য দোয়া করবেন সবাই।

গত তিন চার দিন ঢাকার বাইরে ছিলাম অনেক ব্যস্ততা নিয়ে


গত তিন চার দিন ঢাকার বাইরে ছিলাম অনেক ব্যস্ততা নিয়ে। আজ ফিরে এসে এই মাত্রই খরটা জেনে স্তুম্ভিত,মর্মাহত। কী জীবন কী হল ?
এক সময় সি-৪ এ আর বি তে আমরা থাকতাম। 
ভিক্টর আমার কাছে মাঝে মাঝে গণিত পড়তে আসত,কলোনী থেকে বের হয়ে আমরা শহরে টি এন্ড টি কোয়াটারে শিফট করে গেলও ভিক্টর মাঝে মাঝে আমার বাসায় আসত কখনো প্রয়োজনে কখনো মনের টানে।
আমার বোনদের সাথে চাচীর সম্পর্কটা ছিল মা - মেয়ের মত। আমার বড় বোনের বিয়েতে ঢাকা এসে চাচী মায়ের চেয়েও বড় ভুমিকা রেখেছিলেন।
সেই চাচীর সাথে দীর্ঘ দিন কোন যোগাযোগ নেই। ভাবতে নিজেকে খুব বড় অপরাধী মনে হয়।
কালকে চাচীকে দেখতে যাব। কিছু একটা করতে হবে চাচীর জন্য।এই মুহূর্ত এ আমরা সবাই চাচীর দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করবো।

NB:ভিক্টরের মৃত্যু সংবাদ শুনে আমার মাকে নিয়ে ব্রাম্মনবাড়িয়া গিয়েছিলাম চাচা-চাচীকে সান্তনা দিতে। সেই শেষ দেখা।

জোড়া শালিক


One for sorrow,
Two for joy.
Three for letter,
Four for guest.

হুম শালিকের সংখ্যা নিয়ে এরকম কথাই শুনেছিলাম ছোটবেলায় বিপাশা হায়াতের এক সাক্ষাৎকার এ। পরে দেখলাম আমাদের দোতলার রিপা আপাও এই বিষয় এ বিশ্বাস ছিল। কোন কারনে হয়তত চোখে এক শালিক দেখেছেন,অমনি অস্থির হয়ে যেতেন আরেক শালিক মিলানো র জন্য।নাহলে নাকি দুঃখ আসবে।নিজে ত খুঁজতেন, সাথে আশেপাশে আমার আপারা বা অন্য কেউ থাকলে তাদেরকেও খুজে দিতে বলতেন। মাঝেমাঝে পেয়েও যেতেন জোড়া শালিক, তখন উনার মুখে বিজয়ের হাসি ফুটে উঠত।

এখন উনি ঢাকায় থাকেন।সেখানে জোড়া শালিক ত দূরের কথা, পাখির দেখা পাওয়া ভার।তাই সেদিন যখন জোড়া শালিক দেখলাম, তখন উনার কথা মনে পড়ল আর ছবি তুলে নিলাম।যাতে করে যখন খুশি জোড়া শালিক দেখতে পারেন আর উনার দিনগুলো- ভাল কাটে।

বিচ্ছিন্ন ঘটনা ১৯৯১(২)


তখন ১৯৯১ সালের পরবর্তী সময়। কলোনি র বিধ্বস্ত অবস্থা। তারপরেও কিছু ঘটনা আজও মনে হাসির উদ্রেক করে।
যেমন এ সময় কলোনি র কিছু বড় ভাই নিজেরা মিলে একটা লরি করে বিভিন্ন টিউবওয়েল, ওয়াসার ট্যাংকি থেকে পানি নিয়ে বাসার সামনে গিয়ে পৌঁছে দিয়ে আসতেন।আবার পানি নেয়ার সময় যাতে কোন ঝামেলা না হয় তাও দেখতেন।অনেক টা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মত।

একদিন আমাদের বাসার পাশের ওয়াসার ট্যাংকি থেকে লাইন ধরে সবাই পানি নিচ্ছিল। আতিক ভাই ওইখানে দাড়িয়ে লাইন নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। এমন সময় সুফিয়ার মা নামে আমাদের বুয়া আসল কেটলি করে পানি নিতে।যেহেতু কেটলির আকার ছোট তাই তাই সে বলল তাকে আগে দিয়ে দিতে।তখন আতিক ভাই জানতে চাইলেন কাদের বাসা থেকে এসেছে। বুয়া বলল, মোরশদগো বাসাত থন। আতিক ভাই বুঝলেন, মাকসুদ চাচার বাসা থেকে এসেছেন।তিনি পানি দেয়া হবেনা বলে দিলেন।

Friday, April 29, 2016

সেইসব দিনগুলো


ছোটবেলায় আমাদের সুন্দর সময় গুলো র একটি অংশ কাটত, রিপা আপাদের বাসায় সিনেমা দেখে।আমির জুহি, মিঠুন শ্রীদেবীর হিন্দি ছবির পাশাপাশি প্রসেনজিতের বাংলা ছবিও থাকত।অমর সংগী,অমর প্রেম, জজ সাহেব, জোতি ইত্যাদি ছবি। প্রসেনজিতের ছবিগুলো দেখার পর নিজেকে সেই জায়গায় কল্পনা করতে ইচ্ছা করত।মনে হত আজ থেকে নায়কের মত শুধু ভাল কাজ করি, সবার সাথে ভাল করে কথা বলি।জীবনে ভাল মানুষ হই।একটা ঘোরের মধ্যে চলে যেতাম।পড়তে বসলে মাথার মধ্যে নায়কের কথা ভাসত। কয়েক দিন পর সেই ঘোর কেটে যেত।

গোলাম হোসেন চাচা আজ বেচে নেই।আল্লাহ উনার আত্মাকে শান্তিতে রাখুন।আমাদের ছোটবেলার একটা সময় কে স্মৃতিময় করে দিয়েছেন উনি।আজও যখন মাঝেমাঝে ছবিগুলো টিভিতে দেখায় তখন চাচার কথা আর সেই সব দিনের কথা মনে পড়ে।যদিও সেই দিনগুলো- আর ফিরে আসবে না জানি

২৯ শে এপ্রিল


আমার জিবনের সবচেয়ে কষ্টের ও দুঃখের একটা দিন ২৯শে এপ্রিল। আমাদের বাড়ি সন্দীপ। ঐ দিন আমার বাবা সন্দীপ ছিল। ২৯ তারিখ সকাল থেকে রেডিও টিভিতে বার বার সিগ্নালের কথা বলছে এর মধ্যে সেদিন স্কুলে এস এস সি বিদায় অনুষ্ঠান চলছিল দুর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার দরুন তাড়াতাড়ি শেষ করে দিল। তখনো বুজিনি গুর্নীঝড় জলোচ্ছাস কি জিনিস, মনের মধ্যে ভয়ও কাজ করছে আবার এটা দেখার একটা ইচ্ছা কাজ করছে। সন্ধা হওয়ার আগেই ১০ নং মহা বিপদ সংকেত ২০ ফুট জলোচ্ছাসের খবর বলছে বার বার।বিল্ডিংের কেও তেমন একটা আমলে নিচ্ছেনা তাই আমরাও তেমন কোনো গুরুত্ব দিলাম না জিনিসপত্র কিছুই কোথাও সরাইনি। রাত ৮টা থেকে খুব বাতাস শুরু হল।আম্মা বললেন যে যাই বলুক জিনিসপত্র গোছা। সাথে সাথে গুছিয় যা পারলাম তাকের উপরে রাখলাম, তখন বাসায় এক ড্রাম চাল ছিল ড্রামের মুখটা প্লাস্টিক দিয়ে ভালভাবে বাধলাম। 

এর মধ্যে বিদ্যুৎ ও চলে গেছে, কেও ভাত খেয়েছ কেও খায়নি। মনের মধ্যে একটা ভয় কাজ করছে। বাইরে বাতাসের এতো বেগ নারিকেল গাছ গুলোর মাথা মাটি পরজন্ত নেমে আসে পুরা আকাশটা কেমন যেন লালছে হয়ে গেছে। বাসায় বসে দোয়া দরুদ পড়ছি আর মাঝে মাঝে বের হয়ে দেখি পানি আসছে কিনা, এভাবে কয়েক ঘন্টা যাওয়ার হঠাত পাশের বাসার খালেক চাচা ডেকে বলে লিটন পানি আসছে তাড়াতাড়ি দোতালায় চল। এই হুরমুর করে দরজায় তালা দিয়ে সবাইকে নিয়ে দোতালায় সুমনদের বাসায় উঠলাম। এরপর শুরু হলো এক বিভীষিকাময় অবস্থা নিচে পানি উপরে বাতাস এমন ভাবে ধমকা বাতাস আসে পুরা বিল্ডিংটা ঘুরুমঘুরুম শব্দ করে কেপে উঠে, তখন মনে হচ্ছিল আমরা বুঝি আর বাচতে পারবোনা এর মধ্যে বিকট শব্দ করে কলোনির দেয়াল্টা ভেংে পড়ে গেল। ভাবলাম আমাদের আর কোনো উপায় নাই আজ এখানেই শেষ। 

বিচ্ছিন্ন ঘটনা ১৯৯১


১৯৯১ সালের পরে মানুষের হারানো র গল্প শুনেছি তেমনি কিছু ঘটনা শুনতাম।সেগুলো বিশ্বাস করব কিনা বুঝতাম না।যেমন একবার শুনেছিলাম, এক মহিলা মারা গেছেন বিয়ের সাজে।তার গায়ে দামি শাড়ি, অনেক গয়না।

এক লোক ওই গয়না, শাড়ী দেখে লোভে পড়ে তাকে বোন বোন বলে ডাকতে লাগল।আস্তে আস্তে গয়না খুলে নিতে লাগল।একসময় শাড়ি ধরে যেই টান দিতে গেল, অমনি মৃত মহিলা হাসতে হাসতে লোক টাকে থাপ্পড় দিলেন।ওই থাপ্পড় খেয়ে ভয়ে ঘরে এসে কাপতে কাপতে মারা গেলেন। এরকম অনেক অলৌকিক ঘটনা তখন আশেপাশে ছড়িয়ে পড়েছিল।আমরা সেগুলো শুনে অবাক হয়ে শুনতাম।কিছু বিশ্বাস করতাম, কিছু করতাম না।

ভুল করে মনে করা


১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল। যদিও আমি তখন এর ভয়াবহতা কিছু কম বুঝছি। সেদিন বিকাল বেলা মাইকিং হচ্ছিল।১০ নং সিগন্যাল। যিনি করছিলেন তার উচ্চারণ নিয়ে আমার আপা, রুবি আপা, বেবি আপা হাসাহাসি করছিলেন। আর আতিক ভাইয়ের একটা ফ্যাশন ম্যাগাজিন দেখছিলেন বারান্দায় বসে।

রাত ১০ টার দিকে কারেন্ট একটু ডিস্টার্ব করেছিল।আমরা ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।রাত ১ টার দিকে শব্দে ঘুম ভাংল।দেখি আমাদের বাসায় মানিক ভাইদের বাসার সবাই সাথে রিনির আব্বা।রিনিরা নানার বাড়িতে গিয়েছিল। বারান্দায় গিয়ে দেখি পানিতে ভেসে যাচ্ছে সব।মানুষের চিতকার।ভয় লাগল।হাস মুরগি গুলো বের হতে পারছেনা।
আমি আবার ঘুমায় গেলাম রিনির আব্বার পাশে।পরদিন দেখি পানি কিছুটা কমে গেছে।রিনির আব্বা পরের দিন রেখা আপা, তার পরিবার আর মৌসুমি কে খুজতে। একেক দিন তিনি একেক জনের লাশ খুজে পান আর কবর দিয়ে আসেন। সন্ধ্যা হলে মন খারাপ করে নানা কথা বলেন।আসলে ওই সময় যারা হারিয়েছে তারাই জানে এর ব্যথা কতটুকু।

পানি ছাড়া, বিদ্যুৎ ছাড়া অনেক গুলো দিন।তারপরেও ভাল লাগত কলোনি র মানুষগুলো একসাথে হয়ছে।শুনেছিলাম আমাদের স্কুল আশ্রয় কেন্দ্র হয়েছে।কিন্তু সেদিকে আর যাইনি।

অনেক দিন পর পরিবেশ নরমাল হল।স্কুল খুলল। কিন্তু মনে যে আতংক ছড়িয়ে দিল তা সহজে ভোলার নয়।

সাব্বিরের সাথে এক শপিং মলে হঠাৎ করে মিরার দেখা


সাব্বিরের সাথে এক শপিং মলে হঠাৎ করে মিরার দেখা, মিরা ভূত দেখার মত চমকে উঠল,যদিও অল্পক্ষনের মধ্যেই নিজেকে স্বাভাবিক করে নিলো, বুদ্ধিমতী মেয়ে (এখন মহিলা বলা যায় অবশ্য), যার নজর থাকে সাত আসমানের উপরে সে জানে কোন পরিস্থিতিতে কি করতে হয়। আড় চোখে মিরা সাব্বিরকে মেপে ফেলল, এখনো আগের মতই, একেবারে নরমাল, কোন বাহুল্য নেই চলাফেরায়। শরীরের দিক থেকে শুধু ভুড়ি টুকুই বেড়েছে সাব্বিরের।তেমনি মিরা আগের মত স্লিম থাকলেও আগের সেই লাবন্য নেই, আসলে দুজনের বয়সই তো বেড়েছে। শপিং মল মোটামুটি ফাকা, দুজন হাটছে আর নিজেদের মধ্যে টুকটুক করে কথা বলছে, দু জনেরই স্কুল জীবনে সেই কথা বলতে বলতে বাসায় ফিরার স্মৃতি মনে পড়ল। দুজনেই কিছুটা আনমনা। কথায় কথায় জানতে পারল মিরা ধানমন্ডি থাকে, নিজেদের ফ্ল্যাট, গাড়ি,স্বামী বড় বিজনেসম্যান অর্থাৎ মিরা যা চেয়েছিল, সাত আসমানের উপর, তাই পেয়েছে, সাব্বির নিজের ব্যাপারে তেমন কিছু না বললেও মিরার বুঝতে বাকী রইলনা যে সাব্বিরও এখন সাত আসমান উপরের লোক।

আজ 29 এপ্রিল


আজ 29 এপ্রিল।।1991সালের এই দিনটায় সকাল থেকেই আকাশটা গম্ভীর ছিল আর যতদূর মনে পড়ে বিকেল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল।।বাবার বিকেল চারটা থেকে ডিউটি ছিল।।কি যেন ভেবে বাবা মোটামুটি বিপজ্জনক মুহূর্তে লাগা প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস দুপুরে কিনে আনলেন।।তো সন্ধ্যার পর থেকেই বৃষ্টির সাথে সাথে ঝড় হাওয়া বইতে লাগলো।।রাত দশটার পর থেকে ধীরে ধীরে ঝড় হাওয়ার পরিমান বাড়তে থাকলো।।সেই সাথে বিপদ সংকেতের মাত্রাও বাড়তে লাগলো।।আমাদের কারোরই ঘুম এলো না।।কিন্তু খাবার খেয়ে শুয়ে রইলাম।।রাত এগারোটা কি বারোটা হবে।।বাবা আসছে না দেখে মা আমাকে নিয়ে পাশের বাসার মজিদ কাকার বাসায় যাবার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করলো।।দরজা খুলতেই দেখি আমাদের বাসার সামনে যে মাঠটা রয়েছে সেটা পুরোটা জোয়ারের পানিতে ভড়পুর।।আর বাতাসের এতো চাপ ছিল যে গাছ গুলো সব মনে হচ্ছিল যেন উপরে পড়ে যাচ্ছে।।তো কাকার বাসার দরজা নক্ করলে কাকা দরজা খুলে এবং মা বাবার কথা জানতে চায়।।

মেজবানীর মজাই আলাধা


মেজবানীর মজাই আলাধা। আমরা সবায় কিছুক্ষন অপেক্ষা করে টেবিলে গেলাম। সবায় আমার জন্য অপেক্ষা করতে ছিলো, কারণ আমিই সবার শেষে উপস্থিত হইছি। কিছু করার ছিলোনা, প্রচুর কাজ ছিলো অফিসে। সবায় একসাথে খেতে বসলাম। এই গরমের মধ্যেও আমরা স্বতস্ফুর্তভাবে খেলাম। নলা খাওয়াও বাদ যায়নি। বিশেষ কারনে নলার ছবি আমি দিলাম না। আসলে ডরাইছি। আমার বন্ধুরে আমি বড়ই ভালোবাসি। তার পরই আমরা গেলাম পাহাড়ের বুক চিরে যে পানি বের হয় তা দ্বারা প্রবাহিত পানির ছরা দেখতে। ছবি আসছে...

সেই ভয়াল ২৯ শে এপ্রিল


আজ থেকে ২৫ বছর আগের কথা।১৯৯১ সাল।খুব সম্ভবত ক্লাস সেভেনে পড়ি।২৯ শে এপ্রিল নিয়ে লিখিতভাবে স্মৃতিচারণ সম্ভবত এই প্রথম,তা ও csm এর কল্যাণে।এই পেইজের অনেকে তখনো এত ছোট ছিল যে ২৯শে এপ্রিল ১৯৯১ বলে তাদের জীবনে কিছু ঘটেনি কিংবা অনেকের জন্ম ৯১ সালের ও পরে।যাদের কাছে এ স্মৃতিচারণ রূপকথার মতো ও মনে হতে পারে।

স্কুলের এস এস সি পরীক্ষার্থীদের ফেয়ারওয়েল ছিল সেদিন। সিগনাল ক্রমাগত উর্ধমুখী হওয়ার কারণে তড়িঘড়ি করে ফেয়ারওয়েলের সমাপ্তি। তখনো কেউ আঁচ করতে পারেনি কি ভয়ানক প্রাকৃতিক দূর্যোগ অপেক্ষা করছে তাদের জন্য।ঘুনাক্ষরে ও বুঝতে পারিনি এ রকম ভয়াবহ কিছু হবে।কারণ ঘূর্ণিঝড়ের সাথে তখনো পরিচিত হলে ও জলোচ্ছ্বাসের সাথে একেবারে আঁনকোড়া। খালা খালু এসেছে বেড়াতে। গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর পর বিটিতে ঘোষণা আসছে ৮ নং,৯ নং,১০ নং মহা বিপদসংকেত।কিন্তু সেদিকে কারো খেয়াল নেই।সবাই যথাসময়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘমিয়ে পড়েছে।কখনো কি ভেবেছিল কালকের সকালটা অনেকেরই আর দেখা হবে না।দেখা হবে না বউ বাচ্চা,মা বাবা,কিংবা ভাইবোনের সাথে।দেখা হবে না প্রিয় সন্তানেরমুখ।

প্রচুর গরম, হাসফাস লাগছে


প্রচুর গরম, হাসফাস লাগছে। সাব্বির আজ খুব উদাস হয়ে আছে। মিরা আর রুনির সাথে দেখা হওয়ার পর থেকে এই অবস্থা।।নিজেরে কেমন যেন "তিন ফুল এক মালি" লাগছে। তিন নং ফুল মানে সাব্বিরের বউ নিলা ইউএনডিপির চাকুরী র সুবাদে এখন ট্রেনিং এ আছে দেশের বাইরে। বাসায় একা সাব্বির। এ কারনে তার আরো অস্থির লাগছে। বারান্দায় ব্ল্যাক লেবেল আর বরফ নিয়ে বসে গেছে সে। আজ একটু ইমোশনাল হতে ইচ্ছে করছে তার, বউ বাসায় থাকলে সেটা সম্ভব নয়। আর এই গরমে একটু বরফ মিশ্রিত ইমোশনাল একেবারে মন্দ নয়। 

গরম আর শীত মোটেও ভালো লাগেনা সাব্বিরের। তার ভাল লাগে পুরোপুরি শীত পড়ার আগে শীত শীত ভাব, মনে হয় হেমন্ত কাল, সেই সময় টা।

ওই সময়টাতেই মীরার সাথে সাব্বিরের সম্পর্ক শুরু। প্রকৃতির ওই সময়টার ঘ্রানে সে মিরার ঘ্রান খুজে পায়। মিরা কে এই কথা কখনওই বলা হয় নি তার। আজ সাব্বিরের খুব বলতে ইচ্ছে করছে "মিরা হেমন্তের ঘ্রানে আমি তোমার গন্ধ আজো অনুভব করি"।

ব্ল্যাক লেবেল অর্ধেক খালি হয়ে গেছে। তার মানে আজ সাব্বির ভালোই ইমোশনাল।

শিরোনামহীন -


টাকে কোন প্রকার লিখার ক্যাটাগরি তে না ফেললে ভাল হবে।কারন এটা একজন মানুষকে নিয়ে লিখা, যার সম্পর্ক এ আগে আর পরের ধারনা বদলে যাবার।

জসিম ভাইকে আমি কলোনি তে একটু অন্যরকম মানুষ বলে জানতাম। তাই উনাকে এড়িয়ে যেতে চাইতাম। দেখা গেল আমি ইউনুস ভাইয়ের দোকানে গেলাম, উনি বসে আছে দোকানের সামনের জায়গায়। যেই আমি কিছু কিনে চলে যাচ্ছি,অমনি হাত ধরে বলতেন, কিরে, মুশশিদ্দের বদ্দা, কি কিন্নুস দে, তিয়ে তুর লই খতা আছে, দুরর খা।( কিরে মোরশেদের ভাই, কি কিনলি,দাড়া, তোর সাথে কথা আছে।দৌড়ড়াচ্ছিস কেন?) উনার এ ধরনের কথার জন্য আমি অনেক সময় ইউনুস ভাইয়ের দোকানে না গিয়ে অন্য দোকানে যেতাম।

স্বপ্ন সুন্দরী


দোতলার রিমন ভাইদের বাসায় একটা আনন্দলোক এ দেখেছিলাম।তারপর আমাদের বাসার একটা ম্যাগাজিনে। প্রথমে অতটা ভাল লাগেনি। সাল টা ১৯৯১ সালের শেষ দিকে। তারপর আস্তে আস্তে বিভিন্ন ম্যাগাজিনে, রিনিদের বাসার একটা আনন্দ বিচিত্রা তে দেখেছিলাম তার ছবি।তখন বছরের শেষে আমাদের বাসায় ভিসি আর আনলে হিট ছবি গুলো দেখতে পেতাম। ১৯৯২ সালে ডিসেম্বর এ দেখলাম দিওয়ানা ছবিটা। দেখেই ভক্ত বনে গেলাম। এরপর গীত, দিল আশনা হ্যায়,দিল কা কেয়া কসুর।চেহারায় একটা নিষ্পাপ ভাব ছিল। তাই হয়ত ভাল লাগত।

এরপর যেকোন ম্যাগাজিনে তার ছবি খোজা। কলোনি তে বের হলে কলি ভিডিও বা মনিকা ভিডিও তে তাকিয়ে থাকতাম তার ছবির পোস্টার এর দিকে। গেইট এর পাশে ইসলাম এর দোকানে বা ভাই ভাই স্টোরে গেলে তার ছবির ভিউ কার্ড।কিন্তু তেমন একটা পেতাম না। সবাই যখন মাধুরী, শ্রীদেবী বা জুহি চাওলার পেছনে ছুটছে, আমি তখন দিব্য ভারতী র ভক্ত। চাইতাম নায়িকা হিসেবে সে সবাইকে ছাড়িয়ে যাক।

Thursday, April 28, 2016

বেড়াতে যাবো


বেড়াতে যাবো। বউ বেটি সাথে নিয়ে বের হবো। কাজ কর্মের গুলি মারি! আপন মানুষ দের কাছে যাবো। এক কাপ চা হলেও তো খাওয়াবে! আর যায় করুক কাপড় তো খুলে দিবেনা! বেটি আমার মহাখুশি! বাবা,"কাটটি" দিবেনাতো? চুপচুপ করে একা যেওনা, প্লিজ বাবা! যাবোনা মা, প্রমিজ। বেটির মা ঘটনা বুঝার চেস্টা করছে! এই গরমে কই যাবে? মাথা ঠিক আছে তোমার? মাথা এখনো ঠিক আছে, বাকিটা নস্ট করোনা। সমস্যা কি তোমার? নো সমস্যা , বউ বেটি নিয়ে আপনজনদের সাথে চা খাবো। প্লিজ আম্মু, বাবাকে এত প্রস্ন করোনা! সমঝদার বেটি আমার! বাপের মতই হবে। রাতে ঘুমানোর সময় বললাম , বেরাতে যাবো শুনে তুমি খুশি হওনি? সারাফের বাবা ,আজ ৫দিন হয়ে গেছে , তুমি পাক ঘরের লাইটটা চেঞ্জ করনি! কিসের ভিতরে কি!? এখানে পাকঘরের লাইট আসে কোথাথেকে! আল্লাহ এইডা কি মেয়ে মানুষ নাকি মার্গারেট থেচার!?

কেন চোখের জলে ভিজিয়ে দিলেম না
শুকনো ধুলো যত,
কে জানিত আসবে তুমি গো
অনাহুতের মত।

কি কথা তাহার সাথে


আমাদের বিল্ডিং এর দোতলায় থাকতেন ইরফান ভাই।লেখাপড়ায় ভাল কিন্তু কেমন যেন রহস্যময়। উনার সব রহস্য যেন আমাকে দেখলে শুরু করেন।আশেপাশের সবাই উনাকে ভদ্র ছেলে বলেই জানেন।প্রতিদিন সকাল এ আমি যখন স্যারের বাসায় প্রাইভেট পড়তে যাই, উনি তখন ভার্সিটি তে যাবার জন্য বের হয়ে যান।এমন ভাব করেন যেন আমার দিকে তাকাবার কিংবা কেমন আছি জিজ্ঞেস করবার সময় নাই উনার।

উনি বি বি এ র ছাত্র ছিলেন বলে আমি উনার কাছে একাউন্টিং পড়তে চেয়েছিলাম কিন্তু ব্যস্ততা র অজুহাতে আমাকে পড়ান নি।খুব কষ্ট হয়েছিল কিন্তু কাউকে বলিনি।

হঠাত একদিন শুনলাম উনার নাকি খুব অসুখ। দেখতে যেতে ইচ্ছা করছিল কিন্তু উনি যদি খারাপ ব্যবহার করেন কষ্ট পাব,তাই যাই নি। স্যানমারে একদিন আমার বান্ধবী সিমির সাথে ঘুরছি, দেখি ইরফান ভাই রিপোর্ট নিয়ে হাটছেন। সামনে আসতেই জিজ্ঞেস করলাম, কেমন আছেন ইরফান ভাই? আপনার নাকি অসুখ!

মৃত্যু পর্ব ২


ডঃ কাব্য খুবই চিন্তিত 😞 যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে সেটি মারাত্মকভাবে ক্ষতি করতে শুরু করেছে।নাহ,এইভাবে তো চলতে দেওয়া যায় না।ডঃ কাব্য আবার তার ল্যাবে চলে গেলো।বেশ দীর্ঘক্ষণ ধরে তিনি ল্যাবে বসে বসে ভাবছেন,কিভাবে তৈরি করা যাবে এই ভাইরাসটির প্রতিষেধক,কিভাবে বাঁচানো যাবে মানুষ গুলো কে????
(চলবে)

মধুর বিয়ের আগের জীবন পর্বঃ ৬


রজকিনির জন্মদিনে গেলো মধু।মধুর হাতে বিশাল এক বাক্স।রজকিনি এগিয়ে এলো মধুর কাছে,এসেই বক্স নিয়ে দিলো দৌড়।মধু চলে এলো।রজকিনি তার এলোকেশী চুল গুলো সরিয়ে বক্স টি খুলতে গেল।প্রবল আগ্রহ নিয়ে রজকিনি বক্স টি খুলল।বক্স খুলেই রজকিনি তো বেহুশ।বাক্সের ভিতর ছিলো ক্যাটভেরি আর চিপস।রজকিনি কল্পনাও করতে পারে নি যে তার চির শত্রু তাকে এই ধরনের উপহার দিবে।অথচ রজকিনি মধুকে মধুর জন্মদিনে একগাদা জুতোর ফিতে উপহার দিয়েছিলো।সেই থেকে রজকিনি মধুর প্রেমে পড়তে লাগল।অপরদিকে মধুর বাবার সাথে কি একটা বিষয়ে মধুর ঝগড়া লাগল।মধুর ফুফি এইসব সহ্য করতে না পেরে মধু ও তার বোন কে তাদের বাসায় নিয়ে আসল .........
(চলবে)

গতকাল দুপুরে বাবার ফোন, নিডোকার্ড স্প্রে


গতকাল দুপুরে বাবার ফোন, নিডোকার্ড স্প্রে( বুকে জ্যাম লাগলে স্প্রে করতে হয় জিহবার নিচে) আগেরটা শেষ আরেকটা যেনো আমি অফিস ফেরাতে নিয়ে আসি।পুরো আগ্রাবাদে খুঁজে না পেয়ে শেষে বড়পুলে পেলাম।বাসায় যাওয়ার পর বাবা বলল দুপুর থেকে বুকে ব্যাথা, বুক জ্যাম হয়ে আছে।প্রথমে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা ভেবেছিল।স্প্রে দুইবার দেওয়ার পরেও যখন বুকের জ্যাম চলমান,ফোন দিলাম বাল্যবন্ধু মুরাদ কে।মুরাদের পরামর্শেই কাছের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ইসিজি করলাম,মুরাদ আসলো,দেখলো ইসিজি রিপোর্ট (হার্ট রেট ১৯৮,নরমাল থাকে সাধারনত ৬০-৯০)।সেখানে বমি করলো এক দফা।মুরাদের পরামর্শে দ্রুত চিটাগাং মেডিকেলে গেলাম ইমার্জেন্সীতে,এক পিয়ন সপ্রনোদিত হয়ে কুপন নিয়ে ইমার্জেন্সী ডাঃ এর কাছে ইসিজি রিপোর্ট নিয়ে গেলো, ডাঃ দ্রুত ভর্তি হতে বলল।সেই পিয়ন স্ট্রেচারে করে সিসিইউ তে নিয়ে গিয়ে সেখানে আরেক দফা ইসিজি করা হলো,তারপর সব রিপোর্ট নিয়ে ডিউটি ডাঃ এর কাছে নিয়ে গেলো,সেই পিয়ন ঔষদের লিষ্ট নিয়ে আমাকে দিয়ে বলল ১০০ টাকা দেন আর এই ঔষধ গুলো নিয়ে আসেন।প্রথমে ভাবলাম ১০০টাকা কোন কাজে হয়তো কিন্তু পরক্ষনে তার বিদায়ে বুঝে নিলাম তার সপ্রনোদিত কাজের টিপস।মনে মনে ভালোই লাগলো,কারন আমার জীবনে সরকারী মেডিকেলে এই প্রথম ইমার্জেন্সি রোগীকে ভর্তি করানোর অভিজ্ঞতা।আর এই ব্যাপারটা শেয়ার করার উদ্দেশ্যে একটাই যারা আমার মত এই প্রথম তাদের জন্য কিছু জানানো।আসলে চিন্তা করে দেখুন আমাদের বাবা চাচারা বড় অসুখের চিকিৎসা মানেই বুঝত এই চিটাগাং মেডিকেল।

সম্ভবত ১৯৮৫


সম্ভবত ১৯৮৫। এশিয়াকাপ হকি হচ্ছে ঢাকায়। সেই ধাক্কাটা চইকা কলনীতে না লেগে পারে? C-টাইপ মাঠে ফুটবল, ক্রিকেট উধাও। সবার হাতে হকি স্টিক। বড়রা C-টাইপ বড় মাঠে আর আমরা C-10 বা C-11 এর সামনে। এক এক জনের স্টিক বাননোর কৌশলগুলার কথা মনে পড়লে......। একটা মাত্র অরিজিনাল স্টিক ছিল ইকবাল ভাই এর কাছে। বাবু ভাই, স্বপন ভাই ওটা দিয়ে খেলতেন।

সবাই স্টিক নিয়ে ঘুরে, আমরা কি বসে থাকব?

দুলি, আমি, ভুতের ডিম বাবু প্লানিং এ বসলাম। সিদ্ধান্ত হল জেক্সের পাশে যে কাঠের সপ ছিল ওটাতে অপারেশন চালাব। ওখান থেকে আগেও ক্রিকেটের স্ট্যাম্প বানানোর জন্য কাঠ চুরি করছি। তবে সেগুলা B-টাইপের ভিতর দিয়ে ঢুকে জানালা খুলে। বন্ধ জানালার ছিটকারি খুলার অভিনব কায়দা দুলির ভালই জানা ছিল। কাজ শেষে আবার তা লাগিয়েও দিতে পারত। কিন্তু এবার অপারেশন করব নানার সামনে দিয়ে। (নানার কথা মনে আছে?)। প্লান হল, দুই জন নানার সাথে কথা বলে মনযোগ অন্য দিকে নিয়ে যাবে আর বাকিরা কাজ সারবে। যেই চিন্তা সেই কাজ। কাজ শেষে নানার হইচই আর পেছন থেকে এরই এরই....। ঐ অপারেশনে আমরা তিনজন ছাড়াও আরো কয়েকজন ছিল। নামগুলা মনে করতে পারবনা। বয়স হইছে না?

একবার চিটাগাং ইউনিভার্সিটির ট্রেনে করে ভার্সিটি যাচ্ছিলাম আমরা কয়েক জন


একবার চিটাগাং ইউনিভার্সিটির ট্রেনে করে ভার্সিটি যাচ্ছিলাম আমরা কয়েক জন।।তো আমরা যে বগিতে ছিলাম ওখানে কিছু ছাএ এবং ছাত্রী ছিল।।সেই সাথে একজন বয়স্ক লোকও ছিল তাঁদের পাশে।।একদম রবি বাবুর মতো গোফ-দাঁড়ি ওয়ালা।।তো হঠাৎ তাঁদের মধ্যে একজন প্রশ্ন করলো:-দাদু কেমন আছেন??উওরে বললো ভাল আছি এবং বললো পাঁজির দল আর একটাও প্রশ্ন করবে না বলেই আমাদের পাশে দাঁড়ালো।।আমরা তো অবাক।।ভাবছিলাম কি ব্যাপার ওনাকে কুশল বিনিময় করলো আর ওনি এমন আচরণ করলো কেন!!??তখন আর একজন জিজ্ঞাসা করলো দাদু ভাত খাইছেন??উওরে বললো খেয়েছি।।আর একজন বললো কোন দিক দিয়ে খেয়েছেন??ওনি বিরক্ত হয়ে বললেন এবং দেখালেন ((পায়ু রাস্তা))দিয়ে খাইছি।।আর একজন বললো তো আলু ভর্তা কোন দিক দিয়ে খান??
ভদ্র লোক রেগে গিয়ে বলতে থাকলেন এই বদ্-হারামি গুলারে কে ভার্সিটিতে জায়গা দিছে!!!বলে চিৎকার চেচামেচি করে অন্য পাশে চলে গেল।।

আর আমরাও তখন বুঝতে পারলাম কুশল বিনিময়ে ওনি কেন এমন আচরণ করেছিল।।

রাত গভীর


রাত গভীর। বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করছে সাব্বির, কিন্তু ঘুম বাবাজির কোন খবর নাই। আসবে কিভাবে ঘুম? তার মত এ অবস্থায় পড়লে হিটলারের মত পাবলিকই কাঁত হয়ে যাওয়ার কথা। আর সাব্বির তো সে তুলনায় এরশাদ কাকু টাইপ নীরিহ রোমান্টিক মানুষ। যার হৃদয় মন প্রেম টার্গেট প্রাকটিসের জন্য নির্ধারিত। এ জ্ঞান টুকু হওয়ার পর থেকে সে প্রেমে পড়ছে আর ছ্যাকা খাচ্ছে। শৈশব কালে যে সব ছ্যাঁকা খেয়েছে তার সবই মনে মনে। যেমন লাইফের পয়লা ছ্যাকা খেয়েছে ইন্ডিয়ান এক নায়িকার প্রেমে পড়ে। ইউনিভার্সিটি লেভেলে যে ছ্যাকা খেয়েছে সেটা একেবারে উঁচুমানের ছ্যাঁকা, তিন বছর মিরার সাথে একেবারে খুল্লাম খুল্লাম প্রেম করার পর দেখল মিরা বিবির নজর সাত আসমানের চেয়ে উঁচুতে।। সে সাব্বিরের মত মিডল ক্লাস ফ্যামিলির ছেলের সাথে তিন বছর চুটাইয়া প্রেম করলেও বিয়ের ব্যাপারে ”কাভি নেহি কাভি নেহি” সিচুয়েশন। সেই বোল্ড আউটের পর থেকে সাব্বির আর ওই পথে যায়নি। 

ভেজাল লাগলো চাকুরীতে আসার পর। সাব্বির এখনো কনফিউজড এটা কি রান আউট না নাকি ওভার শেষ।মানে ছ্যাক খেয়েছে নাকি খায়নি, এ চিন্তায় তার রাতের ঘুম হারাম ।ঘটনার শুরুটা হচ্ছে মাস ছয়েক আগের, তখন সাব্বিরের চাকরীর বয়স প্রায় তিন বছর।ততদিনে চাকরীর প্রতি তার পুরা অরুচি চলে এসেছে, এ কয়েক দিনে সাব্বির বুঝে গেছে চাকরী হচ্ছে শিক্ষিত দাস। এই যখন সাব্বিরের মরুভুমি অবস্থা ঠিক তখনই তাদের অফিসে রুনি নামে ”চোখ ফেরানো যায়না” টাইপ এক মেয়ে ইন্টার্নি করতে এলো। সাব্বিরের মনেতো এরশাদ কাকু উঁকি দিচ্ছে। মনটা যেন কেমন কেমন করে উঠলো। এমন মেয়ের সঙ্গী হতে না পাড়লে তো মনে হচ্ছে জীবন বৃথা।রুনি ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন মেয়ে , তার চার পাশে ব্যাক্তিত্বের এক অদৃশ্য বাউন্ডারী তুলে রেখেছে। সাব্বিরের এরশাদীয় হৃদয়ও সেখানে যেতে পারছেনা।

আজ আমি মোমিন চাচাকে নিয়ে লিখবো


আজ আমি মোমিন চাচাকে নিয়ে লিখবো। জানি না কলোনিতে থাকতে আমাদের সময়কার কয়জন উনাকে চিনত কিন্তু উনার অসাধারন ব্যক্তিত্ব আর হাসিখুশি মন মানসিকতার কারনে খুব অল্প সময়ে অগনিত স্টিলারের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছিলেন, অফিসারস ক্লাব নিয়ে উনার কিছু পদক্ষেপ আসলেই প্রশংসনীয় ছিল।

যাক গে সে কথা, আমি বলবো শুধু আমার কথা। 

একবার ক্লাবের এক প্রোগ্রামে আমাকে তবলা বাজাতে বলেছিলেন চাচা, সময়টা ছিল প্রায় এখনকার মতো প্রচন্ড গরম। প্রোগ্রাম শেষে ছিল খাওয়া দাওয়ার অস্থির আয়োজন। একদিকে গরম অন্যদিকে পোগ্রামের ক্লান্তি, তার উপর TV তে কি যেন একটা জনপ্রিয় সিরিয়াল চলছিল, তাই প্রোগ্রাম শেষে না খেয়ে, আমি কাউকে কিচ্ছু না বলে সোজা বাসায় চলে এলাম। আমার বিল্ডিয়েই ছিল উনার এক কলিগের বাসা, এই গরমে মোমিন চাচা নিজে না খেয়ে ওই কলিগকে সাথে নিয়ে হেঁটে হেঁটে বিরানির প্যাকেট নিয়ে আমার বাসায় হাজির, ঘেমে পুরা লাল হয়ে গেছে। আমারে বললো ,”বাপ আমার ভুল হইছে, প্রোগ্রামের শেষে আমি তোর সাথে, কোনো কথাই বলতে পারিনাই, যেহেতু অনেক গুলা দায়িত্ব নিয়ে আমি হিমশিম খাচ্ছিলাম, তুই কিছু মনে করিস না”, লগে কড়করা একটা পাঁচশ টাকার নোট হাতে গুজে দিল। আমি পূরা বেকুব, কিরে এইডা কি হইলো? আমার বাপ মা তো আমার উপর চরম ফায়ার, অসম্ভব রাগারাগি করছে, কিন্তু আমিতো ঘোরের মধ্যে ছিলাম, চাচা এটা কি করলো, এতটা সন্মান, তাও আবার আমার মতো মগারে!!!!!!!!!!!!

Wednesday, April 27, 2016

ইচ্ছে


আবার যদি কলোনি লাইফ ফিরে পাই, তাহলে কি করব।বন্ধু দের অনেক সময় দেব। হুম,মানিক, সুজন, সালাউদ্দিন, আসিফ, রাফি, আফরোজ, রনবীর সহ অন্য বন্ধুদের সময় দেয়া উচিত ছিল।কিন্তু দেয়া হয়নি।মনে হত স্কুলে এত সময় একসাথে কাটাই আবার আলাদা করে কেন।তাছাড়া নিজের চারপাশে একাকীত্ব এর দেয়াল তুলে সবার কাছ থেকে আলাদা করে রাখতাম। যখন আমার ক্লাসের বন্ধুগুলো একসাথে হতে শুরু করল, ঘনিষ্ঠতা বাড়তে শুরু করল,তখন আমি কলোনি থেকে চলে আসলাম।

বন্ধুরা একসাথে হলে তাদের মধ্যে কি আলাপ হয়, একসাথে সময় কাটাতে কেমন লাগে এইগুলো আমার কোনদিন জানা হয়নি।জানা হয়ত আর হবেনা।

তবে স্কুলে থাকতে আমার মনে হত সবাই আমাকে তেমন পছন্দ করে না।কিন্তু যতদিন গিয়েছে, আমার ধারনা যে ভুল, তা প্রমানিত হয়েছে।দূরে গিয়েও যে তারা আমাকে ভুলে যায়নি বরং শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে তাদের কোন তুলনা হয়না তাই মনে হয়েছে।তাই কলোনি লাইফ ফিরে পেলে ওদের সাথে সময় কাটাতে চাই

১০০ তে আশিও না


আমি নিজেও জানতাম না কখন এত লিখা লিখে ফেলেছি।হয়ত সুজন না বললে কোনদিন জানাই হত না। আতিক ভাইয়ের মত এত লেখার বিষয় আমার মাথায় আসে না। তাই পারিনা।তাছাড়া পেশাগত ব্যস্ততা ত আছেই।আছে আশেপাশের মানুষগুলোর প্রতি দায়িত্ব। নিজের জন্য সময়।এত কিছুর ভীড়ে কখন যে এত গুলো লিখে ফেলেছি বুঝতে পারিনি।

আগে লিখতাম বিভিন্ন স্মৃতি চারন মুলক লিখা।তারপর এল বিশেষ কাউকে নিয়ে লিখা।এরপর ইদানীং ছবি মানে কলোনি র বিভিন্ন ছবি দেখলে মনে পড়ে লিখার বিষয় এর কথা।।

তবে এই লিখা কলোনি আর তার মানুষগুলো র প্রতি ভালবাসা, আন্তরিকতআ আর দায় বদ্ধতা থেকে।

বিদায় বেলা


স্কুলে প্রতিবছর এস এস সি পরীক্ষা যারা দিবেন, সেই ভাই বোন দের বিদায় দেয়া হত। এইজন্য আমাদের ছোটদের কে অল্প টাকা দিতে হত।প্রয়াত হামিদ স্যার ভয় দেখাতেন, যারা টাকা দিবে না, তাদের কে বিদায় দেয়াহবে না।এই ভয়ে আমি প্রতি বার বিদায়ের জন্য নির্ধারিত চাদা দিতাম।

বিদায়ি ভাই বোন দের হাতে ফুল আর উপহার তুলে দিতেন ১০ ম শ্রেনীর ভাই বোনেরা।মনে মনে ভাবতাম আমি কবে ওদের মত বিদায়ি ভাই বোনদের হাতে উপহার তুলে দেব কিংবা তাদের উদ্দেশ্য এ বক্তব্য রাখব। 

কিন্তু আমার সেই চাওয়া অপূর্ণ থেকেই গেছে।আমি বিদায়ী ভাই বোনদের হাতে ফুল বা উপহার তুলে দিতে পারিনি।আবার নিজেও কোন প্রকার বিদায় পাইনি। এ নিয়ে আফসোস হল আসলে এই অনুভুতি গুলো কখনোই আর পাওয়া হবে না। কারন সেই সময় বা বয়স কোনটাই আর নেই