কলোনিতে সবচেয়ে বেশি ডাব গাছ
ছিলো কাশেম আঙ্কেলের
(যাকে আমরা সুদি
কাশেম হিসেবে চিনি),
বেশিরভাগ গাছ তিনি
নিজেই লাগিয়েছিলেন এবং তার
হাতের উপরেই বড়
হয়েছিলো, তবে
আমার মনে হয়
তিনি তার লাগানো গাছের ২০ % এর
বেশি ভোগ করতে
পারতেন কিনা সন্দেহ আছে। আঙ্কেলের স্ত্রী আমরা
নানি বলতাম, নাকি
আন্টি বলতাম মনে
করতে পারছি না,
উনি সম্ভবত অসুস্থ ছিলেন, তাই ওনাকে দেখলে
অনেক বয়স্ক মনে
হত, কানে
ভালো শুনতেন না,
তার সাথে জোরে
জোরে কথা বলতে
হত, চোখেও
ভালো দেখতে পেতেন
না, দিনের
বেলাতেও পাশে দাঁড়িয়ে থাকলে বা দুষ্টামি করলেও চিনতে পারতেন না
কে করছে !!! জিজ্ঞেস করতেন,
“ ওডা তুই কার
ফোয়া “
আমাদের এই গ্রুপ টা হচ্ছে আমাদের কলোনীর মিলন মেলা, প্রাণের স্পন্দন, আমাদের সুখ দু:খ, প্রেম ভালোবাসা, হাসি আনন্দ, মজার সব অভিজ্ঞতা একে অপরের সাথে শেয়ার করার মাধ্যম। তবে এসব শেয়ার করতে গিয়ে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যে, কোন নেগেটিভ বিষয়ে, বা কারও কোন দুর্বল বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে যেন সরাসরি কারো নাম প্রকাশ না পায়, আমরা কারো নাম দিয়ে এমন কিছু প্রকাশ করবনা যাতে করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিব্রত হয়, আমাদের জুনিয়র সিনিয়র সকলের অনুভূতি ও সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধা রাখব। অশ্লীল যেকোন কিছু পোষ্ট করা থেকে বিরত থাকব।
Monday, September 21, 2015
রিমন ভাই (93 Batch)
কলোনি তে শীতকালে সবার যখন পরীক্ষা শেষ হয়ে যেত,তখন অনেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেত। তেমনি আমাদের দোতলার রিপা আপারা সবাই বাড়িতে চলে গেল আর বাসায় রেখে গেল ওনার ভাই রিমন আর ওনার এক মামাকে।একদিন রাতের বেলা। দশটা হবে। রিমন ভাই লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে গেছেন।দরজা জানালা সব বন্ধ করে।ওনার মামা তখন ফিরেন নাই বাইরে থেকে।যখন ফিরলেন তখন হাজার ডেকেও দরজা খুলাতে পারছেন না। কলিং বেল নষ্ট। ধাক্কা দেয়ার পর এক সময় দরজা খুলে গেল।কিন্তু প্রথম রুমে রিমন ভাই শুয়ে আছেন এবং ওই রুমের দরজায় ছিটকিনি লাগানো।ওনার মামা তখন আমাদেরকে ডাকলেন।আমরাও রিমন ভাইকে চেঁচিয়ে ডাকতে লাগলাম।এ যেন কুম্ভকর্ণ এর ঘুম।কিংবা ঘুমন্ত রাজকন্যা র ঘুম।মাথায় কিছু আসছেনা কিভাবে ওনাকে ঘুম থেকে তুলব।ওই সময় দুলি ভাই কি কারণে যেন আমাদের বিল্ডিং এ আসছেন। উনি তখন জানালার কাচ একটু করে ভেংগে ছোট ছিদ্র করলেন। তারপর সেই ছিদ্র দিয়ে রাজপুত্রের মত লাঠি (সোনার কাঠি) ঢুকিয়ে গুতা দিয়ে রিমন ভাইকে ঘুম থেকে তুললেন।পুরো ব্যাপার টা বুঝতে রিমন ভাইয়ের সময় লাগল। যখন বুঝলেন তখন উনি ডালিমের দানার মত লজ্জায় লাল হয়ে গেছেন।
Sunday, September 20, 2015
জরুরী বিজ্ঞপ্তি
জরুরী বিজ্ঞপ্তি
আসন্ন কোরবানিরকে সামনে রেখে আমাদের দু’জন সদস্য মহা ধরা খাইয়াছে। যাহারা নিজেরা গরু খাইতে পারিবে না বলিয়া গরুর গোস্ত সম্পর্কে নানা রকম কুৎসা রটাইতেছে এবং গোস্ত না খাওয়ার জন্য নানা রকম উপদেশ দিয়া বেড়াইতেছে। ইহাদের একজন হইতেছে নীরু এবং অপরজন হইতেছে শিমু। এইরূপ মানুষদের থেকে সকলেই সতর্ক থাকুন। তাহাদের এহেন ষড়যন্ত যেহেতু ধরা খাইয়া গিয়াছে তাই এর পুরস্কার স্বরূপ নিম্নে উল্লেখিত প্রাণীটি তাহাদের দু’জনকে দেওয়া হইল যাহাতে তাহারা ভবিষতে এরূপ কাজ হইতে বিরত থাকে।
পুন: তাহাদের উভয়কে কার্গো বিমানে করিয়া প্রণীটি নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হইলো। অন্যথায়.......এই প্রানী তাহাদেরকে গুতাইলে আমি দায়ী নই...............আমিন..
কাশফুল মেয়ে
- Moin Khan
কাশফুল মেয়ে
(২৯শে এপ্রিল জলচ্ছোসে নিহতদের স্বরনে)
---------------মঈন খান।
সময়ের হিসাব ভুলে
শরতের আজ সকালে ঝড়!
কাশফুল, কাশবন সব তছনছ।
চুপচাপ চারদিক ঝুর ঝুরে বৃষ্টি।
অসময়ের বৃষ্টি
মুখোমুখি বসিয়ে দেয় তার--
আরব মেয়েদের মতো
পিঙ্গল বর্ণের চোখ ছিল যার।
মাথায় (!)
বড় দু’টো খোপা ছিল বাঁধা।
হাতে ছিল কাশফুল একগাছি।
নোনা মাটির সমুদ্রের গাঁয়ে
কোথা থেকে পেয়ে ছিল কাশফুল, কে জানে ?
যেতে যেতে কাশফুলে মুখ ঢেকে
আড়চোখে—চোখাচোখি
হেসে দিয়ে তার পালিয়ে বাঁচা।
কথা(?) শুধু ঐ টুকু তার সাথে।
আমরা ছিলাম সমুদ্র পাড়ের
কোন এক ভারী ইস্পাত মিলের
শ্রমজীবি মানুষের ছেলে মেয়ে।
কাশফুল মেয়ে
(২৯শে এপ্রিল জলচ্ছোসে নিহতদের স্বরনে)
---------------মঈন খান।
সময়ের হিসাব ভুলে
শরতের আজ সকালে ঝড়!
কাশফুল, কাশবন সব তছনছ।
চুপচাপ চারদিক ঝুর ঝুরে বৃষ্টি।
অসময়ের বৃষ্টি
মুখোমুখি বসিয়ে দেয় তার--
আরব মেয়েদের মতো
পিঙ্গল বর্ণের চোখ ছিল যার।
মাথায় (!)
বড় দু’টো খোপা ছিল বাঁধা।
হাতে ছিল কাশফুল একগাছি।
নোনা মাটির সমুদ্রের গাঁয়ে
কোথা থেকে পেয়ে ছিল কাশফুল, কে জানে ?
যেতে যেতে কাশফুলে মুখ ঢেকে
আড়চোখে—চোখাচোখি
হেসে দিয়ে তার পালিয়ে বাঁচা।
কথা(?) শুধু ঐ টুকু তার সাথে।
আমরা ছিলাম সমুদ্র পাড়ের
কোন এক ভারী ইস্পাত মিলের
শ্রমজীবি মানুষের ছেলে মেয়ে।
ফেচবুক নিরাপত্তা
- Pulak
আজকাল প্রায়ই ই-মেইল ঠিকানা, ফেসবুক পরিচিতি (আইডি) হ্যাকড (বেদখল) হওয়ার কথা শোনা যায়। আপনি হয়তো অনেক দিন ধরে ফেসবুক ব্যবহার করেন। ফেসবুকে আপনার অনেক ছবি, তথ্য ও বন্ধুরা আছে। কিন্তু আপনার ফেসবুক আইডি যদি হ্যাকড হয়ে যায়, তখন সবকিছুই হারিয়ে যাবে। যাঁরা হ্যাকিংয়ের কবলে পড়েছেন, তাঁদের ভালোই জানা আছে, তখন কী সমস্যায় পড়তে হয়। তবে কিছু পন্থা অবলম্বন করে আপনি খুব সহজেই ফেসবুকে আপনার অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়াতে পারেন। এতে হ্যাকিংয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে এবং হ্যাকড হলেও আপনি আপনার ফেসবুক আইডি পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।
আজকাল প্রায়ই ই-মেইল ঠিকানা, ফেসবুক পরিচিতি (আইডি) হ্যাকড (বেদখল) হওয়ার কথা শোনা যায়। আপনি হয়তো অনেক দিন ধরে ফেসবুক ব্যবহার করেন। ফেসবুকে আপনার অনেক ছবি, তথ্য ও বন্ধুরা আছে। কিন্তু আপনার ফেসবুক আইডি যদি হ্যাকড হয়ে যায়, তখন সবকিছুই হারিয়ে যাবে। যাঁরা হ্যাকিংয়ের কবলে পড়েছেন, তাঁদের ভালোই জানা আছে, তখন কী সমস্যায় পড়তে হয়। তবে কিছু পন্থা অবলম্বন করে আপনি খুব সহজেই ফেসবুকে আপনার অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়াতে পারেন। এতে হ্যাকিংয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে এবং হ্যাকড হলেও আপনি আপনার ফেসবুক আইডি পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।
রিপোর্ট কার্ড
- Simka
অবশেষে রিপোর্ট কার্ড খানা আপ লোড করিলাম । ক্লাস ১-৯ পর্যন্ত খুঁজিয়া পাইয়াছি । কিন্তু দিলাম ক্লাস এইটের টা । কারন টা কি ??
অবশেষে রিপোর্ট কার্ড খানা আপ লোড করিলাম । ক্লাস ১-৯ পর্যন্ত খুঁজিয়া পাইয়াছি । কিন্তু দিলাম ক্লাস এইটের টা । কারন টা কি ??

একদিন পৃথিবীর সব কবি ধর্মঘট করবে
রেজা ভাই ঘোষণা দিয়েছেন আজ কবিতা দিবস। কবিতার স্রষ্টা কবি। কবির অধিকার পুরন না হলে কবিতা আসবেনা। তাই কবির অধিকার নিয়ে একটি কবিতা। এটা অনেক আগে লেখা। আমার খুব প্রিয় কবিতা।।
--------------------------------------------------------------------------------------
একদিন পৃথিবীর সব কবি ধর্মঘট করবে
---------------------------------------
একদিন পৃথিবীর সব কবি ধর্মঘট করবে
সেদিন কবিতার খাতা হবে পঙক্তিশুন্য
যত কাব্যগ্রন্থ সব হয়ে যাবে সাদা কাগজ।
কবিরা সেদিন তাদের দাবী জানাবে।
কবিকে দিতে হবে অবাধ বিচরণের স্বাধীনতা।
হোটেল,রেস্তোরা,খেলার মাঠ,পতিতা পল্লী
কবির আগমনে অভ্যর্থনা জানাতে বাধ্য থাকবে।
দিতে হবে সর্বোৎকৃষ্ট সেবা।
টিউশনির অভিজ্ঞতা
টিউশনির অভিজ্ঞতাঃ আমার জীবনের প্রথম টিউশনি করি কলোনির একটি বাসায় সকাল সাতটায়।প্রথম দিন সকালে সকালে পড়াতে গেলে যথারিথী নাস্তা হিসাবে দেওয়া হয় দুটি বেলা বিস্কুট আর চা।আমিও তা খেয়ে নিলাম।তারপর দিন তিনটি বেলা এবং চা।তাও তিনটি বেলা চা খেয়ে ফেললাম।এর পর দিন চারটি বেলা ।তাও খেয়ে ফেললাম।এর পরদিন দেখি চাও নেই, বিস্কিট ও নেই।
ষ্টিলার.....
ষ্টিলার.....
আমরা
নবীন আমরা প্রবীণ
আমরা
ষ্টিলারের দল,
দুর
প্রভাসে বাস করে
ভাংছে
মনোবল ।
হরেক
রকম মানুষ ছিলাম
অনেক
রকমের আশা,
সব
কিছু ভাংছে ঐ
সি.ভি.এ
শালা।
(বিঃ দ্রঃ প্রবাসীদের জন্য)
CSM এগিয়ে যাচ্ছে
CSM
এগিয়ে যাচ্ছে !!! ভাবতে ভালোই
লাগে, লুকিয়া থাকা প্রতিভা দেখে আমি
বিস্ময়ের সাথে মুগ্ধ
!! সবাই কবিতা লিখছে,
তাহলে আমি কেন
লিখবো না? দিনের
শুরুতেই মনে মনে
সিদ্ধান্ত নিলাম, আমিও
কবিতা লিখবো !!!
আমি
খুবই লজ্জিত এবং
খুশি, সারাদিনের চেষ্টার ফল হিসাবে আমি অবশেষে একটা কবিতা
লিখতে সমর্থ হয়েছি
!! অতএব এখন আমি
একটি কবিতা বলব,
কবিতার নাম, দুই
ফোটা জল,
"
টুপ...টুপ
!!!"
কবিতাটি যদি আপনাদের মন ছুয়ে
যায় তাহলে লাইক
বাটনে ক্লিক করুন
!!
আর
যদি কবিতাটি আপনাদের মন ছুয়ে না যায়
তাহলে লাইক বাটনে
বাড়ি মারুন !!
Saturday, September 19, 2015
শুভ সকাল CSM
শুভ সকাল csm.
টলি ভাই,রেজা ভাই,আতিক ভাই,রাসেল,জাবেদ এই সিএসএম এ লিখে সবাই কেএকএিত করে ফেলেছে।আমার মনে হয় এই গ্রুপে যারা আছে সবাই লেখা গুলো পড়ে,কেউ কমানট করে কেউ লাইক দেয়।বাকি সবার ইচছা আমি ও মনের কথা লিখি।আবার মনে করে লেখা পড়ে যদি সবাই কিছু মনে করে।গত শুঞবার নাজমুল ভাই বলল আমি ঠিক মত লেখতে পারি না আমি শুধু লাইক আর মাঝে মাঝে কমানট করব।অতচ সেই দিন নাজমুল ভাই এর একটা লেখা সবার আবেগ সৃষ্টি করে,বেশীর ভাগের চোখে জল চলে আসে।
টলি ভাই,রেজা ভাই,আতিক ভাই,রাসেল,জাবেদ এই সিএসএম এ লিখে সবাই কেএকএিত করে ফেলেছে।আমার মনে হয় এই গ্রুপে যারা আছে সবাই লেখা গুলো পড়ে,কেউ কমানট করে কেউ লাইক দেয়।বাকি সবার ইচছা আমি ও মনের কথা লিখি।আবার মনে করে লেখা পড়ে যদি সবাই কিছু মনে করে।গত শুঞবার নাজমুল ভাই বলল আমি ঠিক মত লেখতে পারি না আমি শুধু লাইক আর মাঝে মাঝে কমানট করব।অতচ সেই দিন নাজমুল ভাই এর একটা লেখা সবার আবেগ সৃষ্টি করে,বেশীর ভাগের চোখে জল চলে আসে।
আমাদের এমরান ভাই
Mahabub Rashel বলাতে আমাদের এমরান ভাইয়ের কথা মনে পড়লো। এমরান ভাই ছেলেছোকরাদের নিয়ে মাঠে বসে নিজের বীরত্বের কাহিনি শুনাচ্ছে। এমরান ভাইয়ের মুখেই শুনি বাকিটা......
একদিন আমি আমার হোন্ডাটা নিয়ে লাঙ্গামাটি যাইতেছিলাম। লাঙ্গামাটির রাস্তা খুব ডেয়ারিং। কাবিল না হলে ওখানে কেউ হোন্ডা চালাতে পারেনা। রাস্তাগুলা এমন উঁচুলে উঠে যে প্লেন উড়ি যাওয়ার সময় হরন দিতে দিতে যায়। সেইদিন আমি এরকম একটা রাস্তা দি উঠতেছিলাম। আমার সামনে একটা বেবি ট্যাক্সি। বেবি ট্যাক্সিটা আমাকে সাইড দেয়না। আমি পিত পিত করি হরণ দিতেছি তবু সাইড দেয়না।
ভয়ংকর স্মৃতি
কোরবানি ঈদ, ঈদের অনেক আগে থেকেই ঈদ আনন্দ শুরু হয়ে গেছে কারন ঈদের গরু কেনা হয়ে গেছে। সেই গরু কে ঘিরেই ঈদ আনন্দ শুরু। আমার আব্বা, আজিজুল হক চাচা(পলাশ ভাইয়ের আব্বা), মহসিন চাচা(লিনা আপার আব্বা) রা মিলে ভাগে কোরবানি দিতেন। আমাদের আবদার থাকতো ষাঁড় গরু কিনার যাতে করে গরু ফাইট লাগাতে পারি।আব্বা,চাচারা আমাদের হতাশ করতেন না কলোনীর সেরা ফাইটার গরু টাই কিনতেন কোরবানীর জন্য। সেই বার ও কিনেছিলেন খুব রাগী আর তেজী একটা গরু সেটাকে নিয়ে আমদের আনন্দের সীমা নাই গরু কে মালা জরি দিয়ে সাজানো মারামারি লাগানো এই করতে করতে ঈদের দিন এসে গেলো। সবাই নামাজ পরে এসেছে এখন গরু কোরবানি হবে সবাই মিলে গরুটাকে বেধে শুইয়ে ফেলেছে ইমাম সাহেব তৈরী জবাই করার জন্য, গরুর গলায় ছুরি চালানো হলো কিন্তু অর্ধেক জবাই হতেই গরুটা প্রচন্ড শক্তি দিয়ে ঝাকি মেরে সবাইকে ফেলে দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলো সে এক ভয়ংকর দৃশ্য, অর্ধেক জবাই হওয়া গরু দাঁড়িয়ে আছে তার গলা দিয়ে গলগল করে রক্ত পরছে আর সে সব মানুষের দিকে ভয়ার্ত চোখে তাকাচ্ছে, সবাই ধরধর বলছে কিন্তু কেউ আর ধরতে সাহস করছে না, কিছুক্ষণ পর একাই গরুটা পরে গেলো তারপর তাকে ভাল ভাবে জবাই করা হল। আমি এই দৃশ্য দেখে এতোটাই আতংকিত হয়ে পরেছিলাম যে মাঝে মাঝে ঘুমের ঘোরে ওই ভয়ংকর দৃশ্য স্বপ্ন দেখতাম।
মাসুক ভাই
মাসুক ভাই, তখন আমাদের দোতলায় থাকতেন।সারাদিন ওনার কাছে ছেলে মেয়েরা পড়তে আসত। ওদের জুতায় ভরে যেত মাসুক ভাইদের দরজার সামনের জায়গাটা। মাসুক ভাই উনার ছাত্র ছাত্রী দেরকে তুই করে বলতেন।উনি সবাইকে মনে হয় নিজের ছোট ভাই বোনের মত দেখতেন।তবে এটা নিয়ে ছেলেরা কিছু না বললেও কিছু কিছু আপুদের খুব আপত্তি ছিল।একদিন উনারা বলতেছেন এভাবে, "আচ্ছা মাসুক ভাই আমাদেরকে তুই তুই করে বলেন কেন? আমরা এখন কলেজে পড়ি। বড় হয়ছি না! তখন আরেক আপু উত্তর দিলেন,আসলে উনি তুই তুই করে বলে বোঝাতে চান যে কোন আমাদের প্রতি ওনার কোন দুর্বলতা নাই।" আরো খারাপ ভাবে বলছিল।আমি সেন্সর বোর্ড এ কেটে দিছি।সরি মাসুক ভাই। কলোনি র অনেক গুলা আলোচিত বিষয়ের মধ্যে আপনার তুই করে বলাটাও একটা বিষয় ছিল
যুগযুগ বেঁচে থাকুক জেকস আমাদের সবার মাঝে
জেকস সিএসএম কলোনীর এক ঐতিহাসিক স্থান। কম বয়সে সেখানে যেতাম শুধু কিছু কেনার প্রয়োজনে আর ঈদের দিনে দলবেধে কোক খাওয়ার জন্য ( তখন কোক আমাদের কাছে খুব বিলাসী সামগ্রী ছিলো)। একটু বড় হওয়ার পর সেখানে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেওয়া শুরু, প্রখম দিকে জেকসের সামনের বেঞ্চ পর্য্যন্ত ছিলো আমাদের আড্ডার সীমানা, ধীরে ধীরে আমরা বড় হচ্ছি আমাদের আড্ডা ও জেকসের ভিতরে সেই লাল রংয়ের রেক্সিনের সোফায় বসে দেওয়ার অধিকার ও পাচ্ছে। জেকসের পিছনে একটি খুপরি ঘরের মত ছিলো ওখানে হিটারে কাষ্টমার দের জন্য চা বানানো হতো আর এক পাশে একটু সিনিয়ররা চা উইথ সিগারেট আড্ডা চলত, আমাদের খুব ইচ্ছে ছিলো ওখানে আড্ডা দেওয়ার। ঠিকই একদিন আমরা ওখানে আড্ডার অধিকার পেলাম চা উইথ সিগারেট, তার মানে আমরা বড় হয়ে গেছি। এক পর্যায়ে এমনও হয়েছে যে দুপুরে ভাত খেয়ে এসে আড্ডা দেওয়া শুরু হতো চলত সন্ধ্যা পর্য্যন্ত আর বৃষ্টির দিনে তো কোন কথাই নেই।
Friday, September 18, 2015
জয়তু csm colony
কত কথা কত ঘটনা কত স্মৃতি আমাদের সবার। লেখাগুলো পড়লে মনেহয় যেন চোখের সামনেই সব কিছু দেখছি।অদ্ভুত একটা ভাল লাগার অনুভূতি।নিজের বাসায় বসে থেকেও যেন কলোনির আমেজ।এই গ্রুপ এখন আমার দৈনন্দিন কাজের একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু আমার কি?আমার তো মনেহয় সবার।"csm colony " এখন একটা ব্র্যান্ড।
জয়তু csm colony।
ভাষা শিক্ষা
১- স্যার আমাদের আদর করে গরুর দল বলতেন। খুব ইচ্ছা করতো স্যারকে জিগ্যেস করি স্যার আমরা গরুর দল মানলাম গরুর দল কে যে চড়ায় তাকে কি বলে? মাইর এর ডরে জিগ্যেস করা হয় নাই কোনো দিন। আমদের ক্লাসের বিকাশ, চট্রগ্রামের স্থানীয় ছেলে শুদ্ধ ভাষা বলা ওর জন্য দুরুহ এক কাজ। বিকাশ কয়েক দিন পর স্কুলে আসছে, স্যার রোল কল করছেন বিকাশের রোল কল করতেই বিকাশ বললো প্রেজেন্ট স্যার, স্যার বললেন হেরে বিকাশ কয় দিন ক্লাশে আসত নাই কেরে? বিকাশ বললো স্যার আমার গদ্দানা(ঘাড়) কাটি গেছিলো তাই আসি নাই। ঘাড়ের এই আঞ্চলিক শব্দ গদ্দানা শুনে স্যার সেইরম খেপে গিয়ে বললেন অব বেডা গদ্দানা কিরে গেট্টি ধইরা ক্লাশ থেইক্কা বাইর কইরা দিমু, স্কুলে আইসা ঠিক মতো কথা কইতে না পারলে স্কুলে আসনের দরকার কি, সাথে সেইরম মাইর।আমরা আর কি কমু বিকাশে কি ভুলডা কইলো আর স্যারে কি ভাষাডা শিখাইলো????????????
পৈশাচিক উল্লাস
কলোনীর আনাচে কানাচে অনেক ঝোপ জংগল ছিলো সেই ঝোপ জংগল এ রক্তচোষা নামক একটা প্রানী দেখা যেতো। খুবই নিরীহ একটা প্রানী।আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন ধারনা করতাম এই প্রানীটা মানুষের শরীরের রক্ত চুষে খায় তাই এর নাম রক্তচোষা। এই রক্তচোষা শিকার করে হত্যা করাট ছিলো আমাদের একটা খেলা যেহেতু তারা আমাদের রক্ত চুষে খায় তাই তাদের শিকার করে হত্যা আমরা খুব উল্লাস প্রকাশ করতাম। রক্তচোষা শিকার করতাম নারিকেল এর শলা বা কাঠি দিয়ে ফাদ তৈরি করে সংগী ছিলো দুলি ভাই,আনু ভাই সমু ভাই, মনিরুল,ডালিম,বিপুল,মিলটন।
আহমেদ কবির স্যার (প্রধান শিক্ষক)
আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক আহমেদ কবির স্যার যিনি সদ্য প্রয়াত হয়েছেন।স্যারের একটা অভ্যাস ছিল এসেম্বলি শেষ হবার পর সব ক্লাসে টিচার রা ঠিকমতো গিয়েছেন কিনা তা নিজে গিয়ে দেখতেন।টিচার না থাকলে কার ক্লাস তা জেনে ব্যবস্থা নিতেন।তখন ক্লাস টু তে পড়ি।আমাদের ক্লাসে এলেন আরেক ক্লাসের আপা তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলতে।এমন সময় আহমেদ কবির স্যার তার রুটিন অনুযায়ি ঘুরতে এলেন।আমাদের ক্লাসের আপা তখন পাশের ক্লাসের আপাকে বাচাতে এক ছাত্রের সামনে থেকে খাতা নিয়ে ওই আপার সাথে এমন ভাবে কথা বলতে লাগলেন যেন উনি পড়া নিয়ে কথা বলতে আসছিলেন। স্যার এটা দেখে আর কিছু না বলে চলে গেলেন। এ ঘটনাটা প্রায় পঁচিশ ছাব্বিশ বছর আগের।তবুও মনে পড়ল কারন কিছুদিন আগে আমার এক কলিগ আমার সাথে গল্প করতে আসছিলেন। তখন ছিল ব্যস্ততার সময়।এমন সময় অফিসের বস কে কি করছি তা দেখতে এলে আমি আমার ওই কলিগ কে বসের শান্টিং থেকে রক্ষা করতে একটা ফাইল নিয়ে খুলে বসলাম যেন উনি এটা নিয়ে কথা বলতে আসছিলেন।এত বছর পরে আমার জীবনে যে একই ঘটনা ঘটবে তা ভাবিনি
Thursday, September 17, 2015
" প্রেমের উল্টো দৌড় "
লেডিস & জেন্টেল CSM, আজকে দেখি সবাই প্রেম নিয়ে স্টাটাস দিচ্ছে, উদ্দেশ্য বুঝা মুশকিল, নিজে কাঁদতে চায়, নাকি কাঁদাতে চায় !!!!!! কলোনির ঘটনা বলেই মনে হয় হয়তো মনে পড়ছে সবার, শুনেন তাহলে প্রেমের উল্টো দৌড়ের কাহিনী,
আমাদের ৯৭ ব্যাচ এর একজন বালক, একটি সুদর্শনা বালিকার প্রেমে মশগুল !! (গোপনীয়তার সার্থে নাম গোপন রাখা হলো, আশা করি কেউ নাম প্রকাশ করবেন না ) প্রতিদিন কলোনির প্রেমের নিয়ম অনুযায়ি দীর্ঘদিন বিল্ডিং এর আশেপাশে ঘুরাঘুরি, রাস্তায় দেখলে পিছে পিছে হাটা সবই চলছিলো, কিন্তু বেচারার সাহস হয় না কাছে যেয়ে প্রস্তাব দিয়ে তার পছন্দের কথা বলবে, তার এই ধরনের কার্যকলাপে আমরা তার প্রেম নিয়ে তার চেয়ে বেশি চিন্তিত, তাকে যতভাবেই সাহস দেইনা কেন, কোন ভাবেই তার সাহস হয় না !! যাই হোক এর একটা বিহিত'তো করা দরকার। এভাবে হা হা হা... প্রায় ১ বছর চলার পর, একদিন সিদ্ধান্ত নিলাম বালকের যখন সাহসে কুলাচ্ছে না, তখন অন্য কাউকে দিয়ে ব্যাপারটা বলাতে হবে, আলোচনার এক পর্যায়ে সুমন-৯৭ বলল, " তোরা আমাকে আগে বলবি না !!! আরে আমি বলবো, কোন ব্যাপার না, বালিকা আমার আব্বার কাছে পড়তে আসে, আমার সাথে কথা হয় মাঝে মধ্যে !!"
এপ্রিল ২৯ গঠনের পর তিন তিনটি বড় প্রোগ্রাম করে আমরা খুব ফর্ম এ আছি
এপ্রিল ২৯ গঠনের পর তিন তিনটি বড় প্রোগ্রাম করে আমরা খুব ফর্ম এ আছি, কলোনীর প্রভাব শালি ব্যাক্তি গন ও আমাদের ব্যাকিং এ আছেন, তাই চলাফেরায় সবসময় আমরা কি হনুরে ভাব।
বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে কলোনির নানা স্থানে আমরা এপ্রিল ২৯ এর পোস্টারিং করি,এমনি একটা পোস্টার লাগিয়ে ছিলাম কলোনীর বাজার গেটে। কয়েক দিন পরেই আমাদের ঐ পোষ্টারের উপর নুতন একটি সিগারেট কোম্পানী তাদের একটি পোষ্টার লাগায় , এটা আবার খেয়াল করে আমাদের বেলাল ভাই (ভাই ভাই ষ্টোর) এবং আমাদের জানায়, তা ছাড়া বেলাল ভাই ও এপ্রিল ২৯ এর সদস্য ছিলো। পরে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম ঐ সিগারেট কোম্পানী বাজারে সিগারেট সাপ্লাই দিতে আসলে তারে আটকিয়ে রাখব। অথচ আমরা যে দিবস উপলক্ষে পোষ্টার লাগিয়েছিলাম সে দিবস একদিন আগেই শেষ হয়ে গেছে, আমাদের পোষ্টার টির কোন ভ্যালিডিটি ছিলোনা। শুধুমাত্র আমাদের প্রভাব দেখানোর জন্য দুদিন পর ঐ কোম্পানী বাজারে আসার পরই আমরা সবাই পিক আপ সহ ওদের লোকজনকে কলোনীতে আটকে রাখলাম,এবং পরে ১০০০ টাকার দফারফায় বিষয় টি মীমাংসা হয়।
১৯৯৪ সালের এক হাজার টাকা মানে অনেক টাকা।
এ টাকাটার পুরোটাই আমাদের এপ্রিল ২৯ এর ফান্ডে জমা হয়েছিলো।
বলতে ভুলে গেছি ওরা আমাদের পাঁচ প্যাকেট ওদের কোম্পানীর সিগারেট ও দিছিলো।
Wednesday, September 16, 2015
“ পিপড়া বিড়ম্বনা “
- Mahabub Rasel
মুসলিম উদ্দিন সিকদার, আমার মনে হয়,
মোটামুটি কলোনির সবাই এই নামের সাথে পরিচিত,
( গতকাল রিপু
Mostafa Kamal ছোট করে এই ঘটনাটা বলাতে মুসলিমের কথা মনে পড়লো
) সে ছিলো
“ ঝংকার ক্লাব
“ এর স্বঘোষিত হ্যাট্টিক সভাপতি,
প্রায় সময় গর্ব করে তার ক্লাবের সদস্যদেরকে বলতো,
“ আর খতার উদ্দ্যি খনিক্ক্যে খতা ন’খবি, আই
অইয়্যিযে ঝংকার ক্লাবর এট্টিক সভাপতি
!!” ( যদিও আমাদের ৯৭ এর ৩/৪ জন
ছাড়া আমরা কেউ"ই এই
ক্লাবের সাথে জড়িত ছিলাম না)
মজার ব্যাপার হল,
একবার হেট্টিক সভাপতি টাইটেল উল্লেখ করে পোস্টারও ছাপিয়েছিলো
!!! লাল ছিলো তার অসম্ভব প্রিয় রঙ,
এমনকি টকটকে লাল রঙের প্যান্ট পরে স্কুলেও ক্লাস করতো সে!!!
মুসলিম যখন স্কুলে লাল প্যান্ট পরে ঘুরতো,
সে এক দেখার মত দৃশ্য ছিলো।
“বিজ্ঞপ্তি / হাত জোড় করে অনুরোধ “
লেডিস
& জেন্টেল CSM, আর কয়েকদিন পর পবিত্র ঈদ-উল-আযহা, সবাই এখন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে কোরবানির
পশু কেনা ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই প্রস্তুতির অংশ হিসাবে আপনারা অনুগ্রহ করে উঠ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, মহিষ, বড় গরু, তাজা গরু, চিকনা গরু, বিরিশ গরু, বলদ গরু, গাই গরুর ছবি বা কোন কোরবানির পশুর সাথে সেলফি ইত্যাদি এই পেজে পোষ্ট করবেন না।
কোরবানির পর, কসাইগিরী, কোরবানির পশুর চামড়া, গরুর গোশত, গোশত খাওয়া, মুন বেকারীর পরটা, ঘরে রুটি বানানো, রুটি ছেঁকা, আটার রুটি, চাউলের গুড়ার রুটি,স্পেশাল রুটি ইত্যাদির
ছবি এই পেজে পোষ্ট দিবেন না।
Tuesday, September 15, 2015
ডাবে অরুচী (বাকি অংশ)
এভাবে আমাদের মিশন চলছে। তবে বেশী অপারেশন হতো কারো বাসা খালি থাকলে। হয়তো আমাদের মধ্যে কারো বাসার সবাই বাড়ী গেছে ,আমাদের একজন সোনার চাঁন বাসার পাহারায় আছে।সংবাদ পেয়ে আমরা দলে-বলে তার বাসা পাহারায় বসে গেলাম । এ পাহারা সে চাক বা না চাক, তাতে আমদের কিচ্ছু যায় আসে না। এর রকমই এক ঘটনায় মোজাম্মেলের(ডা: মোজাম্মেল) বাসা ফাঁকা । আমরা সবাই মিলে কঠিন পাহারা দেই। দু’দিন বাদে হঠাৎ সকাল সকাল মোজাম্মেল আমাদের বাসার নিচ থেকে করুণ স্বরে ডাকছে।(তখন আমরা C-3 –তে থাকি)। নিচে নেমে এলাম। সে শুকনো গলায় নিচু স্বরে বললো---“শালা বাপ্পি—হারুইন্যা(মারগেছে আল্লাহ্ তাকে মাফ করুন) আরো শালারা মিলা হুজুরের মুরগী জবহ করেছে। এখনতো ভাই ধরা খামু আমি”।
“ফুটবল “
- Mahabub Rasel
কলোনিতে বড়মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছিলো,
আমরা ৯৭ ব্যাচ থেকে বোধহয় জোড়া-তালি দিয়ে ২ টা টিম দিয়েছিলাম। একটা ৯৭ ইয়োলো আরেকটা ৯৭ গ্রীন। ৯৭ গ্রীনে বানানো হয়ে গেছে রবিন,
ছামির, রিপু, সোহেল, দীপক, নাজিম সহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে। আমি ছিলাম গ্রামের বাড়িতে,
বাড়ি থেকে এসে দেখি এর মধ্যে আমাদের ৯৭ গ্রীন সেমিফাইনালে উঠে গেছে। আমারও খেলার সুযোগ হয়ে গেলো সেমিফাইনালে ডিফেন্স হিসেবে।
খেলা শুরু হয়ে গেছে,
চরম উত্তেজনা
!!! বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় সীপন ভাই,
বল নিয়ে তার বাম দিক দিয়ে সেইরকম স্পীডে গোল দেওয়ার জন্য ছুটে আসতেছেন,
আমি দিলাম ট্যাকেল সীপন ভাই মনে হয় গতির কারনে গড়াতে গড়াতে ৪/৫ হাত দূরে গিয়ে পড়লেন,
ব্যাপারটা যতটানা বড় ছিলো,
দেখতে আরো বেশী গুরুতর দেখাচ্ছিলো
!!! সঙ্গে সঙ্গে বাঁশি,
ফাউল, আমাকে কার্ড দেখানো হলো। ফাউল ঠিক আছে কিন্তু কার্ড কেন
?
“ নামকরন “
কোন ক্লাসে মনে নাই,
নতুন এক ধরনের জিনিস পেয়েছিলাম পাঠ্যবইয়ে,
পড়লেই মেজেজ খারাপ হয়ে যেত,
জিনিসটার নাম স্যাররা বলতেন,
“ এইগুলা হলো গদ্য কবিতা
“, কিরে ভাই
!!! এইগুলা নাকি কবিতা
!!! এক লাইনের সাথে আরেক লাইনের কোন মিল নাই
!!, কোন ছন্দ নাই
!! মনে হতো যেন কেউ যা মনে এসেছে তাই লিখেছে
!! এইরকম কবিতাতো আমরাও লিখতে পারবো,
অবশ্য লিখি নাই বললে ভুল হবে,
হেসে হেসে একটু ভাব নিয়ে ৩/৪ লাইন যা মনে আসতো বলতাম। আমরা ৯৭ ব্যাচ খুব ভাব নিয়ে এক লাইনের একটা কবিতা আবৃত্তি করতাম,
“ আজিজ কি দারুন নাম
“।
Monday, September 14, 2015
বি.কম পড়ার সময় আমার অন্যতম একটা সাবজেক্ট ছিলো অর্থনীতি
বি.কম পড়ার সময় আমার অন্যতম একটা সাবজেক্ট ছিলো অর্থনীতি, শালার এমন এক সাবজেক্ট, পড়া দূরে থাক, বই দেখলেই বমি আসত, এতো কাঠ খোট্টা একটা বিষয়, ছাতার মাথা কিছুই বুঝিনা, আর বুঝার কথাও না, তখন তো মাথার মধ্যে খালি রোমান্স ঘুরে, এদিকে পরীক্ষা নাকের ডগায়, কিন্ত পরীক্ষায় তো পাশ করতে হবে, কি করা যায় এ টেনশনে আছি, অবশেষে পেলাম আমরা (আমার সাথে বন্ধু Riman Babu ও ছিলো) আমাদের Abdullah Al Mamun অপু ভাইকে পেলাম, উনি তখন চিটাগাং ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতিতে মাষ্টার্স করছিলেন, উনার কাছে পরীক্ষার আগে ৪/৫ দিন পড়েছি আমরা দুজন। উনি অনেক সুন্দর করে আমাদের অনেক কিছু বুঝাতে পেরেছিলেন।
অপু ভাই, আমি কখনও ভালো ছাত্র ছিলাম না, তারপরও বি.কম পরীক্ষায় অন্য সব সাবজেক্ট গুলোর মধ্যে অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশী নাম্বার পেয়ে পাস করেছিলাম।
" গজল "
তখন নতুন নতুন সিডি প্লেয়ার বের হয়েছে, দেখতেও দারুন লাগে, বিশাল সাইজ, ঘরে চিল্লা চিল্লি করে অনেক কষ্টে ম্যানেজ করে নিউ মার্কেট এর ৪ তলা থেকে মোটামুটি বাঙ্কার টাইপের একটা কিনলাম , ওরে মোর খোদা !! আমারতো খুশিতে পেটের ভাত হজম হচ্ছে না, এমন অবস্থা !! কিন্তু সমস্যা একটা আছে, গান শুনার জন্য সিডি নাই, সব গানের সিডিও বের হয় না, হলেও দোকানে থাকে না, শুধু নিউ মার্কেটে পাওয়া যায়, আর দামও অনেক। প্রতি সিডি তখন ১০০/ ১২০ টাকা থেকে শুরু। যেখানে প্রতি মাসে ৪/৫ টা ক্যাসেটের ফিতা কিনতাম সেখানে এখন একটা সিডি কিনতেই খবর হয়ে যায়। কি আর করা প্লেয়ারের সাথে একটা মিউজিক সিডি দিয়েছিলো ওইটাই ফুল সাউন্ড দিয়ে সারাদিন শুনি, কিন্তু এক মিউজিক কত শুনা যায়!!
শ্রদ্ধেয় আহমেদ কবির স্যারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনাপূর্বক
(লেখাটি লিখেছিলাম ২০১৪ সালের ১৪ মে। খবর পেলাম আজ আমাদের প্রধান শিক্ষক আহমেদ কবীর স্যার মারা গেছেন। লেখাটি হুবহু তুলে দিলাম)
------------------------------------------------------------
(শ্রদ্ধেয় আহমেদ কবির স্যারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনাপূর্বক)
তখন ক্লাস এইটে পড়ি। স্কুলের নাম চট্টগ্রাম ইস্পাত কারখানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। অনেকে ইংরেজিতে বলে চিটাগং ষ্টীল মিলস হাই স্কুল। আমরা সংক্ষেপে বলতাম চইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। একই স্কুলের কত নাম। একই অঙ্গে কত রুপ। তখন সবেমাত্র স্কুল পালানো বিদ্যা শিখেছি। এ যে কি এক মধু তা যারা স্কুল পালায়নি তারা কোনদিনই বুঝবে না। কলোনির ভেতর স্কুল আর কলোনির সবাই সবাইকে চিনে তাই এখানে স্কুল পালানো দুরূহ ব্যাপার। সুখের ব্যাপার সেসময় কলোনির চারপাশের দেয়াল ভাঙ্গা ছিল (জলোচ্ছ্বাসের কারনে)। এই কারনে স্কুল পালানো কিঞ্চিৎ সহজ হয়েছিলো। স্কুলের পিছনেই কবরস্থান, সাথেই খালপাড়ের রাস্তা ধরে সোজা কর্ণফুলীর তীর। তখন নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে এত মাথাব্যথা ছিলোনা কারো। মানুষ অনেক সহজ ছিল। একে অপরকে বিশ্বাসও করতো।হয়তো তাই কর্ণফুলীর পাড়ের জেটিগুলাতে কাঁটাতার বা ইস্পাতের বেড়া দেয়া ছিলোনা এখন যেমন আছে। আমরা অনায়াসে জেটিতে ঘুরে বেড়াতাম, দেশি বিদেশি বড় জাহাজগুলো দেখতাম আর জাহাজের কাঊকে করুণ মুখে আঙ্কেল ডেকে জাহাজ দেখার ইচ্ছা পোষণ করল জাহাজও ঘুরে দেখা যেত। আর একটু দূরের পথে যেতে ইচ্ছা করছে কিন্তু হাঁটতে ইচ্ছা করছে না এমন হলে ছিল ট্রেন। নদীর পাড় ধরে রেল লাইন। সেই লাইন যে কোথায় কোন দূর দেশে গিয়েছে আমরা কেউ জানতাম না, এ যেন পোলার এক্সপ্রেসের রেল লাইনটার মত। হাত দেখালে সেই লাইনে চলা মন্দ গতির মালবাহী ট্রেনটা থামত। ড্রাইভার রুক্ষ স্বরে জানতে চাইতো "কি হইছে রে?"। আবার সেই করুণ মুখে আঙ্কেল পদ্ধতি। ড্রাইভার আঙ্কেল বিরক্ত হয়ে বলত "উপরে উঠ"। যেখানে নামতে ইচ্ছা হতো আঙ্কেল ডেকে নেমে যেতাম। ট্রেন চলে যেত দূর দেশে।
ফান্ড কালেকশন
সেদিন বলেছিলাম নিরাবেগ বাস্তবতার কথা বলব না। বলতে চাইনি। গাড়ির রিয়ার ভিউ মিররে দেখবেন লেখা থাকে "objects in the mirror are closer than they appear." যে সময়টা আমরা পার করে এসেছি দৃশ্যত তা অনেক দিন আগের মনে হলেও খুব বেশি আগের কিন্তু নয়। আজ অনেকের পোস্টে দেখলাম হতাশ হয়ে যাবার একটা হাওয়া বইছে। তাদেরকেই বলছি পেছনে তাকান। স্টিলমিলের মানুষ হতাশ হয়না। দরিয়া পাড়ের মানুষ হার মানেনা।
৯১ এর ঝড়ের সময় আমি ক্লাস সেভেনে পড়তাম। ঝড়ের পরদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি পুরো পতেঙ্গা ঘুরেছিলাম। বন্দরটিলা থেকে একদম এয়ারপোর্ট পর্যন্ত। কাটগর ধুমপাড়ার কাছে দুপুরে একজনকে দেখেছিলাম নিজের ভেসে যাওয়া ভিটার সামনে দাড়িয়ে হাউমাউ করছে। সন্ধ্যায় ফেরার সময় দেখি চারটি খুঁটি পুঁতে মাথার উপর চাল দেয়া হয়ে গেছে, চালার নিচে চুলায় আগুন জ্বলছে। আমি জানি সব হারিয়েও এই অঞ্চলের মানুষ ছোট্ট কুপির আগুনের মত একটু আশা বাঁচিয়ে রাখে। আমাদের কিছুই হারায়নি। আমরা কেন হতাশ হব? অন্তত আমি হতাশ না। কেন হতাশ না বলি-- আমাদের মধ্যে একজনের বাচ্চা অসুস্থ, ঈদের দিন বাচ্চার বাবা মা বাচ্চা নিয়ে ইন্ডিয়া রওনা হবে ট্রিটমেন্টের জন্য। বেশ খরচের ব্যাপার তাই ফান্ড কালেকশনের সময় তার নামে কম করে ধরা হয়েছে। পরশু সে ফোন করে আমার সাথে রাগারাগি , কম কেন ধরা হলো। আপনারা বলেন আমি কেন হতাশ হব?
Subscribe to:
Posts (Atom)