Sunday, February 28, 2016

আমার লেখার প্রতি তেমন কোন আগ্রহ নেই


আমার লেখার প্রতি তেমন কোন আগ্রহ নেই।আগ্রহ না থাকার কারনে বলতে হয় মেধার স্বল্পতা, স্বচঞ্চলতা।আমি বলতে পারি নেশা ও পেশাগত কারনে।কিন্ত রেনাজ(তিনজন ব্যক্তি) বলেই যাচ্ছে আড্ডায় লেখ।তাই সাহসী হয়ে উঠলাম। শিশু থেকে কৈশোর পর্যন্ত যাদের স্নেহে, শাসনে বড় হয়ে উঠেছি,তাদের মধ্যে একজন জসিম ভাই /কাকা।২০১৫ সালের নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাসে ফেসবুকে সাক্ষাত। অত:পর কল্।স্বাভাবিকভাবেই আদেশ। ২৯ জানুয়ারি তোমার কোনো কাজ থাকবেনা। আমি কল্পনাও করিনি আমি শুনবো আমরা সি,এস,এম কলোনিবাসি একসাথে হবো।আড্ডা হবে ২৯ জানুয়ারি, তোমাকে উপস্থাপনা ও আবৃত্তি করতে হবে। বহুপ্রতীক্ষিত দিন এলো। আনন্দ মিশ্রিত ভয় কাজ করছিল,আনন্দ হচ্ছিল ঝুমুর আপু, একা আপু, রুমি,শাকিল,আংকেল,আংটিদের সাথে দেখা হবে।ভয় হচ্ছিল সঞ্চলনায় কী করবো।বহু উত্তেজনা নিয়ে আড্ডার মঞ্চে উঠলাম। আমার জীবনে প্রথম ব্যতিক্রমী সঞ্চলনা।কঠিন কাজটি সহজ করে দিল বন্যা আপু।টলি ভাই এসে আরও মজা করলেন।অনেক বেশি লিখলাম।শেষে এতটুকু বলি:কিছু স্বপ্নবাজ তরুণের স্বপ্নময় আবেগের ফসল ---আড্ডা। যাঁরা এখনও স্বপ্ন বিলি করে ফিরছে ----প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম।

আমি আসলামকে নিয়েই একটু লিখছি


সবাইকে গ্রান্ড আড্ডা নিয়ে লিখতে বলছে আসলাম।

আমি আসলামকে নিয়েই একটু লিখছি।

আমাদের প্রোগ্রামের ২ দিন আগে আসলামের এক কান্ড দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আসলাম আমাকে ফোনে জানালো মা'কে (আসলামের মা) ঢাকায় ভর্তি করিয়েছে। অপারেশন করতে হতে পারে, খুব্বি খারাপ অবস্থা। আমি আসলাম আর মিতু ভাইকে রিমুর নম্বর দিলাম যদি কোনভাবে হেল্প করতে পারে!!.

আমি, আমার ছোট ভাই, শায়লার স্বপরিবার, রাজিব আর মোটা বাবু ভাই ২৭ তারিখ রাতে আতিক ভাই এর ব্যবস্থাপনায় চিটাগাং যাব বলে প্রস্তুতি নিলাম। মা কেমন আছে জানার জন্য দুপুরে আসলামকে কল করলাম। হালার কথা হুইনা আমিতো চাঙ্গে উইঠা গেলাম। আমারে কইলো কি, "দোস্ত আমি আজই চিটাগাং যাইতাছি গ্রান্ড আড্ডার অনেক কাজ রইয়া গেছে।" মার কি করলি? আমাকে বললো মিতু ভাইয়ের দায়িত্বে রাইখাইছি। দেখি কি করা যায়। 
আসলেই অবাক হয়েছিলাম ওর কথা শুনে। মা অসুস্থ আর শালা যাচ্ছে গ্রান্ড আড্ডায় বিটলামী করতে। মা'ও নাকি প্রোগ্রামে এটেন্ড করার জন্য ভীষন ইচ্ছুক ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদিও থাকতেই পারলেন না।

একটা পিঁপড়া একটা বেড়ে উঠা ঘাসের ডগা বেয়ে উঠছে আর নামছে


একটা পিঁপড়া একটা বেড়ে উঠা ঘাসের ডগা বেয়ে উঠছে আর নামছে। সকালে বৃষ্টি হয়েছে, মাটি ভেজা ভেজা। আকাশ এখনো মেঘলা। ঠাণ্ডা ভেজা বাতাস বইছে থেমে থেমে। মাঠের কোনে একটা উঁচু জায়গা। কোন এক কালে হয়তো গার্বেজ ফেলা হয়েছিলো এখানে। কালের কামড়ে জমে পাথর হয়ে গেছে জায়গাটা। ঘাস গজিয়েছে, লতাগুল্মে ঢেকেছে অনেকটা তবু চুড়াটা এখনো ন্যাড়া। ছেলেপেলেরা এই চুড়ায় বসে আড্ডা জমায়। হাতের ডানে বড় একটা মাঠ, খুব বড় নয় যদিও তবু নাম "বড় মাঠ"। চুড়া থেকে নেমে একটা রাস্তা সোজা চলে গেছে আরেকটু বড় রাস্তায়। রাস্তাটা যেখানে বড় রাস্তায় মিলেছে সেখানে একটা ছোট দোকান। টিনের টংঘরের মত। নুরুচ্ছাফা সাহেব ডিউটি শেষে দোকানে বসেন অনেক রাত পর্যন্ত বিকিকিনি করে ঝাঁপ নামিয়ে বাসায় যান।

ক্রমশ......
(আমি কলোনির একটি বর্ননামুলক মানচিত্র তৈরির চেষ্টা করছি। শুরুটা আমি করলাম। আমি চাই সবাই যার যার মত অংশগ্রহন করুক। লেখাগুলো বর্ননামুলক হওয়া জরুরী। কলোনির আইডেন্টিক্যাল, আইকনিক অথবা দীর্ঘদিন চোখে পড়েছে এমন জিনিসগুলো বর্ননায় এলে মানচিত্রটা অনেক সমৃদ্ধ হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় খালপাড়ের সেই বড় পাথরটা, ই-টাইপের ভাঙ্গা স্লিপার কিংবা টাংকির নিচের সেই ঠাণ্ডা চকচকে মসৃণ পানির পাইপটা। যারা এই গ্রুপের লেখার আর্কাইভ করছেন তাদের কাছে অনুরোধ এই আহবানে সাড়া পাওয়া গেলে এই লেখাগুলো যেন আলাদা মার্ক করে একসাথে মজুদ করা হয়। লেখাগুলো পড়ার অপেক্ষায় রইলাম)

এটা লিখছি আমাদের মামুইন্নার জন্য। গ্র্যান্ড আড্ডা ২০১৬, পর্বঃ ০১


এটা লিখছি আমাদের মামুইন্নার জন্যঃ
পর্ব - ০১ঃ
তিন মাস আগেও, যখন জসীম ভাই, নাযমুল ভাই, রেজা ভাই, পুলক, মামুন, বাবু, টিপু আরও অনেকে মিলে আড্ডা নিয়ে কাজ শুরু করেছে, আমার ধারনা ছিলনা এটার সমাপ্তিটা এত সুন্দর হবে, ধীরে ধীরে কাছে গেলাম, দুই একটা মিটিং এ গিয়ে বুজতে পারলাম, না কোন কিছুই অসম্ভব না, যে উদ্যম আর উৎসাহ ছোট আর বড় ভাইদের মধ্যে দেখলাম তাতে পুরপুরি আত্মবিশ্বাসী হয়ে গেলাম যেকোনো উপায়ে আড্ডা হবেই হবে।

দায়িত্ব পরল musical program arrange niye, কিন্তু কম বেশী সব কাজেই আমাদের সকলের সমন্বয় ছিল চোখে পড়ার মতো। কাজ করতে গিয়ে প্রথমেই মুগ্ধ হলাম Suzan Hasnat এর টেস্ট আর মেধা দেখে, অসাধারণ বুঝে সে, অথচ ওকে আমি কখনো ইভেন্ট লাইনে কাজ করতে দেখি নাই বা শুনি নাই। ওকে চিনি অনেক ছোট বয়েস থেকে, আমাদের পাশেই ছিল ওদের বাসা, সারাদিন থাকতো খেলা ধুলা নিয়ে, ওরা তিন ভাই যেকোনো খেলায় ছিল সমান পারদর্শী। সেই ছোট ভাই সুজন এর এরকম perfect maturity in all aspects আমাকে দারুন মুগ্ধ করেছে, আরও অনেক আইডিয়া ছিল ওর মধ্যে যা বাজেট আর সমালোচনার ভয়ে করতে পারি নাই। 

সুজনের ভয়ে ইজ্জত বাঁচানোর ক্ষুদ্র প্রয়াস.........।।


আমার ছেলে আদিত্য দে (রাহুল), ২বছর ৮মাস। মোবাইল হোল তার অসম্ভব প্রিয় খেলনা. সেই ১.৫০বছর বয়েস থেকে তার মোবাইল ব্যাবহার শুরু আর এই ১৩ মাসে মোবাইল আর ট্যাব ভেঙেছে মোট ৪টা, তাই ওর মা ওর মোবাইল ব্যাবহারের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করছে। যার কারনে আমি বাসায় ফেরার সাথে সাথে আমার মোবাইল তার দখলে, কারন সে জানে পাপ্পা সাথে থাকলে মা কিছুই করতে পারবে না।
এতক্ষণ গেল ভুমিকা, এবার মুল ঘটনায় আসা যাক।
সেদিন দুপুরে ওর মা ফোন করে বলল ছেলে আজ সব জীব-জন্তু’র ইংরেজি নাম শিখে ফেলেছে। আর আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম কখন বাসায় গিয়ে তার সেই কারিশমা দেখবো। 

Atiq Csm কাল আমাকে দশ প্যাকেট মাংসের মশলা দিয়েছে


Atiq Csm কাল আমাকে দশ প্যাকেট মাংসের মশলা দিয়েছে।আজ রান্না করবো সেই মশলা। ও শুধু মশলা দিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি,আমার কাছে মেজবানি মাংস খাবার দাওয়াত আমি দেবার আগেই নিজ দায়িত্বে নিয়ে নিয়েছে।সমস্যা নেই। খাওয়াবো।

খুবি বদ একটা পোলা। পেট্টা ভরা হিংসা। যদিও পেট বলে কিছু নাই ওর। কাল রাজিববের আচারের পোস্টে ও কয় ও আমারে মশলা দিসে তার কথা কইলাম না কেরে। 

নিম্নলিখিত কারনে বলি নাই।
১. আচার রাজিব বানায়ে আনসে। মশলা তুই বানায়ে আনস নাই।
২. রাজিবের আচার খাইসি,মজা লাগসে।তোর মশলা ত খাইনাই এখনো।
৩.রাজিব যশোর থেকে আসছে,তুই বনানি থেকে গুলশান আসছিস।
৪.রাজিব সারারাত বাসে আসছে,তুই দশ মিনিটে আইসস।
৫. আচারের ব্যাগ ক্যারী করতে আমাদের কস্ট হইসে, তোর মশলা উমামের বড় ব্যাগের মধ্যেই রাখা গেছে।
আশা করি তুই বুঝতে পেরেছিস।

ব্যাক্তি আর পেজ দুটো আলাদা আলাদা সেটা অনেক সময় ভুলে যাই


এ পেজ টার সাথে ওতপ্রোত ভাবে এমন জড়িয়ে গিয়েছি যে, ব্যাক্তি আর পেজ দুটো আলাদা আলাদা সেটা অনেক সময় ভুলে যাই।অর্থাৎ পেজের একেকজন সদস্য যে আলাদা ব্যাক্তি সত্তার অধিকারী এটা খেয়াল থাকেনা আমার। যেমন ধরি নাজমুল ভাই, উনি একজন ব্যাক্তি উনার আলাদা ব্যাক্তি সত্তা আছে, পরিবার আছে বা এই পেজের বাইরেও যে উনার আলাদা জগৎ আছে এটা মনে রাখতে পারতাম না। আমার মাথায় ঢুকে গিয়েছিল নাজমুল ভাই এর আলাদা আবার কিসের জগত, নাজমুল ভাই মানেই সিএসএম। এখানে নাজমুল ভাইকে আমি উদাহরণ হিসেবে জাস্ট দেখালাম ( উনাকে উদাহরণ হিসেবে দেখানোই টা আমার জন্য নিরাপদ), পেজের বাকী সক্রিয় মেম্বারদের ব্যাপারেও আমার একই কনসেপ্ট কাজ করে। কিন্তু এটা যে কত বড় ভুল আইডিয়া আমার, তা হাড়ে হাড়ে বুঝি।

Saturday, February 27, 2016

আজ আনিসুর রহমান রেজা সাহেব আর সানজিদা আক্তার মলি ভাবির বিবাহ বার্ষিকী


আজ আনিসুর রহমান রেজা সাহেব আর সানজিদা আক্তার মলি ভাবির বিবাহ বার্ষিকী। ইচ্ছে ছিল দুপুরের পরে উনাদের বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে কিছু লেখার। কিন্তু দুপুরের পরে একটি নির্দেশিকা পাওয়ার পর আমি একটু অন্য জগতে চলে গিয়েছিলাম। তখন লেখার কথা ভুলে গিয়ে অন্য চিন্তায় মগ্ন ছিলাম। এখন আবার মনে পড়লো। কিন্তু তখন যে কথা গুলো লিখবো বলে চিন্তা করেছিলাম তার অর্ধেকটায় এখন ভুলে গেছি। 

সানজিদা আক্তার মলি হচ্ছে একজন জনম দুখী বাপ মা হারা মহিলা। বিয়ের আগে রেজা সাহেব উনাকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন তা তিনি বিশ্বাস করেছেন। আর যদি বিশ্বাস নাই করতো তাহলে উনি কলেজের চাকরি ছাড়তো না। চাকরি না ছাড়লে এত দিনে হয়তো ঐ কলেজের প্রিন্সিপাল হয়ে যেতেন। অবশ্য রেজা সাহেবের কোন দোষ নেই। বিয়ের আগে এই রকম সবাই বলে। উনি এতটুকু বাড়িয়ে বলেন নি। কারন উনার হয়তো ধারনা ছিল মানুষের ভাগ্য পাল্টাতে সময় লাগে না। কিন্তু বিধিবাম চরিত্র না পাল্টানোর কারনে ভাগ্য খুব একটা পাল্টালোনা। অবৈধ উপায়ে চরিত্র বিসর্জন দিলে হয়তো ভাগ্য পাল্টাতে পারতো। কিন্তু রেজা সাহেবের পক্ষে সম্ভব নয় চরিত্র বিসর্জন দেওয়া। তাই উনি এখনো আগের মতো রয়ে গেলেন। আর এই কারনেই মলি ভাবি উনাকে খুবই পছন্দ করে। আমার মনে হয় উনাদের ভালোবাসায় কোন খাদ নেই। 

আমি যখন বিয়ে করি, তখন আমার হাত বলতে গেলে শূন্য


আমি যখন বিয়ে করি, তখন আমার হাত বলতে গেলে শূন্য। নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা করছি। ঢাকায় কোনো বাসা নেই। যাযাবর জীবন যাত্রা। এই রকম একটি সময়ে, বিয়ে করার দুঃসাহস দেখিয় ফেলি। ঘটক, নিরু আর মিঠু(নিরুর বউ)।
খালা আর মা তো, ভিষন খুশী।

মেয়েও দেখে আসলাম। খানা/পিনা ঘরকা, মহিলা। খুব একটা চিন্তা করলাম না, এই জিনিষ আমার বংশে ভুরি/ভুরি আছে।

বিয়ের আগে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত, টেলিফোনে আলাপ হতো।

সেও এক রাজকীয় কায়দায়। মৌচাকের মোড়ে, এক ছোট ভাই এর ফোন/ফ্যাক্সের দোকান থেকে। আমি ঢুকা মাত্র, ভিতরে ছোট্ট একটি রুমে বসার যায়গা করে দিতো। সাথে মামাতো/খালাতো ভাই,সজল আর ইমন। কতক্ষন পর পর চা আর সিগারেট অটো চলে আসতো।

আজ রেজা ভাইয়ের বিবাহবার্ষিকী


আজ রেজা ভাইয়ের বিবাহবার্ষিকী। সকাল থেকে মন চাইছে রেজা ভাইয়ের বিয়ে নিয়ে কিছু লিখি। লিখতে চাওয়ার কারন হচ্ছে সেই প্রথম আমার জীবনে টাংগাইল এর মত এত দূরে গিয়ে কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ। আমি এইচ,এস,সি পরীক্ষা দেওয়ার পর স্টিল মিল কলোনীতে আসি। আগে থেকেই রেজা ভাইকে চিনতাম বড় ভাই হিসেবে। তখন মাত্র সিগারেট খাওয়া ধরেছি, ইউনুচের দোকান থেকে সিগারেট ধরিয়ে ওয়ার্কার্স ক্লাবের পিছনে গিয়ে সিগারেট খেতাম। একদিন সিগারেট নিয়ে আগুন ধরিয়েছি মাত্র পিছন থেকে রেজা ভাই ডাক দিলেন আমি হাতের সিগারেট পিছনে লুকালাম। রেজা ভাই বলে উঠলেন সিগারেট লুকাইতে হবেনা আমারে একটা গোল্ডলীফ কিনে দে তাহলে আমার সামনে সিগারেট খেতে পারবি। সেই থেকে রেজা ভাইর সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা। সেই রেজা ভাই যখন বললো আমার বিয়েতে তোদের যেতে হবে উনার কথা ফেলতে পারিনি।

আমাদের মরহুম রেজ্জাক কাকা


আমাদের মরহুম রেজ্জাক কাকা, বন্ধু Rezaul Karim লিটনের বাবা। সবসময় আমাদের অর্থাৎ লিটনের বন্ধু সার্কেল কে চোখে চোখে রাখতেন, কোথাও কোন আকাম করে বেড়াই কিনা। তাস খেলার আসর, সিগারেটের আড্ডা, মোশারফের জেক্স সংলগ্ন ঘরের আড্ডা থেকে যে কত বার যে আমাদের হাতেনাতে ধরেছেন হিসাব নেই।উনার একটা খয়েরি রঙ এর শাল ছিলো, ঐ শাল গায়ে দিয়ে শীতের অন্ধকার রাতে যখন গুটি শুটি ভাবে হেটে এসে ধরতেন, তখন উনাকে মনে হতো যেন সাক্ষাৎ গোয়েন্দা। 

আমরাও উনার নাম দিয়েছিলাম ফলোয়ার বা ডিবি। আমার এখনো মনে পড়ে, আমার ডিগ্রী পরিক্ষার আগের রাতে আমি সহ আরো কয়েকজন ট্যাংকির নীচে অন্ধকারে বসে খুব নীচু গলায় আড্ডা দিচ্ছিলাম, আচমকা কাকা দূর থেকেই চিৎকার করে বলে উঠলেন "ওই আতিক্যা তোর না কালকা পরিক্ষা? তুই অহনও এইখানে আড্ডা মারতাসোস ক্যারে, বাসাত যাইয়া পড়তে বয়" আমি আজো ভেবে পাইনা, এতো নীচু স্বরে কথা বলার পর এই অন্ধকারে দূর থেকে কাকা আমারে চিনলো কি করে। কাকার একটা খুব প্রচলিত ডায়ালগ ছিলো " কি রে তোরার মেল মজলিশ এখনো ভাংছে নারে"। 

আমি যা চাই তা পায়না। আর যা পাই তা চাইনা।


আজ শনিবার। অফিসের কাজের চাপ কম। অবশ্য শনিবারে একটু রিলাক্সে থাকি। কারন ব্যাংক, বায়ারের অফিস সব বন্ধ। ইচ্ছা করলে অফিসটা শনিবারে বন্ধ রাখতে পারতো। তারপরেও রাখে নাই একমাত্র বিজিএমইএ এর জন্য। কারন শনিবারে বিজিএমইএ খোলা। আজ সেখানেও কোন কাজ নেই। (যদিও আমি ব্যাংক ছাড়া কোথাও খুব একটা যাই না।) অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। তাই দুপুরে লাঞ্চের পর থেকে কতক্ষন পর পর ফেইসবুকে ঢুকি আর চেয়ারে বসে বসে ঝিমাই। হঠাৎ একটি ম্যাসেজ পেলাম। ম্যাসেজের মাধ্যমে কিছু নির্দেশনা পেলাম। ঘুম উধাও হয়ে গেলো। মনে মনে ভাবতে লাগলাম আমি যা চাচ্ছি তা মনে হয় আংশিক পেয়েছি। বাকিটা হয়তো কিছুদিনের পেয়ে যাবো। অপেক্ষায় আছি পুরো নির্দেশনার জন্য। তাহলে হয়তো অনেক কিছু সহজ হয়ে যাবে। আমার অবশ্য ভাগ্য কখনোই সুপ্রসন্ন ছিলো না। অর্থাৎ আমি যা চাই তা পায়না। আর যা পাই তা চাইনা।

সুজন হাসানাত এর গ্র্যান্ড ড্যান্স এর ছবি গুলো দেখে কথাগুলো মনে পড়ে গেল



সন্ধ্যার পর একদম পিছনে বসে বসে বড় বড় কালো কালো মশার কামড় খাচ্ছি (এই মশাগুলো আমাদের CSM colony তেও ছিল, সন্ধ্যার একটু আগে থেকে কামড়ানো শুরু করত) আর গ্র্যান্ড আড্ডার চিতল পিঠা খাচ্ছি আর CSM 3rd Generation এর ছড়া, কবিতা, গান, নাচ উপভোগ করছি। সারাদিন এত কথা বলছি, এত বেশি দৌড়াদড়ি করছি তাই একটু ক্লান্তবোধ করতেছিলাম আবার একটু ঝিমানিও আসতেছিল।

হটাত মঞ্চে আসল আমাদের সকলের প্রিয়, একসময়ের CSM School এর মঞ্চ কাঁপানো মেজর রাজিব। ভাবলাম রাজিবও মনে হয় অন্য সবার মত নজরুল সঙ্গীত বা অন্য কোন শান্ত ধারার গান গাইবে। কিন্তু রাজিব আমাকে হতাশ করে নাই। শুরু করলো Bon Jovi এর It’s My Life  দিয়ে, ওর গান শুনে আর চুপ করে বসে থাকতে পারলাম না, উঠে দাঁড়ালাম, মনে মনে একটু নাচতেও লাগলাম। ক্লান্তি, ঝিমানি, মশা সব পালাল আমার কাছ থেকে। রাজিব তোকে এত্তগুলো ধন্যবাদ।

গ্র্যান্ড আড্ডা নিয়ে মাথায় যা এসেছে তা লিখে ফেলার চেষ্টা


সতর্কতা: বিশাল পোস্ট! গ্র্যান্ড আড্ডা নিয়ে মাথায় যা এসেছে তা লিখে ফেলার চেষ্টা।

একদম শেষের আগে:
সি এস এম তৃতীয় প্রজন্মের দুই বালক কথা বলছে...
১ম বালক : "স্টিল মিল নামে একটা কলোনী ছিল। সেখানে আমার বাবা থাকত।" 
২য় বালক: "আররে আমার বাবাও তো সেখানে থাকত। সে জন্যেই তো আমরা এসেছি "

প্রাক আড্ডা:
আমাদের বাসায় আড্ডার আমেজ টা শুরু হয় সেইদিন যেদিন জসিম ভাই, মামুন ভাই, বাবু ভাই, পুলক ভাই, পাপ্পু ভাই মিলে বাসায় এসে কুপন দিয়ে যান। আব্বু ওই দিন গ্র্যান্ড আড্ডা নিয়ে প্রথম কবিতাটা লিখলেন। এর পর আরেকদিন এলেন নাজমুল ভাই, অপু ভাই,কমু ভাই, পুলক ভাই এই দিন বাসায় কবিতা পাঠ হল। নাজমুল ভাই বললেন "আভা, কবিতা টা আমাদের সবাই কে আরও উৎসাহিত করবে, তুমি এই কবিতা আজ রাতেই পোস্ট করে দাও" 

নাজমুল ভাই আর পুলক ভাই আর ও বললেন আমি এ কবিতা গ্রুপ এ পোস্ট করে দিলে আড্ডার দিন কফি আর ফুচকা খাওয়াবেন।

আব্বুর লেখা ওই কবিতাই ছিল CSM গ্রুপ এ আমার প্রথম পোস্ট।

আগে কলোনী কিংবা স্কুলের প্রোগ্রাম হলে ১ মাস ধরে রিহার্সেল চলত। প্রোগ্রামের আগের দিন হত ফাইনাল রিহার্সেল। তাই গ্র্যান্ড আড্ডার ফাইনাল প্রস্তুতি দেখতে ২৮ যাওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল, কিন্তু যেতে পারিনি। আব্বু গিয়েছিল দেখতে। নিজ চোখে না দেখলেও আব্বুর মুখেই শুনলাম।

স্টীল মিলে থাকতে টুকটাক অনেকেই হাঁস মুরগী পালতো


স্টীল মিলে থাকতে টুকটাক অনেকেই হাঁস মুরগী পালতো। ঠিক তেমনি আমাদেরও মোটামুটি টাইপের একটা হাঁস মুরগীর খামার ছিল। ডেইলী সকালে মা হাঁসের খোয়ারে যেত মাঝে মধ্যে আমিও যেতাম তখন দেখতাম ৫/৬ টা ডিম খোয়ারে পড়ে থাকতো। যতটুক জানি হাঁস নাকি রাতেই ডিম পারে। সরি হাঁস না, হাঁসি। শব্দটা আমার কাছে হেব্বি লাগতো। বাসায় ২/৩ টা মাটির পাত্র (পাতিল টাইপের) ছিল। সেগুলো ভর্তি ডিম ছিল। আশে পাশের খালাদের কথামত মা মাঝে মধ্যে তখন ডিম বিক্রিও করতেন। ডিমের জোড়া ছিল তখন মাত্র ২ কি ২.৫০ টাকা।

এতোগুলো কথা যে কারনে লিখা এবার সেই কাহিনীতে আসি। একবার আমাদের F - 8 নম্বর এর রুবেল ভাইয়ের ছোট্ট বোন শাম্মী দুইটা ডিম নিল কিন্তু আম্মু কিছু বলার আগেই ও ২ টাকা আম্মুকে দিয়ে বললো "খালাম্মা আস্টো আনা দেওন লাগতো না" মা হাসতে হাসতে বললো আমি তোমাকে দিব নাকি তুমি দেওয়ার কথা। তখন শাম্মী বললো খালাম্মা আস্টো আনা দিয়া হজমী খামু।শাম্মী তখন অনেক ছোট ছিল। বয়স হয়তো হবে ৬/৭। হাহাহহাহ

আজ শাম্মীর বিশাল বড় একটা পোস্ট দেখে মাকে ওর প্রোফাইল পিক দেখালাম আর বললাম এই সেই তোমার আস্টো আনা (৫০ পয়সা)। মা আমার হাসতে হাসতেই শেষ। জানিনা শাম্মীর এই কথা মনে আছে কিনা কিন্তু কিছু কিছু স্মৃতি আজো মনে গেঁথে আছে।

FARHANA SHAMMI বোন তুই আমার ফ্রেন্ড লিস্টে নাই তাই তোকে ট্যাগ দিতে পারলাম না।

"সাময়িক বিদায় - ২"


সিকুয়াল ২ তারিকের জন্য...
কাউকে কিছু দিয়ে নাকি তার প্রতিদান চাইতে নেই!! কিন্তু কিছু কিছু সময় কিছু কিছু ব্যাপারে প্রতিদান চাওয়াটা অন্যায় নয়। তারিকের কাছে আমরা প্রতিদান চাইতেই পারি।

আল্লাহ চেয়েছে বলেই এতোগুলো মানুষ একসাথে জড়ো হয়েছে, নতুন করে ট্রিটমেন্টের ব্যাবস্থা হয়েছে যেখানে কিনা সকল আশা আমরা ছেড়েই দিয়েছিলাম। ঢাকায় প্রথম দিন পপুলারে তোমাকে রিসিভ করার জন্য মাত্র ৩/৪ ঘন্টার জন্য চিটাগাং থেকে আসা বড় ছোট ভাইদের পরিশ্রম, সেই দিনই তোমার সাথে মেডিকেলে প্রায় ৩০/৩৫ জনের সাক্ষাত, সাময়িক বিদায় বেলায় অবুঝ নিস্পাপ মেয়েগুলোর চিৎকার করে কান্না, অনেকেরই চোখ গড়িয়ে পানি পড়া, প্রত্যেক দিনই তোমার মানুষিক সুস্থতার জন্য সিএসএম বাসীরা ফোনে কিংবা শারীরিকভাবে তোমার সাথে কমিউনিকেট করা - তোমাকে সাহস যোগানো, আমাদের বড় ছোট ভাই বোনদের অকল্পনীয় অবদান এদের মধ্যে আবার অনেকেই তোমাকে চিনতোও না কিংবা জানতোও না। আমাদের আলাল - দুলাল সবসময় তোমার জন্য কি পরিমান দৌড়ের উপর ছিল সেটা অস্বীকার করার কোন অজুহাত তোমার নেই। 

আর দুদিন পর আমাদের আডডার একমাস হবে


আর দুদিন পর আমাদের আডডার একমাস হবে।গত মাসের এ দিনে বলছিলাম আর দুদিন পর আমাদের সিএসএম এর সবার সাথে দেখাহবে। দেখা হয়েছে অনেক জনের সাথে কিনতু সময় জে কখন চলে গেল কারও কারও সাথে ভাল করে কথা বা দেখাও করতে পারিনি।আডডায় যাওয়ার আগে কত প্লেন ছিল তার কিছুই করা হলনা।তবুও থাক কত আপু ভাইয়া আর কাকা খালামমাদের দেখলাম জে যেভাবে পারছে আডডা দিছছে।সবাই অনেক আনন্দে ছিল কত মজা করেছে।আমার ছেলে তো শুধু বলছে আবার কবে হবে গ্রানড আডডা আমি আবার জাব ওই বড় মাঠটাতে।আমার ছেলে শুধু দৌড়ায়ছে ওই মাঠে। আতিক ভাই,রেজা ভাই,বন্যা আপু আরও অনেক ভাইয়া আপুরা আছেন জাদের লেখা আমার খুব ভাল লাগতো।উনাদের দেখার খুব ইচছা ছিল।দেখেছিও আবার ছবিও তুলেছি।কিনতু আতিক ভাইয়ের সাথে ছবি তুলতে পারিনী।তবে ওনার গানের সাথে পুরা ভিডিও আমার কাছে আছে।আমি আর আতিক ভাবী একসাথে সব ভিডিও করেছিলাম।রাত বেশি হয়নাই তবওজুবায়েরর বাবা খালি বলছে চল বাসায় চল গাড়ি পাবনা

রাজিব সুদুর যশোর থেকে এসেছে


রাজিব সুদুর যশোর থেকে এসেছে। কথা সেটা না,কথা হল সে প্রমান সাইজের দুই কন্টেইনার চালতার আচার বানিয়ে এনেছে আমার মেয়েদের জন্য। চেখে দেখলাম কারন দেরি হলে এই চেখে দেখাও কপালে জুটবে না। কি যে মজা। ও বড় হয়ে আচারের ব্যবসা করবে মনে হয়। আমরা যাব তার দোকানে আচার খেতে। ব্রিগেডিয়ার রাজিব'স পিকেলস। সিএসএমের জন্য সব ফ্রি। আমার এই পোস্ট দেখলে রাজিব আচার বানানো ছেড়ে দেবে,কারন তার ব্যবসা শুরুর আগেই আমি লালবাতি জ্বালানোর ভাও করতাসি।

এই ছবিটার শিরোনাম কি হওয়া উচিৎ?


সবার কাছে মতামত চাই। আমিও দুই একটা মতামত লিখছি-
1 (নিখোজ সংসবাদ) এদেরকে ধরিয়েদিন।
2 (সখি তুমি কার)
3 (এক ফুল দুই মালি)
4 (আইলো সখি-কক্সবাজার যাই----------------------)

আড্ডা আমার জন্য আনেক আনন্দের বিষয়


আড্ডা আমার জন্য আনেক আনন্দের বিষয়।আর ঔটা যোদি হয় CSM এর,নিজের শৈশবের মানুষ গুলোকে এক সথে দেখা তাহলে তো আনন্দের শেষ নেই।যখন থেকে আড্ডর বেপারে লিখা হলো 

CSM pageএ আমি বার বার বিরক্ত করছিলাম Anisur Rahman Reza চাচু কে।কখন আড্ডার তারিখ টা ঠিক করা হবে আমাকে জানানোর জন্যে।কারন আামার আবার ছুটি নিতে হবে অফিস থেকে।অবশেষে ঠিক হলো ২৯তারিখ সেইGrand Addar দিন।তারপর মিথ্যা বাহানা বানিয়ে ছুটি নিয়ে চেল গেলাম দেশে। ২৮ তারিখ রাত আমার চেয়ে আমার আববুর ইচছা দেখি আরো বেশি আড্ডার ভেনুতে যওয়া।যওয়া হলো আড্ডার ভেনুতে।দেখা হলো সেই সুন্দর আড্ডার জায়গাটা আর শৈশবে না দেখা আনেক মূখ।যাদের দেখে আর কথা বলে মনেই হয়নি যে আগে কখনো দেখি নি। ঔ দিন রাতে অনেক মজা করলাম,সবাই একসাথে দোকানে বসে চা খেলাম।তারপরদিন ২৯ তারিখ সেই আপেক্ষার দিন আসলো।সকালে সপরিবারে চলে গেলাম আড্ডা দেয়ার জন্য।

বুকে দ্রুম দ্রুম আর দ্রিম দ্রিম যেটাই হোক না কেনো ওটা যে মরীচিকা


বুকে দ্রুম দ্রুম আর দ্রিম দ্রিম যেটাই হোক না কেনো ওটা যে মরীচিকা, ক্ষনিকের মোহ, অর্থহীন অসাড় এটা সবাই বুঝে।

মরুদ্যান তো সেটা, যেখানে সকালে অফিসে যাওয়ার সময় বউ বলে,"ড্রাইভার কে বলো গাড়ি আস্তে চালাতে", ঠিক মতো অফিসে পৌছেছি কিনা খবর নেয়, দুপুরে খেয়েছি কিনা জানতে চায় ফোন করে, সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় ফিরলে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দেয়। আর এদিকে, কোন এক দিন দেরী করে বাসায় ফিরলে মা উদ্বেগ কন্ঠে জানতে চায় কিরে আজ দেরী হলো যে, অবেলায় শুয়ে থাকলে বাবা দরদ ভরা স্বরে জিজ্ঞেস করে, আজো কি তোর প্রেশার হাই। ভাই প্রশ্ন করে প্রেশারের ঔষধ ঠিক মত খাচ্ছি কিনা, বোন খবর নেয় ডাক্তার কি বলেছে বা টেস্টের রিপোর্ট কি?।সর্বোপরি সন্তানের মুখে বাবা বাবা করে ডাক, এটা ওটা প্রশ্ন করা,গলা জড়িয়ে ধরে তার স্কুলের গল্প বলা। এই আবেগ, ভালোবাসা তো তুলনার বাইরে। এই ইমোশনে ড্রেনে পড়া তো দূরের কথা সামান্য পিছলানোরও কোন ভয় নেই। এখানেই সব শান্তি আর সুখ লুকিয়ে আছে।

Friday, February 26, 2016

অনু নাকি পরমানু

- Mohammad Arif

অনু নাকি পরমানু!
ছড়া নাকি কাব্য....
কি ছিল মর্মটা?
কি তার ভাব্য.....
কি নিয়ে লিখালিখি
উঁকি দিই দেয়ালে....
একজনে লিখলেই!
ডাকাডাকি শেয়ালে...
যে যাই লিখুক না
অনুছড়ার রীতিটা.....
টেনে অানে অতীত
টেনে অানে স্মৃতিটা.....!
Inspired from atiq csm 

মামুন ভাই বললেন "তরু তুই আড্ডা নিয়ে তোর অভিজ্ঞতা লিখ"


মামুন ভাই বললেন "তরু তুই আড্ডা নিয়ে তোর অভিজ্ঞতা লিখ"
আমি তাই লিখতে বসলুম tongue emoticon
.
.
ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে নাকি নভেম্বরের শেষ দিকে আমার তা ঠিক মনে নেই । একদিন আব্বু আম্মু বাইরে থেকে এসে বললো কলোনীবাসীর রিইউনিয়ন হবে । আমি তো শুনে খুশিতে আটখানা । কতদিন পর সবাইকে দেখবো!
গেলাম আমার বড় আন্টির ছেলে জুয়েল ভাইয়ার কাছে ডিটেইলস জানতে। তখন জুয়েল ভাইয়া আমাকে এই গ্রুপে এড করলো । গ্রুপে এড হয়ে যেন আমি বিশাল এক রাজ্য খুঁজে পেলাম যেখানে সবাই আমার খুব আপন মানুষ । প্রথম প্রথম আমি কাউকেই আসলে চিনতাম না,কারন আমার সাথে সবারই বয়সের ডিফারেন্স অনেক বেশি,আমি যখন খুব ছোট তখনই বেশির ভাগ ভাই বোনেরা কলোনী ছেড়ে চলে গেছে । যাই হোক সবাই আমাকে অনেক আপন করে নিলো যেটা আমার কাছে কল্পনাতীত ব্যাপার ছিল । আড্ডার আগে শায়লা আপু,সামী ভাইয়া, বন্যা আন্টি,আতিক ভাইয়া,রাসেল ভাইয়া ছাড়া আসলে তেমন কাউকেই চিনতাম না আমি । 

আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকলাম গ্র্যান্ড আড্ডার ।

খানা খাজানা (শেষ পর্ব)


২৯/০১/২০১৬ তারিখ সকাল বেলা লিটন সজিবকে নিয়ে গেলো মুরগি আনতে। সাতটা বাজে রাজিব বললো ভাইয়া আপনি বাসায় গিয়ে একটু ফ্রেশ হয়ে আসেন। আমি রাজি ছিলাম না। বাসায় আসার দশ মিনিট পর লিটন ফোন দিল সাইজ মতো মুরগি পাওয়া যাচ্ছে না। আবার বেরিয়ে পড়লাম। বাসা থেকে সবাই আমার সঙ্গে যেতে চাইলো। আমি মুরগির সন্ধানে যাচ্ছি বলে কাউকে সঙ্গে নিতে পারলাম না। অনেক কষ্টে সাইজ মতো মুরগি পাওয়া গেলো। সবাই সেজেগুজে স্পটে আসছে আর আমি জবাই করা মুরগির বস্তা নিয়ে স্পটে গেলাম। গিয়ে দেখি তখনো সকালের নাস্তা আসে নাই। ইমরুলকে ফোন দিলাম নাস্তা নিয়ে তাড়াতাড়ি আসার জন্য। নাস্তাও আসলো এবং সাথে সাথে বিতরন শুরু করে দেওয়া হলো। নাস্তা নেওয়ার জন্য মাইকে ঘোষনা দিতে গিয়ে দেখি মাইক শাহিন ভাইয়ের দখলে। শাহিন ভাইকে বললাম ঘোষনা দেওয়ার জন্য। 

এদিকে বাবুর্চির লোকদের কাছে জিজ্ঞাসা করলাম কোন কিছু লাগবে কিনা? তারা বললো আপাতত কিছু লাগবে না। গেলাম স্টেজ এর দিকে। দেখি রেজা ভাই একেকজনের নাম ধরে ডাকছে। এক পাশে দাঁড়ালাম। একটু পরে আমাকেও ডাকলো। স্টেজে উঠলাম সবাই লাইন ধরে দাঁড়ালাম আবার একটু পর নেমেও গেলাম। কেন উঠানামা বোধগম্য হলো না। যেখানে বাচ্চাদের খেলা হচ্ছে সেখানে যাওয়া মাত্র বাবুর্চির লোকে ফোন দিল লবন লাগবে। তাড়াতাড়ি এসে মাসুক ভাইয়ের লোকটাকে পাঠালাম লবনের জন্য। 

প্রজাপতি


ছোটবেলায় মুন্নি আপাকে দেখতাম মানিক ভাইয়ের কাছে পড়তে আসতে।মাঝে মাঝে টিংকু ভাই, উনার ছোট ভাই, ছোট্ট রেশমাকেও দেখতাম মানিক ভাইদের বাসায় আসতে।বুঝতাম দুই পরিবারের মধ্যে ভাল একটা সম্পর্ক আছে।কিন্তু এর গভীরতা কতটুকু তা মাথায় আসেনি। তবে মানিক ভাইয়ের সাথে মুন্নি আপার বিয়ে হবে সেটা কখনো চিন্তা করিনি।

কলোনি তে যেদিন বিদ্যুৎ থাকত না সেদিন আমরা রাতে বের হলে মানিক ভাই আমাকে আলীবাবা আর চল্লিশ চোরের গল্প বলতেন।কিন্তু মজার ব্যাপার হল উনি কখনোই পুরো শেষ করতে পারতেন না।গল্প বলার সময় উনি এতে নাটকীয়তা যোগ করতেন। ফলে গল্পের দৈর্ঘ্য আরও বেড়ে যেত। তাই গল্প শেষ হবার আগে বিদ্যুৎ চলে আসত।আর আমিও বাসায় চলে আসতাম।

গ্রান্ড আড্ডায় কোন পোশাক বা শাড়ি পড়বে বউ বাচ্চা দুজনেই সিলেক্ট করে ফেলেছে


গ্রান্ড আড্ডায় কোন পোশাক বা শাড়ি পড়বে বউ বাচ্চা দুজনেই সিলেক্ট করে ফেলেছে, এবার আমি কোন শার্ট টা পড়ব, বউ জিজ্ঞেস করল, বললাম আকাশী শার্ট টা পড়ব, বউ এবার বলে উঠল, আকাশী শার্ট কেনো, গ্রান্ড আড্ডায় খুব রোমান্টিক সাজার ইচ্ছা তাইনা? আমি আর কিছু বললাম না। মেরুন শার্ট টা ব্যাগে ভরলাম, অনেক পুরোনো শার্ট, আর আকাশি শার্ট টি চিটাগাং জার্নির দিন পড়লাম, ভাবলাম এবার কিছু হবেনা। আড্ডা র সকালে মেরুন শার্ট টি পড়লাম,বউ হঠাৎ বলে উঠল এতো পুরানো শার্ট পড়লা কোন রহস্য আছে নাকি, আমি বউরে বিভ্রান্ত করতে একটা রহস্য ময় হাসি দিলাম।

বাসার আশপাশে কোন এক জায়গা থেকে "নাগিন নাগিন" গানটা শোনা যাচ্ছে


বাসার আশপাশে কোন এক জায়গা থেকে "নাগিন নাগিন" গানটা শোনা যাচ্ছে।প্রতিনিয়ত এই গ্র্যান্ড আড্ডা নিয়ে স্মৃতি কাতর হয়ে পড়ছি।আড্ডার দিন যে বড় ভুলটা আমি করেছি সেটা হল অনেক দেরিতে পৌঁছানো।যাইহোক শারীরিক শিক্ষা কলেজে ঢুকতেই দেখি অনিকাও মাত্র এসছে।আম্মা দাঁড়িয়ে আছে হিমেলভাইয়ের আম্মার সাথে।জসিমভাই মাশুকভাইয়ের সাথে দেখা হল।মাশুকভাইকে কত্ত বছর পর দেখলাম।স্মৃতিকাতর হয়ে চোখ ভিজে উঠার আগেই দৌড় দিলাম মূল অনুষ্ঠানের দিকে।হুম আসলেই দৌড় দিয়েছিলাম কিন্তু।গিয়ে দেখি আমার প্রাণের বন্ধুরা ওইখানেই আছে।ওদের সাথে কথা বলতে বলতে দেখি বন্যাপা কথার ফুলঝুরি দিয়ে স্টেজ মাতাচ্ছেন।বন্যাপার সাথে কথা বলে ফিরে আসতেই ইয়াসমিন আপা আর খালাম্মার সাথে সাক্ষাত।ইয়াসমিন আপাকে যে কত বছর পর দেখলাম।উনাদেরকে দেখে কিছুক্ষণের জন্য আমি আমার শৈশবে ফিরে গেলাম।ইয়াসমিন আপার কন্যা সুবহা'র সাথে ছবি টবি তুলে আম্মা নিয়ে গেল সুমা নাসরিন আপার কাছে।

Thursday, February 25, 2016

সুজন যে ভাবে পরিসংখ্যান রিপোর্ট প্রকাশ করা শুরু করেছে-সে হিসাবে আমার কিছু লেখে পেজে নাম উঠানো দরকার


সুজন যে ভাবে পরিসংখ্যান রিপোর্ট প্রকাশ করা শুরু করেছে-সে হিসাবে আমার কিছু লেখে পেজে নাম উঠানো দরকার। আড্ডা সমন্ধে এখন কিছু লিখব না। কারণ তা হলে- হেড অফিস ব্যাগ গুছানো শুরু করবে। তাই কয়েকটা জোকস বলে নিজের নামটা উঠাই। অনেক ছোট বেলায় আমার নানার মুখে একটা গল্প শুনেছিলাম।
এক চুল দাড়ি পাকা বুড়ো রাস্তার ধারে বসে,
ও মা! ও পিশি মা! ও ঠাকুমা!
বলে কাদছে। 
এক পথচারী তাই দেখে জিজ্ঞাস করল 
ও দাদু কাঁছ কেন? 
বুড়ো ফুঁপিয়ে উঠে জবাব দিল
বাবা মেরেছে।
পথচারী তো হতবাক, এই বুড়োকে বাবা মারকে কেন? তাছাড়া এমন বুড়োর বাবা কি বেচেঁ থাকা সম্ভব? তাই সে আবার জানতে চাইল?
বাবা তোমাকে মারল কেন?
বুড়ো বলল,
ঠাকুর দাদার হুঁক্কো ভেঙ্গে ফেলেছি তো তাই।

খানা খাজানা (পর্ব -২)


২৮/০১/২০১৬ তারিখ বৃহস্পতিবার যেহেতু কসাই, সকালের নাস্তা, বিকালের নাস্তা, পানি সব আগেই ঠিক করা হয়েছে। এখন বাকি কাঁচাবাজার ও অন্যান্য টুকিটাকি কাজ সন্ধ্যার আগেই সারতে হবে। তাই আগে থেকে প্ল্যান করে রাখছিলাম অফিস থেকে লাঞ্চের পর পর বের হয়ে যাবো।

সকালে অফিসে গেলাম এবং সবাইকে বলে রাখলাম আমি বেশিক্ষন থাকবো না। সকাল সাড়ে দশটায় অপু ভাই আমাদের অফিসে আসার খবর পেলাম। গেলাম উনার সাথে দেখা করতে। উনি আমাকে দেখে বলে তুই এখনো অফিসে? অপু ভাইয়ের সাথে দেখা করে আমার রুমে এসে সব গুছিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় ভাবলাম আমাদের কোরিয়ান ভদ্র মহিলাকে বলে যাই, না হয় উনি মাইন্ড করতে পারে। ম্যাডামের রুমে গিয়ে দেখি অপু ভাইয়ের সাথে মিটিং করছেন। আমি কিছু বলার আগেই আমাকে দেখে অপু ভাই বললো ম্যাডাম ওকে আজকে ছেড়ে দেন, আগামিকাল আমাদের একটা প্রোগ্রাম আছে। ম্যাডাম সাথে সাথে বললো যাও। 

CSM colonynir সকালে কাকের কা কা ডাকে ঘুম ভাঙ্গানো


CSM colonynir সকালে কাকের কা কা ডাকে ঘুম ভাঙ্গানো।কলোনির মােঝ ড্রেন গুলোর কিছু ছিল মরা নদীর মতো,আর কিছু ছিল প্রবাহিত নদীর মতো তাতে মােঝ মােঝ মাছও দেখাযেতো।নারকেল গাছ গুলো ছিল পাহারাদারের মতো।লজ্জাপতি গাছে স্পশ করে দেখতাম বিশেষ গুন।R কলোনিতে রাস্তা গুলো ছিল পারিবারিক মানুষগুলো একে অন্যের সাথে মিলনের পথ।মােঝ মােঝ কল্পনায় ভেসে উঠে তোমার ছবি হায় CSM colony.

আমি আমার কয়েকটি লেখায় উল্লেখ করেছিলাম গ্রান্ড আড্ডা আমার কাছে ঈদ উৎসবের মত


আমি আমার কয়েকটি লেখায় উল্লেখ করেছিলাম গ্রান্ড আড্ডা আমার কাছে ঈদ উৎসবের মত। আড্ডার দিন যতই ঘনিয়ে আসতে লাগলো আর এই উৎসবের টেনশন পারদ আমার মধ্যে আরো উপরে উঠতে লাগলো। আর এ উছিলায় বৌ এর শপিং চলতে লাগলো ধুমায়ে, যেটা দরকার সেটাতো কিনছেই আর যেটা দরকার নেই সেটাও কিনছে এমনকি রওয়ানা দেয়ার আগের দিন পর্য্যন্ত কেনাকাটা চলছেই। আর আমিও আম্পায়ার আলিমদারের মত সবকিছু মেনে নিচ্ছিলাম, গ্রান্ড আড্ডার আগে গৃহ শান্তি জরুরী বলে কথা। আব্বা আম্মা আড্ডার ১৫ দিন আগেই চট্টগ্রাম চলে গিয়েছে আড্ডার পাশাপাশি একটা পারিবারিক অনুষ্ঠানেও যোগ দেয়ার জন্য, ছোট বোন তার জামাই বাচ্চা সহ দুদিন আগে চলে যায়। 

অবশেষে আমার যাওয়ার পালা ২৮ জানুয়ারী খুব সকালে অফিসে এসে কাজ শেষ করে দুপুরেই বাসায় চলে যাই। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ফ্লাইট, বিকাল পাঁচটার মধ্যে এয়ারপোর্টে। সংগে বউ পোলা আর ছোট ভাই জাভেদ, একটু পর পীর সাহেব রেজা ভাই হাজির। সমানে সেল্ফি তুলছি, হঠাৎ পলাশ ভাই ও ভাবীর সাথে দেখা, তাঁরাও একই ফ্লাইটে চিটাগাং যাচ্ছেন আবারও সবাই মিলে এক দফা সেল্ফি। প্লেনে উঠার আগ মূহুর্তে এক মেয়ে আমার সামনে এসে বলল “ আপনি আতিক ভাই না” , আমি বউয়ের সামনে এবার বিব্রত, কোন মতে ঢোক গিলে বললাম “হ্যা িআমিই আতিক” মেয়েটি নিজের পরিচয় দিলো , দেখলাম কলোনীর ছোট বোন নাম লাকী।ফেসবুকে আমার ছবি দেখে সে আমাকে চিনতে পেরেছে, যাক নিজেকে ফেসবুক সেলিব্রেটি মনে হলো। সেও আড্ডায় অংশ নিতে চিটাগাং যাচ্ছে। রানওয়েতে আরেক দফা সেল্ফি চলল লাকী সহ।চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট নেমে আবারো সেল্ফি। আধা ঘন্টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসলাম. আর পতেংগা থেকে আগ্রাবাদে হোটেল সেন্টমার্টিন যেতে পাক আড়াই ঘন্টা।

গ্র্যান্ড আড্ডা ২০১৬ স্মৃতিচারণ


অফিস শেষ করে আগ্রাবাদ মোড়ে মার্কেটের সামনে গিয়েই অপু দা’কে ফোন দিলাম।
আমিঃ দাদা আমি ওয়েল ফুড এর সামনে দাঁড়ালাম,সাথে সুজন ও আছে, আসেন তাড়াতাড়ি।
অপু দাঃ দাড়া ১০মিনিট আমি চলে আসতেছি।
১৫মিনিট পর অপু দা না আসাতে আবার ফোন দিলাম......
আমিঃ দাদা আপনার ১০মিনিট হইছে!!?

দাদাঃ পুলক কাজে আটকাই গেছি ভাই, তোরা দোকানে ঢুকে খাইতে থাক,আমি আসতেছি...
আমি আর সুজন দোকানে ঢুকে জ্যাকেট জুতা দেখতে থাকলাম আর আডডার কস্টিউম ঠিক করতেছি (ফাঁকা)
৩০মিনিট পর অপুদা এসে যে একটা হাসি দিলো,কিছুই বলার নাই।আসলেই কিছু বলা যাবেনা, অসম্ভব My dear মানুষ,আফসোস এমন মানুষের সাথে কেনো কলোনীতে থাকতে এভাবে মিশলাম না!!! যাই হোক সেটা হইতো সম্ভবও হতোনা!!

বেশ কিছু দিন ধরে একটা জিনিস মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে


বেশ কিছু দিন ধরে একটা জিনিস মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু গুছিয়ে নিতে পারছিনা বলার জন্য। আজকে চিন্তা করলাম বলেই ফেলি। যা ভালো হয় বড় ভাইরা করবে।

ভার্চুয়াল জগত থেকে বাস্তবে রূপ শেষ পর্যন্ত নিয়েই ফেলল CSM Colony । সফল ভাবে হয়ে গেলো 1st family Together (Grand ADDA). যার শুরু হয়েছিল তারিক ভাইএর চিকিৎসা কে কেন্দ্র করে। প্রাণের ডাক কেউ ফেরাতে পারেনি। সবার ইচ্ছা ও আন্তরিকতা প্রমান করেছে, সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে আপন করে নিয়েছে যারা কষ্টে আছে তাঁদের। এই সহযোগিতার হাত আরও সম্প্রসারন করা দরকার তাঁদের ও আরও সবার জন্য, যাদের প্রয়োজন, যাদের root এই CSM.আর সেজন্য দরকার এই CSM কে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী করা। এর মাধ্যমে আমরা আমাদেরই আপন জনদের কাজে ও সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারি। আমরা কি পারিনা এই CSM Colony কে একটা সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে। একটা Co-Operative Society বা একটা Foundation এর রূপ দিতে। 

ইস্কুল এস্টেজ এর পিছনে আমরা কয়েকজন বন্ধু স্কুল পালিয়ে মার্বেল খেলছি


ইস্কুল এস্টেজ এর পিছনে আমরা কয়েকজন বন্ধু স্কুল পালিয়ে মার্বেল খেলছি,বন্ধুদের নাম ভুলে গেছি,কিন্তু একজনের কথা মনে আছে,তাকে আমরা মেথিউছ ডাক্তাম,আমরা খুভ মজা নিয়ে খেলছিলাম,কখন যে পেছনে বেত নিয়ে হুজুর স্যার আসল টের পেলামনা।তার পর কি হল সবার জানার কথা।।।।।।

আমরা তখন csm এ e-7/f building ছিলাম


আমরা তখন csm এ e-7/f building ছিলাম... এক দিন আমি আর আমার আপু ( Raseda Hoque Raseda )ঠিক করলাম building এর সামনে পিকনিক করবো..যে পিকনিক করবে তার বাসা থেকে চাল.ডাল আর ১০ টাকা করে নেয়া হবে ..যথা সময়ে চাল ডাল আর ১০টাকা করে তোলা হলো.. বাসার সামনে বেড সিট দিেয় সামিয়ানা টানগানো হলো..এম্লৗফায়ার ইসপিকার দিয়ে জোরে গান চলতে লাগলো.. হঠাৎ .. টিংকু ভাই ( Mohammad Nazrul ) এর বোন পিচ্ছি রেশমা (তখন পিচ্ছি ছিলো) এসে আমার বোন কে বল্লো রাশু আপা আমিও পিকনিক করবো..আপা বল্লো ঠিক আছে রেশমা তুমি তোমার বাসা থেকে চাল.ডাল আর ১০টাকা নিয়ে এসো.. রেশমা খুশি তে এক দৌড়ে বাসায় গেলো..কিছুক্ষন পরে চাল ডাল নিয়ে আপাকে দিলো..আপা বলেলা রেশমা ১০ টাকা কই? আর রেশমার ফটাফট উত্তর ..রাশু আপা আমার বাসায় সব টাকার নোট আছে কিন্তু ১০ টাকার নোট নাই..

( বিঃদ্রঃ- ১০টাকা ছাড়াই রেশমাকে পিকনিকে নেওয়া হইছিলো )

আড্ডাতে যাব, সেই খুশিতে আমার বাড়িতে ঈদ শুরু হয়ে গেল


আড্ডাতে যাব, সেই খুশিতে আমার বাড়িতে ঈদ শুরু হয়ে গেল। শপিং চললো পুরাদমে, আমাদের চার মা মেয়ের। বোনের ছেলে রেলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা,তাকে টিকেট দিতে বললাম। ব্যাগ রেডি,টিকেট রেডি। ড্রাইভার কে বললাম সকালে আসতে। সে বললো তাকে ছয়টায় তুলে দিতে। রাতের ঘুম হারাম। ভোরে উঠে বের হলাম স্টেশনের উদ্দেশ্যে। সেদিন রাতে গেলাম ভেনুতে। মেলা রাতে ফিরে পরের দিনের জন্য সব গুছিয়ে রেখে দিলাম। সকাল বেলা বের হলাম। সেজেগুজে। গেইটের কাছে এসে অবাক হলাম,একটা জায়গা এত সুন্দর কিভাবে লাগে! কি সুন্দর করে সাজিয়েছে Suzan Hasnat ও তার দল।কালারফুল কাগজে সেজেছে ভেনু। সন্ধ্যার আলোকসজ্জা ছিল চোখ ধাঁধানো। দলে দলে সবাই আসছে। প্রতিটা মুখ উজ্জ্বল, সবার চোখ খালি আপনজনকে খুজে ফিরছে। প্রথমেই গেলাম অডিটোরিয়াম এ। সাথে আনা ব্যাগ রেখে তালাচাবি মেরে চলে এলাম মুল জায়গায়। 

কি ঝলমল করছিল চারদিক! সবাইকে দেখতে খুব ফ্রেশ লাগছিল,সুন্দর লাগছিল। পীর সাহেব Anisur Rahman Reza যা একখান পাঞ্জাবি আর হাফ সোয়েটার পড়েছিল না! একেবারে আকাশের সাথে রঙ মিলিয়ে। এসেছিলেন একই স্কুলের ছাত্র,ক্লাস ফাকি দিয়ে Nazmul Huda,Jashim Uddin Reajul Islam Shahin ভাই। Atiq Csm এসেছে দেরি করে,ও সাজতে দেরি করেছিল। Ishrat Jahan Shaila আসলো আরো দেরি করে। দেখা হল মোস্তফা কামাল স্যারের সাথে। কতবছর পর! দৌড়ে গিয়ে স্যারকে সালাম করলাম। স্যারের সেই আগের চেহারাটা মনে গেঁথে ছিল যার সাথে এখনকার কোনো মিল নেই। বয়স বেড়েছে,সাদা দাড়ি আর সাদা পাঞ্জাবি পায়জামা পড়া স্যার যেন অন্য কেউ। Nargis Begum বেবীর সাথে দেখা। একসাথে পড়তাম। 

Wednesday, February 24, 2016

"খানা খাজানা" পর্ব- ১


যখন আমাকে আপ্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া তখন থেকেই আমার আড্ডার মজা অনেকটা পানসে হয়ে গেলো। কারন দায়িত্বটা এমনই সবাইকে শতভাগ সন্তুষ্ট করা যায় না। তারপরেও অনুরোধে ঢেঁকি গিলার মতো রাজি হলাম। জানুয়ারি মাসের ২য় সপ্তাহ পর্যন্ত এদিক ওদিক করে কাটালাম। কাজ শুরু করতে যাব এমন সময় জানুয়ারি ৩য় সপ্তাহে ব্যক্তিগত কাজে দুইদিনের জন্য ঢাকায় গেলাম। যাওযার আগে অবশ্যই কিছু কাজ আগাইয়া রাখছিলাম। আড্ডায় কতজন অংশগ্রহন করবে সে হিসাবটা দুপুর বেলা খাওয়ার আগে পর্যন্ত জানতে পারিনি। অনুষ্টানের আগে বড় ভাইদের কাছে কতবার জানতে চেয়েছি কতজন হবে? কেউ বলতে পারেনি। 

কেউ বলে ১২০০ হবে, কেউ ১৫০০ হবে, আর মাসুক ভাইরে জিজ্ঞাসা করলে উনি বলতো ১২০০ এর চেয়ে কম হবে। কেউ বলে সকালের নাস্তা ভারি হলে ভাল হয়, কেউ বলে হালকা। কেউ বলে দুপুরের মেনুতে আমরা মেজবান খাবো আর নন মুসলিমরা কি শুধু এক পিস মুরগি খাবে? ছাগলও লাগবে। এবার একজন বললো আমরা যেহেতু গরুর নলা খাবো ওরা কি শুধু মরগি আর ছাগলের মাংস খাবে? তাহলে? আরেকটা আইটেম বাড়াতে হবে। বাজেট একবার বাড়ে, একবার কমে। এক রকম অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।

২৯ এ জানুয়ারি ২০১৬ ইং এ সিএসএম কলোনীর সকল ছোট- বড় ভাই- বোনরা মিলে এক আড্ডার আয়োজন করি


২৯ এ জানুয়ারি ২০১৬ ইং এ সিএসএম কলোনীর সকল ছোট- বড় ভাই- বোনরা মিলে এক আড্ডার আয়োজন করি।যেখানে আমাদের মা- বাবা,ভাই- বোন,ছেলে- মেয়ে,শিক্ষক -শিক্ষিকারা অংশগ্রহন করে এই আড্ডাকে সফল করেছে।
আড্ডা নিয়ে ৪ মাস আগে যখন নাজমুল ভাই বলেছিল আমরা এরকম একটা অনুষ্ঠান করবো যেখানে আমাদের মা- বাবারা অংশ নিবে,এবং সেই রকম একটা অনুষ্ঠান হবে।তারপর থেকে মিটিং, আলোচনা হল,তারিখ ঠিক হল ২৯/১/১৬ ইং।সবার মতামতের মাধ্যমে ভেন্যু নির্ধারণ হল গার্ণাস ক্লাব হালিশহর।কিন্তু জানুয়ারী মাসের প্রথমে আমরা জানতে পারলাম সরকারী সিদ্ধান্তের কারণে গার্ণাস ক্লাবে আমরা প্রোগ্রাম করতে পারছি না।

একদিন সন্ধায় জসিম ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম আজ কোথাও যাবেননা কূপন দিতে।জসিম ভাই একটা ঝারি মারল।বুঝলাম কোন কারণে জসিম ভাইয়ের মন খারাপ।পরে আমাকে বলল যে আমরা গার্নাস ক্লাব পাচ্ছি না।তারপর নাজমুল ভাই,সুজন এল। আমরা নয়াবাজার গিয়ে এক দোকানে বসে চা খাচ্ছি।তখন আমি শারীরিক শিক্ষা কলেজ এর কথা বলতে নাজমুল ভাই বলল চল দেখে আসি।সুজন ও টিটু মটর সাইকেলে এবং আমি,জসিম ভাই,নাজমুল ভাই সিএনজি করে ভেন্যু দেখতে গেলাম।সবার পছন্দ হল।তারপরের দিন আমি ও জসিম ভাই ওখানকার স্টাফ ইছা ভাইয়ের সাথে কথা বললাম,এবং ইছা ভাই আমাদের ভেন্যু নেওয়ার ব্যাপারে সহযোগীতা করল,এবং প্রিন্সিপাল স্যারকে আমাদের ব্যাপারে সব বলে তার আত্বিয় পরিচয় দিয়ে আড্ডা করার ব্যাবস্হা করে দিল।

ADDA


ADDA.AMON EKTA ONUVUTI,JA AMI GUCHIE BA SUNDOR KORE LIKHTE PARBONA.ADDAR DATE NIRDHARITO HOBAR POR THEKE KONO KAJE MON BOSTO NA.SHUDHU VABTAM KOBE DINTA ASBE?KOBE JABO PORICHITO MANUSGULIR SATHE DEKHA KORTE,KOTHA BOLTE R ANONDO KORTE.SOBAI MILA JE ANONDO KORLAM SETA SHUDHU AMI KENO AMAR DHARONA KEW VULTE PARBE NA.SEI KHUNSHUTI,ADOR,MAN-OVIMAN,VALO LAGA VULAR NOY.JANINA KI LIKHLAM?AMAR VULGULI ASHA KORI SOBAI KHOMA SUNDOR DRISTITE DEKHBE.SOBAI KHUB,KHUB,KHUB VALO THAKBEN.

সি এস এম এর প্রথম আড্ডার কথা বলে বা লিখে শেষ করা যাবে না


সি এস এম এর প্রথম আড্ডার কথা বলে বা লিখে শেষ করা যাবে না, শুধু এই কথা বলে বুজাতে চাই যে কি পরিমান আবেগ আমার কাজ করেছিল সেই প্রথম আড্ডা।যেখানে আমার জোরে চলাফেরা করা নিষেধ সেই সময় আমার এতোটাই আবেগ কাজ করেছিল আমি কিছু চিন্টা না করে ছোট ভাইদের খুশি করতে এই বয়সে নাচতে এক বিন্ধু চিন্টা করি নাই।এর চেয়ে বেশি কিছু লিখে সবার মনের কস্ট বারাতে চাই না।ছিলাম, আছি,থাকবো এই সি এস এম এর সাতে যত দিন বাচবো।

উল্লেখঃ ৩৫ বসর জন্ম থেকে ছিলাম, যেখানে আমার জানা মতে সব ছেয়ে বেশি সংখ্যক ছেলে মেয়ে ভাই বোন ভাগনা ভাগ্নি এক জাগায় থেকেছে, পড়েছে সেই পরিবার এর আমি এক জন স্টিল্লার, আমার বাবার নাম ছিলঃ আহ ম্মেদ উল্লাহ, কঃনংঃ ই-১১-ডি

স্লিপারের সামনের বিল্ডিং টাই আমাদের E-7


স্লিপারের সামনের বিল্ডিং টাই আমাদের,E-7, দোতলাই থাকতাম,দোপুর সময়টাতে আম্মা অনেক বকাবকি করত ঘুমের জন্যে।আমার ঘুম আসতনা,প্রায় বকা খেতাম ঐ টাইমটাতে,মন খারাপ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতাম,,,,আচ্ছা আমাদের সি এস এম এর আকাশ আর এখনকার আকাশ কোন মিল নাই,,এই পারতক্য যারা সি এস এম এ ছিল তারাই বুজবেন। তখন কার নিলীয়মান আকাশে তাকালেই মন ভাল হয়ে যেত। অনেক চিল এক সাথে ডানা মেলে রাউন্ড দিচ্ছে,হঠাত কত্তেখে এক পনকিরাজ ঘুড়ি দেখা গেল, যা নিয়ে চিলেরা খেলছে,,,,,,,,,,,,,,,,,,
অনেক মিস করি,অনেক মিস।

প্রথম প্রাপ্তিটা সব সময় মধুর


প্রথম প্রাপ্তিটা সব সময় মধুর। আর তা যদি হয়ে থাকে, "২৯ শে জানুয়ারি"। প্রথম স্কুলে যাওয়া, বাবার একটি সাইকেল কিনে দেওয়া, চাদা দিয়ে একটি ফুটবল কিনা, প্রথম ভালোবাসা(যদিও আমি একবারমাত্র ভালোবেসেছি), প্রথম বিবাহ(এখানেও আমার ২য় বারের কোনো chance নাই), প্রথম সন্তান, এই সব প্রাপ্তি বড় আনন্দের, বড় আবেগের। মনের মনি কোঠায় গেথে থাকে।

২৯শে জানুয়ারি ঠিক তাই। এত আপনজন, একটা দিন, একটি বিন্দুতে!!!! বাধ ভাংগা আনন্দ, আবেগ, ভালোবাসায় সব কষ্ট যেন আমরা ভুলে গেলাম।

"একটা চাবি মেরে" সবাইকে যেন ছেড়ে দেওয়া হয়ছে, কোথাও কারো নিয়ন্ত্রন নেই!!! আবার চুল পরিমান " অনিয়ম" নেই!!! কি করে সম্ভব!!!????
এখানেই আমরা "স্টীলার"!! এবং "আমরা আমরাইতো"!!

রিমানের লুঙী কাহিনী তখনো শুরু হয়নি


২১ শে ফেব্রুয়ারির আগের রাতে বন্ধু রিমানের লুঙী কাহিনী তো আগেই বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে ভিলেন মরাইয়া রাশেদ, আজ জানাবো বন্ধু বদরুলের গায়ে কফ নিক্ষেপ কাহিনী, এবং এখানেও ভিলেন যথারীতি মরাইয়া।

রিমানের লুঙী কাহিনী তখনো শুরু হয়নি, আমরা সবাই, মানে এপ্রিল 29 এর সদস্য রা পানির ট্যাংকীর নীচে রাস্তায় আল্পনা করছিলাম, বদরুল লুঙ্গি হাঁটু পর্য্যন্ত তুলে উবু হয়ে (অনেক টা নামাজের রুকু দেওয়ার ভঙ্গিমায়) খুব মনোযোগ দিয়ে আল্পনায় ফিনিশিং টাচ দিচ্ছিলো, ঠিক তখনই রাশেদের মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি খেলে গেলো, বদরুলের পিছনে গিয়ে তার লুঙ্গী টি তুলে সর্বশক্তি দিয়ে একদলা কফ (মরাইয়ার প্রায় সময় সর্দি লেগে থাকতো) রাশেদ বদরুলের পশ্চাৎ দেশে মারল, ঘটনার আকষ্মিকতায় বদরুল পুরোপুরি হতবিহবল, রাগারাগি করার চেতনাও লোপ পেয়েছে বদরুলের, সম্বিৎ ফিরে পাওয়ার পর জাস্ট রাশেদ কে "তুই ওজ্ঞা ফেরোত" (তুই একটা নোংরা) বলতে বলতে, লুঙ্গি টি উচিয়ে ধরে বাসায় গিয়ে এই মাঝরাতে গোসল করে আবার ট্যাংকীর নীচে এলো বদরুল।

তারপর তো ঘটলো রিমানের লুঙ্গী ট্রাজেডি। এভাবে হাসি ঠাট্টা, আনন্দ,মজার মধ্যে দিয়ে ভোরে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে আসি। সম্ভবত কলোনীতে এটাই ছিলো আমার শেষ একুশে ফেব্রুয়ারি পালন এবং এখনো পর্য্যন্ত এটাই শেষ একুশে পালন।

মানব প্রজাতির মধ্যে মধ্যবিত্ত শ্রেনী বহুল আলোচিত


মানব প্রজাতির মধ্যে মধ্যবিত্ত শ্রেনী বহুল আলোচিত। দুনিয়ার যত বড় বড় কবি লেখক আছে তাঁরা মিডল ক্লাসদের নিয়ে সাহিত্য চর্চা করেই বিখ্যাত হয়েছেন। তাতে অবশ্য মধ্যবিত্তদের কোন লাভ বা ক্ষতি বৃদ্ধি হয়নি। মধ্যবিত্তদের কিছু আইকনিক স্বভাব আছে। হাজার চেষ্টা করলেও কেউ এসব থেকে বের হয়ে আসতে পারবে না। 
মধ্যবিত্তদের টিভি রিমোট পলিথিন দিয়ে মোড়ানো থাকে। যখন টিভির রিমোট নষ্ট হলে হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হতো তখন থেকে শুরু। এখন পঞ্চাশ টাকায় রিমোট পাওয়া যায় তবুও মধ্যবিত্তদের টিভি রিমোট এখনো পলিথিনের ভেতর থেকে বের হয়ে আসেনি। 

মধ্যবিত্তদের ভাই-বোন-মা-বাবা সবার সাথে সম্পর্ক থাকে গভীর। মা বছরের ৩৬৫ দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রান্না ঘরের কাজ করতে করতে মৃতপ্রায়। কারো সেদিকে দৃষ্টি নেই। বরং তরকারিতে লবণটা বেশি হলে, ঝালটা কম হলে রান্না শিক্ষা সম্পর্কে মাকে বিরাট লেকচার দেয়া হয়ে যায়। সেই ভাই বোনেরাই মায়ের একটু সর্দি জ্বর হলে চাকরি-বাকরি, স্কুল কলেজ বাদ দিয়ে মায়ের সেবায় লেগে থাকে। বলা বাহুল্য মায়ের সুস্থতা আর ছেলে মেয়েদের পুরনো রুটিনে ফিরে আসা সমানুপাতিকভাবে ঘটে। 

Tuesday, February 23, 2016

সি.এস.এম.পেইজের সকল সম্মানিত সদস্যদের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে


সি.এস.এম.পেইজের সকল সম্মানিত সদস্যদের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, গ্র‍্যান্ড আড্ডা পরবর্তী হিসাব অনুযায়ী আমাদের হাতে সর্বমোট ৮৬৫০০ টাকা ক্যাশ আছে। সিনিয়র সদস্যদের সম্মতিতে এই টাকা ষ্টীল মিল কলোনীর প্রাক্তন বাসিন্দা বর্তমানে বিপদগ্রস্ত এবং টাকার সমস্যায় আছেন তাদের প্রদান করার সিদ্বান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সে মোতাবেক নিম্নলিখিত লোকদের টাকা প্রদান করা হবে।

হারুন অর রশীদ(সাবেক চাকুরীজীবী csm) ৩৩০০০ টাকা।
লিটনের স্ত্রী (সামসুল আলম প্রকাশ সামসু নানার ছেলে) ৪০০০০ টাকা।

উল্লেখ্য গত ২১ ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠান এ ১৩৫০০ টাকা খরচ করা হয়েছিল।
সবাইকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

গ্রান্ড আড্ডার স্মৃতি বা আড্ডা কে নিয়ে কিছু লিখতে বললে


গ্রান্ড আড্ডার স্মৃতি বা আড্ডা কে নিয়ে কিছু লিখতে বললে বা বলা লাগলে তা আগামী আড্ডা না আসা পয্যন্ত শেষ হবেনা। এতো স্মৃতি এতো আবেগ জড়িয়ে আছে এ আড্ডাকে ঘিরে, কোনটা রেখে কোনটা বলি। তবে আমার কাছে একটা জিনিস খুব চমৎকার লেগেছে এইটা দেখে যে, যারাই যখন আড্ডার উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে চিটাগাং রওয়ানা দিচ্ছিল রেল ষ্টেশন, বাস টার্মিনাল বা বিমানবন্দরে আড্ডার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়া আরেক গ্রুপের সাথে কাকতালীয় ভাবে দেখা হয়ে যাচ্ছে।

সরি Anisur Rahman Reza ভাই আমি বোধ হয় আপনার আগেই গ্রান্ড আড্ডার স্মৃতি কথা লিখে ফেললাম। 
তবে আমার নিজেরই সন্দেহ আছে যে এটা কোন স্মৃতি মূলক লেখা হয়েছে কিনা।

Monday, February 22, 2016

জাভেদের দেয়া ছবিগুলা দেখে মন খারাপ হয়ে গেল


জাভেদের দেয়া ছবিগুলা দেখে মন খারাপ হয়ে গেল। বিশেষ করে আড্ডার আগের রাতের ছবিগুলা। রাত প্রায় বারটা পর্যন্ত ছিলাম। ঠান্ডা আমাদের উতসাহ দমাতে পারেনি। কতজন এসেছিল! আমরা সিএনজি নিয়েছিলাম ভেনুতে যাবার জন্য। চিনিনা কিছু। কাছাকাছি গিয়ে লোকজনকে জিজ্ঞেস করতে করতে আগাচ্ছি,এমনসময় দূর থেকে চোখে পড়লো আলোকসজ্জা। খুশি হয়ে গেলাম।পারলে নেমে যাই। ভেতরে গিয়ে জায়গা দেখে আনন্দে মন ভরে গেল। যতটুকু দেখা যায় দেখলাম। অডিটোরিয়াম এ গিয়ে দেখি সব গিফট প্যাক করছে। কোনটা ছেড়ে কোনটা দেখি। পরে গেলাম যেখানে রান্না হচ্ছে। পেয়াজ কাটা হচ্ছে,মশলা বাটা হচ্ছে। একপাশে মুরগী রাধার আয়োজন চলছে। ভাত আর মুরগী, কিন্তু স্বাদ ছিল অসাধারণ। ক্ষনে ক্ষনে এর ওর সাথে ছবি তোলা। কখনো দলবেধে। খাবার পরিবেশনের দায়িত্বে ছিল লিটন। আর আমরা সবাই প্লেট হাতে দাঁড়িয়ে খাবার নেবার জন্য। এর মাঝেই সুযোগ নেবার চেস্টারও কমতি ছিল না। ওটাও ছিল আনন্দের অংশ। খাবারের প্লেট থেকে আলু ছিনতাই করাও ছিল মজার। আসলে ঈদের আগের রাতের মতই খুশি লাগছিল। আনন্দের সময়গুলা চলে যায় খুব দ্রুত আর কস্টের সময় যেন ফুরাতেই চায় না। আজব জীবন।

২০ দিন হয়ে গেলো চিটাগাং থেকে এসেছি


একটু যদি তাকাও তুমি
মেঘ গুলি হয় সোনা
আকাশ খুলে বসে আছি
তাও কেন দেখছোনা
একি আকাশ মাথার উপর
এক কেন ভাবছোনা

২০ দিন হয়ে গেলো চিটাগাং থেকে এসেছি। নো কথা/বার্তা। এই পেজের সবার প্রিয় বোন তো বলেই বসলো, "এখন ভাবির মান ভাংগান"। আরেক আদরের ছোট বোন মাঝে মাঝেই জিজ্ঞাসা করে, "ভাইয়া, সারাফের মার রাগ কমছেনি"। কমেনাই, বরং মেঘ গুলি গুমোট আকার ধারন করছে। রাতে একটু দেরি করেই বাসায় ফিরি, এখন। এড়িয়ে চলাই ভালো। 

গতকালও, বাবু ভাইয়ের ফার্মেছিতে আড্ডা মেরে রাত করে বাড়ি ফিরে, বুঝলাম, আজ কপালে খারাবী আছে।
যে কোনো মুহুর্তে, আক্রমন হতে পারে।

কোথায় ছিলে? বাবু ভাইয়ের ফার্মেছিতে একজন ভালো ডায়াবেটিসের ডাক্তার এসেছে, তার সাথে ডায়াবেটিস বিষয়ে একটু আলাপ হলো। তাই নাকি?? ডাক্তার সাহেব কি বললো?? বললো, টেনশন ফ্রি থাকতে, হাটাহাটি করতে, আর বললো একদম রাগ করা যাবেনা। 

গত বুধবার তারিকের কেবিনে গেলাম বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে


গত বুধবার তারিকের কেবিনে গেলাম বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে। গিয়ে দেখি কেউ নাই। আছে শুধু তারিক আর বাবু। কিছুক্ষণ পরে আসলো ইনান আর নুজাইমা।পরে আসলো তপু আর সোহাগ। তারওপরে আসলো Umama Iqbal। আসার পর থেকে দেখি ও খুব ফুরফুরে মেজাজে আছে। আর গুনগুন করে গাইছে "চুরি করেছো আমার মনটা হায়রে হায় মিস লংকা"। গানটা যতবার শুনি ততবারই একটা ঘটনা মনে পড়ে যায়। 

ঘটনাটি হলোঃ
মিস লংকা সদ্য মুক্তি পেয়েছে। তখনও রঙ্গীন ছবির প্রচলন খুব একটা হয়নি। তাই বড় মামা আমাদের সবাইকে নুপুর সিনেমা হলে নিয়ে গেলো মিস লংকা দেখার জন্য। বন্ধের দিন ৩টা-৬টার শো। টিকিট করা শেষে টাইম পাস করার জন্য এদিক ওদিক ঘুরছি।হঠাৎ দেখি মুক্তার স্যার মানে উনি আমাদের স্কুলে ইসলাম ধর্ম পড়ান। প্যান্ট শার্ট পড়া (উনি আবার স্কুলে যেতেন পায়জামা পান্জাবী পড়ে)। উনার এক হাতে সিগারেট আরেক হাতে কিছু বই।উনার আবার ষ্টীল মিল বাজারে একটা লাইব্রেরী আছে। স্যারের সামনে দিয়ে কয়েকবার আসা যাওয়া করছি। তারপরেও স্যারে যখন দেখেনাই আমি স্যারকে কিছু জিজ্ঞাসা করি নাই। স্যারে লজ্জা পাবে বলে। 

আড্ডা চলছে যথারীতি। চলুক আড্ডা। জয় হোক আড্ডার।


এবার, আসলে এবারই না,মানে ডিসেম্বর থেকে শুরু। সিএসেমের মিটিং এ যাবার জন্য ডাকলেন নাজমুল ভাই। খুব ইচ্ছা। কিন্তু কিভাবে যাব। পরিক্ষার খাতা বাসায়,স্কুল খোলা,ছুটি পাওয়া ঝামেলা। কিন্তু মনের অসম্ভব ইচ্ছা সব কিছু সম্ভব করে দেয়। প্রমান পেলাম যখন শুনলাম কলেজের ডিবেট টিম নিয়ে চিটাগাং যেতে হবে। খেয়ে না খেয়ে খাতা শেষ করে গেলাম। দুইটা দিন থাকলাম,একমুহুর্তের জন্য ক্লান্তি অনুভব করিনি এতটাই আনন্দে ছিলাম। ফিরে আবার অপেক্ষা কবে যাব। মাঝে মেয়েদের নিয়ে সিলেট ঘুরে এলাম। জানুয়ারি আসার সাথে সাথেই দিন গোনা শুরু। আড্ডা দিতে যাব। সেই ঘোর আজো কাটেনি। থাকুক সেটা,না কাটুক। পরে ঘুরতে গেলাম বাবার বাড়ি। এ বছরের মত হয়ত উতসব ছাড়া বেড়ানো শেষ। আড্ডা চলছে যথারীতি। চলুক আড্ডা। জয় হোক আড্ডার।