Sunday, October 11, 2015

২১ শে ফেব্রুয়ারী


এ লিখাটি প্রায় মাস দুয়েক আগে আমার টাইম লাইনে পোস্ট করেছিলাম, নতুন সদস্যদের আবার বলার লোভ সামলাতে পারলাম না, তাই এ গ্রুপে আবার পোষ্ট করলাম, কেউ বিরক্ত হলে নিজ গুনে ক্ষমা করে দিবেন....................।

রাত প্রায় ১ টা, ২১ শে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে আমরা টাঙকির নীচে রাস্তায় আল্পনা করছি, আর ভোর বেলা আমাদের শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার জন্য পুস্প স্তবক রেডী করছি, কিছু ফুলের শর্ট পড়ল, আমি আর রিমান ফুল যোগাড় করতে গেলাম আনোয়ার ভাই দের বাগানে (ডি ১) ,যেই বাগানে ঢুকলাম অমনি আনোয়ার ভাই বারান্দা থেকে কে রে বলে চিৎকার করলেন, দেখলাম উনি একটা কালো চাদর জড়িয়ে বারান্দায় বসে আছেন চোর পাহাড়া দেওয়ার জন্য, 

সেকাল ও একাল


বলেছিলাম খুব তারাতারি কিছু লিখব, কিন্তু তারপরও দেরি হয়ে গেল। আসলে আমরা বাস্তবতার কাছে বড়ই অসহায়। তাই টাইম এর সাথে দৌউরে পারি না...। তারপর ও কছছপের মত এগিয়ে যাই...যদি জীবন সহাস্নে কিছু মিলে যায়। বহু প্রতিখখার পর এমন আবার আমাদের প্রানের মিলন মেলা CSM কে খুজে পেয়েছি তার জন্য মহান আল্লাহর কাছে জানাই শুকরিয়া। অল্প কয়েক দিন হল আমরা আমাদের মিলন মেলা জমিয়েছি আবার সেই কর্ণফুলী নদীর পাশে আমাদের প্রান প্রিয় CSM Colony তে। 
  
মজা করার জন্য এই লিখাটা লিখতে বসেছিলাম কিন্তু কখনো কখনো আমার মনে হয়েছে এটা কি শুধু আমাদের কলোনি ছিল নাকি আমাদের জন্য ছিল সব কিছুই... যেখানে কোন কিছুর জন্যই কার কাছে যাওয়া লাগত না। আমরা CSM ই ছিলাম ১০০ তে ১১০। যাক বেশি ইমশোনাল হয়ে লাভ নাই কারন আমি আগেই বলেছি আমরা বাস্তবতার কাছে বড়ই অসহায়।

যা সন্দেহ করেছিলাম .....................


আমি প্রথম থেকে বলে আসছিলাম, শাহীন ভাইকে গুম করা হয়েছে !!! কিন্তু কেউ ব্যাপারটাকে আমলে নেন নাই !!!!
কারন ওই গোপন গেট-টুগেদার এর দিন থেকে শাহীন ভাইকে পাওয়া যাচ্ছে না !!!

আমাদের CSM Colony এর একজন গুরুত্বপুর্ন ব্যাক্তির এহেন নিখোজ হবার ঘটনায় CSM-FBI উদ্বিগ্ন। তাই CSM-FBI নিজ দায়িত্বে শাহীন ভাইয়কে উদ্ধারের জন্য গোপনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। 
তাদের তদন্তের আংশিক তথ্য প্রকাশ করা হলো ।

Saturday, October 10, 2015

আমাদের যা যা করনীয়....

- Taher Hossain

আমাদের যা যা করনীয়....
১। মানিক ভাই রে মাইক্কার চিপায় ফেলাই তে হইব যাতে ফাটটোয়া কথা বলা বন্দ হয়।
২। নিরু ( Mdnurul Kabir Niru) ভাই জসিম ( Jashim Uddin) ভাই ও নাজমুল ( Nazmul Huda) ভাইরে ঘৃহ বন্দি করতে হইব। যাতে বিচারিক কাজে ফ্যাচ লাগাইতে না হারে
৩। পির কে (রেজা Anisur Rahman ভাই) নজর বন্দি করতে হইব যাতে কোনাই যাই কি করে ও কারে কারে ঝাড ফু দিয়া পক্কে টানে তা খেয়াল রাইকতে হইব।
তাইলে আরার জিতননের সম্ববনা আছে নইলে কচু গাছের লগে হাসি খাইতে হইব অপমানের জন্য

আবাহনী Vs মোহামেডান


টানা দু তিন দিন ধরে সারা দেশের পাশাপাশি কলোনিতেও উত্তেজনা চলছে, কলোনি টাও দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে, এরই মধ্যে উৎসব উৎসব পরিবেশ। না এ কথা গুলো এখনকার কোন ঘটনা নয়, এগুলো আজ থেকে ২৮/৩০ বছর আগের চিত্র। 

আমি আবাহনী আর মোহামেডান এর ফুটবল খেলার কথা বলছিলাম। ঢাকার ফুটবল লীগ জমজমাট ভাব। কলোনির প্রতিটি খেলা পাগল ব্যাক্তি রাত ৮টা বা রাত ১০ টার ইংরেজি র খবরের মাধ্যমে নিজ নিজ দলের খেলার আপডেট রাখার চেষ্টা করে।

স্টীল মিলের পিকনিক....


হাওয়া হাওয়া ইয়ে হাওয়া খুসবু লুটা দে
চিরদিনি তুমি যে আমার।
ম্যায় নে পেয়ার - ফুল অর কাটা 
তখনকার সময়ের আরো কত হিট গান
নাহ, আমি গান গাইতেছিনা আর গান আমি পারিও না। এসব পিকনিক সিজনের গান।। পিকনিকে যাবো তাই বিশাল বড় বড় বাস, তার উপর সামনে পিছনে দুই দিকে মাইক। আর কান ফাঁটানো গান। কি যে মজা আর আনন্দ। যারা পিকনিকে যেতাম তাদের যেমন আনন্দ তেমনি না যাওয়াদেরও কান ফাঁটানো গান শুনে আনন্দ। পুরো কলোনী তখন উৎসবমুখর। আমরা বেশীর ভাগই নতুন জামা কাপড় পড়ে ফুল বাবুটি সেজে পিকনিকে যাচ্ছি সেটা জানান দিতাম। আরে মজারে... মজা।। সারাটা পথ মাইকে কান ফাটানো গান শুনে destination এ পৌছতাম। সেখানে সবচেয়ে মজার ব্যাপার ছিল ফটো তোলা। আমরা ৪/৫ জন মিলে শেয়ারে ফুজি ফিল্ম কিনে ইয়াসিকা ক্যামেরায় ছবি তুলতাম।। ছবি তোলার সময় সে কি সতর্কতারে বাবা। একটা ছবি উলটা পালটা হয়েছেতো একজনের ভাগের একটা ছবি শেষ। হাহাহহ print করানোর সময়েও ভাগে টাকা দেয়া হত। আর এখন স্মার্ট ফোনের কারনে আমার মতো অগা মগা, গরু ছাগলও স্মার্ট হয়ে গেছে।। যাই হোক সারাদিন আনন্দ আর মজা আর খাওয়া দাওয়া করে সন্ধায় যখন ফিরতাম তখনও গান শুনেই সবাই বুঝতো "ওরা এসেছে"।। কি মজাই না ছিল অইসব দিনগুলি।

বেশ কিছুদিন ধরে চিন্তা করছিলাম কি নিয়ে লেখা যায়


বেশ কিছুদিন ধরে চিন্তা করছিলাম কি নিয়ে লেখা যায়।কখনো ত এই গ্রুপ এ কিছু লিখিনি... আমার বড় ভাই (নাজমুল ভাই) সবসময় আমাকে বলে তুই কিছু লিখস না কেন... আসলে কি লিখব সব বড় ভাইদের সামনে কিভাবে নিজেকে উপস্থাপন করব সেটাই বুঝে উঠছিলাম না... 

আজ অনেক দিন পরে facebook এ লগ ইন করলাম... আর লগ ইন করার পর প্রথমেই দেখলাম রেজা ভাই এর ‘তারিকের ফান্ড’ নামক পোস্ট টি। একটু গভীর ভাবে চিন্তা করলাম... সম্মেলিত ভাবে আমরা এইটা কি করে দেখালাম... অবাক হয়ে গেলাম মুগ্ধ হয়ে গেলাম স্তম্ভিত হয়ে গেলাম... আমরা CSM কলনি ছেড়েছি কত বছর হয়ে গেল... কিন্তু আত্মার টান সবার ভিতর ছিল্‌... শুধু দরকার ছিল একটা প্লাটফর্ম এর...।সেইটা করে দিল CSM facebook group. 

আজ রেজা ভাইয়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম


আজ রেজা ভাইয়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম আমি আর মাহমুদ |অনেক ভালো লাগলো রেজা ভাইয়ের সাথে কথা বলে |উনি আমাদেরকে রিসিভ করার জন্যে নিছে নেমে এলো এবং কুলাকুলি করলেন |খেয়াল করলাম কুলাকুলি করার সময় উনি শক্ত করে বুকে জরিয়ে ধরছেন |উনার অফিসে নিয়ে গেলেন এবং অনেকক্ষণ আড্ডা দিলাম উনার সাথে |মাঝে মধ্যে খেয়াল করলাম রেজা ভাই কথা বলার সময় উনার চোখের কোনায় পানি |রেজা ভাই হয়তো লোকানোর চেস্টা করেছেন কিন্তু দেকেছি |

কানে ধরার দল


সব যুগের স্টুডেন্টদের যদি একটা প্রশ্ন করা হয় আপনার সবচেয়ে মজার সময়টা কখন কেটেছে ? আমার ধারনা সবাই স্কুল লাইফেই বেছে নিবে । আমি ও ব্যাতিক্রম না। আমি ও সেই লাইফ কেই খুজে নেই ,কখনো মন খারাপ থাকলে আমাকে সেই লাইফেই ছুটে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। যাই হোক আমি একটু ভদ্র গোছের ছেলে ছিলাম ,জাহাঙ্গির এর ধারনা আমি সুযোগের অভাবে ভদ্র ছিলাম। কি জানি হবে হয়তো। গুরুর কথা অমান্য করি করে grin emoticon ক্লাস নাইন/টেন এ আমাদের ক্যাপ্টেন ছিল জাহাঙ্গির । এই ছেলে কোন স্ট্যান্ডার্ডের ফান করতে পারে কেউ ধারনাই করতে পারবে না। আমাদের ক্লাসে পজিশন ছিল ফাষ্ট বেঞ্চে। ফাষ্ট বেঞ্চে বসলে মজা করা যায়না এই রকম ধারনা আমরাই সম্ভবত প্রথম ভেঙ্গে দিয়েছিলাম। মাহফুজ স্যার / আনোয়ার স্যার এর মাইড় খেয়ে তত দিন আমাদের পিঠের চামড়া গন্ডার এর মতো হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তখনো মনের পর্দা অতটা শক্ত হয়ে উঠেনি। ক্লাস টিচার মহসিন স্যার এর ধমক শুনে মন প্রায় খারাপ হয়ে যেতো । ব্যাপারটা জাহাঙ্গির খেয়াল করে। আমাকে অনেক জ্ঞান দিতে থাকে । কিন্তু কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছিল না। আমাকে নিয়ে এক রকম ঝামেলায় পরে যায় জাহাঙ্গির। কিন্তু হাল ছেড়ে দেয়নি ।

Friday, October 9, 2015

আজ আমি আর কোথাও যাব না


আজ আমি পতেংগা সিবিচ যাব।কিন্তু জানি স্টিল মিলস কলোনি র গেইট এ আসা মাত্র আমার আর যাওয়া হবেনা।ওখানেই থেমে যাব।তারপর হাটতে হাটতে কলোনি র গেইট এর দিকে যাব।পুরোপুরি হ্যালুসিনেশনে চলে যাব।দেয়ালটা উঠে কলোনি র সেই আগের গেইট হয়ে যাবে।আমি যেন দুপুরে মায়ের পাশে শুয়ে আছি, কখন মা চোখ বন্ধ করবেন এই আশায়।মা ঘুমালে যদি বৃষ্টি হয় তাহলে আমি বের হবনা।হয়ত আতিক ভাইয়ের কাছ থেকে আনা আনন্দ বিচিত্রা দেখতে থাকব।বড় বোন স্যারের কাছ থেকে এসে আমাকে বকা দিবেন ম্যাগাজিন ঘেটেছি বলে।তবুও বন্ধ হবেনা আমার এ অভ্যাস।

কিংবা রোদ থাকলে আমি টুল নিয়ে দরজার ছিটকিনি খুলে চলে যাব রিপা আপাদের বাসায়।দেখব গোলাম হোসেন চাচা একা একা শ্রীদেবীর কোন ছবি দেখছেন।আমি গিয়ে বসব উনার পাশে।যদিও শ্রীদেবীকে আমার ভাল লাগেনা,ভাল লাগে জুহি চাওলাকে।রিপা আপা থাকলে হয়ত দেখতে পারতাম।

মামলার ধারা - ৪২০

জানি ইচ্ছা পূরণ হবেনা



স্যরি আজ দুটি পোস্ট দিয়ে ফেললাম একই দিনে। ঘুম আসছে না। কিছু কিছু দিন এমনই থাকে। কিছুতেই ঘুম আসতে চায় না। আমরা যখন সি টাইপের তিনতলা বাসাটায় ছিলাম আমি রান্না ঘরের সাথের কোনার রুমটায় থাকতাম। এই রুমটার মজা হল এটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো। অনেক রাত হয়ে গেলে একটু নির্জনতা পাওয়া যেত। তখন মাঝে মাঝে আজকের মতো কিছু রাত আসতো যখন ঘুম নিরুদ্দেশে যেত। আমি খোলা জানালা দিয়ে আকাশে তাকিয়ে থাকতাম। জানালার পাশের নারকেল পাতা নক্ষত্রের আলো দিয়ে কত ভুত প্রেত যে আঁকত আমার মশারীতে। কত রাতে যে আমি উল্কার খসে পড়া দেখেছি। উল্কা পরার সময় নাকি মনে মনে কোন ইচ্ছা প্রকাশ করলে সেই ইচ্ছা পূরণ হয়। যতবার উল্কা পরতে দেখেছি ততবার আমি একটা ইচ্ছাই করেছি। ইচ্ছা পূরণ হয়নি। কত রাত দেখতাম স্টিলমিলের চোঙ্গাগুলো দিয়ে ধোঁয়া বেরুচ্ছে আর জেটির সোডিয়াম বাতির আলোয় কেমন লাল হয়ে উড়ে যাচ্ছে ধোঁয়ারা। স্টিলমিল নিয়ে কত ছোট ছোট সপ্নের মতো স্মৃতি আমার। অফিসার্স ক্লাবের গেটের সামনের রাস্তার নিচের ড্রেন ভেঙ্গে গেলো একবার। সিমেন্ট ঢালাইয়ের ঝামেলাতে না গিয়ে একটা এক ইঞ্চি স্টিল শীট কেটে ওখানে বসিয়ে দেয়া হল। ওখান থেকে টাঙ্কির দিকে এগিয়ে গেলে নতুন পিচ দেয়া রাস্তায় একদম ছোট একটা গর্ত। প্রতি রাতে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফেরার পথে ডি টাইপের ওয়াশার টাঙ্কি থেকে পানি খেয়ে একমুখ পানি বয়ে নিয়ে এসে ওই গর্তে ফেলতাম। দিনের পর দিন কোন কারন ছাড়া এই ছেলেমানুষি খেলা খেলেছি আমি। মেডিকেল গেটের কাছ দিয়ে খালপাড়ে ঢুকতেই একটু সামনে বাম পাশে একটা বিশাল পাথর। পাথরটা বর্ষায় ঝোপঝাড়ে ঢেকে যায় আর শীতকালে বেরিয়ে আসে। পাথরের পাশেই একটা গর্ত। সেই গর্ত থেকেই কলোনির যত ব্যাডমিন্টন কোর্ট আর খেলার মাঠে দাগ টানার চুন যেতো। আমরা এটাকে চুনের খনি বলতাম। আরেকটু এগুলেই একটা পানির পাইপ খালের উপর দিয়ে আড়াআড়ি পার হয়ে গেছে। ছেলেরা পাহাড়ি ছাগলের মতো তরতর করে ওই পাইপ পার হয়ে বিএইচ১ এর পিছন দিয়ে শর্টকাট মেরে দিত। আমি কখনো ওই পাইপ পার হতে পারিনি। সাহসের বড় অভাব ছিল। খালপাড়ের জংলা থেকে পাকা তোকমা খুঁজে বের করে খেতে খেতে চলে যেতাম পুকুর পাড়ে। পুকুর পাড়ের কোনায় মসজিদের কাছের ঝোপে এক জোড়া টিয়া বাসা করেছিল। ওদের সামনে তোকমা ছুঁড়ে দিলে মাঝে মাঝে পায়ে চেপে ধরে খুঁটেখুঁটে খেত আর মাঝে মাঝে ফিরেও তাকাতো না। উড়ে চলে যেতো। 

গানের নাম "পাপড়ি"। হ্যাঁ, আজম খানের পাপড়ি।



আজ সকালে অফিসে যাওয়ার সময় পরিচিত একটা গান কানে এলো। বহু বছর পর গানটা শুনলাম। গানের নাম "পাপড়ি"। হ্যাঁ, আজম খানের পাপড়ি। পাপড়ি কেন বোঝেনা তাই ঘুম আসেনা। আমার প্রজন্মের মানুষের জীবনে আজম খান একটা বিশাল অংশ জুড়ে আছে। আজ সারাদিন গুরুকে মনে পড়ছিল। ৫ জুন গুরুর মৃত্যু বার্ষিকীতে গুরুকে নিয়ে আমি দুলাইন লিখেছিলাম।


আমি তখন ক্লাস সিক্স কি সেভেনে পড়ি। তখন টেপ রেকর্ডারের যুগ। বাজারে TDK, Sony কোম্পানির ষাট মিনিট আর নব্বই মিনিটের টেপ কিনতে পাওয়া যেত। আমরা আবার নষ্ট হয়ে যাওয়া টেপ থেকে ফিতা খুলে এখানে ওখানে টানা দিয়ে বেঁধে রাখতাম, বাতাস এলে ভ্রিইই ভ্রিইই শব্দ হয়। আমরা বলতাম ক্যাসেটের গানগুলোই বাজছে। তখনো আমাদের বাসায় কোন ক্যাসেট প্লেয়ার নেই। গান নিয়েও তেমন ধ্যান ধারনা ছিলনা। সেসময় আমাদের ক্লাসে নতুন একটা ছেলে ভর্তি হল, নাম জয়নাল আবেদিন। তার বাবা হুজুর ধরনের মানুষ। সফেদ দাড়ি আর তিনগজি আলখাল্লা পড়ে থাকে। জয়নাল ছেলেটা পিছনের বেঞ্চে আমার পাশেই বসত বেশির ভাগ সময়। কথাটথা হতনা খুব একটা। সারাদিন গুনগুন করে অদ্ভুত সুরে কি যেন গাইতো। অনেক চেষ্টা করেও ওর গানের কথা আবিস্কার করতে পারিনি অনেকদিন। একদিন ক্লাসে স্যার নেই, ব্যাপক হইহল্লা হচ্ছে। সম্ভবত চীনা আলম তার স্বভাবসুলভ খবিসি জোকের ভাণ্ডার খুলে বসেছে, সবাই হাহা হোহো করছে। জয়নাল পিছনের বেঞ্চে বসে একা একা গুনগুন করে যাচ্ছে। হইচইয়ের কারনে একটু জোরেই গাইছে। আমি কুত্তার মত কান বাগিয়ে বসে আছি যদি কিছু বুঝা যায়। শেষ দুটা শব্দ শুধু বুঝতে পারছি "তোমাকে আমার"। হঠাৎ একটু বেশিই জোরে গেয়ে ফেলল আর আমিও শুনে ফেললাম। "হৃদয়ের টানে আরো কাছে আনে তোমাকে আমার"। কেমন অদ্ভুত নিয়ম ভাঙ্গা সুর। আমরা তখনো "তোমার বাড়ির সামনে দিয়ে মরন যাত্রা যেদিন যাবে" ধরনের সুর শুনে অভ্যস্ত। গানের কথা আবিস্কার করে আমি ক্লাসে মোটামুটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটালাম। এরপর বহুদিন জয়নালকে আমরা "হৃদয়ের টানে" নামে ডাকতাম। 

আমার ডায়েরির ছেড়া পাতা ( সুমন বিশ্বাস )


আমি কখনোই রাইটার ছিলাম না, লিখতে যে খুব ভালো লাগে তাও না। আমি সারা জীবন বাধ্য না হলে কোন কাজ করিনা আজো ঠিক তেমনি আছি। আমি সত্যি বদলাতে পারি না । জসিম ভাই এর জন্য আজ আমি বাধ্য হয়ে আবার লিখতে আসলাম । গ্রুপে আমরা না থাকলে মজা হয় না। আমরা বলতে পুরো ৫০০+ ম্যাম্বার। এত বড় ভাই /বোন আছে অনেকের সাথেই এই গ্রুপেই প্রথম পরিচয় হলো। জসিম ভাইয়ার কথা শুনেই মনে হলো ফ্রেন্ড দের নিয়ে কিছু লিখবো ।

আমার ফ্রেন্ড , কাকে নিয়ে লিখবো ? ফেসবুকে আমার মতো নিরামিষ মানুষের ফ্রেন্ডলিষ্টে ৩৭১ জন ফ্রেন্ড !!! ভার্চুয়াল ফ্রেন্ড সিয়াম/রাব্বির কথা দিয়ে না শুরু করলে ফ্রেন্ডশিপ এর গল্প পুর্নতা পায় না , জাহাঙ্গির,কাজী, কাইয়ুম, রায়হান দের ছাড়া আমি নিজেরে খুজেই পাইনা । পলাশ এর সাথে কথা বলে যে আনন্দ টা খুঁজে পাই তারো তুলনা হয় না। কত যে ফ্রেন্ড আমার গুনে শেষ হবে না । সবার সাথেই মোটা মুটি যোগাযোগ আছে । ফ্রেন্ডশিপ কিভাবে করতে হয় এইটা যার কাছে শিখেছি সেই শুধু নেই আমার কাছে । এক সাথে বড় হয়েছি , কত ঝগড়া করেছি, গাল ফুলিয়েছি , কথা বলা বন্ধ করেছি। স্যাররা মিলিয়ে দিয়েছে আবার ফ্রেন্ডশিপ হয়েছে , অনেকবার দূরে চলে গিয়েও ফিরে এসেছে এখন তো আমাদের মাঝে কত দুরুত্ব আমাদের দেশ আলাদা , আমাদের দু জন কে আরো আলাদা করে দিয়েছে দুই দেশের মাঝে দেয়াল হয়ে থাকা কাটা তার। আমার আদর্শও হয়তো সুমনের কাছ থেকে আরো দূরে সরিয়ে দিয়েছে । দূরে সরে গিয়েই হয়তো আমি আরো বেশি অনুভব করতে শুরু করেছি । সময়ের সাথে বন্ধুত্ব আরো শক্তি শালি হচ্ছে। 

Thursday, October 8, 2015

“ গর্ব “


“তারেক” জাস্ট একটা নাম, এর চেয়ে বড় কথা হলো তিনি একজন মানুষ, এটাকে আরো ভালো করে বলতে গেলে, তিনি আমাদের স্টিল মিলস কলোনির একজন মানুষ, বড় ভাই, কারো ছোট ভাই, অনেকের দোস্ত। অনেকেই আছে যারা তারেক ভাইকে শুধু নামেই চিনে, কেউ স্কুল এর অনুষ্ঠানে গিটার বাদক হিসাবে, বেশীর ভাগই ফুটবল খেলাতে গোল কিপার হিসাবে চিনে। তারেক ভাই কলোনি থেকে বের হয়ে যাবার আগ পর্যন্ত যারা কলোনিতে ছিলো সবাই তাকে চিনে বিভিন্ন ভাবে। কলোনির যাদের সাথে কখনো তার কথা হয় নাই তারাও তাকে চিনে, এমনটা শুধু তারেক ভাইয়ের বেলায় না, আমার বেলাতেও এমন, সবার বেলাতেই ঠিক এমনই। কারন কলোনি এমন একটা জায়গা ছিলো সবাই সবাইকে চিনতো, কথা হোক বা না হোক।

“একদা ঈদের ময়দানে “

- Mahabub Rasel

CSM কলোনিতে থাকাকালীন অবস্থায় আমরা সবাই ঈদের নামাজ পড়তাম অফিসার্স ক্লাব মাঠে, এটা সবার জানা এই মাঠে শুধু কলোনির মানুষ না, বাহিরের মানুষরাও দলে দলে এসে নামাজে অংশগ্রহন করতেন, এটাও সবার জানা নামাজ শেষে ফকির / গরীব মানুষেরা অফিসার্স ক্লাব থেকে বের হবার রাস্তায় লাইন ধরে দলে দলে দাঁড়িয়ে থাকতো এইটাও সবার জানা কিন্তু যে সত্য কাহিনীটা অনেকের হয়তো জানা নাই তা হল …………

আমাদের একজন ছোট্ট-খাট্ট সন্মানিত কাকা ( অনুগ্রহ করে যারা ঘটনাটা জানেন তারা কাকার নাম প্রকাশ করবেন না ) ঈদের নামাজ শেষ করে ক্লাব থেকে বের হবার রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন, তার পরনে ছিলো হালকা সাদা লুঙ্গী, আর গায়ে ছিলো আগেরদিনের মুরুব্বীদের পাঞ্জাবি (অনেকটা হাফ শার্টের মত, একটু লম্বা, কিন্তু পাঞ্জাবী !!!) হয়তোবা কারো জন্য অপেক্ষা করছিলেন কিন্তু সমস্যা হল তিনি এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলেন, ফকিরের লাইন যেখানে এসে শেষ হয়েছিলো!!!!

হাজিরা খাতা



কলেজে উঠে ক্লাস পালায় নি এমন ছাত্র,ছাত্রী খুব কম আছে। সম্ভবত এই কারনেই কলেজের প্রতি ক্লাসে রোল কল হত। আমি ত প্রথমে ঢাকায় ভিকারুন্নিসা কলেজে পড়েছি পরে চিটাগাং গেলাম। এখানে পড়ার সময়ে মাঝে মাঝে ক্লাস পালাতাম। আমাদের এখানে সিট রোলিং হয় প্রতিদিন। আমাদের যে রুমটাতে ক্লাস হত সেই রুমের দুইটা দরজা ছিল। আমরা ছিলাম ১২১ জন ছাত্রি। তো সিট রোলিং করে করে যে দুই দিন আমি দরজার পাশে বসতাম সেই দুই দিন নাম প্রেজেন্ট করেই পালাতাম।তবে হ্যা সব ক্লাস না,বা প্রতিদিন না। পালিয়ে আমরা বেশি কোথাও ত যেতে পারতাম না। কারন স্কুলের দিকে যাওয়া নিষেধ ছিল। বড়জোর আমরা অডিটোরিয়ামের ভিতরে যে ড্রেসিংরুম যেটা ছিল ওখানে বসে থাকতাম। এলাম চিটাগাং। এখানে এসে প্রথম দিকে পুরা ক্লাস করতাম মনোযোগ দিয়ে আর ওটা ছিল ছেলেদের সাথে প্রথম একসাথে ক্লাস করা। খুব অস্বস্তি লাগত বলে পড়ালেখাই করতাম। কিছুদিন পর আবার ক্লাস পালানো শুরু করলাম। এবারের স্বাধিনতা আলাদা,কারন বিশাল ক্যাম্পাস, চাইলেও ধরা খাবার সম্ভাবনা নাই। একদিন ক্লাস ফাকি দিয়ে গেলাম মিতুর (sister of Abdullah Al Mamun অপু ভাই) ক্লাসে। পিছনে বসে সমানে আমি আর মিতু স্যার কে নকল করছিলাম। স্যারের নাম ছিল something পাটোয়ারী। উনি নিজের নাম বলতেন ফাটোয়ারি। এরকম নানা কিছু মনে হচ্ছে আর কি। কি দিন পার করেছি।

সোনালী ব্যাংক বিড়ম্বনা @ ৭ অক্টোবর ২০১৫


অনেকদিন যাবত আব্বু আম্মু আমার পিছনে লাগছে একটা ডিপিএস (DPS) করার জন্য। কিন্তু আমি রাজি না। এরপর আবার শুরু করছে সঞ্চয়পত্র কিনার জন্য। অবশেষে রাজি হলাম কারণ ব্যাংক এ কিছু অলস টাকা জমা আছে। আব্বু সোনালী ব্যাংক থেকে ফর্ম নিয়ে আসলো এবং আমাকে জোড় করে ফর্ম পূরণ করতে বাধ্য করল।

আব্বু বলল সব কাজ আব্বু করে দিবে, আমাকে শুধুমাত্র আব্বুর সাথে একদিন ব্যাংক এ যেতে হবে। মাত্র আধা ঘণ্টা লাগবে। আমি রাজি হলাম। অফিস থেকে একদিন ছুটি নিলাম কারণ সোনালী ব্যাংক বলে কথা।

ব্যাংক খুলবে সকাল ১০ টায় কিন্তু আব্বু সকাল ৯ টা থেকেই রেডি হয়ে বসে আছে আমার সাথে ব্যাংক এ যাবে বলে, আর আমি তখনও ঘুম। আমার বাসা থেকে ব্যাংক এ যেতে সময় লাগে মাত্র ১৫-২০ মিনিট। আব্বু খুব বিরক্ত হয়ে ৯.২০ এর দিকে আমাকে ঘুম থেকে জাগালো। সব কাজ শেষ করে বাসা থেকে বের হলাম সকাল ১০ টায়। ব্যাংক এ পৌঁছাইলাম ১০.১৫ তে। লোক সমাগম অনেক কম। আব্বু বলল কাজ শেষ করতে আধা ঘণ্টাও লাগবে না।

Wednesday, October 7, 2015

Flashback History of CSM Colony Group


আগস্ট ২০১৫ তে আতিক ভাই উনার ফেসবুক ওয়ালে সি এস এম নিয়ে স্মৃতিবিজড়িত অনেক পোস্ট লিখা শুরু করলো,সাথে সাথে সি এস এম এর সবাই তাতে কমেন্ট দিয়ে তাদের স্মৃতি শেয়ার করা শুরু করলো।১৯/০৮/২০১৫ সকালে আতিক ভাই একটা পোস্ট দিলো মিঠু ভাই কে নিয়ে আর সেই পোস্ট এ সর্বাধিক সি এস এম এর পোলাপাইন অংশগ্রহণ করলো ,এরপর সেইদিন বিকালেই টাঙ্কির নিচে (কাল্পনিক) এক সিনিয়র জুনিয়র মিলে এক বিশাল আড্ডা হলো এবং তখনি আড্ডার একটি প্লাটফরম এর অনুভব করলো সবাই।আর সেই থেকেই ২০/০৮/২০১৫ তারিখে সি এস এম কলোনী গ্রুপের যাত্রা শুরু।সেই থেকে শুরু আজ অব্দি চলছে সমান তালে সব ভাই বোন একসাথে। জয়তু সি এস এম।

কোন না কোন মজার কিছু আছে


আমাদের এখানে বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ৫১৭ জন। কিন্তু এক্টিভ মাত্র অল্প কয়েকজন, আর কেউ কেউ মাঝে লাইক দেয়, আর কেউ কমেন্টস করে। বেশির ভাগই নিরব দর্শক। যারা নিরব দর্শক, তাদের বলছি, ভাই ও বোনেরা আপনারা একটু নাড়াচাড়া দেন,আপনাদের কলোনি লাইফ তো একেবারে নিরামিষ কাটে নাই, কোন না কোন মজার কিছু আছে, সেগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করুন, বাংলা না হোক ইংলিশ, আরবি, ফারসি, হিন্দি যে ভাষায় পারুন শেয়ার করুন। অন্তত লাইক কমেন্টসে হলেও আসুন। কোন পোষ্ট ভালো না লাগলে সেটা প্রয়োজনে কমেন্টসের মাধ্যমে জানান।
যে ভাষায় পারেন সে ভাষায় জানান, আমাদের তরজমাকারী আছেন। কোন সমস্যা হবেনা।

তরিখটা সেপ্টেম্বর ২



তরিখটা সেপ্টেম্বর ২ হঠাৎ একটি লেখা মনটাকে নারিয়ে দিল। লেখক রেজা ভাই যেভাবে লিখলেন ছোট ভাই তারেককে নিয়ে তাতে আমি আর স্থির থাকতে পারলাম না, সাথে সাথে রেজা ভাইয়ের ডাকে সারা দিয়ে কক্সবাজার যাত্রা করলাম ১ম সভায় অংশগ্রহন করার উদ্দেশে। 

রেজা ভাই, নাজমুলের সাথে যোগাযোগ করলাম, তারা বলল যদি পারিস যতটুকু সম্ভব ক্যাশ নিয়ে আসতে। ব্যাস শুরু হয়ে গেল আমার অভিযান আমার ছোট ভাই দিপু ও তার বৌ মিতা আশ্বাস দিল, চলে গেলাম ছোটবোন মুক্তার বাসায় হালিশহরে, কথাটা বলার সাথে সাথে বোনজামাই বলল ভাইয়া এটা রাখেন, আসার সময় মুক্তাও শরিক হোলো এই মহৎ কাজে। রওনা দিব অমনি মায়ের ফোন আর বকাবকি অপরাধ তাকে বলা হয়নি, আশ্বাস দিলাম পের হবে। 

মানবিকতা



গতকাল Mashuk Sumon এর পোস্ট পড়ে মন খুব বেদনাসিক্ত হল। পড়া শেষে বারবার মনে হচ্ছিলো না পড়লেই বুঝি ভালো হতো। ছেলেটার সাথে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় নেই, থাকলে নিশ্চয় আমি তাকে ফোন করে সমবেদনা জানাতাম আর বলতাম এই কলোনির মানুষ স্টিলমিল বন্ধ হবার পর থেকে বরাবরই এমন ঘটনার শিকার হয়েছে। 

স্টিলমিলের কলেজ বাসের কথা মনে আছে? কলোনির অনেক অনেক সুখস্মৃতির মধ্যে কলেজ বাস অবশ্যই একটি। সেই কলেজ বাসে চড়ার জন্য একটা কার্ড ইস্যু করা হতো। সেই কার্ড খুবই হঠাৎ হঠাৎ ট্রান্সপোর্টের লোকজন চেক করার জন্য আসতেন। কলেজ বাসে বাইরের অনেক ছেলে মেয়ে আসা যাওয়া করতো, বিশেষত টিএসপি কলোনির ছাত্রছাত্রীরা। আমরা কখনোই তাদের বাইরের মানুষ হিসেবে ভাবিনি। তারা সিটে বসে যাচ্ছে আর আমরা দাঁড়িয়ে যাচ্ছি এটা খুবই স্বাভাবিক ছিল। বরং কার্ড চেকের তোড়জোড় হলে আমাদের কার্ড ওদের হাতে দিতাম যেন ট্রান্সপোর্ট অফিসিয়ালরা ওদের নামিয়ে না দেয়। মজার বিষয় ট্রান্সপোর্ট অফিসিয়ালরাও এসব জানতেন। মানবিক কারনেই এসব ওভারলুক করে গেছেন সবসময়। আমরা কলোনি ছাড়ার দু'বছর আগে কলেজ বাস বন্ধ হয়ে যায়।

ভুল মন্ত্র

- Javed


ভুল মন্ত্র
----------
ভুলে যাবার মন্ত্র পড়ে
ফুঁ দিয়েছি বুকে।
ভুলে গিয়েছি সব,
গেছে সব চুকেবুকে।
গল্প, কবিতা, গান,
কাঁঠালচাঁপার ঘ্রান।
ভুলে গিয়েছি নতুন জলে
বনহংসীর ডুব,
মনে পড়ছিল খুব
তবু ভুলেছি ভর দুপুরে
অলস ঘুঘুর ডাক।
শরতের নিশ্চুপ নির্বাক
নীল আকাশে রঙ্গিন ঘুড়ির ঝাঁক।
ভুলেছি সকাল সন্ধ্যা কখন হয়,
কখন দূরের ট্রেন দেয় হুইসেল।
কখন আসে রুদ্ররোষে ঝড়।
ভুলেছি আপন পর।
ভুলেছি তোমার নীল শাড়ি,
নীল টিপ।
তোমার হাতের ঝনঝন নীল চুড়ি।
মন্ত্রের নেই ভুল।
মন্ত্রগুনে ভুলেছি তোমার
ঘাড় ছড়ানো চুল।
সব ভুলেছি, ভুলিনি শুধু
আমার হাতে তোমার ছোট্ট হাত।
মন্ত্রে আমার খাঁদ ছিল নির্ঘাত।
(০৯/০৭/২০১৫)

শাহিন ভাই



শুধু এখন বলেই নয় সব সময়ই আমাদের কলোনির কারো সাথে চট্টগ্রাম এর বাইরে কোথাও দেখা হলে অন্যরকম এক আবেগ কাজ করত আমাদের মাঝে । 

তেমনই ৯১ সালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ফেরার জন্য কমলাপুর ষ্টেশন এ টিকেট করতে গিয়ে Reajul Islam Shahin ভাইয়ের সাথে আমার দেখা, উনি পরদিন সকালের জন্য টিকেট করেছেন, আমার আসার কথা পরদিন বিকালের ট্রেনে, কিন্তু শাহিন ভাইয়ের সাথে একসাথে আসার জন্য আমিও সকালের ট্রেনের টিকেট করেছি। পরে শাহিন ভাই সহ সেখান থেকে ইত্তেফাক অফিস সহ মতিঝিলের বিভিন্ন জায়গায় যাই (বেবাক বরিশাইল্যা আর বরিশাইল্যা বরতি আছেলো অইহানে)।

শাহিন ভাই ট্রেনে করে বরিশাল যেতে পারুক আর না পারুক আমাদের শাহিন ভাই কিন্তু পরদিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনেই এসেছে।

ভালো কথা, শাহিন ভাই কিন্তু আমাকে ওই দিন ট্রেনে নাস্তাও করিয়েছিলেন।

Tuesday, October 6, 2015

মারবেল খেলা .....



ছোট ছোট গোলাকার মারবেলের তৈরী বল দিয়ে খেলা হয়। মারবেল খেলা কয়েক ধরনের হয়। আন্টিস, চম্পা, বাত এদের মধ্যে অন্যতম।

মারবেলও বিভিন্ন ধরনের ও বিভিন্ন বর্ণের হয়। ভিতরে রঙ্গিন কাজ বিশিষ্ট মারবেল গুলোর নাম ছিল "পাঙ্কিল"।

আন্টিস- মুলত আঙ্গুল দিয়ে খেলতে হয়। (তাই হয়ত এই নাম)। ছোট একটা গর্তকে কেন্দ্র করে খেলাটা চলে। গর্তটার নাম "কেপ"। একটা নির্দিষ্ট দুরত্ব থেকে সব খেলোয়াড় কেপের দিকে তাদের "ডাগ্গি" ( সব চেয়ে গোলাকার, সুন্দর মারবেল, যেটা দিয়ে মুলত খেলা হয়, বাকি গুলা exchange এর জন্য) নিক্ষেপ করে। যারটা কেপের সবচেয়ে কাছে সে প্রথম মারার সুযোগ পাবে। এরপরের জন দ্বীতিয়, তারপরের জন তৃতীয় এভাবে..। বুড়া আঙ্গুলটা মাটিতে রেখে মধ্যমা দিয়ে কেপ করে অন্যের মারবেল ঠুকতে হয়। যার মারবেল ঠুকা হবে সে একটা মারবেল যে ঠুকবে তাকে দিয়ে দিবে। এভাবে চলতে থাকবে যতক্ষন একজন বাদে অন্যরা ফুতুর হয়ে যাবে। অনেক সময় সমঝতার মাধ্যমে যে কোন সময় খেলা শেষ করা যায়।

" আমাদের স্যার "

- Mahabub Rasel

অভিনাশ বাবু স্যারে ক্লাস করাটা ছিলো বিশাল ঝামেলার ব্যাপার, স্যার বোর্ডে অংক বুঝানোর পর জনে জনে জিজ্ঞেস করতেন, " ওই তুই খাড়া, বুঝছত? "

আমরা যদি বলতাম বুঝছি স্যার তখন স্যার বলতেন, " কি বুঝছত ? বোর্ডের কাছে আইয়া আমারে বুঝা !!!" তখন বুঝাতে না পারলে চলতো স্যারের ড্যান্সিং মাইর !!!

আজ স্কুলের কথা মনে পডল


আজ স্কুলের কথা মনে পডল বিশেষ করে আমাদের প্রধান শিক্ষক আহাম্মদ কবির স্যার এর কথা.......
দিন আবাহনী মোহামেডান এর খেলা হবে .৩০টা থেকে আমরা হাফ ছুটির দরখাস্ত করলাম কিন্তু স্যার ছুটি মঞ্জুর করেন নি পরে সকলে সিদ্ধন্ত নিল কেউ টিফিন এর পর আসব না যেই কথা সেই কাজ
পরের দিন সবাই এল পরিবেশ খুব থমতমে 

ডাব



বছর দুযেক আগে আমার ডেংগু জ্বর হয়েছিলো, প্রচুর ডাব খাওয়া লাগতো, একেকটি ডাব ৭০/৮০ টাকা করে কিনা হতো। টাকা পয়সা নানা ভাবে খরচ করি, কিন্ত ৭০/ ৮০ টাকা দিয়ে ডাব কিনে খাওয়া আমার কাছে ঐ ডেংগু জ্বরের চেয়েও কষ্টকর ব্যাপার ছিলো।

৭০ -৮০ টাকা বাদই দিলাম, ডাব কিনে খাওয়া টাই আমার কাছে খুবই বেদনাদায়ক ব্যাপার ছিলো। কলোনীতে সবারই গড়ে ৭/৮ টা করে নারিকেল গাছ ছিলো, ডাব কিনে খাওয়া দূরের কথা ,কল্পনাও করা যেতোনা। আর ডাব চুরির এডভেঞ্চার তো ছিলোই। যা খেতাম তার চেয়ে বেশী নষ্ট করতাম। একবার মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়ে পা কেটে যায় ঠিক ঐ সময় মাঠের পাশে বাবু (পেতি বাবু) দের গাছ থেকে ডাব পারা হচ্ছিলো, ওখান থেকে একটি ডাব নিয়ে ওইটার পানি দিয়ে পায়ের কাটা জায়গা ধুয়ে ছিলাম। আর যখন তখন ডাবের পানি দিয়ে মুখ ধোয়া তো ছিলোই। আর শলার ঝাড়ুতো কারো কিনাই লাগতো না, গাছের পাতা থেকেই সেটা বানানো হতো। বাইরের কেউ এ ঘটনা গুলো শুনলে এখন রুপকথা মনে করবে।

আমাদের এই অপব্যবহার মনে হয় আল্লাহর সহ্য হয়নি, তাই বোধ হয় এখন ডাব কিনে খাওয়ার মত পরিস্থিতি হয়েছে।

আজ Aslamuddin Mamun এর একটি পোষ্ট পড়ে ডাবের এই কষ্টকর কথা মনে পড়ল।

Monday, October 5, 2015

কিগো আন্নেরা বেকে মিলি কোনাই গেছেন?



আজকের আলোচনার ব্যক্তি একজন, কিন্তু সাবজেক্ট আপাতত তিনটি !!! ...

১) আমাদের সবার প্রিয় শাহীন ভাইয়ের একটা বিষয় নিয়ে CSM মিডিয়াতে উত্তেজিত আলোচনা হচ্ছে, তা হলো,............

" চট্রগ্রাম টু বরিশাল বাই ট্রেন "

২) ছাড়াও আমাদের জসীম ভাই বলিয়াছেন, শাহীন ভাই আমাদের একজন সন্মানিত বড় ভাইয়ের গানের লাইন নিজের বলিয়া চালাইয়া দিচ্ছেন, লাইনটি হল,...

Sunday, October 4, 2015

অফ দ্যা রেকর্ড


পড়াশুনা মাত্র শেষ করলাম। মাত্র বেকার জীবন শুরু হলো । খুব তাড়াতাড়ি কোথাও জোয়েন করে লাইফের বারো টা বাজিয়ে দেয়ার ইচ্ছে নেই। তাই কোথাও ট্রাই করছি না । রাসেল এর অবস্থাও আমার মতোই। আমাদের কাজ বলতে শুধুই সারাদিন আড্ডা মারা আর ঘুমানো । আমাদের সুখ মনে হয় রেজা ভাই এর সহ্য হলো না। দুই জন রে ডেকে CSM TV channel এ জোয়েন করিয়ে দিলো। আমি যতই বলি ভাই আমারে দিয়ে কাজ হবে না আমাদের কে দেখতে বান্দরের মতো দেখা যায় কেউ আমাদের কোন প্রোগ্রাম দেখবে না । আপনি স্পন্সর পাবেন না। চ্যানেল এর চৌদ্দ টা বাজবে । রেজা ভাই কোন ভাবেই আমাদের কথা শুনলো না। ওনার এক কথা আমার বান্দরই দরকার । কি আর করা আমাদের কাজ করতে নেমে পরতে হলো ।প্রতিদিন নতুন নতুন আইটেম নিয়ে প্রোগ্রাম সাজাতে হবে বলে একটা মোবাইল ধরায় দিলো। সাথে একটা হেড ফোন !!!
রেজা ভাই এইটা দিয়ে কি করবো ?
একজন মোবাইল কে ক্যামেরার ভেবে কাজ করবি অন্য জন সঞ্চালনা করবি ? 
এই রকম কথা কেউ বাপের জন্মেও শুনে নাই এইটা কি করে সম্ভব ? 
রেজা ভাই বললেন দেখ রাসেইল্লা আমাদের আজ কে হয়তো বাজেট কম এইভাবেই শুরু করতে হবে কিন্তু একদিন আমরা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ চ্যানেল হবো। টিআরপি তে আমরা সবাই কে ছাড়িয়ে যাবো .........

১৯৯১ এর ঘূর্ণি ঝড়ের ঘটনা


১৯৯১ এর ঘূর্ণি ঝড়ের ঘটনা। আমার বন্ধু আসিফ দের বাসায় একজন সাস্থবতি বয়সি বুয়া ছিলেন। ঘূর্ণি ঝরের পরের দিন উনি হাটু পানি থেকে মাছ ধরে তা শাড়ির মধ্যে প্যাঁ চিয়ে রাখছেন। এমন সময় এক টা বড় মাছ দেখে পিছু ছুটলেন আর হাটু পানিতে ড্রেন খেয়াল করতে না পেরে ড্রেনে পরে যান আর সব মাছ প্যাচ থেকে পালিয়ে যায়। পরে হায় হুতাস করে। (Oct 4)

১৯৯১ এর ঘূর্ণি ঝড়ের কয়েক দিন পর আমাদের প্রিয় স্কুল দেখতে গেলাম। প্রথম তলার বারান্দায়কিছু দূর হাটার পর এমন একটা যায়গায় গিয়ে দাড়িয়ে যেতে বাধ্য হলাম যেখান থেকে না সামনে মুভ করতে পারছি না পেছনে। বস্তিবাসী যারা ঘূর্ণি ঝড় থেকে বাঁচার জন্য স্কুল এ আশ্রয় নিয়েছিল তারা আমাদের স্কুলের বাড়ান্দা কে শোউচাগারে পরিনত করেছিল। কোন রকম কষ্ট করে নরম কাটা থেকে রেহাই পেয়ে একটা ক্লাস রুম এ উকি দিয়ে দেখি আমাদের বেঞ্চ গুলো তেও তারা একই কাজ করে রেখেছে। পড়া লেখায় ফাকিবায আমি স্কুল এ যেতে খুব এক টা ভাল লাগত না। তাই ভালবাসা ও কম ছিল। কিন্তু সেদিন স্কুলের জন্য খুব মায়া হচ্ছিল। (Oct 13)

বাসা বদল



আমদের বন্ধুদের মধ্যে কারো বাসা বদল করার প্রয়োজন হলে আমরা সবাই এ ব্যাপারে সহায়তা করতাম। সেটা কলোনির ভিতরে এক বাসা থেকে আরেক বাসা অথবা কলোনি থেকে বাইরে যেখানেই হোক।

কলোনির ভিতর কেউ বাসা বদল করলে আমার, Monirul Islam Monir, Mamunur Rashid রাশেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো অই নতুন বাসায় সবার আগে কে বড় বাথরুম করতে পারে। প্রায় ক্ষেত্রে রাশেদ প্রথম হতো।
৯৪ সাল থেকে আমার বন্ধুদের মাঝে বাসা ছেড়ে বাইরে বাসা নেওয়া শুরু হয়। দুলিরা বাসা চেঞ্জ করে নারিকেল তলা। মনিরুল্ রা একেবারে গ্রামের বাড়ি চৌদ্দগ্রাম, ওদের মালামাল ট্রাকে করে দুলি, রাশেদ,লিটন নিয়ে যায়। রোমান্স সংক্রান্ত জটিলতায় আমি যেতে পারিনি। হায় রোমান্স!! বন্ধুর বিদায়ের দিনেও আমি থাকতে পারিনি।

" ইমোশন স্টোরি - ২ "


আজ আতিক ভাইয়ের CSM এর বিদায় বেলার স্টাটাস পড়ে আমাদের প্রিয় তারিক ভাই অত্যাধিক ইমোশনাল হয়ে পড়েছেন!  
এত বলি ইমোশনাল হবেন না, তবুও ইমোশনাল হয়ে যায় সবাই!!!! কারন ইমোশনের পরিনতি ভালো হয় না, উদাহারন.......
আমাদের সকলের পরিচিত ইমোশনের রাজা একদিন ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলেন, অবশ্য একদিন বললে ভুল হবে, তিনি সব সময়'ই ইমোশনাল হয়ে থাকতেন!!! খুব'ই করুন অবস্থা!!!

Saturday, October 3, 2015

আমার ডায়েরির ছেড়া পাতা


Samee Sam & Smm Hossan Babu বড় দুই ভাই কে একজন মানুষ ভেবে ভুল করার জন্য আমাকে শাস্তি হিসেবে আজ কের মধ্যে কোন গল্প পোষ্ট করার কড়া অর্ডার দেয়া হয়েছে ।গল্প পোষ্ট না করলে অমার্জনিয় অপরাধের শাস্তি আরো বেড়ে যেতে পারে। কি আর করা আমাকে আবার কি বোর্ড নিয়ে বসতে হলো । লিখতে আমার সব সময় ভালো লাগে । মাথায় গল্প গিজ গিজ করতে থাকে grin emoticon লিখতে বললেই আমি শুরু করে দেই tongue emoticon কোন কিছু তেই আমার সমস্যা হয় না। এই সমস্যা না হওয়া টা আমার অনেক পুরানো অভ্যাস। ভার্সিটি পড়ার সময় ডিন স্যার যখন ফাইনাল একাউন্ট করাতো তখন সায়েন্স থেকে এসেছি প্রথম দিকে বুঝতে একটু প্রব্লেম হতো । সত্যি বলতে কি কিছুই বুঝতাম না। আমাকে কিছু প্রশ্ন করেছিল কিছুই বলতে পারলাম না। 

স্যার আমার ব্যাক গ্রাউন্ড কি জানতে চাওয়ার পর বলেছিল যারা সব পারে আর যারা কিছুই বুঝে না তাদেরই কোন সমস্যা নেই grin emoticon যারা পারে তাদের কেন সমস্যা নেই বুঝিয়ে বলার দরকার নেই কিন্তু যারা বুঝেই না তারা জানেই না কোথায় তাদের ঝামেলা ? আমি যে না জানার দলের ম্যম্বার বোধকরি এত দিনে সবাই বুঝে গিয়েছে । আমি গল্পের প্যাটার্ন বুঝি না শেষ শেক্সপিয়ারের গল্প পরেছিলাম তাও ম্যাকবেথ এর সাথে ওথেলো এমন ভাবে প্যাচ লেগে আছে বুবুর মাইর না খেলে এইটা মাথায় ঢুকবে বলে মনে হয় না। কম বুঝি বলেই লিখতে বেশি পছন্দ করি , কথায় বলে না খালি কলশি বাজে বেশি grin emoticon এতক্ষন আমি আজাইরা প্যাচাল করছি শুধুই আমার সামি ভাইয়া & বাবু ভাইয়ার মেগাবাইট খাওয়ার জন্য grin emoticon আমারে শাস্তি দিবে আর আমি চুপ করে থাকবো হতেই পারে না grin emoticon

"কলোনী ও সিনেমা"


কলোনিতে থাকা অবস্থায় অনেক আনন্দ করে সিনেমা দেখতে যেতাম ঘরের সবাই মিলে, অন্যান্য সিনেমার কথা তেমন একটা মনে পড়ে না, তবে ঘরের সবাই মিলে সর্বশেষ যে সিনেমাটা দেখেছিলাম ওইটা মনে আছে বনানী কম্পলেক্স সিনেমা হল, ওরে বাপরে!!! সিনেমা হলেতো আসি নাই, মনে হচ্ছিলো যেন, কোন মেলায় এসেছি!!!

আমার জীবনে আমি আর কখনো এইরকম ভীড় দেখি নাই সিনেমা হলে সিনেমা দেখার জন্য!!!