Friday, September 18, 2015

জয়তু csm colony


কত কথা কত ঘটনা কত স্মৃতি আমাদের সবার। লেখাগুলো পড়লে মনেহয় যেন চোখের সামনেই সব কিছু দেখছি।অদ্ভুত একটা ভাল লাগার অনুভূতি।নিজের বাসায় বসে থেকেও যেন কলোনির আমেজ।এই গ্রুপ এখন আমার দৈনন্দিন কাজের একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু আমার কি?আমার তো মনেহয় সবার।"csm colony " এখন একটা ব্র্যান্ড। 

জয়তু csm colony।

ভাষা শিক্ষা


১- স্যার আমাদের আদর করে গরুর দল বলতেন। খুব ইচ্ছা করতো স্যারকে জিগ্যেস করি স্যার আমরা গরুর দল মানলাম গরুর দল কে যে চড়ায় তাকে কি বলে? মাইর এর ডরে জিগ্যেস করা হয় নাই কোনো দিন। আমদের ক্লাসের বিকাশ, চট্রগ্রামের স্থানীয় ছেলে শুদ্ধ ভাষা বলা ওর জন্য দুরুহ এক কাজ। বিকাশ কয়েক দিন পর স্কুলে আসছে, স্যার রোল কল করছেন বিকাশের রোল কল করতেই বিকাশ বললো প্রেজেন্ট স্যার, স্যার বললেন হেরে বিকাশ কয় দিন ক্লাশে আসত নাই কেরে? বিকাশ বললো স্যার আমার গদ্দানা(ঘাড়) কাটি গেছিলো তাই আসি নাই। ঘাড়ের এই আঞ্চলিক শব্দ গদ্দানা শুনে স্যার সেইরম খেপে গিয়ে বললেন অব বেডা গদ্দানা কিরে গেট্টি ধইরা ক্লাশ থেইক্কা বাইর কইরা দিমু, স্কুলে আইসা ঠিক মতো কথা কইতে না পারলে স্কুলে আসনের দরকার কি, সাথে সেইরম মাইর।আমরা আর কি কমু বিকাশে কি ভুলডা কইলো আর স্যারে কি ভাষাডা শিখাইলো???????????? 

পৈশাচিক উল্লাস


কলোনীর আনাচে কানাচে অনেক ঝোপ জংগল ছিলো সেই ঝোপ জংগল এ রক্তচোষা নামক একটা প্রানী দেখা যেতো। খুবই নিরীহ একটা প্রানী।আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন ধারনা করতাম এই প্রানীটা মানুষের শরীরের রক্ত চুষে খায় তাই এর নাম রক্তচোষা। এই রক্তচোষা শিকার করে হত্যা করাট ছিলো আমাদের একটা খেলা যেহেতু তারা আমাদের রক্ত চুষে খায় তাই তাদের শিকার করে হত্যা আমরা খুব উল্লাস প্রকাশ করতাম। রক্তচোষা শিকার করতাম নারিকেল এর শলা বা কাঠি দিয়ে ফাদ তৈরি করে সংগী ছিলো দুলি ভাই,আনু ভাই সমু ভাই, মনিরুল,ডালিম,বিপুল,মিলটন। 

আহমেদ কবির স্যার (প্রধান শিক্ষক)


আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক আহমেদ কবির স্যার যিনি সদ্য প্রয়াত হয়েছেন।স্যারের একটা অভ্যাস ছিল এসেম্বলি শেষ হবার পর সব ক্লাসে টিচার রা ঠিকমতো গিয়েছেন কিনা তা নিজে গিয়ে দেখতেন।টিচার না থাকলে কার ক্লাস তা জেনে ব্যবস্থা নিতেন।তখন ক্লাস টু তে পড়ি।আমাদের ক্লাসে এলেন আরেক ক্লাসের আপা তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলতে।এমন সময় আহমেদ কবির স্যার তার রুটিন অনুযায়ি ঘুরতে এলেন।আমাদের ক্লাসের আপা তখন পাশের ক্লাসের আপাকে বাচাতে এক ছাত্রের সামনে থেকে খাতা নিয়ে ওই আপার সাথে এমন ভাবে কথা বলতে লাগলেন যেন উনি পড়া নিয়ে কথা বলতে আসছিলেন। স্যার এটা দেখে আর কিছু না বলে চলে গেলেন। এ ঘটনাটা প্রায় পঁচিশ ছাব্বিশ বছর আগের।তবুও মনে পড়ল কারন কিছুদিন আগে আমার এক কলিগ আমার সাথে গল্প করতে আসছিলেন। তখন ছিল ব্যস্ততার সময়।এমন সময় অফিসের বস কে কি করছি তা দেখতে এলে আমি আমার ওই কলিগ কে বসের শান্টিং থেকে রক্ষা করতে একটা ফাইল নিয়ে খুলে বসলাম যেন উনি এটা নিয়ে কথা বলতে আসছিলেন।এত বছর পরে আমার জীবনে যে একই ঘটনা ঘটবে তা ভাবিনি

Thursday, September 17, 2015

" প্রেমের উল্টো দৌড় "



লেডিস & জেন্টেল CSM, আজকে দেখি সবাই প্রেম নিয়ে স্টাটাস দিচ্ছে, উদ্দেশ্য বুঝা মুশকিল, নিজে কাঁদতে চায়, নাকি কাঁদাতে চায় !!!!!! কলোনির ঘটনা বলেই মনে হয় হয়তো মনে পড়ছে সবার, শুনেন তাহলে প্রেমের উল্টো দৌড়ের কাহিনী,

আমাদের ৯৭ ব্যাচ এর একজন বালক, একটি সুদর্শনা বালিকার প্রেমে মশগুল !! (গোপনীয়তার সার্থে নাম গোপন রাখা হলো, আশা করি কেউ নাম প্রকাশ করবেন না ) প্রতিদিন কলোনির প্রেমের নিয়ম অনুযায়ি দীর্ঘদিন বিল্ডিং এর আশেপাশে ঘুরাঘুরি, রাস্তায় দেখলে পিছে পিছে হাটা সবই চলছিলো, কিন্তু বেচারার সাহস হয় না কাছে যেয়ে প্রস্তাব দিয়ে তার পছন্দের কথা বলবে, তার এই ধরনের কার্যকলাপে আমরা তার প্রেম নিয়ে তার চেয়ে বেশি চিন্তিত, তাকে যতভাবেই সাহস দেইনা কেন, কোন ভাবেই তার সাহস হয় না !! যাই হোক এর একটা বিহিত'তো করা দরকার। এভাবে হা হা হা... প্রায় ১ বছর চলার পর, একদিন সিদ্ধান্ত নিলাম বালকের যখন সাহসে কুলাচ্ছে না, তখন অন্য কাউকে দিয়ে ব্যাপারটা বলাতে হবে, আলোচনার এক পর্যায়ে সুমন-৯৭ বলল, " তোরা আমাকে আগে বলবি না !!! আরে আমি বলবো, কোন ব্যাপার না, বালিকা আমার আব্বার কাছে পড়তে আসে, আমার সাথে কথা হয় মাঝে মধ্যে !!" 

এপ্রিল ২৯ গঠনের পর তিন তিনটি বড় প্রোগ্রাম করে আমরা খুব ফর্ম এ আছি


এপ্রিল ২৯ গঠনের পর তিন তিনটি বড় প্রোগ্রাম করে আমরা খুব ফর্ম এ আছি, কলোনীর প্রভাব শালি ব্যাক্তি গন ও আমাদের ব্যাকিং এ আছেন, তাই চলাফেরায় সবসময় আমরা কি হনুরে ভাব।

বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে কলোনির নানা স্থানে আমরা এপ্রিল ২৯ এর পোস্টারিং করি,এমনি একটা পোস্টার লাগিয়ে ছিলাম কলোনীর বাজার গেটে। কয়েক দিন পরেই আমাদের ঐ পোষ্টারের উপর নুতন একটি সিগারেট কোম্পানী তাদের একটি পোষ্টার লাগায় , এটা আবার খেয়াল করে আমাদের বেলাল ভাই (ভাই ভাই ষ্টোর) এবং আমাদের জানায়, তা ছাড়া বেলাল ভাই ও এপ্রিল ২৯ এর সদস্য ছিলো। পরে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম ঐ সিগারেট কোম্পানী বাজারে সিগারেট সাপ্লাই দিতে আসলে তারে আটকিয়ে রাখব। অথচ আমরা যে দিবস উপলক্ষে পোষ্টার লাগিয়েছিলাম সে দিবস একদিন আগেই শেষ হয়ে গেছে, আমাদের পোষ্টার টির কোন ভ্যালিডিটি ছিলোনা। শুধুমাত্র আমাদের প্রভাব দেখানোর জন্য দুদিন পর ঐ কোম্পানী বাজারে আসার পরই আমরা সবাই পিক আপ সহ ওদের লোকজনকে কলোনীতে আটকে রাখলাম,এবং পরে ১০০০ টাকার দফারফায় বিষয় টি মীমাংসা হয়।

১৯৯৪ সালের এক হাজার টাকা মানে অনেক টাকা।
এ টাকাটার পুরোটাই আমাদের এপ্রিল ২৯ এর ফান্ডে জমা হয়েছিলো।
বলতে ভুলে গেছি ওরা আমাদের পাঁচ প্যাকেট ওদের কোম্পানীর সিগারেট ও দিছিলো।

Wednesday, September 16, 2015

“ পিপড়া বিড়ম্বনা “

- Mahabub Rasel

মুসলিম উদ্দিন সিকদার, আমার মনে হয়, মোটামুটি কলোনির সবাই এই নামের সাথে পরিচিত, ( গতকাল রিপু Mostafa Kamal ছোট করে এই ঘটনাটা বলাতে মুসলিমের কথা মনে পড়লো ) সে ছিলোঝংকার ক্লাবএর স্বঘোষিত হ্যাট্টিক সভাপতি, প্রায় সময় গর্ব করে তার ক্লাবের সদস্যদেরকে বলতো, “ আর খতার উদ্দ্যি খনিক্ক্যে খতা খবি, আই অইয়্যিযে ঝংকার ক্লাবর এট্টিক সভাপতি !!” ( যদিও আমাদের ৯৭ এর / জন ছাড়া আমরা কেউ" এই ক্লাবের সাথে জড়িত ছিলাম না) মজার ব্যাপার হল, একবার হেট্টিক সভাপতি টাইটেল উল্লেখ করে পোস্টারও ছাপিয়েছিলো !!! লাল ছিলো তার অসম্ভব প্রিয় রঙ, এমনকি টকটকে লাল রঙের প্যান্ট পরে স্কুলেও ক্লাস করতো সে!!! মুসলিম যখন স্কুলে লাল প্যান্ট পরে ঘুরতো, সে এক দেখার মত দৃশ্য ছিলো 

“বিজ্ঞপ্তি / হাত জোড় করে অনুরোধ “


লেডিস & জেন্টেল CSM, আর কয়েকদিন পর পবিত্র ঈদ-উল-আযহা, সবাই এখন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে কোরবানির পশু কেনা এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই প্রস্তুতির অংশ হিসাবে আপনারা অনুগ্রহ করে উঠ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, মহিষ, বড় গরু, তাজা গরু, চিকনা গরু, বিরিশ গরু, বলদ গরু, গাই গরুর ছবি বা কোন কোরবানির পশুর সাথে সেলফি ইত্যাদি এই পেজে পোষ্ট করবেন না

কোরবানির পর, কসাইগিরী, কোরবানির পশুর চামড়া, গরুর গোশত, গোশত খাওয়া, মুন বেকারীর পরটা, ঘরে রুটি বানানো, রুটি ছেঁকা, আটার রুটি, চাউলের গুড়ার রুটি,স্পেশাল রুটি ইত্যাদির ছবি এই পেজে পোষ্ট দিবেন না

Tuesday, September 15, 2015

ডাবে অরুচী (বাকি অংশ)


এভাবে আমাদের মিশন চলছে। তবে বেশী অপারেশন হতো কারো বাসা খালি থাকলে। হয়তো আমাদের মধ্যে কারো বাসার সবাই বাড়ী গেছে ,আমাদের একজন সোনার চাঁন বাসার পাহারায় আছে।সংবাদ পেয়ে আমরা দলে-বলে তার বাসা পাহারায় বসে গেলাম । এ পাহারা সে চাক বা না চাক, তাতে আমদের কিচ্ছু যায় আসে না। এর রকমই এক ঘটনায় মোজাম্মেলের(ডা: মোজাম্মেল) বাসা ফাঁকা । আমরা সবাই মিলে কঠিন পাহারা দেই। দু’দিন বাদে হঠাৎ সকাল সকাল মোজাম্মেল আমাদের বাসার নিচ থেকে করুণ স্বরে ডাকছে।(তখন আমরা C-3 –তে থাকি)। নিচে নেমে এলাম। সে শুকনো গলায় নিচু স্বরে বললো---“শালা বাপ্পি—হারুইন্যা(মারগেছে আল্লাহ্ তাকে মাফ করুন) আরো শালারা মিলা হুজুরের মুরগী জবহ করেছে। এখনতো ভাই ধরা খামু আমি”।

“ফুটবল “

- Mahabub Rasel

কলোনিতে বড়মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছিলো, আমরা ৯৭ ব্যাচ থেকে বোধহয় জোড়া-তালি দিয়ে টা টিম দিয়েছিলাম একটা ৯৭ ইয়োলো আরেকটা ৯৭ গ্রীন ৯৭ গ্রীনে বানানো হয়ে গেছে রবিন, ছামির, রিপু, সোহেল, দীপক, নাজিম সহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে আমি ছিলাম গ্রামের বাড়িতে, বাড়ি থেকে এসে দেখি এর মধ্যে আমাদের ৯৭ গ্রীন সেমিফাইনালে উঠে গেছে আমারও খেলার সুযোগ হয়ে গেলো সেমিফাইনালে ডিফেন্স হিসেবে

খেলা শুরু হয়ে গেছে, চরম উত্তেজনা !!! বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় সীপন ভাই, বল নিয়ে তার বাম দিক দিয়ে সেইরকম স্পীডে গোল দেওয়ার জন্য ছুটে আসতেছেন, আমি দিলাম ট্যাকেল সীপন ভাই মনে হয় গতির কারনে গড়াতে গড়াতে / হাত দূরে গিয়ে পড়লেন, ব্যাপারটা যতটানা বড় ছিলো, দেখতে আরো বেশী গুরুতর দেখাচ্ছিলো !!! সঙ্গে সঙ্গে বাঁশি, ফাউল, আমাকে কার্ড দেখানো হলো ফাউল ঠিক আছে কিন্তু কার্ড কেন ?

“ নামকরন “


কোন ক্লাসে মনে নাই, নতুন এক ধরনের জিনিস পেয়েছিলাম পাঠ্যবইয়ে, পড়লেই মেজেজ খারাপ হয়ে যেত, জিনিসটার নাম স্যাররা বলতেন, “ এইগুলা হলো গদ্য কবিতা “, কিরে ভাই !!! এইগুলা নাকি কবিতা !!! এক লাইনের সাথে আরেক লাইনের কোন মিল নাই !!, কোন ছন্দ নাই !! মনে হতো যেন কেউ যা মনে এসেছে তাই লিখেছে !! এইরকম কবিতাতো আমরাও লিখতে পারবো, অবশ্য লিখি নাই বললে ভুল হবে, হেসে হেসে একটু ভাব নিয়ে / লাইন যা মনে আসতো বলতাম আমরা ৯৭ ব্যাচ খুব ভাব নিয়ে এক লাইনের একটা কবিতা আবৃত্তি করতাম, “ আজিজ কি দারুন নাম 

Monday, September 14, 2015

বি.কম পড়ার সময় আমার অন্যতম একটা সাবজেক্ট ছিলো অর্থনীতি


বি.কম পড়ার সময় আমার অন্যতম একটা সাবজেক্ট ছিলো অর্থনীতি, শালার এমন এক সাবজেক্ট, পড়া দূরে থাক, বই দেখলেই বমি আসত, এতো কাঠ খোট্টা একটা বিষয়, ছাতার মাথা কিছুই বুঝিনা, আর বুঝার কথাও না, তখন তো মাথার মধ্যে খালি রোমান্স ঘুরে, এদিকে পরীক্ষা নাকের ডগায়, কিন্ত পরীক্ষায় তো পাশ করতে হবে, কি করা যায় এ টেনশনে আছি, অবশেষে পেলাম আমরা (আমার সাথে বন্ধু Riman Babu ও ছিলো) আমাদের Abdullah Al Mamun অপু ভাইকে পেলাম, উনি তখন চিটাগাং ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতিতে মাষ্টার্স করছিলেন, উনার কাছে পরীক্ষার আগে ৪/৫ দিন পড়েছি আমরা দুজন। উনি অনেক সুন্দর করে আমাদের অনেক কিছু বুঝাতে পেরেছিলেন।
অপু ভাই, আমি কখনও ভালো ছাত্র ছিলাম না, তারপরও বি.কম পরীক্ষায় অন্য সব সাবজেক্ট গুলোর মধ্যে অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশী নাম্বার পেয়ে পাস করেছিলাম।

" গজল "


তখন নতুন নতুন সিডি প্লেয়ার বের হয়েছে, দেখতেও দারুন লাগে, বিশাল সাইজ, ঘরে চিল্লা চিল্লি করে অনেক কষ্টে ম্যানেজ করে নিউ মার্কেট এর ৪ তলা থেকে মোটামুটি বাঙ্কার টাইপের একটা কিনলাম , ওরে মোর খোদা !! আমারতো খুশিতে পেটের ভাত হজম হচ্ছে না, এমন অবস্থা !! কিন্তু সমস্যা একটা আছে, গান শুনার জন্য সিডি নাই, সব গানের সিডিও বের হয় না, হলেও দোকানে থাকে না, শুধু নিউ মার্কেটে পাওয়া যায়, আর দামও অনেক। প্রতি সিডি তখন ১০০/ ১২০ টাকা থেকে শুরু। যেখানে প্রতি মাসে ৪/৫ টা ক্যাসেটের ফিতা কিনতাম সেখানে এখন একটা সিডি কিনতেই খবর হয়ে যায়। কি আর করা প্লেয়ারের সাথে একটা মিউজিক সিডি দিয়েছিলো ওইটাই ফুল সাউন্ড দিয়ে সারাদিন শুনি, কিন্তু এক মিউজিক কত শুনা যায়!! 

শ্রদ্ধেয় আহমেদ কবির স্যারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনাপূর্বক



(লেখাটি লিখেছিলাম ২০১৪ সালের ১৪ মে। খবর পেলাম আজ আমাদের প্রধান শিক্ষক আহমেদ কবীর স্যার মারা গেছেন। লেখাটি হুবহু তুলে দিলাম)
------------------------------------------------------------
(শ্রদ্ধেয় আহমেদ কবির স্যারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনাপূর্বক)

তখন ক্লাস এইটে পড়ি। স্কুলের নাম চট্টগ্রাম ইস্পাত কারখানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। অনেকে ইংরেজিতে বলে চিটাগং ষ্টীল মিলস হাই স্কুল। আমরা সংক্ষেপে বলতাম চইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। একই স্কুলের কত নাম। একই অঙ্গে কত রুপ। তখন সবেমাত্র স্কুল পালানো বিদ্যা শিখেছি। এ যে কি এক মধু তা যারা স্কুল পালায়নি তারা কোনদিনই বুঝবে না। কলোনির ভেতর স্কুল আর কলোনির সবাই সবাইকে চিনে তাই এখানে স্কুল পালানো দুরূহ ব্যাপার। সুখের ব্যাপার সেসময় কলোনির চারপাশের দেয়াল ভাঙ্গা ছিল (জলোচ্ছ্বাসের কারনে)। এই কারনে স্কুল পালানো কিঞ্চিৎ সহজ হয়েছিলো। স্কুলের পিছনেই কবরস্থান, সাথেই খালপাড়ের রাস্তা ধরে সোজা কর্ণফুলীর তীর। তখন নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে এত মাথাব্যথা ছিলোনা কারো। মানুষ অনেক সহজ ছিল। একে অপরকে বিশ্বাসও করতো।হয়তো তাই কর্ণফুলীর পাড়ের জেটিগুলাতে কাঁটাতার বা ইস্পাতের বেড়া দেয়া ছিলোনা এখন যেমন আছে। আমরা অনায়াসে জেটিতে ঘুরে বেড়াতাম, দেশি বিদেশি বড় জাহাজগুলো দেখতাম আর জাহাজের কাঊকে করুণ মুখে আঙ্কেল ডেকে জাহাজ দেখার ইচ্ছা পোষণ করল জাহাজও ঘুরে দেখা যেত। আর একটু দূরের পথে যেতে ইচ্ছা করছে কিন্তু হাঁটতে ইচ্ছা করছে না এমন হলে ছিল ট্রেন। নদীর পাড় ধরে রেল লাইন। সেই লাইন যে কোথায় কোন দূর দেশে গিয়েছে আমরা কেউ জানতাম না, এ যেন পোলার এক্সপ্রেসের রেল লাইনটার মত। হাত দেখালে সেই লাইনে চলা মন্দ গতির মালবাহী ট্রেনটা থামত। ড্রাইভার রুক্ষ স্বরে জানতে চাইতো "কি হইছে রে?"। আবার সেই করুণ মুখে আঙ্কেল পদ্ধতি। ড্রাইভার আঙ্কেল বিরক্ত হয়ে বলত "উপরে উঠ"। যেখানে নামতে ইচ্ছা হতো আঙ্কেল ডেকে নেমে যেতাম। ট্রেন চলে যেত দূর দেশে।

ফান্ড কালেকশন



সেদিন বলেছিলাম নিরাবেগ বাস্তবতার কথা বলব না। বলতে চাইনি। গাড়ির রিয়ার ভিউ মিররে দেখবেন লেখা থাকে "objects in the mirror are closer than they appear." যে সময়টা আমরা পার করে এসেছি দৃশ্যত তা অনেক দিন আগের মনে হলেও খুব বেশি আগের কিন্তু নয়। আজ অনেকের পোস্টে দেখলাম হতাশ হয়ে যাবার একটা হাওয়া বইছে। তাদেরকেই বলছি পেছনে তাকান। স্টিলমিলের মানুষ হতাশ হয়না। দরিয়া পাড়ের মানুষ হার মানেনা। 

৯১ এর ঝড়ের সময় আমি ক্লাস সেভেনে পড়তাম। ঝড়ের পরদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি পুরো পতেঙ্গা ঘুরেছিলাম। বন্দরটিলা থেকে একদম এয়ারপোর্ট পর্যন্ত। কাটগর ধুমপাড়ার কাছে দুপুরে একজনকে দেখেছিলাম নিজের ভেসে যাওয়া ভিটার সামনে দাড়িয়ে হাউমাউ করছে। সন্ধ্যায় ফেরার সময় দেখি চারটি খুঁটি পুঁতে মাথার উপর চাল দেয়া হয়ে গেছে, চালার নিচে চুলায় আগুন জ্বলছে। আমি জানি সব হারিয়েও এই অঞ্চলের মানুষ ছোট্ট কুপির আগুনের মত একটু আশা বাঁচিয়ে রাখে। আমাদের কিছুই হারায়নি। আমরা কেন হতাশ হব? অন্তত আমি হতাশ না। কেন হতাশ না বলি-- আমাদের মধ্যে একজনের বাচ্চা অসুস্থ, ঈদের দিন বাচ্চার বাবা মা বাচ্চা নিয়ে ইন্ডিয়া রওনা হবে ট্রিটমেন্টের জন্য। বেশ খরচের ব্যাপার তাই ফান্ড কালেকশনের সময় তার নামে কম করে ধরা হয়েছে। পরশু সে ফোন করে আমার সাথে রাগারাগি , কম কেন ধরা হলো। আপনারা বলেন আমি কেন হতাশ হব?

Sunday, September 13, 2015

"আলপনা"


আমরা কলোনিতে সবসময় সবকাজে ৮ জন একসাথে থাকতাম (মনু, লিটল, সাহেদ, সুমন, মানিক, শাহিন, বাবু এবং আমি)। আমাদের মধ্যে সাহেদ ছিল আলপনার মাষ্টার (আমি মুটামুটি পারি)। আমাদের কাজ হলো বিয়ে বাড়িতে কন্ট্রাক্ট বেসিসে আলপনা করা। একদিন মনু বললো এক বড় ভাইয়ের বিয়েতে আলপনা করতে হবে। আমি বললাম কাজটা নিয়ে নে। ও বললো ঝামেলা আছে। ও বললো রং,ব্রাশ, তুলি সব ওনারা দিবে, আমরা শুধু আঁকা আকি করবো। আমি বললাম তাহলেতো পুরাই লস। বিকালবেলা সবাই যথারীতি পুকুরপাড়ে আড্ডায় বসলাম। তখন সিদ্ধান্ত হলো কাজটা আমরা করবো। কিন্তু সব কিছুই আমরাই কিনব।যথাসময়ে কাজ হলো। 

“ওমা... কি ভালা হোলা !!! “


কলোনির কিছু কিছু বিল্ডিং তখন খালি, আমরা F-Type যে বিল্ডিংগুলো খালি ছিলো, সেই বিল্ডিংগুলোর ২য় তলার সিড়ির মাঝখানের খালি জায়গাতে কার্ড খেলতাম, মাঝে মধ্যে 3/4 Group হয়ে যেত, ৯৪, ৯৬, ৯৭ সবাই একসাথে খেলতাম, মাঝে মধ্যে আলাদা আলাদা খেলতাম, এভাবে একদিন F-2 বিল্ডিংয়ে আমি, রিপু, ছামির, রবিন, সোহেল, রাশেদ ( চৌধুরী ), এমদাদ, হিমেল, আজিজ, কার্ড খেলছিলাম হটাৎ নিচে হাটার শব্দ পেলাম, বুট পায়ে দিয়ে হাটার শব্দ !!! নিচে তাকিয়ে দেখি এক আনসার কেউ আছে কিনা দেখার জন্য আসছে, যে নিচে তাকিয়েছিলো তার মাথা দেখতে পেয়েই আনসার চিৎকার করে উঠলো , “ স্যার... স্যার... আছে, পোলাপাইন আছে !!“ তখন সিড়ির মাঝের জানালার মত করে বড় ফাঁকা জায়গাটা দিয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি, হারুন কাকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে আর আতিক কাকা / জন বাহিনী নিয়ে বিল্ডিং এর দিকে আসছে 

“ ঘটনা কি ? “


সকালে সেট করা টাইম সাড়ে সাতটায় মোবাইলের এলার্ম, বেসুরা টিডিং টিডিং রাতে লেট করে ঘুমিয়েছি, ঘুম থেকে উঠার কোন ইচ্ছা নাই, আরো আধা ঘন্টা ঘুমানোর টার্গেট নিয়ে এলার্ম বন্ধ করে, যত্ন সহকারে মোবাইল পাশে রেখে আবার ঘুম !!! আর ঘুমের মধ্যে ভাবতেছি আর ক্যাকুলেশন করতেছি, উঠবো নাকি উঠবো না, আধা ঘন্টা পরে উঠলে লেট হতে পারে, উঠার পর কিভাবে কি করলে লেট হবে না, ধুর একদিন অল্প দেরি হলে কিছু হবে না, হটাৎ আবার মোবাইলের সউন্ডে ঘুম ভাঙল, তাকিয়ে দেখি :10 !!! ঘটনা কি ? এলার্ম ১০ মিনিট পর পর বাজার কথা, বাজলো না কেন ? আমি মোবাইলের এলার্ম Snooz করতে গিয়ে মনে হয় এলার্ম বন্ধই করে দিয়েছিলাম !!! আজকে আমার খবর আছে !!!

হ্যাকিং


ভার্সিটি থেকে মাত্র ফিরলাম । ফিরেই ফেসবুকিং করা শুরু করলাম , একটু পর পর ইমেইল চেক করে চলেছি। ইমেইল টা ফেসবুকের চেয়েও বেশি ইউজ করতাম। Jahangir Alam আর সুমন এই দুই জনের জন্যই আমাকে অনেকটা সময় ইমেইলে ঢু মারতে হতো , জাহাঙ্গির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার , ব্যাঙ এর মতো ছয় মাস ডাঙ্গায় ছয় মাস পানিতে ঝাপাঝাপি করে কাটাতে হয় ,প্রায় সময় জাহাজে থাকতে হয় বলে নেটওয়ার্কের বাহিরে থাকতে হয়, ফেসবুক ইউজ করা সম্ভব হয়না। জাহাজের নেটওয়ার্ক দিয়ে আমাকে প্রতিদিন এস এম এস করতো আমি সেই নাম্বারে ইমেইল করতাম। আর সুমন কখনোই ফেসবুক পছন্দ করতো না তাকে পাওয়া যেতো ইমেলে, দুই জন পাগল বন্ধুর সাথে রেগুলার ইমেলে যোগাযোগ চলছিল ,রাজনীতির কি অবস্থা , খেলার খবর কি , কোন ফ্রেন্ড কি পাগলামি করলো সব চলতো আমাদের ইমেইলে, জাহাঙ্গির দেশে এসে কিছু দিন কাটিয়ে লন্ডন ফিরে গেলো , আবার শুরু হবে ইমেইল, আবার অপেক্ষা করতে হবে কবে দেশে ফিরবে , এক বিকেলে ইমেইল চেক করে চোখ কপালে উঠে যায় , কি দেখলাম আমি ? ভুল পড়লাম না তো ? একবার না কয়েকবার পড়লাম কিছু তেই বুঝতে পারছি না কি করে সম্ভব ? সৌম্য কে ডেকে নিয়ে পড়ালাম, সৌম্য অবাক হয়ে যায় , ইমেইল টা জাহাঙ্গির করেছে ঠিক এইভাবেঃ 
jahangir- i lost my bag in London.passport , dollar, credit card everything was there, i am unable to check out from the hotel , plz send me 5 thsosand dollar, i will return it to you very soon.. 

Saturday, September 12, 2015

ডাবে অরুচি অতপর


তত দিনে আমাদের ডাব গাছের প্রতি আগ্রহ প্রায় শূণ্যের কোঠায়। কেননা ডাব অপরশেনে ঝুকি বেশী। এর মধ্যে কয়েকবার ধরা খাই খাই করেও কোন মতে বেঁচে গেছি। তবে “ডাব অপারেশন পুকুর পাড়” এ মিশনে একেবারে লেজে গোবরে অবস্থা হয়ে ছিল। সেটাই বলি---এক বিকেলে আমাদের "বেশামাল লুঙ্গি গ্রুপে"র আনাড়ি সদস্য জসিম(ইঞ্জিনিয়ার),রতন আরো কে কে যেন ছিল মনে করতে পারছিনা এসে বললো পুকুর পাড়ের একটা গাছে বেশ ভাল ডাব হয়েছে। ওমনি আমার চোরা মন নেচে উঠলো। ওদেরকে আনাড়ি বললাম এ কারনে আমাদের দলের দক্ষ/পাকা চোর বাপ্পি,ফারুক,হরুন,মোজাম্মেল,জামশেদ ওরা কেউ ছিল না। যাক নামাজের নাম দিয়ে বাদ এশা অপারেশনে নেমে পরলাম। দলের মধ্যে আমি একমাত্র গেছো বান্দর/হনুমান।ওরা গাছ দেখিয়ে দিল আমি তড়িৎ তিন লাফে গাছের আগায়।ডাব ছিড়ছি নিচে ফেলছি। আনাড়ি গুলি সব ক্যাচ মিস করলো।ফলাফল ধুম ধুম আওয়াজ। আমি তখনো মনের আনন্দে ডাব ছিড়ে যাচ্ছি। হঠাৎ জসিম চাপা গলায় বললো—‘ওই লোক আসতেছে’। বলেই ওরা উধাও। আমি নামার পায়তারা করতে করতে গাছ তলায় লোক হাজির।তখনো আমার হাতে একটা ডাব। সিন্ধান্ত নিলাম এ লোকের মাথায় ডাব মেরে ভাগবো।যেই ডাব ছুড়বো একি! এতো জামশেদের আব্বা !! সর্বনাশ! গাছ তাহলে জামশেদের। চোরের ঘরে চুরি !! ডাবসহ আস্তে মগডালে পাতার আড়ালে লুকালাম। এরমধ্যে মসজিদের কোনা থেকে গার্ড আংকেল হাজির। গার্ড আর জামশেদের আব্বা উপরের দিকে তাকিয়ে আমাকে খুজে বের করার আপ্রান চেষ্টা করছে আর বিশাল আকারের ‘নেমে আয়’ বলে হুংকার দিচ্ছে। আমি নিশ্চিত আমাকে তারা দেখেনি। ভুঁয়া চিল্লাচ্ছে। হঠাৎ চাচা চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো----‘পেয়েছি, নেমে আয় তোর গায়ে হলুদ গেঞ্জি আমি দেখছি’। আমি তখন কট হয়ে যাওয়া চোর কারন আমার গায়ে হলুদ গেঞ্জি! লুঙ্গি গোজ/কাছা মারা।

“DONE”

- Mahabub Rasel

“ তারেক “ অনুগ্রহ করে এই নামটা নিয়ে কেউ আর কোন স্টাটাস দিবেন না, কারন আগে বা পরে যখনই জানুন না কেন !!! আমরা সবাই মিলে এখন যে উদ্যোগ নিয়েছি, এটাকে সফল করতে চাই, Emotional এর সাথে সাথে আমরা একটু Active হওয়ার চেস্টা করবো। তারেক ভাইয়ের জন্য নেওয়া উদ্যোগটা এবং এর খুটি-নাটি এতদিনে সবারই জানা হয়ে গেছে আশা করি, তার চিকিৎসার জন্য আমরা সবাই আর্থিকভাবে সহযোগিতা করবো এবং তা অতি দ্রুত করবো। কারন সময়টা এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ, নির্দিষ্ট সময়ের পরে আমাদের Emotion বা সহযোগিতার কোন মুল্য থাকবে না।

তারেক ভাইকে সহযোগিতা করতে চাইলে আপনারা নিম্নে উল্লেখিত ব্যাংক একাউন্ট বা বিকাশ নাম্বার গুলোর মাধ্যমে করতে পারবেন অথবা হাতে হাতেও দিতে পারবেন। যেভাবেই দিন না কেন এই পোস্ট এর মধ্যে কমেন্টস (Comments) এ “ DONE “ লিখে যার কাছে দিয়েছেন তার নাম লিখবেন। "DONE" লিখা এর মাধ্যমে আমরা বুঝে নিব তারেক ভাইয়ের প্রতি আপনার দায়িত্ব ( আর্থিক সাহায্য) আপনি ইতিমধ্যে করে ফেলেছেন। এখানে কেউ অন্য কোন কমেন্টস করবেন না।

মাশুক ভাই


মাশুক ভাই এর কাছে যখন প্রাইভেট পড়তাম প্রতি মাসে বেতন দেওয়ার সময় পার হেড দশ টাকা কম দিতাম চকবার খাওয়ার জন্য। আর ওইখানে বসেই চলতো খাওয়া। পড়া টাকে কখনো বোরিং মনে হয়নায়,সময়টা যে কোন দিক দিয়ে যেতো। অনেক জ্বালাইসি আসলে আমরা আপনাকে।

অজয় দেবগান


বন্যা আপা, উর্মি আপার বোন(তারে আমি চোখে দেখিনি, তার অনেক গল্প শুনেছি)নামে কলোনিতে একজন বড় আপা ছিলেন। খুব মেধাবী। উনার বিয়ে হয়ছে। বর আসছেন বেড়াতে। উনার ছোট বোনের বান্ধবী হিসেবে আমার বড় আপা গেছেন ওনাদের বাসায়। আসার পর আমার ছোট আপা জানতে চাইলেন বরের চেহারা দেখতে কেমন?বড় আপা বললেন অজয় দেবগনের মত।শুনে ছোট আপা বললেন তাহলে ত সুন্দর না।অজয় দেবগনের তখন বিজয় পথ নামে একটা নতুন সিনেমা আসছে। বড় আপা সেটার উদাহরণ দিলেন।ছোট আপা বলতে চাইলেন শাহরুখ খান, আমির খানের মত হলে সুন্দর বলা যেত কিন্তু অজয় দেবগণ ত.....। এক পরযায়ে কথা কাটাকাটি শুরু হলে আম্মা এসে বললেন যার বর তার খবর নাই, তোদের দুই বোনের ঘুম নাই। তবে অজয় দেবগনের সেই স্টিল মিলস ভার্সন মানুষ টাকে দেখার খুব শখ ছিল।এখন মাঝে মাঝে যখন অজয় দেবগনের গান দেখায় তখন এ ঘটনাটা মনে পড়ে।

Friday, September 11, 2015

স্টিল মিল কলোনি সবার সেরা কারণ


স্টিল মিল কলোনি সবার সেরা কারণ

১। কলোনিতে অনেক খেলার মাঠ ছিলো।
২। কলোনির ভিতরেই স্কুল ছিল যার পিছন দিকে কবরস্থান দিয়ে স্কুল পালানো যেতো।
৩। স্কুলের স্থায়ী মঞ্চ ছিল যার পিছন দিকে বসে ২৯ খেলা যেতো।
৪। কলোনির ভিতরেই ক্লাব হাসপাতাল মসজিদ মক্তব ছিল।
৫। কলোনিতে অনেক নারকেল গাছ আর বুইজ্জার বাগান ছিল যাতে বড়ভাইরা অপারেশন চালাতে পারতো।
৬। কলোনিতে ইউনুস ভাইয়ের দোকান (সাত্তার স্টোর) ছিল যা BBC এর চেয়ে কম না। 
৭। কলোনিতে সিমেন্ট ঢালাই করা ক্রিকেট পিচ ছিল।
আপাতত লিখে শেষ করতে পারলাম না....

আপনারা বাকিগুলো যোগ করে দিন। এখন আমার দৌড় দেয়া লাগবে...

ফোত ফোত


ফাইভে বা সিক্সে পড়ি সে সময়। পলি আপা(d-3 তে থাকতো,লিটু ভাইএর বোন) একদিন আম্মাকে বললো যে, উনারা বান্ধবীরা সিনেমা দেখতে যাবে আলমাসে সাথে আমাকেও নিয়ে যাবে। আমি তো মহাখুশি।কিন্তু যখন শুনলাম সিনেমার নাম শংখনীল কারাগার আর ভাললাগলো না।কোথায় শাবনাজ মৌসুমির সিনেমা দেখবে তা না,মেন্দামারা সিনেমা পছন্দ করসে । সেই ঐতিহাসিক দিন আসলো।সিনেমা দেখতে রওনা দিলাম কলেজ বাসে করে।সেই প্রথম কলেজ বাসে উঠা,প্রথম সিনেমা হলে যাওয়া।যাই হোক সিনেমা শুরু হইল।একেকটা ডায়লগে সবার কি হাসি।আর আমি শাবনাজ মৌসুমির জন্য আফসোস করি।সময় আর কাটেনা। সিনেমার শেষের দিকে দর্শকদের ফোত ফোত মানে নাক টানার শব্দ।এতো কান্নার কি আসে বুঝতে পারিনাই।বড় হয়ে যখন এই সিনেমা আবার দেখলাম ফোত ফোত শব্দ করার কারন টা বুঝলাম।

কেমুনডা লাগে অহন !!! কেমুনডা লাগে !!!


কেমুনডা লাগে অহন !!! কেমুনডা লাগে !!!

কিতা করতাম আমি ? কিতা করতাম ?? একটা পেরেন্ড নাই আমার !! একটাও পেরেন্ড নাই !! এইডা কুনু কতা অইলো !!

একটা কলোনির মইদ্দ্যে এতুকডি মানুষ, কত্ত কিছু হইয়ালচে, ডাক্তার , ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, পুলিশ, সামরিক বাহিনী, ব্যাংকার, নামীদামী কোম্পানির চাকুরীজীবী , কত্ত কিছু !! কত্ত কিছু অইয়ালচে !!

কিন্তু বুকের মইদ্দ্যে একটাই কষ্ট চিন চিন কইরা উডে, একটা চিনেমার নায়ক / নায়িকা পাইলাম না কেরে!!!!” উঃমাহ্...... চিন চিন করে কেরে !!!

কিতা করতাম আমি অহন !!! কিতা করতাম !!!


এতোকডি মাইনষের মইদ্দ্যে কি একটারও নায়ক / নায়িকা অওনের কুনু লক্ষন আছিল না ??? !!!!

আইসিসি চ্যাম্পিয়ানশীপ '৯৭



যে কোন কলোনি লাইফে কলোনির নিজস্ব স্কুলের প্রভাব অপরিসীম। ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশে সকল সরকারী কলোনিতে যারা বেড়ে উঠে, তারা নিজেদের মধ্যে সারাজীবন ধরে পরিচিত হয় কলোনি স্কুলের এসএসসি ব্যাচ হিসেবে। প্রাইমারির পর সিএসএম স্কুলে আর না থাকতে পারায়, কলোনির সাথে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমার একটা দূরত্ব তৈরি হয়। তাও বিএইচ-ওয়ানে থাকায় কিছুটা ক্ষতিপূরণ হলেও, ক্লাস নাইনের শুরুতে সি-টাইপে চলে আসায় আমার বিচরণ সীমিত হয়ে পড়ে কেবলমাত্র সিএসএম স্কুলের কয়েকজন ব্যাচমেটের মধ্যে; তাও মূলতঃ সিএসএম স্কুল মাঠে আসর থেকে মাগ্বরিব ক্রিকেট খেলার মধ্যেই। কিন্তু যার যার স্কুল থেকে এসএসসি পাস করার পর কলেজ লাইফে এসে আবার আমাদের ক্লাসমেট হওয়ার সুযোগ ঘটে। সেটা '৯৬-এর শেষে...

"ফার্স্ট ইয়ার, ড্যাম কেয়ার" (!) কলেজে এসে আমার আনন্দ সিএসএম স্কুলের ব্যাচমেটদের ফিরে পাওয়ার, আর তাদের আনন্দ কলোনির বাইরে প্রথমবারের মতো অবাধ স্বাধীনতা উপভোগের। আর যাওয়া-আসা যেহেতু ষ্টীল মিলের কলেজ বাসে সবাই মিলে একসাথে, সুতরাং হুল্লোড়ের মাত্রা কি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের চাইতে কোন অংশে কম ছিল? 

Thursday, September 10, 2015

“খ” তে “করগোশ”


টাকা পয়সা দরকার, কলেজে উঠছি, খরচ পাতি বেড়ে গেছে !!! এখন হাতে কিছু এক্সট্রা টাকা পয়সা লাগে। বেলাল ভাইকে ( ভাই ভাই ষ্টোর ) বললাম, “ বেলাল ভাই টিউশানি পাইলে বইলেন, হাতে টানা টানি চলতেছে, পিচ্চি পড়াবো না, কমপক্ষে ক্লাস এইট হলে ভালো হয়। “ যাই হোক বেলাল ভাই ব্যাপারটা গুরুত্ব সহকারে নিলেন। বেলাল ভাই প্রায় সময় বিকালের দিকে সময় করে কলোনিতে ঘুরতেন, আড্ডা দিতেন বা খেলতেন। একদিন বড় মাঠে খেলতেছি, বেলাল ভাই বড় মাঠে এসে আমাকে ডাকলেন।

“ রাসেল একটা টিউশনি পাইছি, ক্লাস ২তে পড়ে, আমাকে খুব ভালো জানে, চল ” আমি বললাম, “ না ভাই পড়াবো না, পিচ্চি পোলাপাইন অনেক দিকদারি” বেলাল ভাই বললেন, “ আরে কয়েক মাস পড়া, পিচ্চি হইলেও বেতন ভালো দিবে, আমাকে মাস্টারের কথা বলেছে, আমি তোর কথা বলছি।“ যাই হোক বেলাল ভাইয়ের কথাতে আর ভালো বেতনের কারনে রাজী হলাম, বেলাল ভাই আমাকে নিয়ে পরিচয় করিয়ে দিলো। 

যাবেই যদি দেরি আর কেন?

- Javed

কলোনি ছেড়ে যাবার সময়ের প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি গান বেঁধেছিলাম বহু বছর আগে। যখন কলোনির বাসিন্দারা একে একে যেতে শুরু করেছে আর কলোনিতে থেকে যাওয়া মানুষগুলো অস্রুসজল চোখে বিদায় জানাচ্ছে।
অত্যান্ত বিনয় এবং লজ্জার সাথে বলছি গানটি আমার লেখা এবং সুর করা। বাসায় রেকর্ড করা। আশা করি কলোনির ক্ষমাশীল মানুষরা আমার রসহীন লেখার মত আমার বাজে বেসুরো গলাকেও ক্ষমা সুন্দর চোখে দেখবেন। আমি খুবই লজ্জিত যে আমার গলায় গানটি আপনাদের শুনাচ্ছি।

ডাঃ রহিম আংকেল



ষ্টীলমিলে আমরা যে চিকিৎসা সুবিধা পেতাম, তার সাথে শুধু এখনকার রেলওয়ে/বন্দর হাসপাতালেরই তুলনা চলে (ডিফেন্স বাদে)। আধা-সরকারী বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিকিৎসা সুবিধার সেই রমরমা অবস্থা এখন আর নেই; একেতো সরকারের সুবিধা দেওয়ার মানসিকতাই নেই, অন্যদিকে এখন বেতনের সাথে যৎকিঞ্চিত চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয় আর প্রতিষ্ঠানের বাইরে নেওয়া চিকিৎসার বিল কম-বেশী অফিস বহন করে। ষ্টীলমিলের মতো চাইলেই ফ্রি সি-ভিট, আমি নিজেও তো প্রতিষ্ঠান থেকে দেই না!

আমার যতদূর মনে পড়ে, আমি ষ্টীলমিল হাসপাতালে দু'জন পুরুষ ডাক্তার ও একজন মহিলা ডাক্তার পেয়েছিলাম; পুরুষ দু'জন ছিলেন ডাঃ রহিম আর ডাঃ রফিক আংকেল, মহিলা ডাক্তার আন্টির নাম মনে করতে পারছি না বলে দুঃখিত।