Sunday, July 17, 2016

একটি গোলাপি জামার গল্প কিংবা কেউ কেউ কথা রাখে


গল্পের শুরুটা একটা পোস্ট এর কমেন্ট থেকে।সেখানেই রিপা আপা কমেন্ট করছিলেন তারিক ভাইকে ফতুয়া দিবেন উপহার। কিন্তু উনি চাইলে তা ভুলে যেতে পারতেন। আজকাল এসব কে বা মনে রাখেন।কিন্তু না সবাই যখন ঈদের জামা কয়টা পেয়েছে তা হিসাব করতে ব্যস্ত তখন রিপা আপা তার কথা রাখলেন। গোলাপি রং এর ফতুয়া। আহামারি হয়ত না। গোলাপের মত মন যার সেই ত দেয় এরকম উপহার। সবাই কথা দিয়ে কথা রাখেনা। কেউ কেউ রাখে।রিপা আপা তাই করলেন। তারিক ভাইও খুশি।

কিন্তু এদিক দিয়ে এই রং টা একজন কে স্মৃতিকাতর করে তুলল।কারন অনেক অনেক দিন আগে এই রং এর একটি শার্ট উনি রাস্তা দিয়ে হেটে যাবার সময় রিক্সার আঘাতে ছিড়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু রিপা আপার ফতুয়ার রং যেন উনার হৃদয় খুড়ে বেদনা জাগাল। মেরুন,আকাশী, ঘিয়া অনেক রং আছে কিন্তু সেগুলো ত গোলাপি না,গোলাপীর তুলনা শুধুই গোলাপী



৯৯ সালের প্রথম দিকের ঘটনা


৯৯ সালের প্রথম দিকের ঘটনা, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছি, যতটুকু সম্ভব মাঞ্জা মেরেই গিয়েছি পরনে হাল্কা গোলাপি একটি শার্ট, এ্যাশ কালার প্যান্ট আর কালো ফর্মাল শু। বিয়েতে উপস্থিত ছিল কলোনির আরো কিছু পোলাপান। সবাই বলল এই শার্ট টি তে নাকি আমাকে ভালো লাগছে। অনুষ্ঠানে আরো একজন ছিল, এক সময় হয়ত বলতাম "বিশেষ" কেউ, কিন্তু ততদিনে বিশেষ কেউ তার বিশেষ নামক বিশেষণ টি হারিয়ে ফেলেছে। সেই বিশেষণ হীন "বিশেষ" জনও এক ফাঁকে জানালো এই গোলাপি শার্ট টি তে নাকি আমাকে খুবই দারুন লাগছে। যদিও আমিও তখন তার কাছে বিশেষণ হীন বিশেষ ব্যাক্তিতে পরিনত হয়েছি। তা স্বত্তেও " তোমাকে দারুন লাগছে" এই কথাটি মনে গেথে রইল।

এরপর তো চাকুরী তে জয়েন করতে ঢাকা এসে পড়লাম, স্বল্প বেতনের চাকুরী, অফিস পুরান ঢাকায় ( বসুন্ধরাগ্রুপ এর একটি ব্রাঞ্চ অফিস)। প্রথম যেদিন চাকুরী তে জয়েন করলাম সেদিনও গায়ে ছিল গোলাপি শার্টটি। থাকি অফিসের কাছাকাছি একটি মেসে। পুরান ঢাকা মানেই যানজট আর মানুষ, কিছুদিন পরে সকালে অফিসে যাচ্ছিলাম, সেদিনও ছিল পরনে সেই গোলাপি শার্ট। রিক্সা, গাড়ি আর মানুষের ভিড় ঠেলে রাস্তা পার হতে গিয়ে এক বে রসিক রিক্সার খোঁচায় সে গোলাপি শার্ট শেষ, মানে ছিড়ে গেল। গোলাপি পর্ব এখানেই শেষ।

এরপর গোলাপি রঙ এর আর কোন শার্ট অনেক দিন পরিনি, বহু দিন পর আরেক টি গোলাপি শার্ট বানালাম, তবে কেঊ আর বলেনা তোমাকে এই শার্টে দারুন লাগছে, ততদিনে মন্ত্রী সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নিয়োগ হয়ে গেছে ( সাগর কাইটা হাংগর নিয়া আইছি আর কি) উলটো সেই মাননীয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলে গোলাপি কাপড় নাকি মেয়েদের কালার। তার কিছু দিন পরই বুয়া সে শার্টটি ধুতে গিয়ে অন্য কাপড় থেকে রঙ লাগিয়ে নষ্ট করে ফেলে। ( আল্লাহ জানে, এখানে মাননীয়া মন্ত্রীর কোন ষড়যন্ত্র ছিল কিনা)

আসলে গোলাপি কালার টা বোধ হয় আমাকে সুট করেনা।

আমাদের এই পেজে যে ভাই/বোনেরা লেখা/লেখি করে, তাদের সবার লিখা আমি পড়ি


আমাদের এই পেজে যে ভাই/বোনেরা লেখা/লেখি করে, তাদের সবার লিখা আমি পড়ি। মাঝে মাঝে হয়তো বাদ যায়। তবে সেটা অনিচ্ছাকৃত। লাইক দিতে ভুল করিনা। অনেক সময় হয়তো বাদ যায়, তাও অনিচ্ছাকৃত। কথা খুজে না পেলে, অনেক সময় কমেন্টস করিনা। কিছু ছোট ভাই/বোন আছে, যারা আমার এই মনে প্রচন্ড আঘাত দিয়েছে, তাদের লেখাও আমি মনোযোগ দিয়ে পড়ি, লাইক এবং কমেন্টস হয়তো করিনা। আমার এই লেখাটি লাইক বা কমেন্টস নিয়ে নয়। লেখাটি অন্য এক বিষয়ে। 

আতিকের লেখা পড়তে আমার ভালো লাগে। একটা সময়, আমি আর আতিক লিখতাম এবং সবাইকে অনুরোধ করতাম লিখার জন্য। আতিক এর গদ্য আকারের লিখা গুলি বেশ সরলিকরন। সোজা/চ্যাপ্টা কথা। 

যেমন, একটা শার্ট ছিলো, একটা প্যান্ট ছিলো, পড়া লেখায় মামারা সাহায্য না করলে, "আমি আতিক এত দূর আসতে পারতাম না"। এই চিত্র গুলি ছিলো, csm- এ চাকুরি করা বাপ/চাচাদের ছেলে মেয়েদের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। তবে আমরা যথেস্ট ভাগ্যবান ছিলাম। আমাদের একটি স্কুল ছিলো, যেখানে আমরা অল্প বেতনে লেখা/পড়া করেছি। আমাদের একটি হাস্পাতাল ছিলো, অনায়াসে প্রাথমিক চিকিতসা পেয়েছি। থাকার মত বাসা ছিলো, এখন এফ টাইপের সমান দুই রুমের ফ্ল্যাট কিনতে গেলেও অনেক টাকা লাগে। কলেজ বাস ছিলো, শহরে গিয়ে বাজার করার জন্য, সপ্তাহের একটি নির্দীস্ট দিনে মাঝে মাঝে-ই আমরা গাড়ি পেতাম। বিনোদনের জন্য বহু উপকরন আমাদের csm-এ ছিলো। যেখানে আমাদের টাকা খরচ করতে হয়নি। এখনতো বউ বাচ্চা নিয়ে বাসা থেকে বের হতেই অনেক টাকা লাগে। 

আমাদের বাবা/মা'রা উনাদের সাধ্যমত আমাদের খুশি রেখেছেন। যার ভুরি/ভুরি উদাহরন আমি দিতে পারবো। অনেক ভাই/বোন সহ ফ্যামিলিতেও, কস্ট করে হলেও বাবা/মা'রা তাদের সন্তানদের খুশি রেখেছেন।
আজকের সময়ে যা অসম্ভব। চিটাগাং নিউমার্কেট- এ "রেভলন" নামে একটি কাপড়ের শো-রুম ছিলো। আমার খুব প্রিয় ছিলো শো-রুমটি। দেখা গেছে, আমার একটি শার্ট পছন্দ হয়েছে, কি করি? বাবাতো টাকা দিবেনা, মা'র কাছে হাত পাততাম।মা'ও অনেক সময় মুখ ঝামটা দিতো। চুপচাপ ছুটে যেতাম, সিদ্দীক চাচির কাছে[অপুর আম্মা] কিংবা আখতার চাচির কাছে[স্বর্নার আম্মা]। পা ধরে বসে থাকতাম, প্লিজ চাচি শার্টটা কিনে দেন। এখন এই সব কল্পনা করা যায়না।

আমরা ভালোছিলাম। এবং খুবি-ই ভালো ছিলাম। আমাদের সময়ের অভাবটা খুব একটা কস্টের ছিলো না। বিলাসিতা ছিলোনা, তবে সামান্যতেই আমরা ভালো ছিলাম।

ভালোছিলাম বলেই csm-কে আমরা ভুলতে পারিনা। এখন সারা বাংলাদেশে হারিকেন দিয়ে খুজেও, csm-এর মত সেই সমাজ খুজে পাওয়া যাবেনা।

ছেঁড়া প্যান্ট (Ripped pant) ও ছেঁড়া মোজা সমাচার


আজান'এর ফেভারিট চয়েজ জিন্স প্যান্ট (ওর ভাষায় জিন্সি মিন্সি প্যান্ট)। গত কয়েকদিন আগে ওর একটা জিন্সের ফুল প্যান্ট হাঁটুর ওখানটায় ছিঁড়ে যাওয়ায় ভীষন কান্নাকাটি। এখনি ওকে আরেকটা প্যান্ট কিনে দিতে হবে। ওর মা, দাদুমনি, দাদুভাই, কাকা, কাকীরাও কান্না থামাতে না পেরে আমার মাথায় এক বুদ্ধি খেললো। 

অনেকদিন আগে সবাই মিলে বজরঙ্গী ভাইজান মুভিটা দেখেছিলাম সেদিন থেকেই টিভির বিজ্ঞাপন, মুভির ট্রেলার কিংবা কোন গানে সল্লু মিয়াকে দেখলেই আজান চিৎকার দিয়ে উঠে "সাহিদার মামা"। সল্লুকে ভাল মতই আজান চিনে। আমিও তাই গুগলে সার্চ দিয়ে সাহিদার মামারসহ শাহরুখের ripped pant (ছেঁড়া প্যান্ট) পরিহিত কয়েকটা ইমেজ ওকে দেখালাম। আর বললাম দেখ তোমার সাহিদার মামাও ছিঁড়া প্যান্ট পড়ে স্টাইল করে। তখন থেকেই মাথায় ভুত চেপেছে সব প্যান্টই ছিঁড়ে দিতে হবে। নতুন আরেক ঝামেলার শুরু।

সে যাই হোক গত কয়েকদিন আগে অফিসে যাব, মোজা পড়ছি। হঠাৎ করে বলে বসলো "বাবা তুমি মোজা ছিঁড়ে স্টাইল করো?" আমি কিছু না বুঝেই বললাম "তুমিইতো বল, স্টাইল করতে হয়"। আজানের ঝটপট উত্তর "জুতার ভিতরে থাকলে কেউ কি তোমার স্টাইল দেখবে?

ওর ধারনা, বাবা ইচ্ছে করেই মোজা ছিঁড়ে স্টাইল করছে। কিন্তু জানি আজানের ছোট্ট ব্রেইনের এই ধারনা যখন পাল্টাবে তখন "ও" বুঝতে পারবে আমরা বাবারা কেনই বা মাসের পর মাস ছিঁড়া মোজা পড়ে স্টাইল করি (জুতার ভিতরে থাকাতে হয়তো কারো চোখে পড়ে না)। কিংবা কোথাও গিয়ে কেন জুতাটা খুলতে ইতস্তত করি!!!!!

আজ অনেকদিন পর আকাশি রঙ এর শার্ট টি পরে অফিসে যাবো


আজ অনেকদিন পর আকাশি রঙ এর শার্ট টি পরে অফিসে যাবো, আমি পরের দিন যে কাপড় পরে অফিসে যাবো তা আগের রাতেই আলমারি থেকে বের করে রেডি করে রাখি, কারন সকাল বেলা তাড়াহুড়ো র মাঝে কাপড় চোপড় রেডি করা বিরাট হুজ্জতের মত লাগে আমার কাছে। যা হোক, রাতেই যখন এই আকাশী শার্ট টি রেডি করছিলাম, বউ বলে উঠলো " তুমি হঠাৎ এই গরমের মাঝে ফুল হাতা শার্ট বের করছ কেনো, তাও আবার আকাশী রঙ এর ঘটনা কি? " আমি উত্তরে বললাম গোলাপি রঙ এর শার্ট থাকলে তাই পরতাম, গোলাপি যেহেতু নাই আকাশি শার্ট ই পড়তেছি। বঊ আরেক ডিগ্রী গরম, বলে এসব আকাশি গোলাপি বাদ দাও, বুড়া হইতেছ, এবার আমি কইলাম মেরুন রঙ কি চলবে? বৌ উত্তরে কয় সব রঙ বাদ, তুমি কালই গিয়া তিন চারটা সাদা শার্ট বানাইতে দিয়া আসবা। এবার আমি বলি, সাথে নেভী ব্লু প্যান্ট বানালে কেমন হয় আরো থাকবে সাদা কেডস, পুরা সিএসএম হাই স্কুল। বউ এইবার ঝামটা মাইরা বলে সব কিছুতে খালি সিএসএম সিএসএম করো কেন। আর এবার আমার সিরিয়াস ভংগীতে জবাব---
"ওই খানেই তো আমার শিকড় আর অস্তিত্ব।"

Saturday, July 16, 2016

শ্রাবন মাস শুরু হয়ে গেলো বৃষ্টির দেখা নাই


শ্রাবন মাস শুরু হয়ে গেলো বৃষ্টির দেখা নাই। বৃষ্টির জন্য Taskiatun Nur Tania সেকি আকুতি!! আজকে সকালে এবং সন্ধায় যে পরিমাণ বৃষ্টি পড়ছে তাতে আগামি কয়েকদিন তানিয়া বৃষ্টির জন্য কান্না করবে না। আজ সন্ধায় Shahabuddin Liton যখন আমাকে দেওয়ান হাট নামিয়ে দিলো, তখনও অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরছে। লিটন যাওয়ার অনেকক্ষণ পরও দেওয়ান হাট মডেলের ভিতরে ঢুকে অপেক্ষা করতে লাগলাম বৃষ্টি কমার জন্য। কিন্তু কমার কোন লক্ষন দেখলাম না। তার উপর রাস্তায় প্রচুর পানি জমে গেলো। প্রায় এক ঘন্টা অপেক্ষা করার পর ৩০০ মিটারের মত রাস্তা চারগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে কাকভেজা হয়ে বাসায় আসতে হলো। ভাড়া বেশি হলেও রিক্সাওয়ালা ধন্যবাদ। ওকে না পেলে আর কতক্ষন অপেক্ষা করতে হতো কে জানে। কারন এর আগে অনেক রিক্সাওয়ালা অনুরোধ করেছি, কেউ আসতে রাজি হয়নি।

বৃষ্টি র দিন আসলে বিশেষ করে এক নাগারে মুষলধারা য় বৃষ্টি হলে কলোনি র কিছু স্মৃতির কথা মনে পড়ে


বৃষ্টি র দিন আসলে বিশেষ করে এক নাগারে মুষলধারা য় বৃষ্টি হলে কলোনি র কিছু স্মৃতির কথা মনে পড়ে। যেদিন খুব বিজলী চমকাত, রাতে ঘুমানোর সময় কাথা মুড়ি দিয়ে ঘুমাতাম। জানালার দিকে তাকাতে পারতাম না।মনে হত এই বুঝি বজ্রপাত হবে। আর যদি বৃহস্পতিবার হত আর সেদিন দেখাত হুমায়ুন আহমেদের ভয়ের নাটক " অন্য ভুবনের সে, কিংবা অন্য ভুবনের ছেলেটা " তখন আরেক অবস্থা হত। এই রুম থেকে আরেক রুমে যেতে ভয় পেতাম। এই মনে হত অদৃশ্য কেউ এসে হাত ধরবে। আবহ সংগীত টা কানে বাজত। আর নাটক না থাকলে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়তাম। কিংবা ভাই বোনেরা কোন কিছু নিয়ে গল্প জুড়ে দিতাম।আমাদের বাসার ক্যাসেট প্লেয়ার টা ছিল নষ্ট। দেখা যেত একটা না একটা টপিক খুজে পেতাম। তখন আসলে বিনোদনের এত রসদ ছিল না। তাই বোধ হয় মানসিক শান্তি অনেক বেশি ছিল।এখন হাতের মুঠোয় সব, তবুও কি যেন কি নাই


গত বছর ফেসবুকে আমার ম্যারেজ ডের ছবিতে Nazmul Huda ভাই কমেন্টস করেছিলেন


গত বছর ফেসবুকে আমার ম্যারেজ ডের ছবিতে Nazmul Huda ভাই কমেন্টস করেছিলেন " আমাদের আতিক এখন অনেক বড় হয়ে গেছে", উত্তরে আমি বলে ছিলাম " আমি যতই বড় হই না কেনো আমি সেই কলোনির লুঙ্গী পড়া আতিকই আছি"। 

এখানে স্বঘোষিত "কবি আতিক" লুঙ্গী পড়া বলতে খুব কাছের মানুষ বুঝাচ্ছে বা ঘরের ছেলে বুঝাচ্ছে।

এই" ঘরের ছেলে"কথাটাই আমার বউ বুঝতে চায়না, মহল্লার ভিতরের দোকানে লবন চিনি আনতে যাবো তাও প্যান্ট পড়ে যাওয়ার জন্য চিল্লাচিল্লি করে। আর ঢাকার বাইরে কোথাও গেলেতো লুঙ্গী নিতেই দেয়না। ব্যাগের মধ্যে ট্রাউজার ভরে দেয়,বলে হোটেলে লুঙ্গী পড়ে থাকলে নাকি আনস্মার্ট লাগে। আহ! এরা যদি লুঙ্গী র মাহাত্ম্য বুঝতো।

যখন ব্যাচেলার ছিলাম তখন আমার চাচাতো ভাই দের সাথে মিরপুরে এক ফ্ল্যাট বাসায় থাকতাম, সবাই তখন ব্যাচেলার। আর চাচাতো ভাই গুলো অল্প কিছু দিন আগে গ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছে, গ্রাম থেকে আসলে কি হবে, তারা ছিল আমার মত সারা জীবন শহরে থাকা ছেলের চেয়েও ড্যাম স্মার্ট, তিন তলা বাসা থেকে নীচ তলায় নামলেও তারা প্যান্ট লাগায়, আর আমি যদি কোন দিন লুঙ্গী পড়ে নীচে নামতাম তারা আমার সাথে হইচই লাগাতো, লুঙ্গী পড়ে নীচে গেলে নাকি তাদের নাকি প্রেস্টিজ ফুটো হয়ে যায়। এরেই বলে " দু দিনের যোগী, বলে লুংগী নাকি আনস্মার্ট সংগী"। 

কলোনি তে ছেলেদের জাতীয় ড্রেস ছিল লুঙ্গী, প্যান্ট পড়া মানেই দূরে কোথাও যাওয়া। এমন কি কলোনির ভিতরে প্রেমিকার সামনেও লুঙ্গী পড়ে যাওয়ায়ও কোন বিধিনিষেধ ছিলনা। 

একদিন সবুজ চেক লুঙ্গী, সবুজ সাদা স্ট্রাইপ শার্ট পড়ে কলোনি তে ঘুরাঘুরি করছিলাম, পরনের স্পঞ্জ জোড়াও ছিল সবুজ মিশ্রিত।এটা দেখে আমাদের অপু ভাইয়ের ছোট ভাই Abdullah Al Mahbub টিপুর মন্তব্য ছিল " আতিক ভাই দেখি আজকা পুরা কমপ্লিট ম্যান"। আসলে আমি সেদিন খেয়ালই করিনি যে, সবই সবুজ রঙের মিশ্রণ ছিল। আর খেয়াল করলেও কিছু করার ছিলনা।ভাই টিপু, সে সময় সম্ভবত কলোনির কারোই (দু একজন বাদ দিলেও)বাছবিচার করে পোষাক পড়ার সুযোগ বা সাধ্য ছিলনা। যা পাইতাম বা যোগাড় হইত তাই পড়তাম।

তবে কলোনির অনেকেরই নাকি ঘুমের মধ্য লুঙ্গী নাকি লুঙ্গী থাকতোনা, খুলে গলার মালা হয়ে যেত।

( মোটা বাবু ভাই যদি এই পেজে লেখালেখি করত তাহলে এ গলার মালা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত বয়ান দিতে পারতো)।

---যুগযুগ জড়িয়ে থাকুক লুঙ্গী আমাদের কোমরে।

আমরা জাকিয়া আপাদের বাসায় পড়তে যেতাম দুপুর বেলা


আমরা জাকিয়া আপাদের বাসায় পড়তে যেতাম দুপুর বেলা। তখন মাঝে মাঝে আপার মেয়ে ডানা গলা সাধত। গানটা শুনতে শুনতে আমারো মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল।

" কৃষ্ঞচূড়া ডাক দিয়েছে,
আয়রে পলাশ আয়রে আয়," 
একই গান গেয়ে মিষ্টিও গলা সাধত। একই জায়গায় গান শিখত,নারকেল তলায়। তবে মিষ্টির গলা সাধা বেশি শুনতাম শুক্রবার সকালে। তবে জাকিয়া আপার বাসায় উনার বড় ছেলে হিমন ভাই মাঝে মাঝে কিছু সুন্দর গান শুনতেন।তার মধ্যে একটি গান মনে গেঁথে আছে।এই গানটা অনেক খুজেছি,পাইনি। তবে নিজের জীবন টাকে এই গানের মত করে সাজাতে পারলে ভালই হত-
" আমি কি স্বপ্নে দেখছি না ত,
আমি কি স্বপ্নে দেখছি না ত,
আমার স্বপ্নের রাজকন্যা আমারই দ্বারে"
(এইটা শুধু লিখার জন্য লিখা)

এই মক্তবে আমার কোরান শরীফ শেষ করতে পারিনি


এই মক্তবে আমার কোরান শরীফ শেষ করতে পারিনি। পরে ৩ নং বিল্ডিং এর সিড়ি ঘরে গিয়ে পড়তে হত।সেখানে আমার সহপাঠী ছিল Shazzad Shakilএকা আপার ভাই। ঝুমুর ঝুম ঝুম আপারা থাকতেন। বৃহস্পতিবার এ আমাদের নামাজ পড়াতে হত। একদিন আমি ইমাম হলে আরেকদিন শাকিল। শাকিল ভুল করে পড়াত। তাই হুজুর আমাকে দিত। আমি শাকিল কে জিজ্ঞেস করতাম ভুল হয় কেন? ও বলত, জনি ভাই শুদ্ধ করে পড়ালে হুজুর বার বার পড়াতে দিবে। তাই।

এই ব্যাপার টা অফিসে খেয়াল করি।কলিগ রা বলে বেশি সিনসিয়ার হলে নাকি ম্যানেজার কাজ দিবে।তাই ফাকিবাজি করেন। ছোটবেলার ব্যাপার গুলো পেশাগত জীবনে ফেস করতে হবে ভাবিনি

প্রায় দুই মাস পর গত বৃহস্পতিবার আমি আর লিটন ঢাকা গিয়েছিলাম


প্রায় দুই মাস পর গত বৃহস্পতিবার আমি আর লিটন ঢাকা গিয়েছিলাম। বৃহস্পতিবার রাত আটটা থেকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত টঙ্গিতে ছিলাম। সাতটায় কলাবাগান পৌঁছে চিটগাং এর টিকেট করার পর একটু বসুন্ধরা সিটিতে গেলাম। রোজার ঈদের পরও বসুন্ধরা সিটিতে এত ভির। নিরাপত্তা জনিত কারনে সবাইকে লাইন ধরে ডুকতে হলো। সেখানেই অনেকটা সময় পার হয়ে গেলো। ঢাকা সিটির বাইরে থাকার কারনে এবং সময় স্বল্পতার জন্য কাউকে ফোন দিতে পারি নাই কিংবা দেখা করতে পারি নাই। তার জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। এরিমধ্যে একমাত্র Abu Naser রাত পৌনে আটটার দিকে ফোন দিয়েছিলো দেখা করার জন্য। তার সাথেও দেখা করতে পারি নাই।

কলোনীতে থাকতে ঈদের সালামি দিয়ে একটা কমন কাজ ছিল আমার


কলোনীতে থাকতে ঈদের সালামি দিয়ে একটা কমন কাজ ছিল আমার এবং তা হলো রাতে ভাত খাওয়ার পর ইউনুস ভাইয়ের দোকানে গিয়ে ৭টাকা দিয়ে কোক কিনে খাওয়া দোকানের সামনে সিমেন্টের টুলে বসে।।।এক বোতলে অনেক কোক মনে হতো শেষই হয়না। যে ঢেঁকুর দিতাম !!!ঢেঁকুর এর সাথে সাথে নাকে এসে ঝাঁঝ জমতো।।আর এখনকার কোক কেমন মিষ্টি মিষ্টি।।আহা সেই দিনগুলি মোর!!!!

বয়সের দোষ নাকি চিরসবুজ


Csm কলোনি র ভাই বোন দের একটা বিষয় খেয়াল করি।যখনই কোন ভাই বোন তার পরিবার কে নিয়ে ছবি দেন, কেন জানি তার পরিবারের পাশে তার বয়স টা কম মনে হয়। ভাইদের ক্ষেত্রে মনে হয় ভাবির বয়স বেশি আর আপাদের ক্ষেত্রে মনে হয় দুলাভাইয়ের সাথে বয়সের গ্যাপ অনেক বেশি।যদিও জানি এটা আমার চোখে র ভুল। যেমন- আতিক ভাইয়ের চুল কমে গেলেও উনারে ভাবির চেয়ে ছোট লাগে। আর একই ব্যাপার আপাদের ক্ষেত্রেও। কিন্তু কলোনির কোন ভাই এর সাথে যখন কোন আপার ছবি দেখি যারা বাস্তবে স্বামী, স্ত্রী তাদেরকে আবার এমন মনে হয় না।

কেন যে এমন লাগে।হয়ত আমার কাছে কলোনি র কোন ভাই বা আপার বয়স বাড়েনা।ছোটবেলা থেকে তাদের যে চেহারা দেখে বড় হয়ছি এখনো সেই চেহারা মনে গেথে আছে। তাই তারা চুল পাকলেও বা চেহারায় বয়সের ছাপ পড়লেও আমার কাছে চিরসবুজ।

আত্মীয়পরিজন


Babu Csm Club vai আর Jahed Tipu ভাই কিন্তু কলোনি র বড় ভাই ছাড়াও আমার আত্মীয় হন।উনার আম্মাকে আমি ডাকতাম ফুফু আর উনারা আমার বাবাকে মামা। কলোনি তে থাকতে দুই পরিবারের মধ্যে আসা যাওয়া ছিল। ফুফু আসতেন বিকালবেলা। কিন্তু বৃষ্টি র দিনে একেবারেই না। আসতেন, আর আম্মার সাথে গল্প করতেন। সাথে আসত এনি, আর রিংকি।ওরা খেলত। ফুফু অনেক গল্প করতেন।উনি আসলে আম্মা এক ধরনের পিঠা বানাতেন। মাঝে মাঝে আমরাও যেতাম উনাদের বাসায়। উনাদের বাসায় লাভ বার্ড নামে এক ধরনের পাখি ছিল খুব সুন্দর। দুপুরে একবার গেলাম। উনাদের বাসার সামনে স্লিপার এ স্লিপ খাচ্ছি।ফুফু বললেন ঠিক দুপুরে স্লিপার এ চড়া ভাল না। বাবু ভাই ছিলেন শান্ত আর টিপু ভাই চঞ্চল। এখনো ঠিক সেরকম আছেন।আর ফুফু আর ফুফা আগের মতই আন্তরিক। আব্বা আম্মাকে দেখলে আগের মতই আবেগ তাড়িত হয়ে গল্প জুড়ে দেন


আমার ছোটবাবা অনেক আদরের


আমার ছোটবাবা অনেক আদরের,সেদিন একটা হলুদের অনুষটানে ব্যানডে যারা গান গাইছে ওদের গিয়ে বলছে এ ফোন থেকে একটা গান গাইতে হবে।সে আমার ফোনটা নিয়ে গেল আমি ভাবলাম মনে হয় ছবি তুলবে।কিনতু না তা না কত ক্ষন পর দেখি মিউজিসিয়ানরা ওই গান গাইছে,আমার সিএসএম,প্রানের সিএসএম ওতটা ভালো করে পারছে আমাদর সুজন ভাইয়ের মতো।অনেকে বলছে এটা আবার কি আমি জুবায়ের কে ধরে দিলাম বকা।তখন বুঝলাম আমার ছেলে আমাকে খুশি করতে আর সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিল।কিনতু আমি বললাম এ গানটা শুধু আমরা সিএসএম কলোনির সব মানুষের জন্য।এ গান শুধু আমাদের।আমার সাথে আমার ছেলেও সেই কলোনি টাকে খুব ভালবাসে।মনে হলো তাই লিখলাম।চিটাগাং ক্লাবের সুইমিংপোলের এরিয়াতে হয়েছিল।অনেকে শুনেছে গানটা কেউ বুঝেনি।আমি আর আমার পোলা ছাড়া।।

আজ পাচ বছর যাবত জয়দেবপুর আছি


আজ পাচ বছর যাবত জয়দেবপুর আছি। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির কারনে আসা হয়েছিলো। এই পাচ বছরে অনেক বন্ধু/বান্ধব জুটে গেছে।আমি যে বাসাটায় ভাড়া থাকি, সেখানে আরও পাচটি পরিবার ভাড়া থাকে। সবার সাথে সবার একটি ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। শুধু বাড়িওয়ালী ছাড়া! মাসের দুই তারিখে বাড়ি ভাড়া দেই।আজ পর্যন্ত সারাফের মা'র হাত দিয়ে ভাড়া দেওয়াতে পারিনাই।বাড়িওয়ালি কে দেখলেই নাকি, সারাফের মা'র প্রেসার আপ/ডাউন করে!! শুদু সারাফের মা একা নয়, ফ্ল্যাটের অন্যান্য ভাবিরাও বাড়ীওয়ালিকে এড়িয়ে চলে!! তবে আমার সাথে সম্পর্কটা ভালো। আমি ভাড়া দিতে গেলে, আমাকে বসতে বলে, চা/নাস্তাও খেতে দেয়!! এবং আমি অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে ভদ্রমহিলার প্যাচাল সুনি। উনার একমাত্র মেয়ে ডাক্তারি পড়ে, উনার ভায়েরা সব বড়/ব্ড় যায়গায় চাকুরি করে, তারপর এই বাড়িটা, সেটাও উনার বাবার যায়গা!! 

আমিও বলি, আপনাকে দেখলেই বুঝা যায় ভাবী, আপনি খানদানি বংশের মেয়ে!! আর আপনার মেয়েতো খাটি সোনা!! আপনি ঠিক আপনার মত করে, মেয়েটিকে মানুষ করেছেন!! বাড়ীওয়ালী ভাবীর কাছে, আমি খুব ভালো মানুষ!! বাড়ি ভাড়া দিতে যদি কখনো মাসের ১৫তারিখও হয়ে যায়, উনি হাসি মুখে বলেন, সমস্যা নাই ভাই , আপনি সুবিধামত ভাড়া দিয়েন!!। আমার পাশে থাকে কাইয়ুম ভাই। একদিন ভুলে রাত্রি বেলায়, নিজের বাসা মনে করে কাইয়ুম ভাই-এর বাসায় কলিং বেল দিয়ে বসি!! ভিতর থেকে উত্তর আসে, কে?? আমিও বলি, দরজা খুলো সারাফের মা!! কিছুক্ষন পর দেখি, দরজা খুলে কাইয়ুম ভাই বেরিয়ে এসেছে, পিছনে ভাবী!! হাসতে/হাসতে কাইউম ভাই বললো, রেজা ভাই আপনি ভুল করে আমার বাসায় বেল দিয়েছেন, আপনার বাসাতো চার তলায়!! বড়/সড় একটা বাশ, কাইয়ুম ভাই আমাকে দিলো!! কারন চার তলায় যে ভাবী থাকেন, উনি অপুর্ব সুন্দরী। কাইয়ুম ভাই-এর সাথে এখন আমার ভালো বন্ধুত্ব।কাইউম ভাই একদিন আমাকে জিজ্ঞাসা করে বসলো, আচ্ছা রেজা ভাই, আপনার সাথে এই খান্ডারনি বাড়িওয়ালির এত গভীর সম্পর্ক কি ভাবে হলো?? এই খান্ডারনিরে দেখলেই আমার গায়ে জ্বর আসে!!! আরে কাইউম ভাই, সারা বাংলাদেশের বেশির ভাগ বাড়িওয়ালি-ই, খান্ডারনি মার্কা হয়!! শুধু একটু পাম দিয়ে চলা!! 

মাঝে মাঝে খান্ডারনীকে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানান দিবেন, "আমি আপনার ভাড়াটিয়া, আর আপনি আমার মালিক"!!! এই খানেই বাড়ীওয়ালীদের "চরিত্র" নিহিত রহিয়াছে!! কি বুঝলেন কাইউম ভাই?? বুঝছি রেজা ভাই, আপনে একটু কস্ট করে, তোয়াহ'র মাকে বুঝিয়ে বলেন!!![তোয়াহ হলো কাইউম ভাই-এর মেয়ে]।মনে মনে বলি, তোয়াহ'র মাও বাড়ীওয়ালী, শুধু একটা বাড়ি বানিয়ে দাও, খান্ডারনি হতে বেশি দিন লাগবেনা।


কেমন পাত্র চাই


কলোনি তে থাকতে জেক্সের মাহমুদ ভাই থেকে একটা ম্যাগাজিন এনেছিল।আনন্দ বিচিত্রা।সেখানে শমী, বিপাশা আর মৌ কে নিয়ে ফিচার দিয়েছিল। কেমন পাত্র চাই।তখন ছিল ওদের ক্রেজ। মৌ লিখেছিল, ছেলে ওভার স্মার্ট হবার দরকার নাই। ভুলে ড্রিংক করে ফেলেছে একবার কি দু বার এমন ছেলেকে বিয়ে করতে আপত্তি নাই।বিপাশা লিখেছিল নাটক করতে দিতে হবে।অভিনয় ছাড়তে পারবেনা। আর শমী বলেছিল উন্নাসিক ছেলে পছন্দ না।আর যে ছেলে অফিসের কাজ বাসায় নিয়ে আসে তাকে বিয়ে করবে না। এই ব্যাপার টা তখন বুঝি নি।এখন বুঝি। আসলেই অফিসের কাজ বাসায় এনে বাসার পরিবেশ, ছুটির দিনের আমেজ নষ্ট করার কোন মানে হয় না। যে জিনিসটা আমি করতাম। বাসার কাজ বাসায় আর অফিসের কাজ অফিসেই শেষ করা উচিত। না হলে দুই দিকেই সমস্যা হয়। 
photo Taskin Ashiq

MD Younus কলোনির সবচেয়ে বেশি পরিচিত মুখ


MD Younus কলোনির সবচেয়ে বেশি পরিচিত মুখ,বলা যায় জনপ্রিয় মুখ এবং আরো বলা যায় সে ছিল কমন ফ্রেন্ড ফেসবুকের ভাষায় যারে বলা যায় মিউচুয়াল ফ্রেন্ড। সে যেমন আমার বা আমার সমসাময়িক দের বন্ধু তেমনি ছিল আমার সিনিয়র বা জুনিয়র দেরও ফ্রেন্ড ছিল। জীবনের বহু গুপ্ত তথ্য বা ইতিহাস তার সাথে শেয়ার করছি।

যা হোক,ইউনুসের দোকানে মোটামুটি আমরা সবাই বাকীতে পান সিগারেট, কোক বিস্কুট খেতাম এই খাওয়ার পাশাপাশি এই বাকী টাকা পরিশোধের জন্য তার কাছ থেকে পুরো ফ্রিতে ঝাড়িও খাইতাম। তবে একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম সবাই সমানে ঝাড়ি খাইলেও কেন জানি সে আমাকে ঝাড়তোনা। আর আমিও মনের আনন্দে সেখানে বাকীতে পান বিড়ি ফুকতাম আর মাঝেমধ্যে অল্প অল্প টাকা পরিশোধ করতাম। অবশেষে কৌতুহলেই ইউনুস কে জিজ্ঞেস করলাম -- " আমি তোর কাছ থেকে বাকী খেয়ে অল্প টাকা দেই, পুরোটা দেইনা, তারপরও তুই আমারে ঝাড়ি দেস না কেনো? ইউনুস উত্তরে কিছু বলেনা, খালি মিটিমিটি হাসলো।

অবশেষে এই রহস্যের উত্তর পেলাম আমি ঢাকায় চাকুরী জয়েন করার কিছু দিন আগে।

" আব্বা ইউনুস কে নাকি বলেছিল, আমি ইউনুসের দোকান থেকে কিছু বাকী তে কিনতে চাইলে আমাকে যেন সে দিয়ে দেয়, টাকা আব্বা পরে শোধ করে দিবে," তবে আব্বার এ কথা টা আমাকে না বলার জন্য ইউনুস কে বলা হয়েছিল।
ইউনুসের বাকী পরিশোধের জন্য ঝাড়ি না দেওয়ার ঐ রহস্যটা আমি একবারে শেষ মূহুর্তে জানতে পেরেছিলাম।

সহপাঠিনী


আমি যখন প্রথম স্কুলে যাই, তখন আমাদের ক্লাসে বেশ কিছু মেয়ে আসত মাইক্রো বাসে করে,টি এস পি না কোথা থেকে।কথা বলতাম না।ক্লাস ওয়ানে অনিকা আমাদের ক্লাসে ছিল।আরো ছিল ময়না, মৌটুসি । ক্লাস টু তে ছিল মেরিনা,এ্যানি। ক্লাস থ্রি তে ছিল মিষ্টি, যুথি, মুনমুন, ছবি।মিষ্টি পড়া দেবার সময় সুর করে পড়া দিত। মনে হয় গান শিখত, তার প্রভাব।একই ভাবে পড়া দিত যুথি। আর তবারক ভাইয়ের বোন পড়া দেবার সময় ভুলে গেলে দেয়ালের দিকে তাকাত।মাকসুদা আপা বলতেন,কি রে দেয়ালে কি পড়া লিখা আছে? আমি এগুলো আমার ছোট আপা কে বলতাম আর হাসাহাসি করতাম। ক্লাস ফোরে ছিল পাপিয়া। খুব সোজা টাইপের।ক্লাস ফাইভে মেয়েরা আর আমাদের ক্লাস আলাদা হয়ে যায়।শুধু বৃত্তি র কোচিং ক্লাসে যুথি আর মিষ্টি ছিল। শায়লা আমার কোন ক্লাসে ক্লাসমেট ছিল না। তবে সোনিয়া ছিল। বেলিও ছিল না। মিল্কি পাশের বিল্ডিং এ থাকার কারনে খেলা হত একসাথে কিন্তু ক্লাসে পাইনি। ক্লাস ফাইভের পর অনিকা ত প্রতিবেশী হয়ে গেল। পড়া নিয়ে অনেক হেল্প করছে।


সেই কবে সিনেমা হলে বসে সিনেমা দেখেছি


সেই কবে সিনেমা হলে বসে সিনেমা দেখেছি!!!!যা দেখেছি তার বেশিরভাগ সিনেমা বনানী কমপ্লেক্সেই দেখা।।হলে ঢুকতেই সেন্ট্রাল এসির ফ্লেবার (যা তখনকার সময়ে শুধুমাত্র সিনেমা হলেই পাওয়া যেত) সাথে অন্ধকার হল,ঢুকার সাথে সাথে এক লোক টিকেট দেখে নিয়ে তার টর্চ লাইট দিয়ে বসার সীট দেখিয়ে দিত।তারপর সীটের লাইনে গিয়ে হাতরে হাতরে কাঙ্ক্ষিত সীটে গিয়ে বসতাম।সীট গুলো ছিল ভাঁজ করা,ভাঁজ খুলে বসতাম আবার উঠে গেলেই সীট ভাঁজ হয়ে যেত।সিনেমার শুরুতে জাতীয় সংগীত বাজতেই সবাই উঠে দাঁড়াতাম।আর সিনেমার বিরতিতে ঝাল ঝাল চিপস ছিল দারুন,স্টলের লোকের ফানটা কোক নিয়ে দর্শকের সারির পাশ দিয়ে হেটে চলা টুং টাং শব্দ ভাসে।আজকের আমার এক পোস্টে Taj Suman ভাইয়ের একটা কমেন্ট দেখেই সিনেমার স্মৃতিটি মনে পড়লো।। 

এখনকার সিনেমা হলের সম্পর্কে ধারনা নেই, এখনো কি জাতীয় সংগীত শুনে মানুষ উঠে দাঁড়ায়!!!!!???

Friday, July 15, 2016

লিখালিখি ৩


ক্লাস ফোরের পর আর লিখালিখি হয় না। একদিন খোদেজা আপার বাসা থেকে জনকন্ঠ পত্রিকা আনলাম।ওই পত্রিকায় দেখলাম, একটা ছবি দেয়া।সেটা দেখে ছড়া লিখতে হবে। আপা আমাকে বলল কিছু লিখতে।পুরস্কার ছিল।আমি লিখলাম।জিপিও থেকে আপা পাঠালেন।এর পর অনেক দিন খবর নাই।

একদিন দুপুরে তাসকিন ভাইদের সামনে মাঠে হাটছি।উনি ডাকলেন। বাসায় গেলাম।গাছ দেখাচ্ছেন, গল্প করছেন।আমি এটা ওটা দেখতে দেখতে খেয়াল করলাম জনকন্ঠ পত্রিকা। সেখানে প্রতিযোগিতা র ফলাফল। সেরা তে নাম নাই। কিন্তু একটা লিখা দেখে মন ভাল হয়ে গেল," আরো যাদের লিখা ভাল হয়েছে তাদের ১০ হল,..........., সবশেষে, নিয়াজ মোরশেদ, স্টিল মিলস কলোনি। "

ইদানিং ঢাকা চিটগাং ভ্রমন করলে আমি desh travels এ যাওয়া আসা করি


ইদানিং ঢাকা চিটগাং ভ্রমন করলে আমি desh travels এ যাওয়া আসা করি। এদের গাড়িও ভাল আবার সার্ভিসও খারাপ না। desh travels এর সব গাড়িতে wi-fi আছে। মোবাইলে ফুল চার্জ দিয়ে রাখলাম গাড়িতে ফ্রি নেট চালানোর জন্য। কিন্তু গাড়িতে উঠে একেবারে ঝকঝকে নতুন গাড়ি। গাড়িতে বেলুন লাগানো। সুপাভাইজারকে ডাকলাম। বললাম wi-fi password দেন। সুপাভাইজার হাসি দিয়ে বললো স্যার গাড়িটা আজকেই যাত্রা শুরু করলো। এখনও wi-fi connection লাগানো হয় নি। তাই কি আর করবো পকেটের টাকা খরচ করে নেট চালাচ্ছি।

লিখা লিখি-২


আমার লিখা এই ছড়া টি আমার ছোট আপা ওর বান্ধবিদেরকে শুনানো র জন্য ক্লাসে নিয়ে গেলেন।চোখ এ পড়ল এক আপার। পরে শুনলাম উনি নাকি চাইছেন স্কুলের সকল ছাত্র ছাত্রী রা কবিতা ছড়া লিখে জমা দিক যাতে বই বের করা যায়।আমি আমার দুইটা ছড়া দিলাম।সবার সে কি উতসাহ। অনেক লিখা জমা পড়ল।এর আগে বিভিন্ন দিবসে দেয়ালিকা ছাপা হত।কিন্তু বই আমার ছাত্র জীবনে প্রথম।মনে মনে খুব খুশি নিজের লিখা ছাপার অক্ষর এ দেখব। যথাসময় এ বই বেরুল।কিন্তু কোথাও আমার ছড়া নাই। আমি ত অবাক।দেখলাম আমার চেয়ে অনেক খারাপ লিখা ছাপা হয়েছে।

সুজন,নাসিম,খোকন সবাই আমাকে সান্তনা দিতে আসল। ওরা নিজেও খুব অবাক।দেখলাম শুধু পরিচিতির কারনে অনেকের লিখা ছাপা হয়েছে। তারপরে আমি রাফি,হিমু, মিলে এক দল করলাম।আর ওই দিকে সুজন,নাসিম,খোকন। ক্লাসে অবসর পেলেই লিখতাম। অনেক ছড়া।নাসিম মাঝেমাঝে অন্য লিখা নিজের বলে চালিয়ে দিত। কিন্তু এই ছড়া র খাতা টি রাফি রদ্দিমাল হিসেবে বেচে দেয়। একবার সুজন আসল একটা ছড়া র শুরুটা লিখে দিতে। মনে আছে দুই লাইন লিখলাম

" বার্সিলোনা অলিম্পিক এ খেলবে শিলু, হুদা,
কে জিতবে কেউ জানেনা, জানেন শুধু খোদা"

আমি আর Shahabuddin Liton সহ রাতেই প্রোগ্রাম করে রাখছিলাম


আমি আর Shahabuddin Liton সহ রাতেই প্রোগ্রাম করে রাখছিলাম আজকে বিকালে Ahsanul Tarique কে দেখতে ঢাকা মেডিকেলে যাব। কিন্তু টঙ্গী থেকে বের হতে আমরা অনেক দেরি করে ফেললাম। বিকাল পাঁচটায় টঙ্গীরর হোসেন মার্কেট থেকে গাড়িতে উঠলাম। শুক্রবারেও জ্যাম ঠেলে কলাবাগান আসতে সন্ধা সাতটা বেজে গেলো। তারপর সেখান থেকে বাসের টিকেট কাটার পর লিটন বললো একটু বসুন্ধরা সিটিতে যাবে। বসুন্ধরা সিটি থেকে বের হতে হতে প্রায় পৌনে নয়টা বেজে গেলো। ঢাকা শহরের রাস্তাঘাট ভাল করে চিনিনা। তাই মেডিকেলে যাওয়ার সাহস করি নাই। sorry তারিক। extremely sorry.

আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন


অনেক বছর ঢাকা যাওয়া হয় নাই, আর ঢাকা শহর টা আমার অপছন্দনিয় শহরের একটি শহর, গারিবারিক কাজে গত রবিবার ঢাকা যেত হল টার্গেট গিয়েই চলে আসব বেশী হলে তিন ঘন্টা ঢাকা শহরে অবস্থান করব, শুধু তারেক দেখে চলে আসব, রিপনের সাথে যোগাযোগ করলাম ও বলল মেডিকেলে আয় আমি এখনই আসতেছি, ওর যে কলোনীর স্বভাব টা রয়ে গেেছে তা জানতাম না, আসি আসি বলে আর আসল না, যা হোক বড় ভাই রেজার সাথে আর তারিখের সাথে দেখা করে নিজের কাজ সেরে আতিক কে ফোন করলাম, আতিক তো একরকম জোর করে ওর অফিসে নিয়ে গেল আর যে আন্তরিকতা দেখালো তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না সাথে উপহার হিসাবে একটি গেন্জি তো আছেই। যা হোক রিপন রেজা ভাই আতিক আর তারিখের ভালবাসা আমার ঢাকা অবস্থানের ভিসা আরও প্রায় নয় ঘন্টা বাড়িয়ে দিল,বিকালে মেডিকেলে আড্ডা তারপর আতিকের গাড়ি করে ঢাকা ঘুরে দেখা সর্বপরি রেজা ভাই সহ ছোট বোন Shazi Khan যুথির বাসায় পারিবারিক আড্ডা দেওয়া সে এক অন্য রকম মজা, পরিশেষে সবার কাছে একটা প্রশ্ন চট্রগ্রাম ঢাকা চাদপুর সহ সব এলাকার স্টিলার রা এত আন্তরিক কেন হয়, অনেক খুজেছি এটার উত্তর কিন্তু এখনও পাই নাই,। কেউ কি আছেন যে এই উত্তর টা জানেন ?


মসজিদে যাবার সময় দেখা হত


মসজিদে যাবার সময় দেখা হত কারিনা,ক্যাটরিনা, প্রিয়াংকার সাথে।আমার দিকে তাকিয়ে ওরা হাসি মুখ করে থাকত।জানি কিছু বললে উত্তর পাব না।তাই আমিও চুপচাপ হেটে চলে যেতাম। কিন্তু এখন সেখানে এসেছে দীপিকা, আলিয়া,সোনাক্ষী রা। এখন ওদের সাথে ঈ দেখা হয়। কারিনা, প্রিয়াংকাদের সাথে আর দেখা হয় না আর।

বলছিলাম মসজিদের পাশের ফটো স্টুডিও টির কথা। নায়িকা দের ক্রেজ আর জনপ্রিয়তা বেড়ে গেলে বা কমে গেলে যে স্টুডিও তে পোস্টার এর পরিবর্তন হয় তাই যেন দেখতে পেলাম

কোন আলো লাগল চোখে


শ্রদ্ধেয় মোস্তফা কামাল স্যার কে আমি ঠিক কবে থেকে চিনি মনে নাই।তবে স্যার এর ক্লাস পেতে শুরু করি সেভেনে উঠার পর। প্রায়ই স্যার কে দেখতাম সাদা ফুল হাতা শার্ট পড়ে আসতেন। মাথায় টুপি।স্যার আমাদের রচনা ক্লাস নিতেন। একদিন অর্ধেক পড়া দিতেন, পরের ক্লাসে বাকি অর্ধেক। পড়া না শিখলে স্যার বকতেন।কিন্তু গণহারে সবাইকে মারতেন না। স্যারের স্বভাব এর যে দিক টা সবচেয়ে আকর্ষণ করত তা হল পরিমিতিবোধ। সেটা স্নেহের সময় হোক,বা শাসনের সময়।কোন টাতেই বাড়াবাড়ি ছিল না।কিভাবে যেন দুইটার ব্যালেন্স করতেন স্যার। আবার পড়ার বাইরে স্যার অনেক কথা বলতেন যেগুলো ছাত্রদের মানসিক বিকাশের জন্য জরুরি ছিল।

একবার আমি টিফিনের পর ছুটি নিতে গেলে ৫ ম ঘন্টা তেও ক্লাস করতে হয়েছিল। ৬ ষ্ঠ ঘন্টা য় স্যারের ক্লাস ছিল।আমি যখন বাসায় যেতে চাইলাম,স্যার বললেন," আমার ক্লাস টা করে যা"।এমন ভাবে বললেন,স্যারের ক্লাস করে বাসায় গেলাম।

স্যারএর হাসি ছিল খুব মাপা আবার সেই হাসিতেও এক ধরনের শুদ্ধতা ছিল মুগ্ধ করার মত।যেন নিজের জীবনাচরণ এর বহিঃপ্রকাশ। মাসুক ভাই আর মুরাদ ভাই য়ের হাসির সাথে কিছুটা মিল পাই।

সারাটা জীবন ছাত্রদের মানুষ হবার মন্ত্র দীক্ষিত করতে চেয়েছেন,তেমনি নিজের সন্তানদের মানুষ করেছেন স্যার। তাই স্যারের ব্যক্তিত্ব এর আলোয় মুগ্ধ হয়ে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয় বার বার।আরো অনেকদিন সুস্থ হয়ে বেচে থাকুন আপনি।
ছবি- মোকাম্মেল-ই- এলাহী মুরাদ ভাই

রেল লাইনের পাশে টং দোকান


রেল লাইনের পাশে টং দোকান, সব শ্রমজীবী, অতি স্বল্প আয়ের লোকেরা চা, পান বিড়ি খায়, সেখানেও আমি সেলফি তুলে এই পেজে পোস্ট করি। ভ্যানে করে চা বিস্কুট বিক্রি করে, সেই ভ্যান ওয়ালা চা দোকানদারের বেশিরভাগ কাস্টমারই রিক্সাওয়ালা, ঠেলাগাড়ি ওয়ালা, সেখানেও আমি চা বিস্কুট খাই, ছবি তুলি আবার এখানে পোস্ট করি। পাশাপাশি বড় বা ভালো কোন জায়গায় গেলে সেখানকার ছবি তুলে এখানে পোস্ট করে বিষয় গুলো সবার সাথে শেয়ার করি। অর্থাৎ যে পরিবেশই হোক না কেন আমি ছবি তুলে এ পেজে সবার সাথে শেয়ার করি। এরকম ভাবেই ছবি তুলতে তুলতেই কক্সবাজারে এক হোটেলে বাথ টাবে গোসলের ছবি এখানে পোস্ট করেছি। বাথটাবে গোসল করছি এটা বুঝানোর জন্য নয়। জাস্ট পেজে ফান করার জন্যই ছিল ছবিটি পোস্ট করা।বাথ টাবে গোসল এমন কোন কৃতিত্বের বিষয় নয় যে ছবি তুলে পোস্ট করতে হবে। আমি আবারো বলছি ছবিটি ছিল Just for fun. তারপরও কেউ যখন না বুঝে এই ছবিটি নিয়ে পেজেই বিরুপ কিছু বলে তখন খুবই কষ্ট পাই, এরপর থেকে কোন কিছু শেয়ার করতেও দ্বিধায় ভুগি।

এখানে আরেকটি ব্যাপার উল্লেখ করি, এ পেজ তৈরির পর থেকে আমি আমার টাইমলাইনে কোন কিছু সহজে পোস্ট করতাম না, যা কিছু আছে এই সিএসএম পেজেই শেয়ার করতাম।

Change to positive direction ………..


Mr Google just reminds me my last year ( 15: 07: 15 ) posting in my Time Line which I share with the STEELERS. Please. never mind.

Change to positive direction………..

This is the Chittagong Steel Mill High School from where I passed the SSC Exam. There are two other buildings remain unchanged: One is the Administrative building the other one is the colony Mosque since CSM is handed over to BEPZA to establish EPZ. It was my first visit to CEPZ & KEPZ as Member (Engineering) since I joined BEPZA.

It was very much nostalgic and austronishing experience for me to see the change of Steel Mill area where I passed my childhood and part of my young age. All the old buildings. Mills and work shop have been auctioned and the whole area converted to industrial plots. The plots have been leased to the investors. Foreign , JV and local investors made the whole area into an Industrial Park. About fifty thousand work force has been employed so far in Karnofully EPZ (about 2 lacs in CEPZ).

CSM School also been taken over by BEPZA and very soon, a new 4 storied smart school building will be constructed.Similarly a new 2 storied (with 3 storied foundation) beautiful mosque will replace the old one.

Though I was socked at the first sight to see the changes but soon after very much delighted when I was briefed the about the achievement of KEPZ.

We must accept the change: Change for betterment, Change in positive direction: which we call `Development`

টিকা দেওয়ার দিনটার কথা মনে আছে?


টিকা দেওয়ার দিনটার কথা মনে আছে? ভয়ংকর। ছোটদের ক্লাসে রীতিমত হইচই। এখানে লুকাই সেখানে পালাই। তাও রক্ষা নাই।

একবার রিমন দিল ভো দৌড়। ম্যাডাম ( রিমনের আম্মু, sorry নামটা ভূলে গেছি) দিলেন হুংকার- দেলোয়ার ওকে ধরে নিয়ে আয়। বেচারা রিমন মাঠের মাঝখানে খেল ধরা, দেলোয়ার ভাই কাধে তুলে নিয়ে এল। টিকা দেওয়ার পর রিমনের সাদা সার্ট লাল হয়ে গেল। ওই বার বন্দুকের মত নতুন ধরনের টিকা মেশিন আসছিল স্কুলে। সম্ভবত ক্লাস থ্রীর ঘটনা। আমি সেইবার ফাকি দিয়েছিলাম। এখন বুঝি কি অবুঝ যে ছিলাম.......

Thursday, July 14, 2016

আমরা যেখানে থাকি


আমরা যেখানে থাকি,এখানে একটি ছোট মহিলা মাদ্রাসা আছে। দুই তিন মাস আগে এখানের এক হুজুর ছেলেদের স্কুলের পাশ দিয়ে রিক্সা করে আসছিল।বড় ছেলেকে দেখে বলল,আস আমি ঐদিকেই যাচ্ছি।ছেলেও কথামত রিক্সায় উঠলো।বাসায় এসে বলে 'রিক্সা ভাড়া বেঁচে গেছে'।শুনে বললাম, আর কখনো উঠবে না।দরকার হলে কিছু বেশি টাকা নিবে।আরেকদিন বিকেলবেলা অন্য ছেলেসহ ওকে ডেকে সিঙ্গারা খাওয়ালো এই হুজুর।আমাদের বাসার কাছে বাজারের নাম 'ফইল্লাতলি'।একদিন এই হুজুরই ছেলেকে বলে, 'চল ফইল্লাতলি বাজারে যাই'।আবার মাঝে মাঝে মাদ্রাসার ভিতরে যেতে বলতো।ছেলে যেত না।একদিন স্কুল থেকে এসেছে,বৃষ্টি হচ্ছে,গেটে তালা,ছেলেটা বাহিরে দাঁড়িয়ে।এরমধ্যে হুজুর ডাকছে তাদের মাদ্রাসায় যেতে অথচ আমাদের বাহিরের গেটের ভিতর ঢুকলে গায়ে তেমন বৃষ্টি পড়ে না।ছেলের বাবাকে বললাম হুজুরের আচরন ভাল লাগছে না,তুমি চাচাকে (মাদ্রাসার মালিক) ঘটনাগুলি বলে রাখ।কিন্তু ছেলে ভয় পাচ্ছিল,'বলার পর হুজুরটা যদি ক্ষেপে যায়'!বললাম, দেখা যাক,ভয়ের কিছু নাই।চাচাকে বলার পর এখন ঐ হুজুরকে আর দেখা যায় না।সম্ভবত বিদায় হয়েছে।আপাতত দুশ্চিন্তা একটা গেছে।

অভিনয়ের চরিত্রের সাথে মিশে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে


অভিনয়ের চরিত্রের সাথে মিশে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। সংলাপ ছাড়াই ভংংগীমা দিয়ে ভাব ফুটিয়ে তোলার রয়েছে বিশেষ গুন। আছে হৃদয় কেড়ে নেওয়ার মত সুরেলা কণ্ঠস্বর। একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী বলা যায়। ফরিদপুরে জন্ম নেওয়া এই প্রতিভা মঞ্চ নাটক জগতে আসেন ১৯৭৮ সালে। কিন্তু টিভি নাটকে আসেন অনেক পরে ১৯৯১ সালে কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত নাটক মৃত্যুক্ষুধা নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে। এরপর জয়জয়ন্তী নাটকে পরান মাঝি চরিত্রে অভিনয় করে বাজিমাত করে দেন, এরপরে একে একে বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে আসেন পেশাগত জীবনে ছিলেন একজন ব্যাংকার কিন্তু অভিনয় নেশায় ব্যাংকের চাকরী ছেড়ে দিয়ে এখন পুরোদস্তর অভিনয় শিল্পী। চলনে বলনে যিনি খুবই সাধারণ ও ক্যাজুয়াল।

হুম! বলছিলাম সবার প্রিয় অভিনয় শিল্পী ফজলুর রহমান বাবুর কথা। আজ তাঁর ৫৬ তম শুভ জন্মদিন। ১৯৬০ সালের এই দিনে তিনি ফরিদপুরে জন্ম গ্রহন করেন। আজকের এই দিনে উনাকে এই পেজের পক্ষ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।


কয়েকদিন আগেও ছিল আকাশি রঙ আর মেরুন রঙ নিয়ে আলোচনা


কয়েকদিন আগেও ছিল আকাশি রঙ আর মেরুন রঙ নিয়ে আলোচনা,সমালোচনা, তর্ক, বিতর্ক, হাসি ঠাট্টা, গল্প লিখা এমনকি এই রঙ দুটি গবেষণা পর্য্যন্ত হয়ে গেছে। রঙ নিয়ে এ পেজে এমন গবেষনা যদি বার্জার পেইন্ট কোম্পানি দেখতো তাহলে নির্ঘাত এ পেজের কয়েকজনের রঙ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ওই কোম্পানি তে চাকরী হয়ে যেত। ঈদের মধ্যে কি জানি কি ঘটে গেল সবাই আকাশি মেরুন রঙ ফেলে গোলাপি রং নিয়ে মেতে উঠেছে আর আলোচনা এবং গবেষণা শুরু করে দিয়েছে। অথচ আমি কত আগে থেকে গোলাপ আর গোলাপি রঙ নিয়ে কবিতা আর গল্প লিখলাম তখন কেউ কিছু কইলনা। সবই কপাল।

সমস্যা নাই রঙ নিয়ে গবেষনা চলুক, সেটা যে রংই হোক না কেন। কিন্তু ফতুয়া কেমনে পাঞ্জাবী হয় এটাও ভাবার বিষয়। পাঞ্জাবী কাইটা ফতুয়া বানানো যায় কিন্ত ফতুয়ারে কি দিয়া,কেমনে জোড়া দিয়া পাঞ্জাবী বানানো হইল ওইটাও মাথায় ঢুকতেছেনা। এই খানেও কোন সমস্যা নাই, পাঞ্জাবী হোক আর ফতুয়া হোক একটা কিছু হইলেই হইল। এমনকি গোলাপি লুঙ্গী হলেও তাকে স্বাগতম জানাই।

দুমাস পর আরেক ঈদ উৎসব, আশা করি নতুন রঙ আর নতুন কোন পোশাক দেখা যাবে। সবাইকে আবারো গোলাপি গোলাপ সুরভিত শুভেচছা।

১৭০০


অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানানো যাচ্ছে যে, একটু আগে রুবিনা শিরীন আপুর "নিয়াজ মোরশেদের হুজুর আর মক্তবের উপর লেখা পড়ে একটি ঘটনা মনে পড়লো" এই লিখাটির মাধ্যমে আমাদের CSM Colony পেজ এর লিখার সংখ্যা ১৭০০ পূর্ণ হল।

এই ১৭০০ লিখার মধ্যে যেই ৫ জন এগিয়ে আছেন তারা হলেনঃ

১. আতিক ভাই, উনার স্কোরঃ ২৭২
২. নিয়ায মরশেদ জনি, স্কোরঃ ১৩৯
৩. মাহাবুব রাসেল ভাই, স্কোরঃ ৭৮
৪. আনিসুর রহমান রেজা ভাই, স্কোরঃ ৭৪
৫. কামার উদ্দিন কমু ভাই, স্কোরঃ ৭৩

এই ১৭০০ লিখা পূর্ণ হতে CSM Colony পেজ এর মোট সময় লেগেছে (From : Thursday, 20 August 2015 to : Thursday, 14 July 2016) 28,512,000 seconds, 475,200 minutes, 7920 hours, 330 days, 47 weeks and 1 day, 10 months 25 days, 90.41% of a common year (365 days)।

পেজ এর সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।




Reajul Islam Shahin ভাইয়ের চশমাটা ইউনুসের দোকানে বন্ধক


Reajul Islam Shahin ভাইয়ের চশমাটা ইউনুসের দোকানে বন্ধক তাই উনি অরিজিনাল চশমা ছাড়া চোখে ভাল করে দেখে না। মাত্র চারদিন আগে উনি ঢাকায় আসলো, আমরা আসলাম চারদিন পরে। ঢাকা শহরে এত জ্যাম উনার চোখে পরে নাই। তাই প্রস্তাব করছি ইউনুসের কাছ থেকে চশমাটা ছাড়ানোর ব্যবস্থা করা হউক। অন্যথায় সিএসএম এর পক্ষ থেকে পাওয়ার ফুল চশমা দেওয়া হোক।

মন খারাপের দৃশ্যাবলী-৩


আজকে মামার বাসায় গিয়েছিলাম।সেখান থেকে স্কুল অনেক কাছে। ১৮ বছর দেখিনি।তাই দেখতে গেলাম।কিন্তু উল্টো আরো মন খারাপ হয়ে গেল।চেনা স্কুলের প্রবেশ পথ পাল্টে গেছে।মঞ্চ টা নেই। আরো অনেক কিছুই আগের মত নেই। অনেক কিছুই মনে পড়ে গেল।কিন্তু একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস এসে সবকিছু এলোমেলো করে দিল।মনে হল আরো আগে কেন এলাম না।

দুপুর দুইটায় সিটি গেইট থেকে রওনা দিলাম


দুপুর দুইটায় সিটি গেইট থেকে রওনা দিলাম। ঠিক চারটায় চৌদ্দগ্রাম হাইওয়ে হোটলে পৌঁছলাম। সেখানে লাঞ্চ করে আবার পৌনে পাঁচটায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম সোয়া ছয়টায় কাঁচপুর ব্রীজে আসলাম। কাঁচপুর ব্রীজ থেকে ঢাকার উত্তরায় আসতেই প্রায় আড়াই ঘন্টা লেগে গেলো তাও আবার রুপগঞ্জ দিয়া। এত জ্যাম ঢাকা শহরে? গাড়ি চলতেই চায় না। মাঝে মাঝে ট্রাফিকরাও ভুলে যায়, অন্যদিকে যে গাড়ি আছে। একপাশে ক্লিয়ার দিয়ে দিব্যি দুজন মিলে গল্প করছে। Shahabuddin Liton

আজ আমার খুব খুব মন খারাপ হয়ে গেল


আমার ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল বুধবার এর আগেই আমাকে আমার বন্ধু "রে" বলল আমি আসছি খুব তাড়াতাড়ি এবং বলল বৃহস্পতি বার "রে" ও "রি" দুজনই আসবে, কিন্তু এই শা---------লারা এখনো আসেনি, মনে হয় আর আসবে না,এইবার পাই তোদের তাপর বুজাবো,আমি আর তোদের কথা বিশ্বাস করবো না মনে রাখিস ,আমি তোদের অপেখায় ছিলাম।আমার সাতে এই কাজ না, যেমনঃ বলা হয় আপনি ৩০ মিনিট অপেক্ষা করেন আমি ১ ঘন্টা পর আসবো।আচ্ছা ভাল তো ভাল না, নাজমুল মনে রাখিস কথাটা।

মানুষের মুখ


রাস্তা দিয়ে হেটে আসার সময় যেসব মানুষ গুলো র চেহারা চোখে পড়ে আমি তাদের খুব ভাল করে খেয়াল করি।কারো মুখ দেখি বিষন্ন, কারো টা খুব খুশি,কেউ চিন্তিত, কেউ বা নির্লিপ্ত, কেউ বা কোথাও পৌঁছানো র জন্য খুব উদ্বিগ্ন, কেউ বা নিশ্চিন্ত আবার কেউ খুব বিরক্ত। একেক মানুষের একেক রকমের মুখ। এই যে এত মানুষ সবার মুখের অবস্থা কিন্তু এক নয়। 

তবে আমার সবচেয়ে ভাল লাগে মানুষের হাসিখুশি মুখ দেখতে, মানুষের সুখী সুখী চেহারা দেখতে। আরো ভাল লাগে মানুষ যখন তার সুখ বা আনন্দের কথা কারো সাথে ভাগাভাগি করে।তখন তার চেহারায় এক আশ্চর্য আলো ভর করে,পুরো চেহারায় পুলকের সেই দীপ্তি দেখতে আরো ভাল লাগে। 

ছোট্ট এই জীবনে মানুষের ভাল সময়ের চেয়ে খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে বেশি যেতে হয়। কিন্তু তবুও মানুষ চায় সেই খারাপ সময় টাকে ভুলে ভাল থাকতে। তাই ত সবার কাম্য হওয়া উচিত।

সারাদিন আর সারারাত আমি সেই সুখী মানুষ টাকে খুজে খুজে যাই

তোমার চরণে দিব


আরতি আপা, আমাদের স্কুলের একজন আপা যিনি খুব সহজ সরল মানুষ ছিলেন।আপা ক্লাস ফাইভ এ আমাদের ড্রইং ক্লাস নিতেন।ক্লাস নেয়ার ফাঁকেফাঁকে আপা তার স্বভাব অনুযায়ী পান খেতেন।অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষার পর আপা খাতা দিবেন, কে কত পেয়েছে আমরা উকি মেরে দেখতে চাইছি। আপা বিরক্ত হয়ে স্কেল দিয়ে মাছি তাড়ানোর মত করে আমাদেরকে তাড়াচ্ছেন।খাতা দেয়ার পর আমরা সবাই যার যার ভুল খুজে বের করছি, আপা কেন নাম্বার কাটলেন।দেখা গেল Al Amin Billah Shujon, সবচেয়ে বেশি নাম্বার পেয়েছে। ওদিকে ক্লাসে যে ফার্স্ট বয় তাকে আপা ২৫ এ দিয়েছিলেন ৭ মানে ফেল। ও ত লজ্জায় শেষ। বার বার আপার কাছে ছুটে যাচ্ছে নাম্বার বাড়িয়ে ওকে পাশ করিয়ে দেবার জন্য।এখানেই আপার সততা চোখে পড়ে।আপা কিন্তু রোল দেখে ওকে পাশ করিয়ে দিতে পারতেন।বেশি নাম্বার দিতে পারতেন। কিন্তু উনি তা করেননি।উনি যে ভাল করেছে তাকেই বেশি দিয়েছিলেন। একসময় ফার্স্ট বয়ের অসহায় অবস্থা দেখে আপার মনে মায়ার সঞ্চার হয়।খাতা কাটার সময় আপা দৃঢ়ভাব দেখালেও মনে মনে আপা ছিলেন একজন মায়াবতী মহিলা।উনি ৯ দিয়ে ওকে সেবারের মত পাশ করিয়ে দিয়েছিলেন এবং পণ করিয়েছিলেন ড্রইং কে যেন সে গুরুত্ব দেয়।৭ থেকে ৯ পেয়ে ওই সময় আমাদের ফার্স্ট বয় আপার কথায় সম্মতি জানিয়েছিল।এর পর আপাকে অনেক দিন দেখিনি। ইদানীং আপার মত এক মহিলাকে প্রায় দেখি।তাই আপার কথা মনে পড়ল।

কিন্তু আপা যে কবেই আমাদের ছেড়ে ওই দূর আকাশের তারা হয়ে গেছেন, তা জানতে পারিনি। আপনি না হয় সেখান থেকেই আপনার আশীর্বাদ এর আলোক রশ্মি আমাদের উপর বর্ষন করুন।

নিয়াজ মোরশেদের হুজুর আর মক্তবের উপর লেখা পড়ে একটি ঘটনা মনে পড়লো


নিয়াজ মোরশেদের হুজুর আর মক্তবের উপর লেখা পড়ে একটি ঘটনা মনে পড়লো। ক্লাস ফাইভে থাকতে আমরা তখন জরুরী আবাসিক কলোনীতে এসেছি,ডি-টাইপে।পাশে ই-টাইপের সামনে ছিল 'মক্তব'। সেখানে ভর্তি হলাম।দুইজন হুজুর ছিলেন।একজন বয়স্ক,অন্যজন কম বয়সী।প্রথমে দুইজনই একসাথে আমাদের পড়াতেন। কিছুদিন পর উনারা ছাত্রছাত্রী আলাদা করে দুই রুমে আলাদাভাবে পড়াতেন।আমি পড়তাম কম বয়সী হুজুরের রুমে।তবে আমি একটু বিরক্ত ছিলাম হুজুরের উপর,আমার পড়ার প্রতি একটু বেশি খেয়াল করতেন বলে। কয়েকদিন যাওয়ার পর বাসায় বেল বাজল। আব্বা দরজা খুললেন।পিছন থেকে দেখলাম ছোট্ট মেয়ে দুইজন একটি 'চিরকুট' নিয়ে এসেছে।দিলেন আব্বার হাতে।চিরকুটটি পড়ে আব্বা বললেন,'আরবী পড়তে যাওয়ার দরকার নেই।' এরপর থেকে মক্তবে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল।এখন কারো মেয়েকে আরবী পড়াতে চাইলে মেয়ে হুজুরের কাছে পড়াতে বলি।

গতকাল রিপনের বাবার জন্মদিন ছিল


গতকাল রিপনের বাবার জন্মদিন ছিল। সে কারনে বাবাকে নিয়ে তার লেখাটা পড়ে ভালো লেগেছে। সেই সাথে শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায় মনটা আপ্লুত হয়েছে ষ্টিল মিলের অনেক বাবার জন্য যারা নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য নিজেরা ঘাম ঝরিয়েছেন, স্বীয় মর্যাদাকে বিসর্জন দিয়েছেন।।

কল কারখানার চাকরী এমনিতেই কায়িক শ্রম নির্ভর। তার মধ্যে ষ্টিলমিলের চাকরীটা একেবারেই ভিন্ন প্রকৃতির ( বিশেষ করে তখনকার প্রযুক্তির বিচারে) ।

মেল্টিং সোপ, বার মিল, ব্লুমিং মিল, হেভী প্লেট মিল এসব জায়গায় চাকরী করাটা ভীষন কষ্ট সাধ্য ছিল -যা আমরা সবাই জানি। সংসারে একটু সাছ্বন্দ আনতে, ছেলেমেয়েদের বাড়তি একটু বায়না মেটাতে তারা এসব জায়গার তপ্ত পরিবেশে ঘাম ঝরিয়ে ওভারটাইম করেছেন। এমনকি ওভারটাইমের নেশায় অনেক বাবার আয়ুষ্কাল সংকুচিত হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভালো রাখতে, সাছবন্দে রাখতে বাবারা নিজেদের পদোন্নতির সুযোগকে ইছছাকৃতভাবে ফরগু করে নিজের মর্যাদাকে বিসর্জন দিয়েছেন।

রিপনের বাবা, বোরহানের বাবা - এমন অনেক বাবার প্রতি তাই আমার বিশেষ শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা।
এমন বাবার সন্তান হওয়া গৌরবের। 

এমন বাবাদের গায়ে ঘামের গন্ধ থাকে না। 

থাকে ঘামের সৌরভ। আর সেই সৌরভে সুরভিত হয় আমাদের চারপাশ !!

Wednesday, July 13, 2016

উৎসব উৎসব


ছোটবেলায় বিটিভিতে একটা নাটক দেখেছিলাম।নাম উৎসব উৎসব। নাটক টার কাহিনী তে দেখা যায়, বাবার মৃত্যু তে ছেলেমেয়েরা সবাই দূর দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছে।ভাই বোনেরা একসাথে হয়েছে অনেকদিন পর। বাবাকে কবর দিয়ে আসার পর সবাই আবার বাবাকে ঘিরে নানা স্মৃতি মনে করে আড্ডায় মেতে উঠছে,আবার একসাথে বেড়াতে যাবার প্ল্যান করছে। এর মধ্যে ছোট খাট দু একটা মান অভিমান এর ঘটনা যে ঘটছে তা নয় কিন্তু সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে সবাই উৎসব মুখর থাকতে চাইছে।

তেমনি ছোটবেলায় যে কলোনি তে জন্ম হয়েছিল, বড় হয়েছিলাম সেই কলোনি থেকে চলে আসার পর মিল টা বন্ধ হয়ে যাবার পর কলোনি র মানুষগুলো নানা জায়গায় চলে গিয়েছিল।ফেসবুকে একটা পেজের মধ্য দিয়ে সেই মানুষগুলো আবার কাছাকাছি চলে এসেছে। এখানে তারা কলোনি নিয়েও যেমন স্মৃতিচারন করে তেমনি আবার নানা সময়ে একত্রিত হয়ে উৎসব এ মেতে উঠে।সেটা হাসপাতালে হোক,কিংবা কারো অফিসে বা বাড়িতে বা রেস্টুরেন্ট এ। নাটকের মত এখানেও যে মান অভিমানের ঘটনা ঘটেনা তাও নয় কিন্তু সেটা কেউ মনে রাখতে চায় না। কারো অসুখে, কারো বিয়েতে কিংবা অন্য কোন ছুতোয় তারা একসাথে হয় আর আনন্দে মেতে উঠে।




আমি কোন লেখক নই


আমি কোন লেখক নই। লেখার অভ্যাস আমার কখোনই ছিল না। সিএসএম পেইজের কল্যাণে টুক-টাক দুই-এক কলম লিখি। মহা সমুদ্রের শুরু আছে আবার শেষও আছে। কিন্ত আমার বাবা আমেরিকা চলে যাওয়ার পর বাবাকে নিয়ে যত ভেবেছি, শুরুটা পেয়েছি কিন্ত শেষ পাইনি। বাবাকে নিয়ে আমার ভাবনাগুলো ছিল সবসয়ম নদীর মত প্রবাহমান। প্রত্যেক মানুষের জীবনেই কিছুনা কিছু চাওয়া-পাওয়ার থাকে। আমার জীবনে কোন চাওয়া-পাওয়া ছিলনা। কেননা করুনাময় আল্লাহ তায়ালা আমাকে জন্ম থেকেই সন্তষ্ট করে রেখেছিলেন। আর এই সন্তষ্টির মুল ছিল আমার বাবা। বাবা ছিলেন আমার সকল হাসি-আনন্দের উৎস। তিনিই ছিলেন আমার সব চেয়ে ইনষ্টিটিউশন। আমার মনের সব প্রশ্নের সকল উত্তর পেতাম বাবার কাছ থেকে। আর এ কারনে বাবাই আমার কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাড়াতো। পৃথিবীর মহৎ ও উত্তম গুনের এমন কোন দিকছিলনা যা আমার বাবার ছিলনা? আমার বিশ্বাস পৃথিবীর সমস্ত উত্তম গুনের অধিকারী ছিলেন আমার বাবা। যাকে বলবো-A man with full good treats.

আমার বাবা ছিলেন আপোষহীন। সেই 1972 সাল থেকে আমরা এফ/10/15 নম্বর বিল্ডিং এ দীর্ঘ 28 বছর 8 জন মানুষ-15 ফুট বাই 15 ফুট রুমে মানবেতর জীবন-যাপন করেছি যা হয়তো ষ্টীল মিল কলোনীর অন্যতম দৃষ্টান্ত। তারপর ও আমার বাবাকে কোন দিন ইউনিয়নের কারো বিরুদ্ধে কোন দিন কোন অভিযোগ করতে শুনিনি। আমার বাবা ছিলেন বারমিলে-পদবী ছিল ‘‘মাষ্টা টেকনিশিয়ান” আমার বাবার বস ছিলেন খানসুর চাচা। অনেক বার আমার বাবাকে ফোরম্যান পদবী নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্ত ফোরম্যান হলে-ওভারটাইম করা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারনে-উনি প্রমোশন নেন নাই, সুধু আমাদের সচ্ছলতার কথা চিন্তা করে। এমনও দেখেছি-আমাদের একটু সচ্ছলতার জন্য 24 ঘন্টাও মিলে পড়ে থাকতেন। আমাদের জন্য নিজের জীবনটা কে কখোনই জীবন মনে করতেন না। 1996 সালে আমার মা ডায়েবেটিকস রোগে-পরকালে চলে গেলেন। নিজের লেখাপড়া বাদ দিয়ে মাকে নিয়ে ঢাকার বাডেম হাসপাতালে মাসের পর মাস পড়ে থেকেছি-কি দুঃসহ জীবন? কখন কখন আত্মীয়দের বাসায় কখনো হাসপাতালের বারান্দায় কিন্ত মাকে বাঁচাতে পারিনী। আমার বন্ধুরা তার কিছু অংশ জানে। মা গত হওয়ার পর-আমার বাবাকে এমনকি আমার আপন নানীও দ্বিতীয় বিবাহ করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্ত আমার বাবা বলতো-বিয়ে মানুষ একবারেই করে, তাছাড়া আমার ছেলেগুলোর বন্ধন নষ্ট হয়ে যাবে। আমার বাবা আমার মার অভাববোধ কোন দিন আমাদেরকে বুঝতে দেননি। নিজেই আমাদেরকে রান্না করে খাওয়াতেন। আমাদের সুখের কথা চিন্তা করে নিজের সুখকে বিসর্জন দিয়েছিলেন।

বাবা সম্পর্কে কিছু একটা লিখব বলে উৎসাহ ও উদ্যোম নিয়ে লিখতে বসে ছিলাম। অনেক কিছু লেখার ছিল কিন্ত ভাব প্রকাশে আমি খুব একটা পারদর্শী নই। তাই ছোট ছোট ঘটনার মধ্য দিয়ে, যা সকলের অজানা, আমার বাবার চারিত্রিক বৈশিষ্টের অন্য মাত্রা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমি জানিনা আমার বাবা পৃথিবীর সর্বত্তোম বাবা কিনা কিন্ত সন্দেহাতীতভাবে জানি পুনজীবন বলে আসলেই যদি পৃথিবীতে কিছু থাকত, তবে আমি আমার এই বাবা-মায়ের সন্তান হয়েই পৃথিবীতে মুখ দেখাতে চাইতাম। আমার বাবা-মায়ের সুখ শান্তিময় জীবন কামনা করে এখানেই শেষ করছি।

স্টিলার দের নিয়তি বোধ হয় খাবার টেবিল আর না হয় হাসপাতালের করিডোর


স্টিলার দের নিয়তি বোধ হয় খাবার টেবিল আর না হয় হাসপাতালের করিডোর। অন্তত পেজে পোসট করা ছবি গুলো তাই বলে

অফিসের কাজে সকাল থেকে পুরান ঢাকায় ছিলাম, চারটার দিকে কাজ শেষ করে সেখান থেকে বাসায় ফিরার জন্য গাড়িতে উঠতেই ফ্যাক্টরি থেকে ফোন এলো , আমাদের পণ্য পরিবহনের জন্য যে কন্ট্রাক্টর কে নিয়োগ করা হয়েছে তার প্রতিনিধি ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গনে ফ্যাক্টরির অন্য একটি গাড়ির চাপায় মারাত্মক আহত হয়েছে, যেহেতু আমাদের ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণ, আমাদের ফ্যাক্টরি র গাড়ির চাপায় আহত তাই তার চিকিৎসার দায়িত্বও আমাদের, তাছাড়া মানবতার খাতিরে এইসব যুক্তিও চলেনা, তাই তাকে নারায়ণগঞ্জ ফ্যাক্টরি থেকে দ্রুত শ্যামলির একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে আসতে বললাম, আর আমি সোজা ওই হাসপাতালের দিকে রওনা দিলাম, তারপর দেখলাম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পিশাচ রুপী কাজ, প্রথমেই বলল রুগীর চিকিৎসা করার মত সামর্থ্য আছে কিনা, তারপর বলল ৭০০০০ টাকা জমা দিলে চিকিৎসা শুরু করবে তারা, আমাদের কাছে টাকা পয়সা তখন বড় ব্যাপার না, তার চেয়েও বড় ব্যাপার হচ্ছে যেখানে এ ধরনের পিশাচ রুপী কাজ চলে সেখানে এ রুগীর চিকিৎসা এ হাসপাতালে কতটুকু হবে এটা নিয়ে শংকা। তাই রুগীকে সেখান থেকে আবার নিয়ে গেলাম কল্যানপুরের আরেকটি ক্লিনিকে, সেখানে চিকিৎসা কতটুকু হবে জানিনা তবে তারা দ্রুত রুগীকে নিয়ে অপারেশন থিয়েটারে চলে গেল।

এসব পিশাচ গুলোর মধ্যে যে কবে মানবতা বোধ আসবে তা আল্লাহই জানে।

খালারা বড় ভালোবাসে আমাকে


খালারা বড় ভালোবাসে আমাকে। বোনদের মাঝে মা ছিলো সবার বড়। প্রথম ভাইগনা আমি। মা/খালাদের মধ্য ছোট খালা বেচে আছে। আমরা সকল খালাতো ভাই/বোনেরা, খালাকে ঘিরেই আছি। তবে মামুদের সাথে সর্ম্পকটা বড়ই জটিল!! মামুরা আমার, বেচাতে উস্তাদ!! নিজেদের মধ্য সুন্দর বোঝাপোড়ার মাধ্যমে জমি বেচে। অবশ্যয় বোনদের ঠকিয়ে। এইবার ঈদেরদিন বিকালে, তিন নম্বর মামুর সাথে বাজারে দেখা হলো।

বহু কস্টে মামু জিজ্ঞাসা করলো, আব্বা কেমন আছো? তারচেয়ও কস্টে উত্তর দিলাম, ভালো আছি মামা। কোনো কথা খুজে না পেয়ে এবার মামু আমার জিজ্ঞাসা করলো, আব্বা তোমার পাঞ্জাবীটা খুব সুন্দর হয়েছে!! 

আমিও কোনো চিন্তা/ভাবনা ছাড়াই বলে ফেললাম, নেও মামা পাঞ্জাবীটা, এখনী খুলে দিচ্ছি!! তুমি আমার মায়ের ভাই মামু, একটা পাঞ্জাবীই না হয় তুমি চেয়েছ!! কিন্তু মামু, তোমার লুংগীটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে!! বহু কস্টে মামু আমার একটু হাসলো। ভাইগনার ভয়াভহ ইংগিতটা,মামুর কাছে পরিস্কার!! থাইক আব্বা, পাঞ্জাবীটা তোমারে সুন্দর মানাইছে, আমার লাগবো না। মামু আমার চলে যেতে যেতে, অন্য একজন কে বলছে, বড় আপা একটা "কমিন পুলা" রাইখা গেছে!! এই হারামীটার থেইকা বাবু অনেক ভালো!!।

বাড়িতে রাত্রে খেতে বসেছি। বাবু বলে উঠলো, ভাইয়া তোমার সাথে মামার কি হয়েছে? বললাম, বিশেষ কিছু হয়নাই, শুধু মামুর লুংগি ধরে একটু টানাটানি করেছি!! ভালো একটা ছওয়াবের কাজ করছো ভাইয়া!! 

আজ মা বেচে থাকলে খুব খুশি হতো!!! একটু সময়ের জন্য থমকে গেলাম!! বাবু কি মজা করছে?? নাকি আসলেই সিরিয়াস???

আমরা যখন স্কুলে ক্লাসে কোনো বইখাতা পাইতাম


আমরা যখন স্কুলে ক্লাসে কোনো বইখাতা পাইতাম তা ফেরত দিয়ে দিতাম।আমরা ষটীলমিলস সকুলের ছেলেমেয়েরা ছিলাম অন্যরকম।

আর গতকাল আমার ছেলের ইংলিশ সেকেন্ড পেপার কপিটা ক্লাসের ডয়ারে রেখে টিফিন খেতে যায় আর তখনি কে জানি কপিটা নিয়ে যায় আর ফেরত দেয় না।কপিটাতে ওর মিডটাম পরিক্ষার সব।জুবায়ের তো আবার আললাহর রহমতে কখনও সকুল মিস যায় না।যার কারণে প্রত্যেকটা গ্রামাটিক্যালে A সটার আছে।এখন আমি আবার কোথা থেকে কালেকট করবো।

আমার কথা হল যে ছেলেটা বাসায় কপিটা নিয়ে গেল ওর মা কি সেটা দেখে নাই।তাই মনটা খুব খারাপ।ওর মিসও খুব আপসোস করলো।কিছু করার নাই।কাকে কে হারাবে এ প্রতিযোগিতায় মায়েরা তাদের বাচচাদের কি শিখাচছে।দোয়া করবেন সবাই আমি জেন পরীক্ষার আগে আমার কপিটা আবার রেডি করতে পারি।গত পরীক্ষায় ও ইংলিশে 98 নাম্বার পেয়েছিল।কি জানি এবার কি করে।

শাহাদাত হুজুরের কাছে কয়েক মাস পড়ার পর


শাহাদাত হুজুরের কাছে কয়েক মাস পড়ার পর আমরা আবার এই মক্তব এ আসতে শুরু করলাম। ভোর ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটা খুব খারাপ লাগত সকালের ঘুম ছেড়ে আসতে।দুপুরে ঘুমাতে পারতাম না।তবুও আসতাম। এখানে এসে দেখি সোনিয়া আপা,সাকিব এরাও পড়ে। ডালিম ভাই,জুয়েল, মহিম পড়ত এখানে।এখানে পড়ানোর নিয়ম টা একটু অন্য রকম।অনেকগুলো ছেলে মেয়ে।আলাদা আলাদা রুমে ভিন্ন ভিন্ন হুজুরেরা পড়ান।আমাদেরকে যিনি পড়াতেন উনার নাম ছিল মোঃ নুরুল ইসলাম ।সহজ সরল টাইপের। একদিন না আসলে পরের দিন দরখাস্ত দিতে হত। জুয়েল কে দেখতাম মহিমকে নিয়ে ৭:২০ মিনিট এ আসত যখন ছুটি র টাইম ঘনিয়ে আসত। হাজিরা দিয়ে চলে যেত। কিভাবে যেন হুজুরের চোখ ফাকি দিয়ে ঢুকে যেত,হুজুর টের পেতেন না।

যেদিন কেউ কোরান শরীফ নিত,সেদিন সে মিষ্টি জাতীয় কিছু বা জিলাপি আনত।এগুলো আবার ছাত্রদের মধ্যে ভাগ করা হত। আর যারা ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র ছিল তাদের জীবন যাপন ছিল অন্যরকম। খুব ভোরে কোরান শরীফ মুখস্থ করতে উঠতেন।মাঝে মাঝে আমাদের সাথে তাদের সেই জীবনযাত্রার গল্প করতেন।অবাক হয়ে শুনতাম। তখন নিজেকে ওদের চেয়ে সুখী মনে হত।

কিন্তু সেদিন যখন গেলাম তখন এই মক্তবে র সাথে সেই মক্তব এর রুপ মেলাতে পারলাম না। যেন ধ্বংস স্তুপ এ পরিণত হয়েছে সেই মক্তব। খুব খারাপ লাগল। স্টিল মিলস কলোনি নামের মহাকাব্য টি যেন কেইপিজেড কলোনি নামের ছোট বিরক্তিকর গল্পে রুপ নিয়েছে।

আমাদের সময়কালে পুরো রোজার মাসে কোন দিন স্কুল খোলা দূরে থাক


আমাদের সময়কালে পুরো রোজার মাসে কোন দিন স্কুল খোলা দূরে থাক, বাসায় লেখাপড়া টাই ছিলো পুরোপুরিভাবে রিলাক্সে অনেকটা পিকনিক পিকনিক মুডে। এক্ষেত্রে গার্জিয়ানরাও ছিলেন ব্যাপক উদার। রোজার মাসে স্কুল কলেজ খোলা, পড়াশোনা করছি এটা কল্পনাও করা যেতোনা। তবে একবার রোজার মাসে একটি পরীক্ষা দেয়া লাগছিলো। ৯৬ সাল বি.কম পরীক্ষা চলছিল। হরতালের কারনে পরীক্ষা পিছিয়ে রোজার মাসে একটি সাবজেক্ট পরীক্ষা দেয়া লাগছিল। ঐ টাই ছিল রমজান মাসে জীবনে প্রথম ও আপাতত শেষ বারের মত পড়াশুনা।

এবার আসি বর্তমান অবস্থায়, এখন কার পোলাপান আর তাদের গার্জিয়ানরা (বিশেষ করে পোলাপানের মায়েরা, তারাই বাচ্চাদের লেখাপড়া নিয়ে অসুস্থ কম্পিটিশনে নেমে যায়) রোজার মাসে স্কুল বন্ধ, লেখাপড়ার বালাই নেই এ দৃশ্য কল্পনাও করতে পারবেনা। এখনতো রোজার মাসের অর্ধেক পর্য্যন্ত স্কুল কলেজ গুলো খোলা রেখে আবার মুখ থেকে ঈদের সেমাইয়ের গন্ধ চলে যাওয়ার আগেই ঈদের দু দিন পরেই স্কুল গুলো খুলে যায়, শুধু খোলাই নয় রীতিমত পরীক্ষাই শুরু হয়ে গেছে। আর চাঁন রাত পর্য্যন্ত বাচ্চা গুলার উপর বাসায় পড়াশোনার চাপতো ছিলোই। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আমাদের জেনারেশন কোন পড়াশুনা করে আসেনি, পড়াশুনা টা শুরু হইছে এই জেনারেশন থেকে। আর যাই হোক, আমরা লেখাপড়ায় যেমনই ছিলাম না কেনো পড়াশুনা করেছি আনন্দের ভিতর দিয়ে, এখনকার মত অসুস্থ প্রতিযোগিতা আর লেখাপড়া টা এতো কমার্শিয়াল ছিলোনা।

Tuesday, July 12, 2016

রোজা আসলো, আবার দেখতে দেখতে চলেও গেলো


রোজা আসলো, আবার দেখতে দেখতে চলেও গেলো, স্বাভাবিক জীবম যাপন রুটিনে এ একটি মাস কিছুটা ব্যতিক্রমী মাস। আর ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তো খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাস।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় রোজায় যা দেখে আসছি তার কিছুটা এখানে তুলে ধরছি।

শৈশবে রোজার মাস যেমন ছিল উৎসবের তেমনি ছিল আমার কাছে কিছু কিছু ব্যাপারে কষ্টের। উৎসবের কথা বিভিন্ন লেখায় উল্লেখ করেছি, তবে এখানে কষ্টের ব্যাপার টি আর উল্লেখ করলাম না। 

চাকুরী তে ঢুকার পর একটা নতুন জিনিস আবিষ্কার করলাম, পেশাগত কারনে যাদের সাথে কাজ করতে হয়,তারা সবাই বড় বড় ব্যবসায়ী (কাগজের)। সবসময় দেখে এসেছি সবার অর্থ বছর হয় জুলাই টু জুন। আর এই ব্যবসায়ী দের নিজস্ব অর্থ বছর হয় রমজান মাস টু রমজান মাস। সারা বছরের লাভ লোকসান, মজুদ হিসাব করে যাকাত প্রদান করে তারা। ব্যবসায়ী হিসেবে যতই দুর্নীতি আর নয়ছয় করুক না কেন, তাদের দেখেছি যাকাতের হিসাব পাই টু পাই পরিশোধ করে।

আর আমরা যারা চাকরী করি, তারা অপেক্ষায় থাকি ঈদ বোনাসের আর খুশির মাত্রা আরো বেড়ে যায় যখন বোনাসের পরেও ঈদের বন্ধের দু দিন আগে এমডি স্যারের হাত থেকে সাদা খাম পাওয়া যায় ( স্পেশাল বোনাস, আর আমার এমডি স্যারের ভাষায়, "আমাদের সাজসজ্জা খরচ", যার পরিমাণ টাও ভালোই হ্যান্ডসাম)। সাথে বিভিন্ন অফিসিয়াল ক্লায়েন্ট থেকে গিফট ( যেমন আমি এবার পেয়েছি দুটি পাঞ্জাবী আর একটি স্যুট পিস)। 

সব মিলিয়ে রোজা আর ঈদ ভালোই কেটে যায়। আর সবসময় কামনা করি প্রতিটি মানুষের প্রতিটি মূহুর্ত ভালো কাটুক।