Tuesday, July 19, 2016

Aslamuddin Mamun প্রতিদিন কারো না কারো নাম, ছবি দিয়ে পোষ্ট দেয়


Aslamuddin Mamun প্রতিদিন কারো না কারো নাম, ছবি দিয়ে পোষ্ট দেয়। অর্থাৎ তেল দেয়। এখন ও আবার বলছে তেল দিবে না, খাঁটি বাঘাবাড়ির ঘি দিবে। অথচ তার নামে কেউ কখনো পোষ্ট দেয় না। কেন দেয় না? তার তেল খাওয়া নিষেধ বলে? আরে ভাই মাছ, মাংস, তেল না দেন অন্তত শাক সবজিতো দিবেন। আপনারা যদি কিছুই না দেন ছেলেটা কি খেয়ে বাঁচবে? একবারও কি কেউ চিন্তা করছেন ছেলেটা আমাদের জন্য কত কষ্ট করে। কোথায় কোন প্রোগ্রাম হবে তার জন্য তার কত টেনসন। একটা প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার আগেই সে আগামিতে কোন প্রোগ্রাম হবে, কোথায় হবে সেটা নিয়ে আলোচনা শুরু করে। সিএসএম এর যত চিন্তা আমার মনে হয় ওর পরিবারের জন্য এত চিন্তা করে না।

২০ জুলাই ২০১২ ,সারাদিন শরীর টা খারাপ ছিলো


২০ জুলাই ২০১২ ,সারাদিন শরীর টা খারাপ ছিলো, সন্ধ্যার পর হাঁটতে বের হয়েছি, অল্প কিছু দুর যাওয়ার পর দেখি ছোট্ট একটি বাড়ির সামনে প্রচুর ভিড় অনেক মিডিয়ার লোকজন, তারপর চমকে উঠলাম , আরে এখানে তো নন্দিত সব পরিচিত লোকজন। আজ সারাদিন এদের বিভিন্ন চ্যানেলে দেখা গেছে।ড: জাফর ইকবাল, শিলা আহমেদ, নুহাশ সহ আরো অনেকেই , এরা একবার বাড়ির বাইরে যাচ্ছে আবার ঢুকছে। তার মানে এটা সেই বিখ্যাত বাড়িি।আগেই জানতাম বিখ্যাত এই বাড়িটি মিরপুর পল্লবী এলাকায় , তবে আফসোস লাগলো, আমার বাসার এতো কাছে এই বাড়িটি অথচ আমিি আগে চিনতাম না । মাঝে মাঝে আহসান হাবিব ভাই (ড: জাফর ইকবালের ছোট ভাই্) কে দেখি রাস্তার মোড়ে দাড়িয়ে খুব উদাসী ভংগীতে সিগারেট টানতে, উনাকে দেখলে ভাই স্লামালাইকুম , কেমন আছেন, ভালো আছি এত টুকুই কথা হতো, আর তিনি যে এ বাড়ির বাসিন্দা সেটা সেদিনই জানলাম।

হুম !! আমি জনপ্রিয় লেখক নাট্যকার হুমায়ন আহমেদের মা যেখানে থাকতেন সে বাড়িটির কথাই বলছি।জনপ্রিয় নন্দিত এ লেখক ১৯ জুলাই ২০১২ তে মৃত্যুবরন করেন। তার দাফন সংক্রান্ত জটিলতায় সেদিন এ বাড়ির সামনে এত লোকজন, মিডিয়ার কর্মী ছিলো।

হুমায়ন আহমেদের মত্ এত বড় মাপের লেখক নাট্যকার কে নিয়ে আমার মত অঘা মঘা ফেসবুক ওয়ালার কোন মন্তব্য করার দু:সাহস নাই। তবে উনার যে জিনিস টি আমাকে সবচেয়ে বেশী আকর্ষন করেছে, তা হচ্ছে উনি ট্রাডিশনাল বাংগালির মাঝে বই পড়ার মতা সুঅভ্যাস গড়ে দিতে পেরেছেন।এখনকার এ জটিল সময়ে উনাকে খুব দরকার ছিলো, উনার লেখাগুলো দরকার ছিলো।

আজকের এ দিনে সৃষ্টিকর্তার কাছে উনার জন্য প্রার্থনা করছি, তিনি যেন শান্তিতে থাকেন।

মেয়েদের সাথে ঝগড়া করতে হয়না


মেয়েদের সাথে ঝগড়া করতে হয়না[অপরাজেয় বাঙ্গালী, কথাটি আমাকে বেশ কয়েক বার বলেছে]। কথাটি আসলে-ই খুব গুরত্বপুর্ন। যুক্তি/তর্কের ধার, মেয়েরা খুব একটা কেয়ার করেনা। ৯০% সংসারের মোড়ল গিরী মেয়েরাই করে থাকে।আমি নিজেও যতটুকু সম্ভব ছাড় দিয়ে যাই। বিরামহীন তর্কের যুদ্ধ, কোনো পুরুষ মানুষের পক্ষে সম্ভব না।[ ছ্যাচড়া জাতিয় হলে অন্য কথা]।দুই জন ছেলে মানুষের যুদ্ধের অবসান আছে, কিন্তু দুইজন মেয়ে মানুষের যুদ্ধ মানেই, অনন্ত কাল!! প্রমান আমাদের এই সোনার বাঙ্গলাদেশ। টিভির রিমোট থেকে একটি জাতি পর্যন্ত তাদের ক্বজায়!! হতে পারে সেটা সরাসরি কিংবা পর্দার আড়ালেও!!। কান্নাকাটি করে হলেও, তারা জিতবে!! অতএব সাধু সাবধান।

এই দুনিয়াতে প্রেম/ভালোবাসা বলে যদি কিছু থাকে, সেটা মেয়েদের কাছেই আছে। মা/বোন/স্ত্রী/ভাবি/খালা/ফুফু/চাচি/মামি/দাদি/নানি, এই সম্পর্ক গুলির সাথে বড় আবেগ জড়িত। এক দুনিয়ার ভালোবাসা, আল্লাহ পাক তাদের ভান্ডারেই দিয়েছে!! আমাদের দেশের প্রাইভেট গাড়ির ড্রাইভার'রা, সাহেবের চেয়ে মেম সাহেবকে বেশি পছন্দ করেন। কারন, মেম সাহেব'রা, আদর করে উপরে ডেকে খেতে দেন এবং বখশিশও দেন। একজন ভাই-এর জন্য, বোন-ই হলো সবচেয়ে বড় দরদি। আর খালা'তো, মায়ের চেয়েও ভালা। একজন প্রেমময় স্ত্রী, শেষ জীবন পর্যন্ত তার স্বামীকে আকড়ে থাকেন। শেষ জিবনে, বুড়া/বুড়ির সংসার, ভালোবাসায় ভরা, কাব্য/কবিতা। এবং সবার উপড়ে একজন মা। একটি সংসারের অস্তিত্ব-ই হলো, একজন মা।মায়ের শাড়ির আচল ধরা থেকে সুরু করে মায়ের হাতে খাওয়া, কথা শিখা থেকে সুরু করে, আবেগ/ভালোবাসা, হাসি/কান্না, সুখ/দুখ এই সব কিছুই, এই সব কিছুই একটা সময় আমরা মায়ের কাছ থেকেই শিখতে/শিখতে বড় হই। জন্মের পরে একজন শিশু প্রথম যে কথাটি শিখে------- "মা"।

বড়-ই জটিল এই জাতি!!! হিসাব মিলানো যায়না!! হিসাব মিলানোর দরকারও নেই!! অতএব সাধুরা আবারও সাবধান। ভালও কথা, রিক্সাচালকের সাথেও আমি তর্ক করিনা!! যদিও একজন রিক্সাচালক সাধারনত, পুরুষ-ই হয়ে থাকে!!।

যাদের মাথা ঠান্ডা তাদের মন গরম


যাদের মাথা ঠান্ডা তাদের মন গরম। আর যাদের মাথা গরম তাদের মন কিন্তু নরম। ভদ্র, নম্র, সদা বিনয়ী, পরোপকারী, Aslamuddin Mamun ও নরম মনের মানুষ। পরিবারের চেয়ে সিএসএমকেই বেশি সময় দেন। এই নিয়ে পরিবারের মধ্যে অনেক অভিযোগ। কিন্তু মামুন এই সবকে আমলে নেয় না। সিএসএম এর যে কোন প্রোগ্রামকে মামুন এত আন্তরিক ভাবে নেয় যে, দেখে মনে হয় এটা তার পরিবারের প্রোগ্রাম। যেটা আর কারো পক্ষে সম্ভব নয়। সিএসএম এর কারো জন্মদিন, মৃত্যু দিবস, বিবাহ বার্ষিকী ইত্যাদি নোটিশ করা বা সবাইকে মনে করিয়ে দেয়া এই সব কাজ মামুন প্রতিনিয়ত আন্তরিকতার সহিত করে থাকে। ইদানিং তার শরীরটা একটু নরম হয়ে গেছে। কিন্তু মনোবল এখনো আগের মত অটুট আছে। সিএসএম এর সবার কাছ থেকে মামুনের একটাই চাওয়া ভালোবাসা ও দোয়া।তাই সবাই মামুনের জন্য দোয়া করবেন যেন মামুন সব সময় হাসি খুশি প্রান চঞ্চল থাকতে পারে।

অঞ্জু দি আপা


অঞ্জু দি আপা।হুম।উনাকে আমি এই নামে চিনতাম।এক বার কোন আপা যেন বলছিলেন, বললে অঞ্জু দি বা অঞ্জু আপা বলতে।কিন্তু তাতে আমি নিজেকে শুধরে নেইনি। স্কুলের শেষ দিন পর্যন্ত আমি উনাকে এই নামে ডেকে গিয়েছিলাম।

আপাকে আমি প্রথম পাই বৃত্তি র কোচিং এ। প্রথমে খুব রাশভারী মনে হত। আসলে ভুল ছিলাম। কোন কারনে ক্লাসরুম এর বাইরে গেলে ক্লাসে ঢোকার আগে আপার অনুমতি চাইতাম। আপা বলতেন, বাইরে গেলে ভেতরে ত আসতে ত হবেই।এটাও আবার জিজ্ঞেস করতে হয়।আপা খুব শুদ্ধ করে কথা বলতেন।শুনতে ভাল লাগত।

ক্লাস নাইনে আপা আমাদের ইংরেজি ১ ম খাতা কেটেছিলেন। খাতা দিতে ক্লাসে এলেন। নম্বর বলছিলেন আর হাসছিলেন। যখন আমার খাতা দেবার পালা এল তখন আপা খুব সুন্দর একটা মন্তব্য করেছিলেন যা আমার অনেকদিন মনে থাকবে। ইংরেজি দ্রুত পঠন বিভাগের প্রশ্ন উত্তর নিয়ে উনি বলেছিলেন, " নিয়াজ ত সব নিজের ভাষায় লিখেছে"। আমি জিজ্ঞেস করছিলাম," আপা, কোন ভুল হয়ছে?"

আপা উত্তর দিলেন," না,কোন ভুল হয়নি, কিন্তু তোমার উত্তর সবার চেয়ে আলাদা হয়ছে।তাই বুঝতে পেরেছি"
আপা এখনো আপনার শুদ্ধ উচ্চারণ এ কথাগুলো মিস করি।

"আমরা সবাই কচুরিপানা ফুল"


মানুষের এই এক জীবনে কত ঘটনাই তো ঘটে যায়, কোনোটি ভালো আবার কোনোটি খারাপ, আবার কোনো টি দু:খের, আবার কোনোটি আজীবন সুখস্মৃতির খোরাক হয়ে থাকে, কিছু থাকে তিক্ত, কিছু হয়ে উঠে বিব্রত কর, আবার কোন কোন ঘটনা মনে পড়লে নিজের অজান্তে হেসে উঠি সেই অবুঝ পাগলামির জন্য। জীবন এভাবেই চলতে থাকে। কোন কিছুর জন্য জীবন থেমে থাকেনা, জীবন চলতে থাকে জীবনের নিয়মে। কারো কোন দু:খ বা কষ্টের কারনে যদি জীবন থেনে যেত তাহলে পৃথিবী বহু আগেই অকার্যকর হয়ে যেত।

আমি ব্যক্তি হিসেবে বা পেজের এডমিন হিসেবে দুয়েক বার বলেছিলাম এ পেজে যা কিছু হয় তা সবই ফান, শুধু নির্দোষ আনন্দ হাসি ঠাট্টা করার জন্য পাশাপাশি একে অপরের সুখ দু:খ কে শেয়ার করা। তার সাথে মানবতার জয়গান তো আমরা গাচ্ছিই। এ পেজের বাইরে আমাদের সবার আরেকটি জগত আছে, সেটিই আমাদের আসল জগত, সেখানে আমাদের সবার সংসার আছে,ধর্ম আছে, চাকুরী, লেখাপড়া সবই আছে এবং আমরা সবাই যে যার জগতের প্রতি দায়বদ্ধ।

পেজে মজা করতে করতে অনেক সময় কিছুটা ভারসাম্য আমরা হয়ত হারিয়ে ফেলি এবং কিছু বিব্রত কর উক্তি করে ফেলি। আমি মনে করি সবই এগুলা মজারই অংশ এবং এগুলো অবশ্যই সিরিয়াস কিছু নয়। তারপরও যার যার অবস্থান থেকে সচেতন থাকব।

পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ যে কত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তা আমাদের দেশের বিভিন্ন অসংগতি দেখলেই বোঝা যায়। পেজের যে কোন অসংগতি রোধে এই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আমাদের আগেও ছিল ভবিষ্যতেও থাকবে।

অতীতেও আমরা একই জায়গায় ছিলাম, এখনো আছি সামনেও থাকব, পেজের বাইরে যে জগত টি আছে ঠিক সে জগত টি ঠিক রেখে।

আসো বন্ধুরা (বান্ধবী কি বলা যাবে?) মেতে উঠি আনন্দে আর উল্লাসে। কোন ফুল দরকার নেই ফুল নিয়ে হয়েছে অনেক বুঝাবুঝি ভুল,। আচ্ছা আবার একেবারে ফুলবিহীনও তো ভালো লাগেনা। ঠিক আছে আমরা অন্য কোন ফুল নই, সবাই কচুরিপানা ফুল, ভেসে ভেসে আলাদা হয়ে গিয়েছিলাম, আবার প্রানের টানে, আত্মার টানে ভেসে ভেসে এক হয়েছি।

"আমরা সবাই কচুরী পানা
উল্লাস আনন্দে নেইতো মানা"

ইদের ছুটি মানে রাত জাগা আর খুঁজে ফেরা কাদের বাসা খালি


ইদের ছুটি মানে রাত জাগা আর খুঁজে ফেরা কাদের বাসা খালি। বেশিরভাগ দেবুর বাসা টা খালি পেতাম। আর যাবে কই সাড়া পরে যেত সবার আদ্দা মারার। মনে পড়ে যায় সে সব, বাবুর চট জলদি বাক্স জুগার ফন্ধি, চাদা তুলা এবং সময় নিদারুণ করা। সবই হয়ে যায়। তাপস দেবু অকিল পুদ্দার জসিম রিপন অনুপ চেতিয়া আমি রেজা মাজে মাজে অপুকেও পাওয়া যেত।

শুরু হত সারারাত তাস মুরগি চুরি করে রান্না আরা জাদুর বাক্স দিয়ে সুন্দর সুন্দর সাদা কালা ছবি,,, সহ নানা মুচরক আলাপ আলচনা,,, কি বন্ধুরা মনে পড়ে???

কমন রুম


ক্লাস সিক্সে উঠার আগ পর্যন্ত আমি জানতাম না কমন রুম কি?সেখানে কেন বসে? কি হয়। একদিন একটা দরকারে আমি সেখানে গেলাম। দেখি সব আপা রা বসে আছেন তাদের কমন রুমে।আমি থতমত খেয়ে গেলাম। একসংগে এত আপা।আমি আমার দরকার এর কথা ভুলে অন্য কথা বলে চলে এলাম।আর স্যার দের কমন রুমে থাকতেন স্যার রা সবাই।সেখানে ত আরো ভয় লাগত। তাই যত টা সম্ভব না যাবার চেষ্টা করতাম। কিন্তু যতই দিন যেতে লাগল ততই কমন রুমে যাবার পরিমান বাড়তে লাগল। আর আমার ভয় ও কাটতে লাগল।তবে আপাদের কমন রুমে যেতে যেতে একটা ধারনা জন্মে যে ক্লাসে কোন আপাকে যতই ভয় পেতাম, কমন রুমে উনাকে ততই স্নেহ শীল আর হেল্পফুল মনে হত।আর স্যারদের কমন রুমে গেলে সালাম দিয়ে চোখে চোখে না তাকানো র চেষ্টা করতাম।মনে হত,এই বুঝি বেয়াদবি হয়ে যাবে

মাঝরাতে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ


মাঝরাতে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ, ভেজা বালিশের কভার, লাল চোখ, কান্না আড়ালের জন্য বারান্দায় পায়চারী, হাতের দু'আঙ্গুলের মাঝের জ্বলন্ত সিগারেটটির ধীরে ধীরে আয়ূ শেষ হয়ে যাওয়া..........

কে বলে বাবা'রা কাঁদতে জানে না!!! বাবারাও কাঁদে কিন্তু প্রিয় মানুষগুলোর আড়ালে..
বাবা'রাওতো তোমাদের সবার মত রক্ত-মাংশে গড়া মানুষই হয়।

যারা বৃষ্টি তে ভিজেছিল


খুব সম্ভবত টিপু ভাইকে আমি যখন ক্লাস থ্রি তে পড়ি। তখন উনার আম্মা নাজমা আপা আমাদের বাংলা ২য় ক্লাস নিতেন। অল্প কয়েক দিনে আপার সহজ সরল ব্যক্তিত্ব আমাকে আপার ভক্ত বানিয়ে দেয়।আপার ক্লাসে খুব মজা করতাম। একদিন জানলাম আপারই ছোট ছেলে টিপু ভাই। টিপু ভাই স্কাউট করতেন।আর উনাকে খুব কথা বলতে দেখতাম।কিন্তু ওই বয়সে উনার ব্যক্তিত্ব ছিল মুগ্ধ করার মত।

টিপু ভাই খুব সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলতে পারেন,সেটা যত শক্ত কথাই হোক। একবার এক এস এস সি ভাই বোন দের বিদায় অনুষ্ঠান এ টিপু ভাই খুব সুন্দর বক্তব্য দিয়েছিলেন। 

পেজে আসার পরেও দেখলাম টিপু ভাই হয়ত লিখছেন না কিন্তু যে কমেন্ট করছেন,তা যথেষ্ট উৎসাহব্যঞ্জক। আর বন্ধুদের প্রতিও তার অনেক টান। ছোটদের যেমন স্নেহ দিয়ে উৎসাহ দেন,বড়দের দিতে পারেন সম্মান। সবাই সেটা অনুভব করতে পারেনা। কিন্তু যারা টিপু ভাইয়ের ভালবাসার বৃষ্টি তে ভিজেছেন, তারাই জানেন মানুষ হিসেবে কেন সবার চেয়ে আলাদা

অনেক দিন স্ট্যাটাস দিই না....দিব দিব করে আর দেয়া হয় না


অনেক দিন স্ট্যাটাস দিই না....দিব দিব করে আর দেয়া হয় না। অবশ্য একখান স্ট্যাটাস দিতেও মন মানসিকতা ভালো থাকা চাই।
তার কতটুকুই বা আমার ছিল! 
মা-বাবা চির দিনের নয়..... কিন্তু ছোটবেলায় বাবার হাত 
ধরে স্কুলে যাওয়া আর মায়ের চারকোনা পরটার টিফিন এখনো মুখে লেগে আছে!
বিবাহিত জীবন থেকে শুরু করে আমার মেয়ে দুইটাকে কোলে পিঠে করে বড় করার পিছনেও আমার মা এর স্পর্শ লেগে আছে। 
কাজের ফাঁকে যখনই মনে পড়ে মা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন! তখনই পেটের ভেতর একটা বোমা বিস্ফোরন হয়। মেনে নিতে পারি না.....মা নেই আর মাঝে মাঝে মায়ের কন্ঠে রাশু ডাকটা শুনতে পাই। 
তখন আমার মত আরেকটা মানুষ যেন বুকের ভেতর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে....!
মা গো তোমায় বড্ড ভালোবাসতাম এখনও বাসি। হয়তো রাগের মাথায় তোমার সাথে ঝগড়া ও করতাম আর তুমিও বলতে
"আমি না থাকলে বুঝবি!! "
তখনও বুঝতাম আর এখন বাস্তব! তাই বুঝি
তুমি ছাড়া দুনিয়া মুল্যহীন। :'( :'( :'(

আমার একটা বদ অভ্যাস আছে


আমার একটা বদ অভ্যাস আছে। কোথাও গেলে গল্প সাথে করে নিয়ে আসা। যেমন- অফিসের জরুরি কাজে কোথাও গেলাম। সেই কাজে আমার অন্য কলিগ গেলে এসে কিছুই বলবেনা। কিন্তু আমি যেদিন যাই সেদিন এমন কোন ঘটনা ঘটে,আমি তাকে গল্প বানিয়ে ফেলি। মাঝে মাঝে নিজের কাছে নিজের বিরক্ত লাগে। 

আমি কিন্তু কলোনি র কোন অনুষ্ঠান এ হাজির থাকি না। বেশিরভাগ সময় পরিস্থিতি আমার অনুকুলে থাকে না।এ নিয়ে আতিক ভাই, অপু দা আমারে কথাও শুনাইছেন মজা করে।আমি নাকি শুধু পেজে বকবক করি। 

আমার মনে হয়, আমি কোন অনুষ্ঠান এ গেলেও গল্প নিয়ে আসব সাথে করে।আর যদি সেটা কলোনি র কিছু হয় তাহলে ত কথাই নাই। কত গুলো যে গল্প আসবে মনে।একবার শুধু ১ ঘন্টা র জন্য নিরু ভাইয়ের অফিসে গিয়েছিলাম।সেখান থেকে এসেও একটা গল্প লিখে ফেলে ছিলাম। 

সেটা ছিল এরকম-

আজকে গেলাম নিরু ভাইয়ের অফিসে।csm কলোনি র আড্ডা র ভেন্যু কি হবে।আমি এর আগে কোনদিন যাইনি।পুলক ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করলাম।উনি সবকিছু বলে দিলেন।ওখানে যাওয়ার সাথে সাথে পুলক ভাই,টিনকু ভাইয়ের আন্তরিক অভ্য রথনা।মন ভরে গেল।সাথে সাজু ভাই।মনে হল অনেকদিনের চেনা।আত্মার আত্নীয়।সবাই যাবার পর আমাকে কি সাইজে দেখছিলেন সে কথা।বিব্রতকর পরিস্থিতি। শওগাত ভাই কথা বলেন কম,শুনেন বেশি কিন্তু যা বলেন কনক্রিট। নাজমুল ভাই অনেক গুছিয়ে কথা বলেন।যুক্তি দিয়ে তবে চাপিয়ে দেন না কোন কিছু।শাহিন ভাইয়ের কথা শুনে বুঝলাম উনার চার বিবি থাকার মাজেজা। মামুন ভাইও খুব মায়াবান মানুষ।কমু ভাই কথা বলেন বাস্তবতার নিরিখে।খোকন ভাই হাসিখুশি মানুষ।মিতু ভাই সেই আগের মত আপনজন আছেন।সবার কুশলাদি জানতে চাইলেন।জসিম ভাই আমাকে দেখে এমন ভাব করলেন যেন আমি ফেসবুকে কোন মেয়ের ছবি দিয়ে আইডি খুলছি আর পুরুষ সেজে গেছি।তবে উনার কথা শুনে বুঝলাম রুবা ভাবি কেন উনার জন্য ফিদা হয়ছিলেন।টিপু ভাই বাবু ভাই আমার আত্নীয় মানুষ।উনাদের ব্যবহারে সেটা যেন আরো বেশি মনে করিয়ে দিলেন।সবশেষে নিরু ভাই।আমার সাথে উনি এমনভাবে করমর্দন করলেন যেন উনি আন্ডারওয়ার্ল্ড এর ডন,আর আমি কোন সাদাসিধা ছেলে উনার কাছে গেছি ওই জগতে প্রবেশ করতে। উনি আমাকে সাগতম জানাচ্ছেন।

Aslamuddin Mamun এর অসুখের পর আমিও একটু ভয় পেয়েছিলাম


Aslamuddin Mamun এর অসুখের পর আমিও একটু ভয় পেয়েছিলাম। কারন ওকে দুইদিন আগেো কত হাস্যেউজ্জল প্রানবন্ত দেখেছি। দুইদিন পর ছেলেটা পুরাই চেঞ্জ। তখন থেকে মনে একটা ভয় ঢুকে গেছে চারিদিকে ভেজালের যে সমারোহ চলছে কখন জানি কার কি হয়। গতকাল রাত থেকে বুকের বাম পাশে ব্যাথা করছিলো। আজকে সারাদিনও ব্যাথা ছিলো। বিকালে সুমনের খালাতো ভাই আমাদের বন্ধু ডাঃ আব্দুর রব মাসুমকে ফোন দিলাম। ও বললো রাত নয়টা পর্যন্ত চেম্বারে আছি, চলে আয়। সাড়ে আটটায় ওর চেম্বারে গেলাম। ও আমাকে দেখেই বললো আগে একটা ইসিজি করে আয়। রিপোর্ট লাগবে না। সাথে সাথে ইসিজি করতে গেলাম। এই জীবনে প্রথম ইসিজি করালাম। ইসিজি পেপার নিয়ে মাসুমকে দেখানোর সাথে সাথে ও হাসি দিয়ে বললো কিছুই হয়নি। বুকের ব্যাথাটা গ্যাসের সমস্যা থেকে হচ্ছে। মাসুমের কথা শুনে মনে হলো বুকের ব্যাথা অর্ধেক কমে গেছে। মাসুমকে তোমাকে ধন্যবাদ।

সিএসএম পেজে বর্তমানে সবচেয়ে বেশী পোস্ট মনে হয় আতিক ভাই ও জনির


সিএসএম পেজে বর্তমানে সবচেয়ে বেশী পোস্ট মনে হয় আতিক ভাই ও জনির।সামনের আড্ডা তে তাদের দুজনকে পুরুস্কৃত করা হবে।নাজমুল ভাই কি কন? রেজা ভাই আগের মত লিখে না কেন? কমু ভাই লেখা কমিয়ে দিয়েছে।আমি একটু অসুস্থ তাই বেশী লিখতে পারি না।তবে চেষ্টা করি সবার পরিচিতি তুলে ধরার।যাতে সবাই মনে করে পেজে যে সে আছে তাকে সবাই জানুক।অনেকে হয়তো ভূল বুঝে তাই, আর পরিচিতি তুলে ধরবো না।চেষ্টা করবো কিছু স্মৃতি লিখতে।যদি কাউকে নিজের অজান্তে কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে ক্ষমা করবেন।সবাই ভাল থাকুন ও সিএসএমের সাথেই থাকুন।কারন এখানে আমরা আমরাইতো।

বিদীর্ণ স্মৃতির এলবাম


বাসায় অনেক গুলো পুরনো ছবি পড়ে রয়েছে। ভাবলাম এলবাম গুলো ছিড়ে গেছে,নতুন এলবাম কিনে আনি। অনেক দোকানে যাই কিন্তু যেরকম খুজি সেরকম এলবাম পাই না।এক সময় এক দোকানে গেলাম।দেখলাম ভাল মানের কিছু এলবাম আছে। দেখলাম দাম কম।জিজ্ঞেস করলাম এলবামের বিক্রি কেমন? বলল, আগের মত নেই।একসময় প্রচুর বিক্রি হত।জানতে চাইলাম কেন? বলল, ফেসবুক আসার পর এলবাম, ফটো ফ্রেমের বিক্রি কমে গেছে।সবাই এখন ফেসবুকের এলবামে ছবি রাখতেই পছন্দ করে।তাই এলবাম কিনতে আগের মত আসেনা। শুনে মন টা খারাপ হল, কিন্তু কিছুই করার নেই।সময়ের কাছে অনেক কিছুকেই হার মানতে হয়।

আইসিসি ট্রফির ক্রিকেটের কথা মনে আছে?


আইসিসি ট্রফির ক্রিকেটের কথা মনে আছে? একবার ১৯৯৪ সালে কেনিয়ায়, আরেকবার ৯৭ সালে মালয়েশিয়ায় কুয়ালালামপুরে। ৯৪ সালে অধিনায়ক ফারুক আহমেদের কিছু ভুল সিদ্ধান্তে শিরোপার এক বারে কাছাকাছি গিয়ে স্বপ্ন ভংগ, যার ফলশ্রুতিতে ৯৬ সালে পাশের বাড়ি ভারত,পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারা। পাশের দেশ গুলোতে খেলা হচ্ছে আর আমরা খালিই দর্শক, এ কষ্ট পুড়িয়েছে ৯৭ সাল পর্য্যন্ত। 

৯৭ এ মালয়েশিয়া তে আইসিসি ট্রফির প্রথম পর্বেই ধাক্কা খেতে যাচ্ছিল বাংলাদেশ, সাদা চামড়ার আম্পায়ারের কিছু ভুল সিদ্ধান্ত আর ব্যাটস্ম্যান দের ব্যার্থতায় আরেক বার যখন স্বপ্নভংগের যন্ত্রনায় ডুবতে যাচ্ছিল এ জাতি ঠিক তখনই অধিনায়ক আকরাম খানের দৃঢ় ব্যাটিং সে খাদের কিনার থেকে টেনে তুলে আনে আমাদের। তারপর তো সেমিফাইনালে স্কটল্যান্ড কে হারিয়ে ৯৯ এর ইংল্যান্ড ক্রিকেট বিশ্বকাপ টিকেট কনফার্ম আর রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে কেনিয়া কে ১ রানে হারিয়ে নিজেদের অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।

সেই ৯৭ সালে এত যোগাযোগ প্রযুক্তি ছিলনা, খেলার চলতি ধারাবিবরণী শোনার জন্য সবার হাতে হাতে ছিল এক ব্যান্ডের রেডিও, কি রাস্তায়, হাটে মাঠে ঘাটে,অফিস আদালত স্কুল কলেজ সর্বত্র সবার হাতে হাতে রেডিও। সে এক দেখার মত দৃশ্য। 

বাংলাদেশে বিশ্বে পজেটিভ কাজে যতটুকু পরিচিতি পেয়েছে তার মধ্যে ক্রিকেট টাই সর্বাগ্রে বলা যায়।
যুগেযুগে বাংলাদেশের ক্রিকেট এগিয়ে যাক প্রজন্মের পর প্রজন্ম।

( ৯৭ এর আইসিসি ট্রফি জয়ী বাংলাদেশ ক্রিকেট টীম)

সি এস এম-এ থাকা অবস্হায় বাবার আদরের পাশাপাশি চাচাদের আদর পেয়েছি অনেক


সি এস এম-এ থাকা অবস্হায় বাবার আদরের পাশাপাশি চাচাদের আদর পেয়েছি অনেক।একদিন সকালে মনিদের (84) বাসার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম,দুইতলা থেকে চাচা ডাক দিলেন বাসায় যাওয়ার জন্য।ভেবে পেলাম না কি জন্য ডাকছে!গেলাম উনাদের বাসায়।বসলাম,বাটি করে দুটো মিষ্টি দিলেন খেতে।তখন আলাউদ্দিনের মিষ্টি ছিল সেরা। ঢাাকায় যারা যেতেন আলাউ্দ্দিনের মিষ্টি আর সাগর কলা - এইদুটো নিয়ে আসতেন।চাচা অফিসের কাজ সেরে আগের দিন রাতে ঢাকা থেকে এসেছেন।মিষ্টি খাওয়ার পর চলে এলাম।এখন ভাবতে ভাল লাগে,উনি আমাকে ডেকে নিয়ে মিষ্টি খাইয়েছেন-এটা আমার প্রতি উনার স্নেহের বহিঃপ্রকাশ ছিল।

হুমায়ূনের জন্য এক কৌটা ভালোবাসা


রবীন্দ্রনাথ, নজরুল,জীবনানন্দ কাউকে সাহ্মাত দেখিনি, সাহচর্য পাইনি। এজন্য মনে অনুতাপ ছিল। আমাদের জীবদ্যশায় শামসুর রাহমান,সৈয়দ শামসুল হক, হুমায়ূন আহমেদ, নিরমলেন্দু গুন - এ সব কবি সাহিত্যিকের সাথে দেখা করা, কথা বলা, এক সাথে ছবি তোলা- এ ইছছেটা তাই অপূর্ণ রাখিনি। বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠান,, কবিতা পাঠের আসর , কিংবা বই মেলায় ইছছে পূরণের সেই সুযোগ গুলো কাজে লাগাতে ভুল করিনি। সেইসব স্মৃতিগুলো তাই বন্দী করে রেখেছি মনের আয়নায় এক ধরনের ত্রৃপ্তি নিয়ে।

১৯৭৯ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের লাইব্রেরি থেকে "নন্দিত নরকে" উপন্যাসটি নিয়ে সেই রাতেই পড়ে শেষ করেছিলাম। মধ্যবিত্ত জীবনের এমন হৃদয় ছোয়া পল্প পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম। মুগ্ধতার আরও একটা বিশেষ কারন - উপন্যাসের নায়িকা,ছোট বোনের বিয়ে ঠিক হয়েছিল চট্টগ্রাম ষ্টিল মিলে চাকরী করা এক ইঞ্জিনিয়ারের সাথে।

আমার কেন যেন মনে হোত ছেলেটাকে আমি চিনি। সে BH-1 এ থাকে। সকাল- বিকেল আমাদের দেখা হয়,বিকাল বেলা অফিসারস ক্লাবে এক সাথে টিটি খেলি,দাবা খেলি - এইসব।।

একেবারেই কল্পনার ।। 

যাহোক সেই শুরু। তারপর থেকে মৃত্যুর কিছু আগ পরযন্ত হুমায়ূনের কোন গল্প, উপন্যাস,নাটক কিংবা চলচিত্র পড়া হয়নি বা দেখা হয়নি এমনটি মনে পড়ে না।

মধ্যবিত্তের প্রাত্যহিক জীবনের টানাপোড়েন,স্নেহ-ভালোবাসার পল্প তার মত করে আমাদের কে শোনাতে পেরেছে? কে পেরেছে তার মত সেলুলয়েডের পরদায় জীবন বোধের কিছছা বানাতে? তার মত কাদাতে? হাসাতে?
জীবনের সুহ্ম অনুভূতিকে ব্যপ্তি ছড়িয়ে বাঙময় করতে??
অনেক মেধার এক জন হুমায়ূনকে তাই ভুলতে পারি না,ভোলা যায় না। এ দেশে যতদিন মধ্যবিত্ত থাকবে ততদিনই হুমায়ূন থাকবে তাদের চারপাশ ঘিরে, আস্টেপিষ্টে । 

ক্যান্সারে আক্রান্ত হুমায়ূন পৃথিবী নামক গ্রহটাকে বড় ভালোবাসতেন। দারশনিকের মত তাই তার প্রশ্ন ছিল-
" কছছপ যদি ৫০০ বছর বাচতে পারে তাহলে আশরাফুল মাখলুখাত মানুষ কেন বাচবে মাত্র ৬০-৭০ বছর? "
মহান আল্লাহ পাকের কাছে এর যৌক্তিক উত্তর তিনি নিশ্চয় পাবেন ।

আমার মত অনেক অনুরাগী পাঠকের দোয়া আর ভালোবাসায় আল্লাহ পাক তাকে হ্মমা করবেন,জানাতবাসী করবেন- আজ তার মৃত্যু দিনে এ প্রার্থনা !!

Monday, July 18, 2016

হ্যালো ক্রিং ক্রিং


ক্লাস সেভেনে থাকতে প্রতিদিন সকাল ৯ টা বাজলে আমাদের বাসার ফোন টা বেজে উঠত।প্রায় সময় ফোন টা আমিই রিসিভ করতাম। কারন বাসার অনেকের জানা হয়ে গিয়েছিল যিনি ফোন করছেন,তিনি আমাকেই খুজবেন। এটা তার রুটিন বাধা কাজ। ফোনে তার কাজ ছিল একই কথা প্রতিদিন জিজ্ঞেস করা।আমিও উত্তর দিতাম যথারীতি। বিরক্ত না হয়ে। ফোন টা আসত ৪৯০ থেকে।আর আমাদের বাসার ফোন নং ছিল ৪০৯। 

ফোন টা আসলে আমার আম্মা, বোন সবাই হেসে উঠতেন। তারাও জানতেন কেন ফোন আসে প্রতিদিন এই সময়ে। আসলে ফোন টা করত Rony Barua.মানে আমার ক্লাসমেট আর বন্ধু। ও জিজ্ঞেস করত সাফা স্যার এর কোন বাড়ির কাজ আছে কিনা। থাকলে বলতাম হ্যা আর না থাকলে না। ও কে আমি কখনো মন খারাপ করে থাকতে দেখিনি।সবসময় পজিটিভ।

এখনো আমাদের মধ্যে কথা হয়।তবে আগের মত রনির ফোন আসলে ক্রিংক্রিং বেজে উঠেনা,মোবাইলে সেট করা রিংটোন বেজে ওঠে। রনি, ভাল থাকিস সবসময়

নামাজে কম্পন


১৯৯৭ সাল।আমাদের বার্ষিক পরীক্ষা চলছে।সন্ধ্যাবেলা। মাগরিবের নামাজ পড়ার জন্য সামনের বিল্ডিং এর মসজিদে গেসি।ওইটা কে সবাই বাইরের মসজিদ বলত। নামাজের ২ য় রাকাতের সময় রুকুতে যাব,এমন সময় পা বেয়ে কি যেন উঠতে লাগল। একটু পরেই বুঝতে পারলাম ভুমিকম্প শুরু হয়ছে।সবাই দৌড় দিল।শুধু ইমাম সাহেব আর সামনের দুই কাতারের মানুষ ছাড়া। সবাই জুতা নিয়ে। সাথে সাথে ভুমিকম্প থেমে গেল। আবার নামাজে ফিরে এলাম। কিন্তু এভাবে ত নামাজ হয় না,তখন তা মাথায় আসেনি। কারন নামাজ রত অবস্থায় নাকি যাই ঘটুক না কেন স্থির থাকতে হয়। তখন বুঝিনি এখন বুঝি।

আজকে ফেসবুকে অনেক কেই দেখলাম কলোনি র পুরনো ছবি পোস্ট করছে।কিছু কিছু ছবিতে কলোনি র রুপ কিছুটা খুজে পাওয়া যাচ্ছে। আর তাতেই কিছু স্মৃতি মনের গহিনে ভেসে ঊঠছে

একটু আগে তারিক কে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম


একটু আগে তারিক কে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। প্রায় ৮ দিন পর গিয়েছি, আগের মত ঘন ঘন আর যেতে পারিনা, ব্যস্ততা ভালোই জেকে বসেছে আমার উপর। 

আমি অথবা কলোনির কেউ গেলে তারিকের চোখে মুখে উজ্জলতা কয়েক গুন বেড়ে যায়, মনে হয় তার কেবিনে একটি হাজার ওয়াটের বালব জ্বলে উঠেছে। তারিকের সাথে আড্ডায় সময় যে কিভাবে কেটে যায় টেরও পাওয়া যায়না। 

দুপুর থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে আজ,আবহাওয়া খুবই আদ্র, তার চেয়ে আদ্র ছিল আজ তারিকের কেবিনের আড্ডা। আড্ডা র এক পর্যায়ে তারিকের চোখে দেখলাম আবেগের আদ্রতা। যখন ওখান থেকে চলে আসছিলাম শিলু আমাকে পার্কিং পর্য্যন্ত এগিয়ে দিল, আপাতদৃষ্টিতে নিরাবেগ ও হাসিখুশি এই ছেলেটিও ছিল আজ আবেগের আদ্রতায়। এসব আবেগের মুহুর্তে ঠিক কি বলতে হয় আমি জানিনা। তবে এটুকু বলতে পারি সিএসএম তোমাদের পাশে আছে।

পুনশ্চ : তারিকের সাঁতার থেরাপি গত তিন চার দিন ধরে চলছে, তারিকের ভাষ্যমতে সে এতে অনেক উপকারও পাচ্ছে।

ক্লাস ফোরে আমাদের ক্লাস নিতেন আরজু আপা


ক্লাস ফোরে আমাদের ক্লাস নিতেন আরজু আপা। একদিন শুনলাম উনি চলে যাবেন।আমাদের ক্লাসের সবাই মিলে ঠিক করলাম আপা কে বিদায় দিব।সবাইকে বলা হল বাসা থেকে যে যা পারে সে পরিমান টাকা আনে। এর মধ্যে যারা সেদিন বাসা থেকে টাকা আনল তারা দিল।যাদের বাসা কলোনি র বাইরে তারা গেল না। সেই টাকা টা আমরা সুজনের হাতে তুলে দিলাম।সাথে আরো কয়েক জন গেল আপার জন্য উপহার আনতে। আমি আর নাসিম মিলে ট্যাংকির নিচে অপেক্ষা করতে লাগলাম কেউ যদি টাকা আনে তাহলে আপার জন্য কিছু কিনব। দুই একজন আমাদের কে টাকা দিল। তারপর চলে গেল। নাসিমকে জিজ্ঞেস করলাম কি কিনবে আর। ও বলল কিছু কিনার দরকার নাই।জেক্স থেকে কিছু কিনে খেয়ে ফেলি। তারপর দুজনে মিলে খেলাম।

এদিকে সুজন ততক্ষণে উপহার কিনে আসছে।সাথে অন্যরা। আমি আর নাসিম ওদের সাথে স্কুলে গেলাম। আপার হাতে ডাইরী, কলম তুলে দিয়ে আমরা হাত তালি দিলাম।

আরজু আপাকে আমি খুব ভয় পেতাম।কারন পড়া শেখার ব্যাপারে উনি ছিলেন খুব কড়া। তাই প্রতিদিন উনার পড়া শিখে যেতাম যাতে শাস্তি পেতে না হয়।

( এই ট্যাংকি আমাদের দুর্নীতি র সাক্ষী)

মানিক ভাই আমি কিছু ছবি দিলাম আপনে খাঁটি গাওয়া ঘী ডালি আতিক ভাই বাসাইয়া দেন।


সিএসএম এর দুই এডমিনের মধ্যে একজন আতিক ভাই।তার অফিসে গেলে সবাইরে গেন্জী দেয়।আর অফিসে ও পূর্ণিমা হোটেলে খাবায়।সবাই আতিক ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন যেন এভাবে সব সময় দিতে পারে খাবাইতে পারে।বড় মনের মানুষ হইছে আতিক ভাই।চিটাগাং থেকে ঢাকা গেলে গাড়ীতে করে ঢাকা ঘুড়ায় আতিক ভাই।সিএসএম পেজ সৃষ্টি তে তার অভধান ভূলার নয়।

গত ৪ দিনে ৩ টা প্রোগ্রাম


গত ৪ দিনে ৩ টা প্রোগ্রাম। ৩ টাই জন্মদিনের প্রোগ্রাম। মজা, মজা এবং শুধুই মজা। ৯৮ ব্যাচের টিপু ভাইয়ের জন্মদিন, টিংকু ভাইয়ের মেয়ের জন্মদিন আর বাবু ভাইয়ের ছেলের জন্মদিন।

খুব ভাল লাগে এইরকম প্রোগ্রামে যেতে। খুব ভাল লাগে এইরকম প্রোগ্রাম এর ছবি দেখতে। আরও বেশি ভাল লাগে এইরকম প্রোগ্রাম এর কথা শুনলেই আমার আম্মু বলে আমার সাথে প্রোগ্রামে যাবে।আমার আম্মুর নাকি স্টিল মিলস এর মানুষকে দেখতেই ভাল লাগে। গতকালও আমাকে আম্মু বলল আমাকে নিয়ে চল, আমি তোর সাথে যাব। কিছু খাব না। দূরে বসে স্টিল মিলস এর মানুষ গুলোকে দেখবো। তোদের মজা করা দেখবো। আমি হেসে বললাম আম্মু এই প্রোগ্রামে তুমি যেতে পারবা না। এটা শুধু ২য় এবং ৩য় প্রজন্মের প্রোগ্রাম। আম্মু হেসে বলল আমি তো এমনি বললাম, তারপর স্টিল মিলস এর কোন প্রোগ্রাম এর কথা শুনলে কেন জানি খুব যেতে ইচ্ছা করে ......।



বহু দিন ধরে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখিনা


বহু দিন ধরে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখিনা, অথচ একসময় সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখাটা ছিল বিনোদনের অন্যতম প্রধান উপায়। স্কুল পালিয়ে নেভী হলে গিয়ে সিনেমা দেখা ছিল এক বিশাল এডভেঞ্চার। আর এক টিকেটে দুই ছবি মার্কা সিনেমা দেখতে গেলেতো তটস্থ থাকতাম পরিচিত কেউ দেখে ফেলল কিনা। 

আমি সবচেয়ে বেশী সিনেমা দেখেছি সম্ভবত বারিক বিল্ডিংস্থ সানাই সিনেয়া হলে, এরপর সাগরিকা হলে। বনানী হলে ছবি খুব কম দেখতাম, তুলনামূলক টিকেটের দাম বেশি ছিল সেখানে। একটিকেটে দুই ছবি দেখার জন্য বিখ্যাত ছিল বনানি হলের উল্টো দিকে উপহার সিনেমা সংলগ্ন রিদম হল।জলসায় মাঝেমধ্যে দেখতাম। আর আলমাসে যেতাম প্রিয় কাউকে নিয়ে। তবে যখন ক্লাস নাইনে পড়ি তখন আলমাস হলের বক্সে (ভি আইপি সিট)বসে ঈদের পরদিন আমরা ছয় বন্ধু মিলে আলমগির শাবানার " রাঙা ভাবী " ছবিটি দেখেছিলাম। ঈদের পরদিন দলবেঁধে সিনেমা দেখা ছিলা আবশ্যিক একটা বিষয়। হলে গিয়ে সিনেমা দেখায়য় বেশিরর ভাগ সময় আমার সংগী ছিল Mamunur Rashid Rashed পলাইয়া / মরাইয়া রাশেদ, সিনেমা শেষ করে কলোনি তে ঢুকার সময়ই সে যে সিনেমা টা দেখেছি ওই সিনেমাটার একটা গান শুরু করে দিত। আহ! কোথায় সে দিনগুলো।

চাকুরী জীবনের প্রথম দিকে (৯৯ সালে)ঢাকায় এসে খুব যখন একা একা লাগতো তখন সময় কাটানোর জন্য সিনেমা হলে যেতাম। বসুন্ধরাগ্রুপ এ দশ বছর ( ৯৯ থেকে ২০০৯) চাকুরী জীবনের শেষ দিকে আমার অফিস ছিল বসুন্ধরা সিটির ৭ তলায়, তার উপর তলায় ছিল স্টার সিনেপ্লেক্স, অথচ কোন দিন যাওয়া হয়নি বা যেতে ইচ্ছে হয়নি। ঢাকায় সিনেমা দেখতাম আনন্দ, মধুমিতা বা বলাকা হলে। ব্যাচেলর ছবিটি আমি ৫/৭ বার দেখেছি বলাকাতে ( অবশ্য তখন আমি নিজেই ব্যাচেলর)।

শেষবার সিনেমা হলে গিয়েছিলাম বলাকা হলে " মোল্লা বাড়ির বউ" ছবিটি দেখার জন্য, সময়টা ২০০৫ সালে, তখন আমি সদ্য পরাধীন আর সাথে ছিল আমার বউ।

সিনেমা হল গুলো সব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এখন ড্রইং রুমের সোফায় বসে স্যাটেলাইটে বা বিছানায় শুয়ে ল্যাপটপ অথবা স্মার্ট ফোনের ইউটিউব এ সব পাওয়া যায়। আর কোন প্রজন্ম বুঝবেনা স্কুল কলেজ ফাঁকি দিয়ে অথবা প্রিয় মানুষ টিকে সংগে নিয়ে সবার চোখে ধুলো দিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখা যে কত বড় এডভেঞ্চার।

২০০০ সাল - জুলাই মাসের ১৫ কি ১৬ তারিখ


২০০০ সাল।জুলাই মাসের ১৫ কি ১৬ তারিখ। আমি তখন কমার্স কলেজে পড়ি। বাসা থেকে গনি বেকারির মোড়ে গিয়ে ওখানে আগ্রাবাদে চাকরি করেন এমন কিছু চাকরিজীবী র সাথে বেবি ট্যাক্সি করে চলে যেতাম। আগ্রাবাদ এর মোড়ে নেমে কলেজের পথে যাচ্ছি। খুব মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। আমি ব্যাংকগুলোর সামনে ফুটপাত দিয়ে হেটে যাচ্ছি। আমার সামনে এক লোক। কয়েক টা প্রাইভেট কার ফুটপাত এর উপর পারকিং করে রাখছে। হঠাত লোক টি রাস্তা পার হতে গিয়ে বড় ড্রেনে পড়ে গেল।আর ড্রেনে তখন প্রচন্ড পানির জোয়ার। লোক টা সামলাতে পারছিল না। আমি আস্তে করে লোক টাকে টেনে তুললাম।মনে মনে ধন্যবাদ দিলাম। কারন উনি পড়ে যাওয়াতে আমি বেচে গেলাম।নাহলে আমিও পড়তাম।

এরপর কলেজ গেলাম।দেখি বন্ধ।মানে ক্লাস হবে না।আমি আর দেরি না করে ফিরে আসতে লাগলাম। ভিজে গিয়েছিলাম। ছোট আপা বলছিল আসার সময় আনন্দধারা ম্যাগাজিন টা নিয়ে আসতে। হাটতে হাটতে বাস স্ট্যান্ড এ আসলাম। দেখি বিপাশা তৌকির এর ছবিওয়ালা আনন্দ ধারা বেরিয়েছে।আমিও পকেট থেকে টাকা বের করে কিনে নিলাম। ম্যাগাজিন এর কভারে ছিল এই ছবিটা। আজকেও খুব বৃষ্টি হচ্ছে। আর সেদিনের কথা মনে পড়ছে

হুমায়ূন এফেক্ট........


হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর একটা আউলা ঝাউলা ছেলেকে তার ধানমন্ডির বাসা দখিন হাওয়ার
সামনে বসে থাকতে দেখা যেত। অনেকদিন বসে ছিল। পরনে হলুদ পাঞ্জাবি ছিলনা,কমলা টাইপ কিছু একটা ছিল। পায়ে স্যান্ডেল ছিলনা, হাতে ছিল। বির বির করে নিজের সাথে কথা বলত সে ছেলে। কেউ যদি জিজ্ঞেস করত
- ভাই কি চান
- রূপাকে চাই
দিস ইজ হুমায়ুন এফেক্ট
.
হুমায়ূন আহমেদের হাতিরপুলের বাসা। হাতিরপুল বাজারের ডানপাশের রাস্তায় লোকজন মিছিল টাইপ কিছু একটা করছে। উত্তাল স্লোগান উঠছে সে মিছিল থেকে। আর দশটা রাজনৈতিক মিছিল ছিল না সে মিছিল। নাটক আর সিনেমার জগতে প্রথমবারের মত নাটকের কোন একটা চরিত্রের মৃত্যুর প্রতিবাদে নাট্যকারের বিরুদ্ধে হচ্ছিল সে মিছিল
.
চরিত্রের নাম ছিল বাকের ভাই নাটকের নাম কোথাও কেউ নেই আর সে অপরাধী নাট্যকারের নাম হূমায়ুন আহমেদ মা যাকে আদর করে কাজল ডাকত। 
নাটকের চরিত্রের মৃত্যুতে মিছিল হয়
দিস ইজ হুমায়ূন এফেক্ট 
.
কোথাও কেউ নেই নাটকের শেষ পর্ব প্রচারিত হচ্ছে।বাকের ভাইয়ের ফাসি কার্যকর হয়েছে। ফজরের আযান বাজছে ব্যাকগ্রাউন্ডে। পৃথিবীতে বাকেরের আপনজন বলতে কেউ নেই। বাকেরের লাশ নিয়েও তাই কারো মাথা ব্যাথা নেই। শুধু মুনা নামে একটা পাগল মেয়ে আছে যে পাগল মাস্তান বাকেরকে ভালোবেসে ফেলেছিল। 
.
এদিকে আমাদের টিভি রুমের অবস্থা তখন, খাটের উপরে আম্মা কাদতেসে। আব্বা আম্মার
দিকে তাকিয়ে হাসবে না কাদবে সেটা বুঝার চেষ্টা করতেসে। আমি যদিও এইসব কান্নাকাটির মধ্যে কখনও ছিলাম না। বাসায় বেড়াতে আসা আত্মীয়গোছের লোকটাও খাঁটে বসে ফুপিয়ে কাদতেসে। 
দিস ইজ হুমায়ুন এফেক্ট 
.
২০১২ সালের জুলাইর ১৯ তারিখে হুমায়ূন স্যার আমাদের ছেড়ে চলে যান। আজ এলোমেলো পাগলা টাইপের মানুষটার মানে স্যারের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী। 
যেখানেই আছেন ভালো থাকবেন স্যার্। উই মিস ইউ।
.
হুমায়ুন আহমেদ শুধু লেখক কিংবা নাট্যকারের চাইতে বেশি কিছু। পৃথিবীতে ভালো লেখক আছেন , শ্রেষ্ঠ লেখক আছেন কিন্তু আপন লেখক নেই। আপন লেখক ঐ একজনি ছিল। হুমায়ূনের সবচেয়ে বড় স্পেশালিটি বোধহয় এটাই। যে হুমায়ূন আহমেদ পৃথিবীর সবচেয়ে আপন লেখক। নিজেদের লোকই মনে হতো।

Sunday, July 17, 2016

বছর আটারো আগে উনার সাথে প্রায় প্রতিদিন দেখা হতো বাসে


বছর আটারো আগে উনার সাথে প্রায় প্রতিদিন দেখা হতো বাসে। উনি আমার পরের স্টেপেজ থেকে উঠলেও যাত্রা শেষ হতো আমাদের একই স্টেপেজে... একদিন দু'দিন তিন দিন এরপর থেকে পরবর্তি স্টেপেজে বাস এলেই তাকিয়ে থাকতাম উনি উঠল কিনা! চোখে মুখে একটা ভাষা বিনিময় শুরু হলো, শব্দ বিহীন কথাটি ছিল কেমন আছেন? ভাল আছি...... গল্পটা আর একটু আছে তবে এতটুকু বলতে আমি বেশ মজা পাই...

এবারের ঈদে টিভিতে ঈদের অনুষ্ঠান কে কয়টা দেখছেন?


এবারের ঈদে টিভিতে ঈদের অনুষ্ঠান কে কয়টা দেখছেন? আমার ধারনা উত্তর আসবে একেবারে নূন্যতম সংখ্যা। এতো এতো চ্যানেল আর দীর্ঘ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান মানুষ কে এখন আর আকর্ষণ করেনা। তার উপর তো আছে বিরতিহীন বিজ্ঞাপনীয় অত্যাচার। আগে পুরো রোজার মাস জুড়ে অপেক্ষারত থাকতাম একটি মাত্র নাটক, আনন্দ মেলা আর ঈদের পরদিন টিভিতে বাংলা সিনেমা দেখতে। আর ওই সব অনুষ্ঠানের পোস্টমর্টেম চলত অনেক দিন। ঈদের অনুষ্ঠান ছিল মাত্র দু দিনের, আর তার রেশ থেকে যেত পরবর্তী ঈদ পর্য্যন্ত। আর এখন, বাসার সবাই মিলে হইচই করে দলবেধে টিভিতে ঈদের অনুষঠান দেখা তো প্রাগৈতিহাসিক ব্যাপার। 

আমি ইউটিউব এ কিছু ঈদের কিছু অনুষ্ঠান দেখেছি, ভাড়ামো আর শরীর প্রদর্শন ছাড়া কিছু নেই। এমন সব কিছু কিছু প্রোগ্রাম দেখায় যা আমাদের সমাজ সংস্কৃতির সাথে বেমানান। রুচী বোধের দৈন্যদশা সর্বত্র। খালি Quantity বেড়েছে Quality সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

একটি গোলাপি জামার গল্প কিংবা কেউ কেউ কথা রাখে


গল্পের শুরুটা একটা পোস্ট এর কমেন্ট থেকে।সেখানেই রিপা আপা কমেন্ট করছিলেন তারিক ভাইকে ফতুয়া দিবেন উপহার। কিন্তু উনি চাইলে তা ভুলে যেতে পারতেন। আজকাল এসব কে বা মনে রাখেন।কিন্তু না সবাই যখন ঈদের জামা কয়টা পেয়েছে তা হিসাব করতে ব্যস্ত তখন রিপা আপা তার কথা রাখলেন। গোলাপি রং এর ফতুয়া। আহামারি হয়ত না। গোলাপের মত মন যার সেই ত দেয় এরকম উপহার। সবাই কথা দিয়ে কথা রাখেনা। কেউ কেউ রাখে।রিপা আপা তাই করলেন। তারিক ভাইও খুশি।

কিন্তু এদিক দিয়ে এই রং টা একজন কে স্মৃতিকাতর করে তুলল।কারন অনেক অনেক দিন আগে এই রং এর একটি শার্ট উনি রাস্তা দিয়ে হেটে যাবার সময় রিক্সার আঘাতে ছিড়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু রিপা আপার ফতুয়ার রং যেন উনার হৃদয় খুড়ে বেদনা জাগাল। মেরুন,আকাশী, ঘিয়া অনেক রং আছে কিন্তু সেগুলো ত গোলাপি না,গোলাপীর তুলনা শুধুই গোলাপী



৯৯ সালের প্রথম দিকের ঘটনা


৯৯ সালের প্রথম দিকের ঘটনা, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছি, যতটুকু সম্ভব মাঞ্জা মেরেই গিয়েছি পরনে হাল্কা গোলাপি একটি শার্ট, এ্যাশ কালার প্যান্ট আর কালো ফর্মাল শু। বিয়েতে উপস্থিত ছিল কলোনির আরো কিছু পোলাপান। সবাই বলল এই শার্ট টি তে নাকি আমাকে ভালো লাগছে। অনুষ্ঠানে আরো একজন ছিল, এক সময় হয়ত বলতাম "বিশেষ" কেউ, কিন্তু ততদিনে বিশেষ কেউ তার বিশেষ নামক বিশেষণ টি হারিয়ে ফেলেছে। সেই বিশেষণ হীন "বিশেষ" জনও এক ফাঁকে জানালো এই গোলাপি শার্ট টি তে নাকি আমাকে খুবই দারুন লাগছে। যদিও আমিও তখন তার কাছে বিশেষণ হীন বিশেষ ব্যাক্তিতে পরিনত হয়েছি। তা স্বত্তেও " তোমাকে দারুন লাগছে" এই কথাটি মনে গেথে রইল।

এরপর তো চাকুরী তে জয়েন করতে ঢাকা এসে পড়লাম, স্বল্প বেতনের চাকুরী, অফিস পুরান ঢাকায় ( বসুন্ধরাগ্রুপ এর একটি ব্রাঞ্চ অফিস)। প্রথম যেদিন চাকুরী তে জয়েন করলাম সেদিনও গায়ে ছিল গোলাপি শার্টটি। থাকি অফিসের কাছাকাছি একটি মেসে। পুরান ঢাকা মানেই যানজট আর মানুষ, কিছুদিন পরে সকালে অফিসে যাচ্ছিলাম, সেদিনও ছিল পরনে সেই গোলাপি শার্ট। রিক্সা, গাড়ি আর মানুষের ভিড় ঠেলে রাস্তা পার হতে গিয়ে এক বে রসিক রিক্সার খোঁচায় সে গোলাপি শার্ট শেষ, মানে ছিড়ে গেল। গোলাপি পর্ব এখানেই শেষ।

এরপর গোলাপি রঙ এর আর কোন শার্ট অনেক দিন পরিনি, বহু দিন পর আরেক টি গোলাপি শার্ট বানালাম, তবে কেঊ আর বলেনা তোমাকে এই শার্টে দারুন লাগছে, ততদিনে মন্ত্রী সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নিয়োগ হয়ে গেছে ( সাগর কাইটা হাংগর নিয়া আইছি আর কি) উলটো সেই মাননীয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলে গোলাপি কাপড় নাকি মেয়েদের কালার। তার কিছু দিন পরই বুয়া সে শার্টটি ধুতে গিয়ে অন্য কাপড় থেকে রঙ লাগিয়ে নষ্ট করে ফেলে। ( আল্লাহ জানে, এখানে মাননীয়া মন্ত্রীর কোন ষড়যন্ত্র ছিল কিনা)

আসলে গোলাপি কালার টা বোধ হয় আমাকে সুট করেনা।

আমাদের এই পেজে যে ভাই/বোনেরা লেখা/লেখি করে, তাদের সবার লিখা আমি পড়ি


আমাদের এই পেজে যে ভাই/বোনেরা লেখা/লেখি করে, তাদের সবার লিখা আমি পড়ি। মাঝে মাঝে হয়তো বাদ যায়। তবে সেটা অনিচ্ছাকৃত। লাইক দিতে ভুল করিনা। অনেক সময় হয়তো বাদ যায়, তাও অনিচ্ছাকৃত। কথা খুজে না পেলে, অনেক সময় কমেন্টস করিনা। কিছু ছোট ভাই/বোন আছে, যারা আমার এই মনে প্রচন্ড আঘাত দিয়েছে, তাদের লেখাও আমি মনোযোগ দিয়ে পড়ি, লাইক এবং কমেন্টস হয়তো করিনা। আমার এই লেখাটি লাইক বা কমেন্টস নিয়ে নয়। লেখাটি অন্য এক বিষয়ে। 

আতিকের লেখা পড়তে আমার ভালো লাগে। একটা সময়, আমি আর আতিক লিখতাম এবং সবাইকে অনুরোধ করতাম লিখার জন্য। আতিক এর গদ্য আকারের লিখা গুলি বেশ সরলিকরন। সোজা/চ্যাপ্টা কথা। 

যেমন, একটা শার্ট ছিলো, একটা প্যান্ট ছিলো, পড়া লেখায় মামারা সাহায্য না করলে, "আমি আতিক এত দূর আসতে পারতাম না"। এই চিত্র গুলি ছিলো, csm- এ চাকুরি করা বাপ/চাচাদের ছেলে মেয়েদের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। তবে আমরা যথেস্ট ভাগ্যবান ছিলাম। আমাদের একটি স্কুল ছিলো, যেখানে আমরা অল্প বেতনে লেখা/পড়া করেছি। আমাদের একটি হাস্পাতাল ছিলো, অনায়াসে প্রাথমিক চিকিতসা পেয়েছি। থাকার মত বাসা ছিলো, এখন এফ টাইপের সমান দুই রুমের ফ্ল্যাট কিনতে গেলেও অনেক টাকা লাগে। কলেজ বাস ছিলো, শহরে গিয়ে বাজার করার জন্য, সপ্তাহের একটি নির্দীস্ট দিনে মাঝে মাঝে-ই আমরা গাড়ি পেতাম। বিনোদনের জন্য বহু উপকরন আমাদের csm-এ ছিলো। যেখানে আমাদের টাকা খরচ করতে হয়নি। এখনতো বউ বাচ্চা নিয়ে বাসা থেকে বের হতেই অনেক টাকা লাগে। 

আমাদের বাবা/মা'রা উনাদের সাধ্যমত আমাদের খুশি রেখেছেন। যার ভুরি/ভুরি উদাহরন আমি দিতে পারবো। অনেক ভাই/বোন সহ ফ্যামিলিতেও, কস্ট করে হলেও বাবা/মা'রা তাদের সন্তানদের খুশি রেখেছেন।
আজকের সময়ে যা অসম্ভব। চিটাগাং নিউমার্কেট- এ "রেভলন" নামে একটি কাপড়ের শো-রুম ছিলো। আমার খুব প্রিয় ছিলো শো-রুমটি। দেখা গেছে, আমার একটি শার্ট পছন্দ হয়েছে, কি করি? বাবাতো টাকা দিবেনা, মা'র কাছে হাত পাততাম।মা'ও অনেক সময় মুখ ঝামটা দিতো। চুপচাপ ছুটে যেতাম, সিদ্দীক চাচির কাছে[অপুর আম্মা] কিংবা আখতার চাচির কাছে[স্বর্নার আম্মা]। পা ধরে বসে থাকতাম, প্লিজ চাচি শার্টটা কিনে দেন। এখন এই সব কল্পনা করা যায়না।

আমরা ভালোছিলাম। এবং খুবি-ই ভালো ছিলাম। আমাদের সময়ের অভাবটা খুব একটা কস্টের ছিলো না। বিলাসিতা ছিলোনা, তবে সামান্যতেই আমরা ভালো ছিলাম।

ভালোছিলাম বলেই csm-কে আমরা ভুলতে পারিনা। এখন সারা বাংলাদেশে হারিকেন দিয়ে খুজেও, csm-এর মত সেই সমাজ খুজে পাওয়া যাবেনা।

ছেঁড়া প্যান্ট (Ripped pant) ও ছেঁড়া মোজা সমাচার


আজান'এর ফেভারিট চয়েজ জিন্স প্যান্ট (ওর ভাষায় জিন্সি মিন্সি প্যান্ট)। গত কয়েকদিন আগে ওর একটা জিন্সের ফুল প্যান্ট হাঁটুর ওখানটায় ছিঁড়ে যাওয়ায় ভীষন কান্নাকাটি। এখনি ওকে আরেকটা প্যান্ট কিনে দিতে হবে। ওর মা, দাদুমনি, দাদুভাই, কাকা, কাকীরাও কান্না থামাতে না পেরে আমার মাথায় এক বুদ্ধি খেললো। 

অনেকদিন আগে সবাই মিলে বজরঙ্গী ভাইজান মুভিটা দেখেছিলাম সেদিন থেকেই টিভির বিজ্ঞাপন, মুভির ট্রেলার কিংবা কোন গানে সল্লু মিয়াকে দেখলেই আজান চিৎকার দিয়ে উঠে "সাহিদার মামা"। সল্লুকে ভাল মতই আজান চিনে। আমিও তাই গুগলে সার্চ দিয়ে সাহিদার মামারসহ শাহরুখের ripped pant (ছেঁড়া প্যান্ট) পরিহিত কয়েকটা ইমেজ ওকে দেখালাম। আর বললাম দেখ তোমার সাহিদার মামাও ছিঁড়া প্যান্ট পড়ে স্টাইল করে। তখন থেকেই মাথায় ভুত চেপেছে সব প্যান্টই ছিঁড়ে দিতে হবে। নতুন আরেক ঝামেলার শুরু।

সে যাই হোক গত কয়েকদিন আগে অফিসে যাব, মোজা পড়ছি। হঠাৎ করে বলে বসলো "বাবা তুমি মোজা ছিঁড়ে স্টাইল করো?" আমি কিছু না বুঝেই বললাম "তুমিইতো বল, স্টাইল করতে হয়"। আজানের ঝটপট উত্তর "জুতার ভিতরে থাকলে কেউ কি তোমার স্টাইল দেখবে?

ওর ধারনা, বাবা ইচ্ছে করেই মোজা ছিঁড়ে স্টাইল করছে। কিন্তু জানি আজানের ছোট্ট ব্রেইনের এই ধারনা যখন পাল্টাবে তখন "ও" বুঝতে পারবে আমরা বাবারা কেনই বা মাসের পর মাস ছিঁড়া মোজা পড়ে স্টাইল করি (জুতার ভিতরে থাকাতে হয়তো কারো চোখে পড়ে না)। কিংবা কোথাও গিয়ে কেন জুতাটা খুলতে ইতস্তত করি!!!!!

আজ অনেকদিন পর আকাশি রঙ এর শার্ট টি পরে অফিসে যাবো


আজ অনেকদিন পর আকাশি রঙ এর শার্ট টি পরে অফিসে যাবো, আমি পরের দিন যে কাপড় পরে অফিসে যাবো তা আগের রাতেই আলমারি থেকে বের করে রেডি করে রাখি, কারন সকাল বেলা তাড়াহুড়ো র মাঝে কাপড় চোপড় রেডি করা বিরাট হুজ্জতের মত লাগে আমার কাছে। যা হোক, রাতেই যখন এই আকাশী শার্ট টি রেডি করছিলাম, বউ বলে উঠলো " তুমি হঠাৎ এই গরমের মাঝে ফুল হাতা শার্ট বের করছ কেনো, তাও আবার আকাশী রঙ এর ঘটনা কি? " আমি উত্তরে বললাম গোলাপি রঙ এর শার্ট থাকলে তাই পরতাম, গোলাপি যেহেতু নাই আকাশি শার্ট ই পড়তেছি। বঊ আরেক ডিগ্রী গরম, বলে এসব আকাশি গোলাপি বাদ দাও, বুড়া হইতেছ, এবার আমি কইলাম মেরুন রঙ কি চলবে? বৌ উত্তরে কয় সব রঙ বাদ, তুমি কালই গিয়া তিন চারটা সাদা শার্ট বানাইতে দিয়া আসবা। এবার আমি বলি, সাথে নেভী ব্লু প্যান্ট বানালে কেমন হয় আরো থাকবে সাদা কেডস, পুরা সিএসএম হাই স্কুল। বউ এইবার ঝামটা মাইরা বলে সব কিছুতে খালি সিএসএম সিএসএম করো কেন। আর এবার আমার সিরিয়াস ভংগীতে জবাব---
"ওই খানেই তো আমার শিকড় আর অস্তিত্ব।"

Saturday, July 16, 2016

শ্রাবন মাস শুরু হয়ে গেলো বৃষ্টির দেখা নাই


শ্রাবন মাস শুরু হয়ে গেলো বৃষ্টির দেখা নাই। বৃষ্টির জন্য Taskiatun Nur Tania সেকি আকুতি!! আজকে সকালে এবং সন্ধায় যে পরিমাণ বৃষ্টি পড়ছে তাতে আগামি কয়েকদিন তানিয়া বৃষ্টির জন্য কান্না করবে না। আজ সন্ধায় Shahabuddin Liton যখন আমাকে দেওয়ান হাট নামিয়ে দিলো, তখনও অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরছে। লিটন যাওয়ার অনেকক্ষণ পরও দেওয়ান হাট মডেলের ভিতরে ঢুকে অপেক্ষা করতে লাগলাম বৃষ্টি কমার জন্য। কিন্তু কমার কোন লক্ষন দেখলাম না। তার উপর রাস্তায় প্রচুর পানি জমে গেলো। প্রায় এক ঘন্টা অপেক্ষা করার পর ৩০০ মিটারের মত রাস্তা চারগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে কাকভেজা হয়ে বাসায় আসতে হলো। ভাড়া বেশি হলেও রিক্সাওয়ালা ধন্যবাদ। ওকে না পেলে আর কতক্ষন অপেক্ষা করতে হতো কে জানে। কারন এর আগে অনেক রিক্সাওয়ালা অনুরোধ করেছি, কেউ আসতে রাজি হয়নি।

বৃষ্টি র দিন আসলে বিশেষ করে এক নাগারে মুষলধারা য় বৃষ্টি হলে কলোনি র কিছু স্মৃতির কথা মনে পড়ে


বৃষ্টি র দিন আসলে বিশেষ করে এক নাগারে মুষলধারা য় বৃষ্টি হলে কলোনি র কিছু স্মৃতির কথা মনে পড়ে। যেদিন খুব বিজলী চমকাত, রাতে ঘুমানোর সময় কাথা মুড়ি দিয়ে ঘুমাতাম। জানালার দিকে তাকাতে পারতাম না।মনে হত এই বুঝি বজ্রপাত হবে। আর যদি বৃহস্পতিবার হত আর সেদিন দেখাত হুমায়ুন আহমেদের ভয়ের নাটক " অন্য ভুবনের সে, কিংবা অন্য ভুবনের ছেলেটা " তখন আরেক অবস্থা হত। এই রুম থেকে আরেক রুমে যেতে ভয় পেতাম। এই মনে হত অদৃশ্য কেউ এসে হাত ধরবে। আবহ সংগীত টা কানে বাজত। আর নাটক না থাকলে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়তাম। কিংবা ভাই বোনেরা কোন কিছু নিয়ে গল্প জুড়ে দিতাম।আমাদের বাসার ক্যাসেট প্লেয়ার টা ছিল নষ্ট। দেখা যেত একটা না একটা টপিক খুজে পেতাম। তখন আসলে বিনোদনের এত রসদ ছিল না। তাই বোধ হয় মানসিক শান্তি অনেক বেশি ছিল।এখন হাতের মুঠোয় সব, তবুও কি যেন কি নাই


গত বছর ফেসবুকে আমার ম্যারেজ ডের ছবিতে Nazmul Huda ভাই কমেন্টস করেছিলেন


গত বছর ফেসবুকে আমার ম্যারেজ ডের ছবিতে Nazmul Huda ভাই কমেন্টস করেছিলেন " আমাদের আতিক এখন অনেক বড় হয়ে গেছে", উত্তরে আমি বলে ছিলাম " আমি যতই বড় হই না কেনো আমি সেই কলোনির লুঙ্গী পড়া আতিকই আছি"। 

এখানে স্বঘোষিত "কবি আতিক" লুঙ্গী পড়া বলতে খুব কাছের মানুষ বুঝাচ্ছে বা ঘরের ছেলে বুঝাচ্ছে।

এই" ঘরের ছেলে"কথাটাই আমার বউ বুঝতে চায়না, মহল্লার ভিতরের দোকানে লবন চিনি আনতে যাবো তাও প্যান্ট পড়ে যাওয়ার জন্য চিল্লাচিল্লি করে। আর ঢাকার বাইরে কোথাও গেলেতো লুঙ্গী নিতেই দেয়না। ব্যাগের মধ্যে ট্রাউজার ভরে দেয়,বলে হোটেলে লুঙ্গী পড়ে থাকলে নাকি আনস্মার্ট লাগে। আহ! এরা যদি লুঙ্গী র মাহাত্ম্য বুঝতো।

যখন ব্যাচেলার ছিলাম তখন আমার চাচাতো ভাই দের সাথে মিরপুরে এক ফ্ল্যাট বাসায় থাকতাম, সবাই তখন ব্যাচেলার। আর চাচাতো ভাই গুলো অল্প কিছু দিন আগে গ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছে, গ্রাম থেকে আসলে কি হবে, তারা ছিল আমার মত সারা জীবন শহরে থাকা ছেলের চেয়েও ড্যাম স্মার্ট, তিন তলা বাসা থেকে নীচ তলায় নামলেও তারা প্যান্ট লাগায়, আর আমি যদি কোন দিন লুঙ্গী পড়ে নীচে নামতাম তারা আমার সাথে হইচই লাগাতো, লুঙ্গী পড়ে নীচে গেলে নাকি তাদের নাকি প্রেস্টিজ ফুটো হয়ে যায়। এরেই বলে " দু দিনের যোগী, বলে লুংগী নাকি আনস্মার্ট সংগী"। 

কলোনি তে ছেলেদের জাতীয় ড্রেস ছিল লুঙ্গী, প্যান্ট পড়া মানেই দূরে কোথাও যাওয়া। এমন কি কলোনির ভিতরে প্রেমিকার সামনেও লুঙ্গী পড়ে যাওয়ায়ও কোন বিধিনিষেধ ছিলনা। 

একদিন সবুজ চেক লুঙ্গী, সবুজ সাদা স্ট্রাইপ শার্ট পড়ে কলোনি তে ঘুরাঘুরি করছিলাম, পরনের স্পঞ্জ জোড়াও ছিল সবুজ মিশ্রিত।এটা দেখে আমাদের অপু ভাইয়ের ছোট ভাই Abdullah Al Mahbub টিপুর মন্তব্য ছিল " আতিক ভাই দেখি আজকা পুরা কমপ্লিট ম্যান"। আসলে আমি সেদিন খেয়ালই করিনি যে, সবই সবুজ রঙের মিশ্রণ ছিল। আর খেয়াল করলেও কিছু করার ছিলনা।ভাই টিপু, সে সময় সম্ভবত কলোনির কারোই (দু একজন বাদ দিলেও)বাছবিচার করে পোষাক পড়ার সুযোগ বা সাধ্য ছিলনা। যা পাইতাম বা যোগাড় হইত তাই পড়তাম।

তবে কলোনির অনেকেরই নাকি ঘুমের মধ্য লুঙ্গী নাকি লুঙ্গী থাকতোনা, খুলে গলার মালা হয়ে যেত।

( মোটা বাবু ভাই যদি এই পেজে লেখালেখি করত তাহলে এ গলার মালা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত বয়ান দিতে পারতো)।

---যুগযুগ জড়িয়ে থাকুক লুঙ্গী আমাদের কোমরে।

আমরা জাকিয়া আপাদের বাসায় পড়তে যেতাম দুপুর বেলা


আমরা জাকিয়া আপাদের বাসায় পড়তে যেতাম দুপুর বেলা। তখন মাঝে মাঝে আপার মেয়ে ডানা গলা সাধত। গানটা শুনতে শুনতে আমারো মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল।

" কৃষ্ঞচূড়া ডাক দিয়েছে,
আয়রে পলাশ আয়রে আয়," 
একই গান গেয়ে মিষ্টিও গলা সাধত। একই জায়গায় গান শিখত,নারকেল তলায়। তবে মিষ্টির গলা সাধা বেশি শুনতাম শুক্রবার সকালে। তবে জাকিয়া আপার বাসায় উনার বড় ছেলে হিমন ভাই মাঝে মাঝে কিছু সুন্দর গান শুনতেন।তার মধ্যে একটি গান মনে গেঁথে আছে।এই গানটা অনেক খুজেছি,পাইনি। তবে নিজের জীবন টাকে এই গানের মত করে সাজাতে পারলে ভালই হত-
" আমি কি স্বপ্নে দেখছি না ত,
আমি কি স্বপ্নে দেখছি না ত,
আমার স্বপ্নের রাজকন্যা আমারই দ্বারে"
(এইটা শুধু লিখার জন্য লিখা)

এই মক্তবে আমার কোরান শরীফ শেষ করতে পারিনি


এই মক্তবে আমার কোরান শরীফ শেষ করতে পারিনি। পরে ৩ নং বিল্ডিং এর সিড়ি ঘরে গিয়ে পড়তে হত।সেখানে আমার সহপাঠী ছিল Shazzad Shakilএকা আপার ভাই। ঝুমুর ঝুম ঝুম আপারা থাকতেন। বৃহস্পতিবার এ আমাদের নামাজ পড়াতে হত। একদিন আমি ইমাম হলে আরেকদিন শাকিল। শাকিল ভুল করে পড়াত। তাই হুজুর আমাকে দিত। আমি শাকিল কে জিজ্ঞেস করতাম ভুল হয় কেন? ও বলত, জনি ভাই শুদ্ধ করে পড়ালে হুজুর বার বার পড়াতে দিবে। তাই।

এই ব্যাপার টা অফিসে খেয়াল করি।কলিগ রা বলে বেশি সিনসিয়ার হলে নাকি ম্যানেজার কাজ দিবে।তাই ফাকিবাজি করেন। ছোটবেলার ব্যাপার গুলো পেশাগত জীবনে ফেস করতে হবে ভাবিনি

প্রায় দুই মাস পর গত বৃহস্পতিবার আমি আর লিটন ঢাকা গিয়েছিলাম


প্রায় দুই মাস পর গত বৃহস্পতিবার আমি আর লিটন ঢাকা গিয়েছিলাম। বৃহস্পতিবার রাত আটটা থেকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত টঙ্গিতে ছিলাম। সাতটায় কলাবাগান পৌঁছে চিটগাং এর টিকেট করার পর একটু বসুন্ধরা সিটিতে গেলাম। রোজার ঈদের পরও বসুন্ধরা সিটিতে এত ভির। নিরাপত্তা জনিত কারনে সবাইকে লাইন ধরে ডুকতে হলো। সেখানেই অনেকটা সময় পার হয়ে গেলো। ঢাকা সিটির বাইরে থাকার কারনে এবং সময় স্বল্পতার জন্য কাউকে ফোন দিতে পারি নাই কিংবা দেখা করতে পারি নাই। তার জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। এরিমধ্যে একমাত্র Abu Naser রাত পৌনে আটটার দিকে ফোন দিয়েছিলো দেখা করার জন্য। তার সাথেও দেখা করতে পারি নাই।

কলোনীতে থাকতে ঈদের সালামি দিয়ে একটা কমন কাজ ছিল আমার


কলোনীতে থাকতে ঈদের সালামি দিয়ে একটা কমন কাজ ছিল আমার এবং তা হলো রাতে ভাত খাওয়ার পর ইউনুস ভাইয়ের দোকানে গিয়ে ৭টাকা দিয়ে কোক কিনে খাওয়া দোকানের সামনে সিমেন্টের টুলে বসে।।।এক বোতলে অনেক কোক মনে হতো শেষই হয়না। যে ঢেঁকুর দিতাম !!!ঢেঁকুর এর সাথে সাথে নাকে এসে ঝাঁঝ জমতো।।আর এখনকার কোক কেমন মিষ্টি মিষ্টি।।আহা সেই দিনগুলি মোর!!!!

বয়সের দোষ নাকি চিরসবুজ


Csm কলোনি র ভাই বোন দের একটা বিষয় খেয়াল করি।যখনই কোন ভাই বোন তার পরিবার কে নিয়ে ছবি দেন, কেন জানি তার পরিবারের পাশে তার বয়স টা কম মনে হয়। ভাইদের ক্ষেত্রে মনে হয় ভাবির বয়স বেশি আর আপাদের ক্ষেত্রে মনে হয় দুলাভাইয়ের সাথে বয়সের গ্যাপ অনেক বেশি।যদিও জানি এটা আমার চোখে র ভুল। যেমন- আতিক ভাইয়ের চুল কমে গেলেও উনারে ভাবির চেয়ে ছোট লাগে। আর একই ব্যাপার আপাদের ক্ষেত্রেও। কিন্তু কলোনির কোন ভাই এর সাথে যখন কোন আপার ছবি দেখি যারা বাস্তবে স্বামী, স্ত্রী তাদেরকে আবার এমন মনে হয় না।

কেন যে এমন লাগে।হয়ত আমার কাছে কলোনি র কোন ভাই বা আপার বয়স বাড়েনা।ছোটবেলা থেকে তাদের যে চেহারা দেখে বড় হয়ছি এখনো সেই চেহারা মনে গেথে আছে। তাই তারা চুল পাকলেও বা চেহারায় বয়সের ছাপ পড়লেও আমার কাছে চিরসবুজ।

আত্মীয়পরিজন


Babu Csm Club vai আর Jahed Tipu ভাই কিন্তু কলোনি র বড় ভাই ছাড়াও আমার আত্মীয় হন।উনার আম্মাকে আমি ডাকতাম ফুফু আর উনারা আমার বাবাকে মামা। কলোনি তে থাকতে দুই পরিবারের মধ্যে আসা যাওয়া ছিল। ফুফু আসতেন বিকালবেলা। কিন্তু বৃষ্টি র দিনে একেবারেই না। আসতেন, আর আম্মার সাথে গল্প করতেন। সাথে আসত এনি, আর রিংকি।ওরা খেলত। ফুফু অনেক গল্প করতেন।উনি আসলে আম্মা এক ধরনের পিঠা বানাতেন। মাঝে মাঝে আমরাও যেতাম উনাদের বাসায়। উনাদের বাসায় লাভ বার্ড নামে এক ধরনের পাখি ছিল খুব সুন্দর। দুপুরে একবার গেলাম। উনাদের বাসার সামনে স্লিপার এ স্লিপ খাচ্ছি।ফুফু বললেন ঠিক দুপুরে স্লিপার এ চড়া ভাল না। বাবু ভাই ছিলেন শান্ত আর টিপু ভাই চঞ্চল। এখনো ঠিক সেরকম আছেন।আর ফুফু আর ফুফা আগের মতই আন্তরিক। আব্বা আম্মাকে দেখলে আগের মতই আবেগ তাড়িত হয়ে গল্প জুড়ে দেন


আমার ছোটবাবা অনেক আদরের


আমার ছোটবাবা অনেক আদরের,সেদিন একটা হলুদের অনুষটানে ব্যানডে যারা গান গাইছে ওদের গিয়ে বলছে এ ফোন থেকে একটা গান গাইতে হবে।সে আমার ফোনটা নিয়ে গেল আমি ভাবলাম মনে হয় ছবি তুলবে।কিনতু না তা না কত ক্ষন পর দেখি মিউজিসিয়ানরা ওই গান গাইছে,আমার সিএসএম,প্রানের সিএসএম ওতটা ভালো করে পারছে আমাদর সুজন ভাইয়ের মতো।অনেকে বলছে এটা আবার কি আমি জুবায়ের কে ধরে দিলাম বকা।তখন বুঝলাম আমার ছেলে আমাকে খুশি করতে আর সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিল।কিনতু আমি বললাম এ গানটা শুধু আমরা সিএসএম কলোনির সব মানুষের জন্য।এ গান শুধু আমাদের।আমার সাথে আমার ছেলেও সেই কলোনি টাকে খুব ভালবাসে।মনে হলো তাই লিখলাম।চিটাগাং ক্লাবের সুইমিংপোলের এরিয়াতে হয়েছিল।অনেকে শুনেছে গানটা কেউ বুঝেনি।আমি আর আমার পোলা ছাড়া।।

আজ পাচ বছর যাবত জয়দেবপুর আছি


আজ পাচ বছর যাবত জয়দেবপুর আছি। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির কারনে আসা হয়েছিলো। এই পাচ বছরে অনেক বন্ধু/বান্ধব জুটে গেছে।আমি যে বাসাটায় ভাড়া থাকি, সেখানে আরও পাচটি পরিবার ভাড়া থাকে। সবার সাথে সবার একটি ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। শুধু বাড়িওয়ালী ছাড়া! মাসের দুই তারিখে বাড়ি ভাড়া দেই।আজ পর্যন্ত সারাফের মা'র হাত দিয়ে ভাড়া দেওয়াতে পারিনাই।বাড়িওয়ালি কে দেখলেই নাকি, সারাফের মা'র প্রেসার আপ/ডাউন করে!! শুদু সারাফের মা একা নয়, ফ্ল্যাটের অন্যান্য ভাবিরাও বাড়ীওয়ালিকে এড়িয়ে চলে!! তবে আমার সাথে সম্পর্কটা ভালো। আমি ভাড়া দিতে গেলে, আমাকে বসতে বলে, চা/নাস্তাও খেতে দেয়!! এবং আমি অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে ভদ্রমহিলার প্যাচাল সুনি। উনার একমাত্র মেয়ে ডাক্তারি পড়ে, উনার ভায়েরা সব বড়/ব্ড় যায়গায় চাকুরি করে, তারপর এই বাড়িটা, সেটাও উনার বাবার যায়গা!! 

আমিও বলি, আপনাকে দেখলেই বুঝা যায় ভাবী, আপনি খানদানি বংশের মেয়ে!! আর আপনার মেয়েতো খাটি সোনা!! আপনি ঠিক আপনার মত করে, মেয়েটিকে মানুষ করেছেন!! বাড়ীওয়ালী ভাবীর কাছে, আমি খুব ভালো মানুষ!! বাড়ি ভাড়া দিতে যদি কখনো মাসের ১৫তারিখও হয়ে যায়, উনি হাসি মুখে বলেন, সমস্যা নাই ভাই , আপনি সুবিধামত ভাড়া দিয়েন!!। আমার পাশে থাকে কাইয়ুম ভাই। একদিন ভুলে রাত্রি বেলায়, নিজের বাসা মনে করে কাইয়ুম ভাই-এর বাসায় কলিং বেল দিয়ে বসি!! ভিতর থেকে উত্তর আসে, কে?? আমিও বলি, দরজা খুলো সারাফের মা!! কিছুক্ষন পর দেখি, দরজা খুলে কাইয়ুম ভাই বেরিয়ে এসেছে, পিছনে ভাবী!! হাসতে/হাসতে কাইউম ভাই বললো, রেজা ভাই আপনি ভুল করে আমার বাসায় বেল দিয়েছেন, আপনার বাসাতো চার তলায়!! বড়/সড় একটা বাশ, কাইয়ুম ভাই আমাকে দিলো!! কারন চার তলায় যে ভাবী থাকেন, উনি অপুর্ব সুন্দরী। কাইয়ুম ভাই-এর সাথে এখন আমার ভালো বন্ধুত্ব।কাইউম ভাই একদিন আমাকে জিজ্ঞাসা করে বসলো, আচ্ছা রেজা ভাই, আপনার সাথে এই খান্ডারনি বাড়িওয়ালির এত গভীর সম্পর্ক কি ভাবে হলো?? এই খান্ডারনিরে দেখলেই আমার গায়ে জ্বর আসে!!! আরে কাইউম ভাই, সারা বাংলাদেশের বেশির ভাগ বাড়িওয়ালি-ই, খান্ডারনি মার্কা হয়!! শুধু একটু পাম দিয়ে চলা!! 

মাঝে মাঝে খান্ডারনীকে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানান দিবেন, "আমি আপনার ভাড়াটিয়া, আর আপনি আমার মালিক"!!! এই খানেই বাড়ীওয়ালীদের "চরিত্র" নিহিত রহিয়াছে!! কি বুঝলেন কাইউম ভাই?? বুঝছি রেজা ভাই, আপনে একটু কস্ট করে, তোয়াহ'র মাকে বুঝিয়ে বলেন!!![তোয়াহ হলো কাইউম ভাই-এর মেয়ে]।মনে মনে বলি, তোয়াহ'র মাও বাড়ীওয়ালী, শুধু একটা বাড়ি বানিয়ে দাও, খান্ডারনি হতে বেশি দিন লাগবেনা।


কেমন পাত্র চাই


কলোনি তে থাকতে জেক্সের মাহমুদ ভাই থেকে একটা ম্যাগাজিন এনেছিল।আনন্দ বিচিত্রা।সেখানে শমী, বিপাশা আর মৌ কে নিয়ে ফিচার দিয়েছিল। কেমন পাত্র চাই।তখন ছিল ওদের ক্রেজ। মৌ লিখেছিল, ছেলে ওভার স্মার্ট হবার দরকার নাই। ভুলে ড্রিংক করে ফেলেছে একবার কি দু বার এমন ছেলেকে বিয়ে করতে আপত্তি নাই।বিপাশা লিখেছিল নাটক করতে দিতে হবে।অভিনয় ছাড়তে পারবেনা। আর শমী বলেছিল উন্নাসিক ছেলে পছন্দ না।আর যে ছেলে অফিসের কাজ বাসায় নিয়ে আসে তাকে বিয়ে করবে না। এই ব্যাপার টা তখন বুঝি নি।এখন বুঝি। আসলেই অফিসের কাজ বাসায় এনে বাসার পরিবেশ, ছুটির দিনের আমেজ নষ্ট করার কোন মানে হয় না। যে জিনিসটা আমি করতাম। বাসার কাজ বাসায় আর অফিসের কাজ অফিসেই শেষ করা উচিত। না হলে দুই দিকেই সমস্যা হয়। 
photo Taskin Ashiq

MD Younus কলোনির সবচেয়ে বেশি পরিচিত মুখ


MD Younus কলোনির সবচেয়ে বেশি পরিচিত মুখ,বলা যায় জনপ্রিয় মুখ এবং আরো বলা যায় সে ছিল কমন ফ্রেন্ড ফেসবুকের ভাষায় যারে বলা যায় মিউচুয়াল ফ্রেন্ড। সে যেমন আমার বা আমার সমসাময়িক দের বন্ধু তেমনি ছিল আমার সিনিয়র বা জুনিয়র দেরও ফ্রেন্ড ছিল। জীবনের বহু গুপ্ত তথ্য বা ইতিহাস তার সাথে শেয়ার করছি।

যা হোক,ইউনুসের দোকানে মোটামুটি আমরা সবাই বাকীতে পান সিগারেট, কোক বিস্কুট খেতাম এই খাওয়ার পাশাপাশি এই বাকী টাকা পরিশোধের জন্য তার কাছ থেকে পুরো ফ্রিতে ঝাড়িও খাইতাম। তবে একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম সবাই সমানে ঝাড়ি খাইলেও কেন জানি সে আমাকে ঝাড়তোনা। আর আমিও মনের আনন্দে সেখানে বাকীতে পান বিড়ি ফুকতাম আর মাঝেমধ্যে অল্প অল্প টাকা পরিশোধ করতাম। অবশেষে কৌতুহলেই ইউনুস কে জিজ্ঞেস করলাম -- " আমি তোর কাছ থেকে বাকী খেয়ে অল্প টাকা দেই, পুরোটা দেইনা, তারপরও তুই আমারে ঝাড়ি দেস না কেনো? ইউনুস উত্তরে কিছু বলেনা, খালি মিটিমিটি হাসলো।

অবশেষে এই রহস্যের উত্তর পেলাম আমি ঢাকায় চাকুরী জয়েন করার কিছু দিন আগে।

" আব্বা ইউনুস কে নাকি বলেছিল, আমি ইউনুসের দোকান থেকে কিছু বাকী তে কিনতে চাইলে আমাকে যেন সে দিয়ে দেয়, টাকা আব্বা পরে শোধ করে দিবে," তবে আব্বার এ কথা টা আমাকে না বলার জন্য ইউনুস কে বলা হয়েছিল।
ইউনুসের বাকী পরিশোধের জন্য ঝাড়ি না দেওয়ার ঐ রহস্যটা আমি একবারে শেষ মূহুর্তে জানতে পেরেছিলাম।

সহপাঠিনী


আমি যখন প্রথম স্কুলে যাই, তখন আমাদের ক্লাসে বেশ কিছু মেয়ে আসত মাইক্রো বাসে করে,টি এস পি না কোথা থেকে।কথা বলতাম না।ক্লাস ওয়ানে অনিকা আমাদের ক্লাসে ছিল।আরো ছিল ময়না, মৌটুসি । ক্লাস টু তে ছিল মেরিনা,এ্যানি। ক্লাস থ্রি তে ছিল মিষ্টি, যুথি, মুনমুন, ছবি।মিষ্টি পড়া দেবার সময় সুর করে পড়া দিত। মনে হয় গান শিখত, তার প্রভাব।একই ভাবে পড়া দিত যুথি। আর তবারক ভাইয়ের বোন পড়া দেবার সময় ভুলে গেলে দেয়ালের দিকে তাকাত।মাকসুদা আপা বলতেন,কি রে দেয়ালে কি পড়া লিখা আছে? আমি এগুলো আমার ছোট আপা কে বলতাম আর হাসাহাসি করতাম। ক্লাস ফোরে ছিল পাপিয়া। খুব সোজা টাইপের।ক্লাস ফাইভে মেয়েরা আর আমাদের ক্লাস আলাদা হয়ে যায়।শুধু বৃত্তি র কোচিং ক্লাসে যুথি আর মিষ্টি ছিল। শায়লা আমার কোন ক্লাসে ক্লাসমেট ছিল না। তবে সোনিয়া ছিল। বেলিও ছিল না। মিল্কি পাশের বিল্ডিং এ থাকার কারনে খেলা হত একসাথে কিন্তু ক্লাসে পাইনি। ক্লাস ফাইভের পর অনিকা ত প্রতিবেশী হয়ে গেল। পড়া নিয়ে অনেক হেল্প করছে।


সেই কবে সিনেমা হলে বসে সিনেমা দেখেছি


সেই কবে সিনেমা হলে বসে সিনেমা দেখেছি!!!!যা দেখেছি তার বেশিরভাগ সিনেমা বনানী কমপ্লেক্সেই দেখা।।হলে ঢুকতেই সেন্ট্রাল এসির ফ্লেবার (যা তখনকার সময়ে শুধুমাত্র সিনেমা হলেই পাওয়া যেত) সাথে অন্ধকার হল,ঢুকার সাথে সাথে এক লোক টিকেট দেখে নিয়ে তার টর্চ লাইট দিয়ে বসার সীট দেখিয়ে দিত।তারপর সীটের লাইনে গিয়ে হাতরে হাতরে কাঙ্ক্ষিত সীটে গিয়ে বসতাম।সীট গুলো ছিল ভাঁজ করা,ভাঁজ খুলে বসতাম আবার উঠে গেলেই সীট ভাঁজ হয়ে যেত।সিনেমার শুরুতে জাতীয় সংগীত বাজতেই সবাই উঠে দাঁড়াতাম।আর সিনেমার বিরতিতে ঝাল ঝাল চিপস ছিল দারুন,স্টলের লোকের ফানটা কোক নিয়ে দর্শকের সারির পাশ দিয়ে হেটে চলা টুং টাং শব্দ ভাসে।আজকের আমার এক পোস্টে Taj Suman ভাইয়ের একটা কমেন্ট দেখেই সিনেমার স্মৃতিটি মনে পড়লো।। 

এখনকার সিনেমা হলের সম্পর্কে ধারনা নেই, এখনো কি জাতীয় সংগীত শুনে মানুষ উঠে দাঁড়ায়!!!!!???

Friday, July 15, 2016

লিখালিখি ৩


ক্লাস ফোরের পর আর লিখালিখি হয় না। একদিন খোদেজা আপার বাসা থেকে জনকন্ঠ পত্রিকা আনলাম।ওই পত্রিকায় দেখলাম, একটা ছবি দেয়া।সেটা দেখে ছড়া লিখতে হবে। আপা আমাকে বলল কিছু লিখতে।পুরস্কার ছিল।আমি লিখলাম।জিপিও থেকে আপা পাঠালেন।এর পর অনেক দিন খবর নাই।

একদিন দুপুরে তাসকিন ভাইদের সামনে মাঠে হাটছি।উনি ডাকলেন। বাসায় গেলাম।গাছ দেখাচ্ছেন, গল্প করছেন।আমি এটা ওটা দেখতে দেখতে খেয়াল করলাম জনকন্ঠ পত্রিকা। সেখানে প্রতিযোগিতা র ফলাফল। সেরা তে নাম নাই। কিন্তু একটা লিখা দেখে মন ভাল হয়ে গেল," আরো যাদের লিখা ভাল হয়েছে তাদের ১০ হল,..........., সবশেষে, নিয়াজ মোরশেদ, স্টিল মিলস কলোনি। "